📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 পতিতাবৃত্তির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ

📄 পতিতাবৃত্তির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ


(২). পতিতাবৃত্তির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ
وَمَهْرِ الْبَغِيِّ - তথা ব্যভিচারিণীর উপার্জিত অর্থ। البَغِيِّ এর অর্থ যেনাকারিণী, ব্যভিচারী, অবৈধভাবে যৌনচারকারী, পতিতা (Prostitute) ইত্যাদি। শরীয়তের বিধান হলো, যেসব জিনিস হারাম ঐসব জিনিসের ব্যবসা করাও হারাম। আর যেসব বস্তু মাকরূহ ঐসব বস্তুর ব্যবসা করাও মাকরূহ। সুতরাং যিনা-ব্যভিচার যেহেতু অকাট্য হারাম ও জঘন্যতম গুনাহ, তাই ব্যভিচারের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থও হারাম। (তোহফাতুল বারী শরহে সহীহ আল-বুখারী-২য় খণ্ড)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 গণক (Astrologer) এর গণনার উপার্জিত অর্থ

📄 গণক (Astrologer) এর গণনার উপার্জিত অর্থ


(৩). গণক (astrologer) এর গণনার উপার্জিত অর্থ وحلوان শব্দের অর্থ - বখশিশ, দান, উপহার, হাদিয়া, উপঢৌকন ইত্যাদি। যেহেতু কোনরূপ কষ্ট ছাড়াই গণক এই মজুরী বা বখশিশ গ্রহন করে থাকে, এজন্য গণকের উপার্জনকে حلوان বলা হয়। আর کامن বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে, যে غیب জানে বলে দাবি করে এবং লোকদেরকে আগাম সংবাদ প্রদান করে। যেমন- আগামী বছর কোথায় প্রলয় হবে, কে সুখী হবে, কে বিপদে পতিত হবে, কার ছেলে সন্তান হবে, কে মারা যাবে ইত্যাদি। আর পারিভাষিক অর্থে کاهن বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে, যে উপস্থিত বস্তুর গোপনীয় অবস্থা সম্পর্কে জানে বলে দাবি করে। যেমন- হারানো বস্তু বা চুরিকৃত মাল কোথায় আছে, কত দিনের মধ্যে পলাতক ব্যক্তি ফিরে আসবে ইত্যাদি। ফকীহগণের সর্বসম্মতিক্রমে রায় হলো- গণকের উপার্জন সম্পূর্ণ হারাম। (তোহফাতুল বারী শরহে সহীহ আল-বুখারী-২য় খণ্ড)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 গণকেই উপার্জন হারাম

📄 গণকেই উপার্জন হারাম


عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، قَالَتْ : كَانَ لِأَبِي بَكْرٍ غُلَامٌ يُخْرِجُ لَهُ الخَرَاجَ. وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يَأْكُلُ مِنْ خَرَاجِهِ، فَجَاءَ يَوْمًا بِشَيْءٍ فَأَكَلَ مِنْهُ أَبُو بَكْرٍ، فَقَالَ لَهُ الغُلامُ : أَتَدْرِي مَا هَذَا؟ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ : وَمَا هُوَ؟ قَالَ: كُنْتُ تَكَهَّنْتُ لِإِنْسَانٍ فِي الجَاهِلِيَّةِ، وَمَا أُحْسِنُ الكِهَانَةَ، إِلَّا أَنِّي خَدَعْتُهُ، فَلَقِيَنِي فَأَعْطَانِي بِذَلِكَ، فَهَذَا الَّذِي أَكَلْتَ مِنْهُ ، فَأَدْخَلَ أَبُو بَكْرٍ يَدَهُ، فَقَاءَ كُلَّ شَيْءٍ فِي بَطْنِهِ

অর্থ: হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু বকর রাযি.- এর একজন গোলাম ছিলো। সে প্রত্যহ তার উপর নির্ধারিত কর আদায় করতো। আর আবু বকর রাযি. তার দেয়া কর থেকে আহার করতেন। একদিন সে কিছু খাবার নিয়ে এলে তা তিনি আহার করলেন। গোলাম বললো, যে খাবার ভক্ষণ করছেন তা কীভাবে উপার্জন করেছি আপনি জানেন কি? তিনি বললেন, তা আবার কী? গোলাম বললো, আমি জাহেলী যুগে এক ব্যক্তির ভবিষ্যৎ গণনা করেছিলাম। কিন্তু তখন আমি ভালোভাবে গণনা করতে জানতাম না। তথাপি প্রতারণামূলকভাবে তা করেছিলাম। (কিন্তু ভাগ্যক্রমে আমার গণনা সঠিক হয়েছিল) অতঃপর সে আমাকে গণনার বিনিময়ে এ খাদ্যদ্রব্য দিয়েছিল যা আপনি আহার করলেন। (এ কথা শ্রবণ করা মাত্রই) আবু বকর রাযি. মুখের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে পেটে যা কিছু ছিল সব বমি করে ফেলে দিলেন। (বুখারী-৩৮৪২, ইফা.-৩৫৬১)

নোট: আলোচ্য হাদীস থেকে পরিষ্কার বুঝা যায় যে, গণকের উপার্জন পুরোটাই অবৈধ ও হারাম। গণকের কথা বিশ্বাস করা, তার সাথে সম্পর্ক রাখা, এমনকি তার দেয়া কোনো কিছু ভক্ষণ করাও উচিত নয়। তাছাড়া সহীহ বুখারীর এক হাদীসে গণকের উপার্জনকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। বিস্তারিত দেখুন, সহীহ বুখারী হাদীস-২২৩৭, ২২৮২, ৫৩৪৬, ৫৭৬১, ইফা.-২০৯৫, মুসলিম-১৫৬৭, আহমাদ-১৭০৬৯)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 গণকের কথা বিশ্বাস করা জায়েয নেই

📄 গণকের কথা বিশ্বাস করা জায়েয নেই


عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ بَيْنَا أَنَا أُصَلِّي مَعَ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم, إِذْ عَطَسَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ فَقُلْتُ, يَرْحَمُكَ اللَّهُ. فَرَمَانِي الْقَوْمُ بِأَبْصَارِهِمْ فَقُلْتُ وَاثْكُلَ أُمِّيَاهُ مَا شَأْنُكُمْ تَنْظُرُونَ إِلَى فَجَعَلُوا يَضْرِبُونَ بِأَيْدِيهِمْ عَلَى أَفْخَادِهِمْ فَلَمَّا رَأَيْتُهُمْ يُصَمِّتُونَنِي لَكِنِّي سَكَتُ فَلَمَّا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبِأَبِي هُوَ وَأُمِّي مَا رَأَيْتُ مُعَلِّمًا قَبْلَهُ وَلَا بَعْدَهُ أَحْسَنَ تَعْلِيمًا مِنْهُ فَوَاللَّهِ مَا كَهَرَنِي وَلَا ضَرَبَنِي وَلاَ شَتَمَنِي قَالَ إِنَّ هَذِهِ الصَّلَاةَ لَا يَصْلُحُ فِيهَا شَيْءٍ مِنْ كَلامِ النَّاسِ إِنَّمَا هُوَ التَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ الله صلی الله علیہ وسلم قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي حَدِيثُ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ وَقَدْ جَاءَ اللَّهُ بالإِسْلَامِ وَإِنَّ مِنَّا رِجَالاً يَأْتُونَ الْكُهَانَ. قَالَ, فَلَا تَأْتِهِمْ. قَالَ وَمِنَّا رِجَالٌ يَتَطَيَّرُونَ . قَالَ, ذَاكَ شَيْءٌ يَجِدُونَهُ فِي صُدُورِهِمْ فَلَا يَصُدَّ نَّهُمْ

অর্থ: হযরত মুআবিয়া ইবনে হাকাম সুলামী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে (জামাআতে) নামাজ আদায় করছিলাম। এমন সময় একজন নামাজী ব্যক্তি হাঁচি দিলে আমি তার জবাবে বললাম, “ইয়ারহামুকাল্লাহ” (আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন)। এতে মুসল্লীরা আমার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতে লাগল।
আমি বললাম, আমার মায়ের পুত্র বিয়োগ হোক! তোমাদের কি হলো? তোমরা আমার প্রতি কেন এভাবে দৃষ্টিপাত করছো? (এ কথা শুনে) তারা তাদের উরুতে হাত চাপড়াতে লাগলো। আমি যখন বুঝলাম যে, তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে (তখন আমার রাগ হলো), কিন্তু আমি চুপ হয়ে গেলাম। এদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ শেষ করলেন। তাঁর প্রতি আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক! আমি তাঁর পূর্বে ও পরে তাঁর চাইতে উত্তম শিক্ষক আর দেখিনি। আল্লাহর কসম! তিনি আমাকে তিরস্কারও করলেন না, মারলেনও না এবং মন্দও বললেন না। তিনি (শুধু এতটুকু) বললেন: নামাজের মধ্যে মানুষের কথাবার্তা বলা বৈধ নয়। নামাজ হচ্ছে তাসবীহ, তাকবীর ও কুরআন তিলাওয়াতের সমষ্টি অথবা অনুরূপ কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সবেমাত্র আমি জাহিলিয়াতের যুগ ছেড়ে এসেছি এবং আল্লাহ আমাদের ইসলাম কবুলের তাওফিক দান করেছেন। আমাদের অনেকে গণকের কাছে যায়। তিনি বললেন: না, তাদের নিকট যেয়ো না। আমি বললাম, আমাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা শুভ-অশুভ লক্ষণ বিশ্বাস করে। তিনি বললেন: এটা তাদের মনগড়া বিষয়। এটি যেন তাদেরকে (কোনো ভালো কাজ করতে) বাধা না দেয়। (মুসলিম-১২২৭, ১০৮৬, ইফা.-১০৮০, নাসাঈ-১২১৮, আবু দাউদ-৯৩০, ৯৩১, ৩২৮২, ৩৯০৯, আহমাদ-২৩৫৫০, ২৩২৫৩, ২৩২৫৬, দারিমী-১৫০২, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00