📄 গাজওয়াতুল হিন্দ কি শুরু হয়েছে?
বিভিন্ন সহীহ হাদীসে 'গাজওয়াতুল হিন্দ' এর যেসব আলামত উল্লেখ রয়েছে, তা এখনো প্রকাশ পায়নি। সুতরাং "গাজওয়াতুল হিন্দ শুরু হয়েছে” এমর্মে যেসব আতঙ্ক ও অপপ্রচার চলছে, তাতে বিভ্রান্ত না হয়ে আল্লাহ তায়ালার স্পষ্ট বাণী ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর উপর অবিচল থাকাই শ্রেয়।
নিম্নে 'গাজওয়াতুল হিন্দ' সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করা হলো
১ম হাদীস عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: وَعَدَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَةَ الْهِنْدِ، فَإِنْ أَدْرَكْتُهَا أُنْفِقْ فِيهَا نَفْسِي وَمَالِي، وَإِنْ قُتِلْتُ كُنْتُ أَفْضَلَ الشُّهَدَاءِ، وَإِنْ رَجَعْتُ فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে 'গাযওয়াতুল হিন্দ' তথা হিন্দুস্তানের যুদ্ধ সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমি যদি সেই যুদ্ধ পেয়ে যাই, তবে আমার জান-মাল সব কিছু তাতে ব্যয় করবো। আমি যদি তাতে শাহাদাত বরণ করি, তবে আমি হবো সর্বোত্তম শহীদ। আর যদি গাজী হয়ে ফিরে আসি, তাহলে আমি হবো (জাহান্নাম থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত আবু হুরায়রা। (নাসাঈ-৩১৭৩, ৩১৭৪, বায়হাকী-১৮৫৯৯, আহমাদ-৭১২৮, মুস্তাদরাক হাকিম-১৭৭৫, ৬১৭৭, হাদীসের শব্দাবলী নাসাঈর)
২য় হাদীস عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : عِصَابَتَانِ مِنْ أُمَّتِي أَحْرَزَهُمَا اللَّهُ مِنَ النَّارِ : عِصَابَةٌ تَغْرُو الْهِنْدَ، وَعِصَابَةٌ تَكُونُ مَعَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِمَا السَّلَامِ
অর্থ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আযাদকৃত গোলাম হযরত সাওবান রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আমার উম্মতের মধ্যে হতে দুটি দলকে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন। একটি দল হিন্দুস্তানের যুদ্ধে শরিক হবে। আরেকটি দল ঈসা ইবনে মারিয়ামের সঙ্গে মিলে যুদ্ধ করবে। (নাসাঈ-৩১৭৫, আহমাদ-২২৩৯৬, বায়হাকী-১৮৬০০, মুজামুল আওসাত-৬৭৪১, হাদীসের শব্দাবলী নাসাঈর)
৩য় হাদীস عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَغْزُهُ قَوْمٌ مِنْ أُمَّتِي الْهِنْدَ يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ حَتَّي يَأْتُوا بِمُلُوكِ الْهِنْدِ مَغْلُولِينَ فِي السَّلَاسِلِ فَيَغْفِرُ اللهُ لَهُمْ ذُنُوبَهُمْ فَيَنْصَرِفُوْنَ إِلَي الشَّامِ فَيَجِدُونَ عِيسَي بْنَ مَرْيَمَ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ بِالشَّامِ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আমার উম্মতের একটি দল হিন্দুস্তানের সাথে যুদ্ধ করবে। আল্লাহ তাদেরকে বিজয় দান করবেন। তারা হিন্দুস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানদের শিকলে বেঁধে নিয়ে আসবে। আল্লাহ তাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। তারপর তারা শামে (সিরিয়ায়) ফিরে যাবে। সেখানে তারা হযরত ঈসা ইবনে মারিয়ামের সাক্ষাৎ লাভ করবে। (কিতাবুল ফিতান-১/৪০৯, হাদীস-১২৩৬, মাকতাবাতুত তাওহিদ, কায়রো)
আখেরী কালাম গাজওয়াতুল হিন্দের প্রকৃত সময় এবং অবস্থা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। আমরা কেবল হাদীসের আলোকে এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ঘটনা সম্পর্কে নিজেদেরকে সচেতন এবং প্রস্তুত করতে পারি। সার্বিক বিচারে মনে হচ্ছে, এ যুদ্ধ সন্নিকটে। কেননা, এ যুদ্ধের সাথে ইমাম মাহদী ও হযরত ইসা আলাইহিস সালামের সম্পর্ক রয়েছে। আর বিশেষজ্ঞদের ধারণা যে, তাঁদের আগমনের সময় কাছাকাছি।
তাছাড়া বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিফহাল যারা, তারা ভালো করেই জানেন যে, বর্তমানে তাগুতি শক্তিগুলো আসন্ন মহাযুদ্ধের জন্য কী পরিমান প্রস্তুতি গ্রহণ করছে! অথচ আমরা মুসলিমরা এসম্পর্কে একেবারে গাফিল ও চরম উদাসীন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এতো সতর্ক করে দিয়েছেন, যার কারণে তাগুতরা পর্যন্ত সতর্ক হয়ে গেছে, কিন্তু আমরা অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িত। হে আমার প্রিয় ভাই, ঘুম থেকে এবার জাগো। একবার চেয়ে দেখো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভবিষ্যদ্বাণী ও বর্তমানের ভয়ংকর পরিস্থিতি। এখনই যদি সতর্ক না হও তাহলে ঘুম থেকে জেগে দেখবে তোমরা শিয়রে তাগুতের বাহিনী অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছে। হে আমার প্রিয় ভ্রাতা! এখনই সময় সজাগ হওয়ার, প্রস্তুতি নেয়ার। অসময়ে তোমার দৌঁড়ঝাপ তোমার কোনো কাজে আসবে না। সত্যের সেনানীরা তোমার অপেক্ষায় আছে। সাড়া দাও তাদের ডাকে।
📄 আরো যেসব যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় হবে
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 রোমকদের সাথে যুদ্ধ করে মুসলমানদের বিজয় হবে
عَنْ نَافِعِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ أَبِي وَقَاصٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : سَتُقَاتِلُونَ جَزِيرَةَ الْعَرَبِ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ, ثُمَّ تُقَاتِلُونَ الرُّومَ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ, ثُمَّ تُقَاتِلُونَ الدَّجَّالَ فَيَفْتَحُهَا اللهُ, قَالَ جَابِرُ, فَمَا يَخْرُجُ الدَّجَّالُ حَتَّى تُفْتَحَ الرُّومُ
অর্থ: নাফে ইবনে উতবা ইবনে আবু ওয়াক্কাস রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: তোমরা আরব উপদ্বীপে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ তোমাদের বিজয়ী করবেন। অতঃপর তোমরা রোমকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। আল্লাহ সেখানেও তোমাদের বিজয়ী করবেন। অতঃপর তোমরা দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। আল্লাহ তাতেও তোমাদের বিজয়ী করবেন। জাবির রাযি. বলেন, রোম বিজিত না হওয়া পর্যন্ত দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হবে না। (মুসলিম-২৯০০, ইবনে মাজাহ-৪০৯১, আহমাদ-১৮৪৯৩, সহীহ ইবনে হিব্বান-৬৬৭২, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)
📄 চায়না তুর্কীদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ হবে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا التَّرْكَ.. صِغَارَ الأَعْيُنِ ، حُمْرَ الوُجُوهِ، ذُلْفَ الأُنُوفِ، كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ المَجَانُ المُطْرَقَةُ، وَلا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا نِعَالُهُمُ الشَّعَرُ
অর্থ: আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন না তোমরা এমন তুর্কী জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের চোখ ছোট, চেহারা লাল, নাক চ্যাপ্টা এবং মুখমণ্ডল পেটানো চামড়ার ঢালের ন্যায়। আর ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন না তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের জুতা হবে পশমের। (বুখারী-২৯২৮, ইফা.-২৭২৭, মুসলিম- ১৮১৮, ২৫২৬, ২৯১২, তিরমিযী-২২১৫, আবু দাউদ-৪২০৩, ৪৩০৪, ইবনে মাজাহ-৪০৯৬, আহমাদ-৭২২২, ৭৬১৯, ৭৯২৭, ২৭৪৬০, ৮৯২১, ৯৭৯৬, ১০০২৪, ১০৪৭৬, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
নোট : আলোচ্য হাদীসে تُقَاتِلُوا التَّرْكَ (তুর্কীদের সাথে যুদ্ধ) বলতে বর্তমান প্রচলিত 'তুরস্ক' নয়; বরং এটি চীনা তুর্কিস্থান। কেননা হাদীসে যে আকৃতির কথা বলা হয়েছে, তা চায়না তুর্কীদের মাঝেই পাওয়া যায়। আর বর্তমান তুরস্কের লোকদের মাঝে সেই আকৃতির লোক নেই।
আল্লামা খাত্তাবী রহ. বলেন, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের এক কন্যার নাম 'কানতা'। সে বহু সন্তানের জননী। তুর্কীরা তারই বংশধর। পরবর্তীতে তার থেকেই বংশ বিস্তার লাভ করে। (তোহফাতুল বারী শরহে সহীহ আল-বুখারী-৩য় খণ্ড)