📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 মসজিদ বন্ধ করে দেয়া মারাত্মক অপরাধ

📄 মসজিদ বন্ধ করে দেয়া মারাত্মক অপরাধ


وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ مَنَعَ مَسَاجِدَ اللهِ أَنْ يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَى فِي خَرَابِهَا أُولَئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَنْ يَدْخُلُوهَا إِلَّا خَائِفِينَ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ অর্থ: ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নামের যিকির ও অন্যান্য ইবাদত করতে বাধা প্রদান করে এবং তার ক্ষতি সাধনে চেষ্টা করে? ভীত-সন্ত্রস্ত হওয়া ব্যতীত তাদের জন্যে মসজিদে প্রবেশ করা উচিত নয়। তাদের জন্য দুনিয়াতে আছে লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি। (সূরা বাকারা-১১৪)
নোট: আলোচ্য আয়াতটির কোনো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। কেননা এ আয়াতে অত্যন্ত পরিস্কারভাবেই বলা হয়েছে যে, যারা আল্লাহর ঘর মসজিদে যিকির ও ইবাদত করতে বাধা প্রদান করে তারা সবচেয়ে বড় যালিম (অপরাধী-পাপী)। আর মহান আল্লাহ যাদেরকে যালিম বলেছেন তারা কত নিকৃষ্ট তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আলোচ্য আয়াতে শুধু যিকিরের কথা উল্লেখ করা হলেও এখানে যিকির, তিলাওয়াত, নামাজ, দুআ- দুরূদ, তাসবীহ, তাহলীল, তা'লীম, ওয়াজ-নসীহত ইত্যাদি এর মধ্যে শামিল। শরীয়তের কোনো ইবাদাত পালনে নিষেধ করা যাবে না, বরং সব ধরণের ইবাদাতের জন্য মসজিদকে উন্মুক্ত রাখাই উদ্দেশ্য। (তাফসীরে আবীস সউদ-১/১৪৯)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 মসজিদ কমিটির মধ্যে যেসব যোগ্যতা থাকা আবশ্যক

📄 মসজিদ কমিটির মধ্যে যেসব যোগ্যতা থাকা আবশ্যক


إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ وَاقَامَ الصَّلَاةَ وَأَتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ ، فَعَسَى أُولَئِكَ أَنْ يَكُونُوا مِنَ المُهْتَدِينَ অর্থ: একমাত্র তারাই আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, নামাজ কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। আশা করা যায়, তারা হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা তাওবাহ-১৮)
নোট: আলোচ্য আয়াতে মসজিদ কমিটির কয়েকটি গুণাবলীর কথা বলা হয়েছে। যাদের মধ্যে কুরআনে বর্ণিত ওইসব গুণাবলী বিদ্যমান থাকবে, শুধু তারাই মসজিদ কমিটির যোগ্য সদস্য বলে বিবেচিত হবে।
(১). মসজিদ কমিটির সকল সদস্যকে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হতে হবে।
(২). মসজিদ কমিটির সকল সদস্যকে আখেরাতের উপর ঈমান রাখতে হবে।
(৩). মসজিদ কমিটির সকল সদস্যকে যথাযথ নামাজ কায়েম করতে হবে। (উল্লেখ্য যে, শুধু নিজে নামাজ পড়াকে 'নামাজ কায়েম' বলে না বরং এলাকার যেসব লোক নামাজ পড়ে না, তাদেরকেও নামাজী বানানোর চেষ্টা করাকে 'নামাজ কায়েম' বলে)।
(৪) মসজিদ কমিটির সকল সদস্যকে ঠিকমত যাকাত আদায় করতে হবে।
(৫). মসজিদ কমিটির সকল সদস্য শুধুমাত্র আল্লাহকে ভয় করবে। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় করবে না। (অর্থাৎ পরিবেশ যাই হোক মসজিদে সর্বদা হক কথা বলতে হবে, এ ক্ষেত্রে কাউকে ভয় করা যাবে না)। উপরোক্ত গুণাবলী যেসব লোকের মধ্যে পাওয়া যাবে শুধুমাত্র তারাই মসজিদ কমিটির যোগ্য সদস্য বলে বিবেচিত হবে। অন্যথায় আলোচ্য আয়াতের ফাতওয়া অনুযায়ী তার সদস্যপদ বাতিল ও অযোগ্য বলে গণ্য হবে।
অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলেও সত্য যে, আজকাল অধিকাংশ মসজিদই বে-নামাজী, সুদখোর, ঘুষখোর, মদখোর, ধুমপায়ী, জাহেল, বিদআতী, দুর্নীতিবাজ ও আদর্শহীন লোকদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। সমাজের বড় বড় দুর্নীতিবাজরাই মসজিদ পরিচালনা কমিটির পদস্থ সদস্য হিসেবে আছে। ইমাম সাহেব সুদ-ঘুষের বিরুদ্ধে কথা বললেই চাকুরী চলে যায়, দুর্নীতি ও দখলবাজের বিরুদ্ধে ওয়াজ করলে মুতাওয়াল্লি নাখোশ হন। যার ফলে আজ আমাদের মসজিদগুলো থেকে হকের আওয়াজও বন্ধ হয়ে গেছে। আল্লাহ তা'আলা এই জাতিকে তাঁর আজাব ও গযব থেকে হেফাজত করুন।-আমীন

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 মসজিদ বন্ধ করে দেয়া মারাত্মক জুলুম

📄 মসজিদ বন্ধ করে দেয়া মারাত্মক জুলুম


وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ مَا عَلَيْكَ مِنْ حِسَابِهِمْ مِنْ شَيْءٍ وَمَا مِنْ حِسَابِكَ عَلَيْهِمْ مِنْ شَيْءٍ فَتَطْرُدَهُمْ فَتَكُونَ مِنَ الظَّالِمِينَ

অর্থ: আর তুমি তাড়িয়ে দিয়ো না তাদেরকে, যারা নিজের প্রভুকে সকাল সন্ধ্যায় ডাকে (ইবাদত করে), তারা তার সন্তুষ্টি চায়। তাদের কোনো হিসাব তোমার উপর নেই এবং তোমার কোনো হিসাব তাদের উপর নেই, ফলে (যদি) তুমি তাদেরকে তাড়িয়ে দাও, তাহলে তুমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা আনআম-৫২)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00