📄 চায়না তুর্কীদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ হবে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا التَّرْكَ.. صِغَارَ الأَعْيُنِ ، حُمْرَ الوُجُوهِ، ذُلْفَ الأُنُوفِ، كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ المَجَانُ المُطْرَقَةُ، وَلا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا نِعَالُهُمُ الشَّعَرُ
অর্থ: আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন না তোমরা এমন তুর্কী জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের চোখ ছোট, চেহারা লাল, নাক চ্যাপ্টা এবং মুখমণ্ডল পেটানো চামড়ার ঢালের ন্যায়। আর ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন না তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের জুতা হবে পশমের। (বুখারী-২৯২৮, ইফা.-২৭২৭, মুসলিম- ১৮১৮, ২৫২৬, ২৯১২, তিরমিযী-২২১৫, আবু দাউদ-৪২০৩, ৪৩০৪, ইবনে মাজাহ-৪০৯৬, আহমাদ-৭২২২, ৭৬১৯, ৭৯২৭, ২৭৪৬০, ৮৯২১, ৯৭৯৬, ১০০২৪, ১০৪৭৬, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
নোট : আলোচ্য হাদীসে تُقَاتِلُوا التَّرْكَ (তুর্কীদের সাথে যুদ্ধ) বলতে বর্তমান প্রচলিত 'তুরস্ক' নয়; বরং এটি চীনা তুর্কিস্থান। কেননা হাদীসে যে আকৃতির কথা বলা হয়েছে, তা চায়না তুর্কীদের মাঝেই পাওয়া যায়। আর বর্তমান তুরস্কের লোকদের মাঝে সেই আকৃতির লোক নেই।
আল্লামা খাত্তাবী রহ. বলেন, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের এক কন্যার নাম 'কানতা'। সে বহু সন্তানের জননী। তুর্কীরা তারই বংশধর। পরবর্তীতে তার থেকেই বংশ বিস্তার লাভ করে। (তোহফাতুল বারী শরহে সহীহ আল-বুখারী-৩য় খণ্ড)
📄 কুস্তুন্তনিয়া মুসলমানদের হাতে আসবে
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْمَلْحَمَةُ الْكُبْرَى, وَفَتْحُ الْقُسْطُنُطِينِيَّةِ وَخُرُوجُ الدَّجَّالِ فِي سَبْعَةِ أَشْهُرٍ
অর্থ: হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: মহাযুদ্ধ, কনস্টান্টিনোপল (কুস্তুস্তুনিয়া) বিজয় এবং দাজ্জালের আবির্ভাব সাত মাসের মধ্যেই সংঘটিত হবে। (তিরমিযী-২২৩৮, আবু দাউদ-৪২৯৫, ইবনে মাজাহ-৪০৯২, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)
নোট: মহাযুদ্ধ ও কুস্তুগুনিয়া বিজয় সম্পর্কে দুটি বর্ণনা রয়েছে। উপরোক্ত বর্ণনায় সাত মাসের ব্যবধানের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আবু দাউদের ৪২৯৬ নম্বর হাদীসে সাত বছরের ব্যবধানের কথা উল্লেখ আছে। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী পরবর্তী বর্ণনা তথা সাত বছরকে প্রাধান্য দিয়েছেন। (ফাতহুল বারী)
📄 দুনিয়ার সমস্ত কাফির মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবে
عَنْ ثَوْبَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يُوشِكُ الأُمَمُ أَنْ تَدَاعَى عَلَيْكُمْ كَمَا تَدَاعَى الأَكَلَةُ إِلَى قَصْعَتِهَا، فَقَالَ قَائِلٌ وَمِنْ قِلَّةٍ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ قَالَ : بَلْ أَنْتُمْ يَوْمَئِذٍ كَثِيرٌ وَلَكِنَّكُمْ غُثَاءُ كَغْثَاءِ السَّيْلِ وَلَيَنْزِعَنَّ اللَّهُ مِنْ صُدُورِ عَدُوِّكُمُ الْمَهَابَةَ مِنْكُمْ وَلَيَقْذِفَنَّ اللَّهُ فِي قُلُوبِكُمُ الْوَهَنَ. فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ, وَمَا الْوَهَنُ قَالَ حُبُّ الدُّنْيَا وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ
অর্থ: হযরত সাওবান রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: খাদ্য গ্রহণকারীরা যেভাবে খাবারের পাত্রের চতুর্দিকে একত্রিত হয়, অচিরেই বিজাতিরা (কাফিররা) তোমাদের বিরুদ্ধে সেভাবেই একত্রিত হবে। তখন এক ব্যক্তি বললো, সেদিন আমাদের সংখ্যা কি কম হওয়ার কারণে এমন হবে? তিনি বললেন, তোমরা বরং সেদিন সংখ্যা গরিষ্ঠ হবে। কিন্তু তোমরা হবে প্লাবনের স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মতো। আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের পক্ষ থেকে ভয় দূর করে দিবেন। তিনি তোমাদের অন্তরে ভয় ঢেলে দিবেন। তখন এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! "ওয়াহান” কি জিনিস? তিনি বললেন, দুনিয়ার মুহাব্বত এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা। তবে মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায় 'যুদ্ধ অপছন্দ করা' উল্লেখ আছে। (আবু দাউদ-৪২৯৯, মুসনাদে আহমাদ-৫/২৭৮, হাদীসের শব্দাবলী আবু দাউদের)
📄 জিহাদ ফী-সাবিলিল্লাহ সম্পর্কিত কয়েকটি আয়াত ও হাদীস
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।