📄 জিহাদের হুকুম
কুরআন মাজীদে প্রায় পাঁচ শতাধিক আয়াত ও রাসূলের অসংখ্য সহীহ হাদীস দ্বারা 'জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ' প্রমাণিত। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১০ বছরের মাদানী জীবনে প্রায় ১০০ টি যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন এবং তন্মধ্যে ২৭ টি যুদ্ধে নিজেই সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
সুতরাং জিহাদ অস্বীকার অথবা অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। তদুপরি কেউ জিহাদকে অস্বীকার করলে প্রকারান্তরে আল-কুরআনের পাঁচ শতাধিক আয়াত, অসংখ্য সহীহ হাদীস এবং রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মধারাকেই অস্বীকার করা হবে। বস্তুত কুরআনের পাঁচশত আয়াত তো দূরের কথা আল-কুরআনের একটি আয়াত অস্বীকার করাই কারো কাফের হওয়ার জন্য যথেষ্ট। (রদ্দুল মুহতার-১/৩৯৭, মাজামউল আনহুর-১/৯, মাজ. কাও. ফিকহি-১/৪১০)
📄 নামাজ-রোজার মতোই জিহাদ ফরয
كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
অর্থ: তোমাদের ওপর জিহাদ ফরয করা হয়েছে, যদিও তোমাদের কাছে তা অপছন্দনীয় হয়। এমন হতে পারে একটি বিষয় তোমরা অপছন্দ করছ অথচ সেটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আবার এমনও হতে পারে একটা বিষয় তোমরা পছন্দ করছ অথচ সেটা তোমাদের জন্য ক্ষতিকর। অনন্তর প্রকৃত অবস্থা আল্লাহই জানেন ও তোমরা জানো না। (সূরা বাকারা-২১৬)
নোট : সূরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতের كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ বাক্য দ্বারা যেমনিভাবে সমস্ত উম্মতে মুসলিমার উপর পবিত্র রমযান মাসের রোযা ফরয হয়েছে; তেমনিভাবে ২১৬ নম্বর আয়াতের كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ বাক্য দ্বারাও মুসলমানদের উপর জিহাদ ফরয ঘোষণা করা হয়েছে। একই সূরার একই ধরণের দু'টি আয়াত দ্বারা রোযা ও জিহাদ ফরয করা হয়েছে। সুতরাং কুরআনের আয়াত দ্বারা অকাট্যভাবে জিহাদ ফরয হওয়া সত্ত্বেও যদি কোনো ব্যক্তি তা অস্বীকার করে কিংবা জিহাদকে জঙ্গিবাদ বলে কটুক্তি করে, তাহলে নিঃসন্দেহে তার ঈমান চলে যাবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
📄 সাধারণ মানুষকে জিহাদের জন্য উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশ
يَأَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِأَتَيْنِ وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِأَةً يَغْلِبُوا الْفًا مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَفْقَهُونَ
অর্থ: হে নবী! আপনি মুমিনদেরকে জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করুন, তোমরা যদি বিশজন ধৈর্যশীল হও, তাহলে দু'শ' কাফিরের মোকাবেলায় বিজয়ী হবে। একশ' জন হলে এক হাজার কাফিরের মোকাবেলায় বিজয়ী হবে। কারণ, তারা (কাফিররা) নির্বোধ সম্প্রদায়। (সূরা আনফাল-৬৫)
নোট: আলোচ্য আয়াত দ্বারা বুঝা যায়, মানুষের মাঝে জিহাদের দাওয়াত দেয়া, জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা এবং জিহাদের প্রয়োজনীয়তা মানুষের সামনে তুলে ধরা কেবল জায়েযই নয়; বরং অন্যতম ঈমানী দায়িত্বও বটে।
📄 জিহাদের প্রশিক্ষণ গ্রহণের নির্দেশ
وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَّا اسْتَطَعْتُمُ مِنْ قُوَّةٍ وَمِنْ رِبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَأَخَرِينَ مِنْ دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُوْنَهُمُ اللهُ يَعْلَمُهُمْ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تُظْلَمُونَ
অর্থ : আর তাদের (কাফিরদের) মোকাবেলা করার জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি ও অশ্ব বাহিনী প্রস্তুত কর। যাতে এর দ্বারা তোমরা ভয় দেখাতে পার আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে; এরা ছাড়া অন্যদেরকেও, যাদেরকে তোমরা জান না, আল্লাহ তাদেরকে জানেন। অধিকন্তু তোমরা যাকিছু আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় কর, তার পরিপূর্ণ বিনিময় তোমাদেরকে দেয়া হবে। এ ব্যাপারে তোমাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। (সূরা আনফাল-৬০)
নোট: مِنْ قُوَّةٍ শব্দের অর্থ- মোকাবেলা করার শক্তি সঞ্চয় করা। যুদ্ধোপকরণ, অস্ত্রশস্ত্র, যানবাহন, শরীর চর্চা, সমরবিদ্যা শিক্ষা সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত। জিহাদের জন্য এসব শক্তি অর্জন করা ফরয। কোনো যুগ, দেশ ও স্থান নির্দিষ্ট নয়; বরং সর্বযুগেই এ বিধান সমানভাবে প্রযোজ্য। (মাআরিফুল কুরআন-৫৮২)