📄 কুস্তুন্তনিয়া মুসলমানদের হাতে আসবে
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْمَلْحَمَةُ الْكُبْرَى, وَفَتْحُ الْقُسْطُنُطِينِيَّةِ وَخُرُوجُ الدَّجَّالِ فِي سَبْعَةِ أَشْهُرٍ
অর্থ: হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: মহাযুদ্ধ, কনস্টান্টিনোপল (কুস্তুস্তুনিয়া) বিজয় এবং দাজ্জালের আবির্ভাব সাত মাসের মধ্যেই সংঘটিত হবে। (তিরমিযী-২২৩৮, আবু দাউদ-৪২৯৫, ইবনে মাজাহ-৪০৯২, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)
নোট: মহাযুদ্ধ ও কুস্তুগুনিয়া বিজয় সম্পর্কে দুটি বর্ণনা রয়েছে। উপরোক্ত বর্ণনায় সাত মাসের ব্যবধানের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আবু দাউদের ৪২৯৬ নম্বর হাদীসে সাত বছরের ব্যবধানের কথা উল্লেখ আছে। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী পরবর্তী বর্ণনা তথা সাত বছরকে প্রাধান্য দিয়েছেন। (ফাতহুল বারী)
📄 দুনিয়ার সমস্ত কাফির মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবে
عَنْ ثَوْبَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يُوشِكُ الأُمَمُ أَنْ تَدَاعَى عَلَيْكُمْ كَمَا تَدَاعَى الأَكَلَةُ إِلَى قَصْعَتِهَا، فَقَالَ قَائِلٌ وَمِنْ قِلَّةٍ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ قَالَ : بَلْ أَنْتُمْ يَوْمَئِذٍ كَثِيرٌ وَلَكِنَّكُمْ غُثَاءُ كَغْثَاءِ السَّيْلِ وَلَيَنْزِعَنَّ اللَّهُ مِنْ صُدُورِ عَدُوِّكُمُ الْمَهَابَةَ مِنْكُمْ وَلَيَقْذِفَنَّ اللَّهُ فِي قُلُوبِكُمُ الْوَهَنَ. فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ, وَمَا الْوَهَنُ قَالَ حُبُّ الدُّنْيَا وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ
অর্থ: হযরত সাওবান রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: খাদ্য গ্রহণকারীরা যেভাবে খাবারের পাত্রের চতুর্দিকে একত্রিত হয়, অচিরেই বিজাতিরা (কাফিররা) তোমাদের বিরুদ্ধে সেভাবেই একত্রিত হবে। তখন এক ব্যক্তি বললো, সেদিন আমাদের সংখ্যা কি কম হওয়ার কারণে এমন হবে? তিনি বললেন, তোমরা বরং সেদিন সংখ্যা গরিষ্ঠ হবে। কিন্তু তোমরা হবে প্লাবনের স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মতো। আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের পক্ষ থেকে ভয় দূর করে দিবেন। তিনি তোমাদের অন্তরে ভয় ঢেলে দিবেন। তখন এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! "ওয়াহান” কি জিনিস? তিনি বললেন, দুনিয়ার মুহাব্বত এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা। তবে মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায় 'যুদ্ধ অপছন্দ করা' উল্লেখ আছে। (আবু দাউদ-৪২৯৯, মুসনাদে আহমাদ-৫/২৭৮, হাদীসের শব্দাবলী আবু দাউদের)
📄 জিহাদ ফী-সাবিলিল্লাহ সম্পর্কিত কয়েকটি আয়াত ও হাদীস
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 জিহাদ কী সন্ত্রাস, নাকি রহমত?
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অতি সম্প্রতি আমাদের সমাজে একটা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে যে- 'জিহাদ মানেই সন্ত্রাস'। নিঃসন্দেহে এটা ইসলাম বিদ্বেষী কুচক্রী মহলের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। কুরআন ও হাদীসের আলোকে খুব পরিস্কারভাবেই বলা যায় যে, "জিহাদ সন্ত্রাস নয়; বরং জিহাদ হচ্ছে সন্ত্রাস নির্মূলের সফল কার্যকর ব্যবস্থা।”
আমরা জানি- ইসলামপূর্ব যুগে ও ইসলামের প্রাথমিক যুগে জাযীরাতুল আরবে নানা ধরণের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ছিলো। তখন মানুষের জান, মাল, ইজ্জত, আবরু কোনো কিছুরই নিরাপত্তা ছিলো না; বরং সর্বদা মারামারি, হানাহানি, যুদ্ধ-বিগ্রহ লেগেই থাকতো। যাকে আজও 'আইয়্যামে জাহিলীয়া' বা জাহেলী যুগ' বলা হয়।
তদুপরি ইতিহাস সাক্ষী, সে চরম অন্ধকার যুগে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাত্র ১০ বছরের মাদানী জীবনে জিহাদের মাধ্যমে সে জাহেলিয়াত ও ভয়াবহ সন্ত্রাস নির্মূল করে তদানিন্তন আরবকে বিশ্বের সবচেয়ে সভ্য, শান্তিপ্রিয় ও সর্বাধুনিক মডেল রাষ্ট্রের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। যাকে আদর্শ ও মানবতার চরম দৈন্যতার এ যুগেও মানুষ আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে অনুসরণ করে থাকে। সুতরাং সর্বাগ্রে বুঝতে হবে জিহাদ মানে সন্ত্রাস নয়; বরং জিহাদ হচ্ছে সন্ত্রাস নির্মূলের কার্যকর ব্যবস্থা। রাষ্ট্র ও সমাজে যারা নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে, তাদের বিরূদ্ধেই জিহাদ।