📄 গণকের উপার্জন হারাম
عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ ثَمَنِ الكَلْبِ، وَمَهْرِ البَغِيِّ، وَحُلْوَانِ الكَاهِنِ
অর্থ: হযরত আবু মাসউদ আনসারী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারিণীর উপার্জন এবং গণকের গণনার উপার্জিত অর্থ গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী-২২৩৭, ২২৮২, ৫৩৪৬, ৫৭৬১, ইফা.-২০৯৫, মুসলিম-১৫৬৭, আহমাদ-১৭০৬৯, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
হাদীসের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে তিনটি জিনিসকে হারাম করা হয়েছে। (ক). কুকুরের মূল্য, (খ). ব্যভিচারিণীর উপার্জন এবং (গ). গণকের গণনার উপার্জিত অর্থ। নিম্নে সংক্ষিপ্তভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:
📄 কুকুরের মূল্য
(১). কুকুরের মূল্য
ঘর-বাড়ী, ক্ষেত-খামার, ও জীব-জন্তু পাহারা দেয়ার জন্য এবং শিকার করানোর জন্য কুকুর প্রতিপালন করা সর্বসম্মতিক্রমে জায়িয। তবে ইখতিলাফ হলো কুকুর বিক্রি করে এর মূল্য গ্রহণ করা জায়িয কিনা?
(ক). ইমাম শাফেঈ, ইমাম আহমদ রহ. এবং আহলে জাহের এর মতে, সর্বাবস্থায় কুকুর বিক্রি করা হারাম। চাই কুকুর শিকারী হোক কিংবা না হোক। ইমাম মালিক রহ.-ও এরূপ একটি মত ব্যক্ত করেছেন।
ইমাম শাফেঈ রহ. আলোচ্য অধ্যায়ের হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেন। তিনি বলেন, উক্ত হাদীসে সর্বপ্রকার কুকুর বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে। অন্য হাদীসে উল্লেখ আছে- ثَمَنُ الكَلبِ خَبِيثُ أَى حَرَامُ অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুকুরের মূল্য অপবিত্র তথা হারাম।
(খ). ইমাম আবু হানিফা, ইবরাহীম নখঈ, আতা ও সাহেবাঈন রহ. এর মতে, যেসব কুকুর দ্বারা উপকৃত হওয়া জায়েয সেগুলো বিক্রি করা জায়িয। এটা ইমাম মালিক রহ. এর দ্বিতীয় অভিমত। আহনাফ নিম্নোক্ত হাদীসসমূহ দ্বারা দলিল পেশ করেন-
হাদীস عَنْ جَابِرٍ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ ثَمَنِ السِّنَّوْرِ، وَالْكَلْبِ إِلَّا كَلْبَ صَيْدٍ অর্থ: হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর এবং বিড়াল বিক্রির মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন, তবে শিকারী কুকুরের মূল্য গ্রহণের অনুমতি প্রদান করেছেন। (সুনানে নাসাঈ-৪২৯৫)
হাদীস عن أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ نَهَى عَن ثَمَنِ الكَلبِ الأَكَلبَ الصَّيدِ অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন, তবে শিকারী কুকুরের মূল্য গ্রহণের অনুমতি প্রদান করেছেন। (তিরমিযী-১২৮১)
📄 পতিতাবৃত্তির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ
(২). পতিতাবৃত্তির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ
وَمَهْرِ الْبَغِيِّ - তথা ব্যভিচারিণীর উপার্জিত অর্থ। البَغِيِّ এর অর্থ যেনাকারিণী, ব্যভিচারী, অবৈধভাবে যৌনচারকারী, পতিতা (Prostitute) ইত্যাদি। শরীয়তের বিধান হলো, যেসব জিনিস হারাম ঐসব জিনিসের ব্যবসা করাও হারাম। আর যেসব বস্তু মাকরূহ ঐসব বস্তুর ব্যবসা করাও মাকরূহ। সুতরাং যিনা-ব্যভিচার যেহেতু অকাট্য হারাম ও জঘন্যতম গুনাহ, তাই ব্যভিচারের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থও হারাম। (তোহফাতুল বারী শরহে সহীহ আল-বুখারী-২য় খণ্ড)
📄 গণক (Astrologer) এর গণনার উপার্জিত অর্থ
(৩). গণক (astrologer) এর গণনার উপার্জিত অর্থ وحلوان শব্দের অর্থ - বখশিশ, দান, উপহার, হাদিয়া, উপঢৌকন ইত্যাদি। যেহেতু কোনরূপ কষ্ট ছাড়াই গণক এই মজুরী বা বখশিশ গ্রহন করে থাকে, এজন্য গণকের উপার্জনকে حلوان বলা হয়। আর کامن বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে, যে غیب জানে বলে দাবি করে এবং লোকদেরকে আগাম সংবাদ প্রদান করে। যেমন- আগামী বছর কোথায় প্রলয় হবে, কে সুখী হবে, কে বিপদে পতিত হবে, কার ছেলে সন্তান হবে, কে মারা যাবে ইত্যাদি। আর পারিভাষিক অর্থে کاهن বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে, যে উপস্থিত বস্তুর গোপনীয় অবস্থা সম্পর্কে জানে বলে দাবি করে। যেমন- হারানো বস্তু বা চুরিকৃত মাল কোথায় আছে, কত দিনের মধ্যে পলাতক ব্যক্তি ফিরে আসবে ইত্যাদি। ফকীহগণের সর্বসম্মতিক্রমে রায় হলো- গণকের উপার্জন সম্পূর্ণ হারাম। (তোহফাতুল বারী শরহে সহীহ আল-বুখারী-২য় খণ্ড)