📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 জিহাদ কী সন্ত্রাস, নাকি রহমত?

📄 জিহাদ কী সন্ত্রাস, নাকি রহমত?


দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অতি সম্প্রতি আমাদের সমাজে একটা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে যে- 'জিহাদ মানেই সন্ত্রাস'। নিঃসন্দেহে এটা ইসলাম বিদ্বেষী কুচক্রী মহলের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। কুরআন ও হাদীসের আলোকে খুব পরিস্কারভাবেই বলা যায় যে, "জিহাদ সন্ত্রাস নয়; বরং জিহাদ হচ্ছে সন্ত্রাস নির্মূলের সফল কার্যকর ব্যবস্থা।”
আমরা জানি- ইসলামপূর্ব যুগে ও ইসলামের প্রাথমিক যুগে জাযীরাতুল আরবে নানা ধরণের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ছিলো। তখন মানুষের জান, মাল, ইজ্জত, আবরু কোনো কিছুরই নিরাপত্তা ছিলো না; বরং সর্বদা মারামারি, হানাহানি, যুদ্ধ-বিগ্রহ লেগেই থাকতো। যাকে আজও 'আইয়্যামে জাহিলীয়া' বা জাহেলী যুগ' বলা হয়।
তদুপরি ইতিহাস সাক্ষী, সে চরম অন্ধকার যুগে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাত্র ১০ বছরের মাদানী জীবনে জিহাদের মাধ্যমে সে জাহেলিয়াত ও ভয়াবহ সন্ত্রাস নির্মূল করে তদানিন্তন আরবকে বিশ্বের সবচেয়ে সভ্য, শান্তিপ্রিয় ও সর্বাধুনিক মডেল রাষ্ট্রের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। যাকে আদর্শ ও মানবতার চরম দৈন্যতার এ যুগেও মানুষ আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে অনুসরণ করে থাকে। সুতরাং সর্বাগ্রে বুঝতে হবে জিহাদ মানে সন্ত্রাস নয়; বরং জিহাদ হচ্ছে সন্ত্রাস নির্মূলের কার্যকর ব্যবস্থা। রাষ্ট্র ও সমাজে যারা নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে, তাদের বিরূদ্ধেই জিহাদ।

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 জিহাদের হুকুম

📄 জিহাদের হুকুম


কুরআন মাজীদে প্রায় পাঁচ শতাধিক আয়াত ও রাসূলের অসংখ্য সহীহ হাদীস দ্বারা 'জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ' প্রমাণিত। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১০ বছরের মাদানী জীবনে প্রায় ১০০ টি যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন এবং তন্মধ্যে ২৭ টি যুদ্ধে নিজেই সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
সুতরাং জিহাদ অস্বীকার অথবা অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। তদুপরি কেউ জিহাদকে অস্বীকার করলে প্রকারান্তরে আল-কুরআনের পাঁচ শতাধিক আয়াত, অসংখ্য সহীহ হাদীস এবং রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মধারাকেই অস্বীকার করা হবে। বস্তুত কুরআনের পাঁচশত আয়াত তো দূরের কথা আল-কুরআনের একটি আয়াত অস্বীকার করাই কারো কাফের হওয়ার জন্য যথেষ্ট। (রদ্দুল মুহতার-১/৩৯৭, মাজামউল আনহুর-১/৯, মাজ. কাও. ফিকহি-১/৪১০)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 নামাজ-রোজার মতোই জিহাদ ফরয

📄 নামাজ-রোজার মতোই জিহাদ ফরয


كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
অর্থ: তোমাদের ওপর জিহাদ ফরয করা হয়েছে, যদিও তোমাদের কাছে তা অপছন্দনীয় হয়। এমন হতে পারে একটি বিষয় তোমরা অপছন্দ করছ অথচ সেটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আবার এমনও হতে পারে একটা বিষয় তোমরা পছন্দ করছ অথচ সেটা তোমাদের জন্য ক্ষতিকর। অনন্তর প্রকৃত অবস্থা আল্লাহই জানেন ও তোমরা জানো না। (সূরা বাকারা-২১৬)
নোট : সূরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতের كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ বাক্য দ্বারা যেমনিভাবে সমস্ত উম্মতে মুসলিমার উপর পবিত্র রমযান মাসের রোযা ফরয হয়েছে; তেমনিভাবে ২১৬ নম্বর আয়াতের كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ বাক্য দ্বারাও মুসলমানদের উপর জিহাদ ফরয ঘোষণা করা হয়েছে। একই সূরার একই ধরণের দু'টি আয়াত দ্বারা রোযা ও জিহাদ ফরয করা হয়েছে। সুতরাং কুরআনের আয়াত দ্বারা অকাট্যভাবে জিহাদ ফরয হওয়া সত্ত্বেও যদি কোনো ব্যক্তি তা অস্বীকার করে কিংবা জিহাদকে জঙ্গিবাদ বলে কটুক্তি করে, তাহলে নিঃসন্দেহে তার ঈমান চলে যাবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 সাধারণ মানুষকে জিহাদের জন্য উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশ

📄 সাধারণ মানুষকে জিহাদের জন্য উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশ


يَأَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِأَتَيْنِ وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِأَةً يَغْلِبُوا الْفًا مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَفْقَهُونَ

অর্থ: হে নবী! আপনি মুমিনদেরকে জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করুন, তোমরা যদি বিশজন ধৈর্যশীল হও, তাহলে দু'শ' কাফিরের মোকাবেলায় বিজয়ী হবে। একশ' জন হলে এক হাজার কাফিরের মোকাবেলায় বিজয়ী হবে। কারণ, তারা (কাফিররা) নির্বোধ সম্প্রদায়। (সূরা আনফাল-৬৫)

নোট: আলোচ্য আয়াত দ্বারা বুঝা যায়, মানুষের মাঝে জিহাদের দাওয়াত দেয়া, জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা এবং জিহাদের প্রয়োজনীয়তা মানুষের সামনে তুলে ধরা কেবল জায়েযই নয়; বরং অন্যতম ঈমানী দায়িত্বও বটে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00