📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 ইসলাম কি বলে?

📄 ইসলাম কি বলে?


আপনারা ইতোমধ্যে দেখতে পেয়েছেন যে, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান সহ বিশ্বের বহু দেশে মসজিদে নামাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাদের দেখাদেখি আমাদের দেশের তথাকথিত মুসলিম নামধারী কিছু লোকের গায়েও চুলকানি শুরু হয়েছে।
আমি জিজ্ঞেস করি, বন্ধু! চুলকাও কেন? মসজিদ থেকে কি ভাইরাস ছড়ায়? নাকি যারা মসজিদে আসে তাদের থেকে ভাইরাস ছড়ায়? আর মসজিদ বন্ধ হলে কি দুনিয়ার সব ভাইরাস দূর হয়ে যাবে?
আমি ঐ বন্ধুকে বলবো, মসজিদ থেকে ভাইরাস ছড়ায় না এবং যারা মসজিদে আসে তাদের থেকেও ভাইরাস ছাড়ায় না। কারণ মসজিদের মুসল্লীরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্বে অজু করে, পেশা-পায়খানার পর ঢিলা-কুলুখ ও পানি ব্যবহার করে, ঘুমানোর পূর্বে অজু করে এবং ঘুম থেকে উঠেও অজু করে। তাই নামাজীদের শরীর থেকে কখনো ভাইরাস ছড়াতে পারে না।
বরং ভাইরাস ছড়ায় তোমার মতো নাপাক মানুষ যারা, তাদের শরীর থেকে। কারণ, তোমরা নির্লজ্জর মতো রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অন্যের দেয়ালে পেশাব করো, আর সেই পেশাব ছিঁটে এসে তোমার প্যান্ট নাপাক হয়। তোমরা পেশাব-পায়খানার পর ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করো না, ঠিকমত ফরয গোলসটুকুও তোমরা জানো না। অতএব, তোমাদের নাপাক কাপড় থেকে ভাইরাস ছাড়াতে পারে। কিন্তু যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, সর্বদা পবিত্র অবস্থায় থাকে, তাদের থেকে ভাইরাস ছড়ায় না।
প্রিয় বন্ধু! তুমি কি চীন ও অন্যান্য অমুসলিম দেশের অবস্থা দেখো না? যেখানে একজন মুসলমানও আক্রান্ত হয়নি এবং এর ফলে সে দেশের বন্ধ মসজিদগুলো উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তাহলে বাংলাদেশের মসজিদ বন্ধ করার জন্য তোমার শরীরে এলার্জি উঠছে কেন?

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 সৌদি আরব বন্ধ করলো কেন?

📄 সৌদি আরব বন্ধ করলো কেন?


কেউ হয়তো প্রশ্ন করবেন, তাহলে সৌদি আরব বন্ধ করলো কেন? আমি বলবো, সৌদির প্রিন্স মুহাম্মাদ বিন সালমানের কর্মকাণ্ড ইসলামের দলিল নয়; বরং ইসলামের দলিল পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ। যদি কুরআন-সুন্নায় এর কোনো প্রমাণ থাকে, শুধুমাত্র তখনই তা গ্রহণীয় হবে।
প্রিন্স মুহাম্মাদ বিন সালমান মক্কা-মদিনা বন্ধ করে দিয়ে মারাত্মক অপরাধ করেছেন। কারণ, এ শহরের মসজিদের সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার। যে ভাইরাসের অজুহাতে তিনি মসজিদ বন্ধ করেছেন, সেই ভাইরাস তো মক্কা-মদিনায় প্রবেশ করারই ক্ষমতা রাখে না। এমর্মে সহীহ বখারীতে হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে উল্লেখ আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
عَلَى أَنْقَابِ المَدِينَةِ مَلائِكَةٌ لَا يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ، وَلَا الدَّجَّالُ অর্থাৎ, মদিনার প্রবেশ পথসমূহে ফেরেশতাগণ প্রহরায় নিয়োজিত থাকে। সেখানে মহামারী ও দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারে না। (বুখারী-১৮৮০, ৫৭৩১, ৭১২৩, ইফা.-১৭৫৯, মুসলিম-১৩৭৯, আহমাদ-৭২৩৮, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
বুখারীর অপর বর্ণনায় আছে-
لَيْسَ مِنْ بَلَدٍ إِلَّا سَيَطَؤُهُ الدَّجَّالُ، إِلَّا مَكَّةَ، وَالمَدِينَةَ لَيْسَ لَهُ مِنْ نِقَابِهَا نَقْبُ، إِلَّا عَلَيْهِ المَلَائِكَةُ صَافِينَ يَخْرُسُونَهَا অর্থাৎ, মক্কা ও মদিনা ব্যতীত এমন কোনো শহর নেই যেখানে দাজ্জাল পদদলিত করবে না। মক্কা এবং মদিনার প্রত্যেকটি প্রবেশ পথেই ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে পাহারায় নিয়োজিত রয়েছেন।' (সহীহ বুখারী-১৮৮১, ৭১২৪, ৭১৩৪, ৭৪৭৩, ইফা.-১৭৬১, মুসলিম-২৯৪৩, তিরমিযী-২২৪২, আহমাদ-১১৮৩৫, ১২৫৭৪, ১২৬৭৬, ১২৭৩২, ১২৯৮০, ১৩০৮৩, ১৩৫৩৫, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
ইবনে মাজার এক বর্ণনায় আছে-
وَإِنَّهُ لا يَبْقَى شَيْءٌ مِنَ الْأَرْضِ إِلَّا وَطِئَهُ وَظَهَرَ عَلَيْهِ إِلَّا مَكَّةَ وَالْمَدِينَةَ لَا يَأْتِيهِمَا مِنْ نَقْبٍ مِنْ نِقَابِهِمَا إِلا لَقِيَتُهُ الْمَلَائِكَةُ بِالسُّيُوفِ صَلْتَةً
অর্থাৎ, দাজ্জাল গোটা দুনিয়া চষে বেড়াবে এবং তা তার পদানত হবে, শুধু মক্কা ও মদিনা ব্যতীত। কেননা এ দুই শহরের প্রবেশদ্বারে উন্মুক্ত তরবারিসহ সশস্ত্র অবস্থায় ফেরেশতা নিয়োজিত আছেন。
(আবু দাউদ-৪৩২১, ইবনে মাজাহ-৪০৭৭, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)
কুরআনের দলিল পবিত্র কুরআনের বহু আয়াত দ্বারা প্রমাণিত যে, মক্কা-মদিনা অত্যন্ত নিরাপদ শহর। যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ থাকবে। আল্লাহ তাকে সকল প্রকার বিপদাপদ থেকে হিফাজত করবেন।
১ম আয়াত فِيهِ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ مَقَامُ إِبْرَاهِيمَ وَמَنْ دَخَلَهُ كَانَ آمِنًا অর্থ: তাতে রয়েছে স্পষ্ট নির্দশনসমূহ, মাকামে ইবরাহীম। আর সেখানে যে ব্যক্তিই প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ হয়ে যাবে। (সূরা আলে-ইমরান-৯৭)
২য় আয়াত পবিত্র কুরআন একে নিরাপদ ও শন্তিময় শহর বলেছে। وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ أَمَنَ مِنْهُمْ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ অর্থ: যখন ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বললেন, হে পরওয়ারদেগার! তুমি এ শহরকে নিরাপদ ও শান্তিময় করে দাও এবং এর অধিবাসীদেরকে ফল-মূলের রিযিক প্রদান করো, যারা আল্লাহ ও আখিরাত দিবসে ঈমান এনেছে। (সূরা বাকারাহ-১২৬)
নোট: এ আয়াতেও পবিত্র মক্কা নগরীকে নিরাপদ ও শন্তিময় শহর বলা হয়েছে।
৩য় আয়াত وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْنَّا وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلَّى وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ
অর্থ: স্মরণ করো, যখন আমি কা'বাকে মানুষের জন্য মিলনকেন্দ্র ও নিরাপদ স্থান বানালাম এবং (আদেশ দিলাম যে,) 'তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর'। আর আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম যে, 'তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, 'ইতিকাফকারী ও রুকুকারী-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র করো। (সূরা বাকারা-১২৫) নোট: এ আয়াতেও পবিত্র মক্কা নগরীকে নিরাপদ ও শন্তিময় শহর বলা হয়েছে।
সম্মানিত পাঠক! এখন আপনারাই বলুন, পবিত্র মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা সম্পর্কিত এতগুলো আয়াত ও সহীহ হাদীস থাকা সত্ত্বেও সৌদি সরকার কর্তৃক তা বন্ধ করে দেয়া আদৌ উচিত হয়েছে কি?
আসল কথা হলো, বর্তমান সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান অভিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন না; বরং তিনি ইহুদী-খ্রিস্টানদের পরামর্শ মোতাবেক রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।
শুধু সৌদি আরবই নয়; বরং কাতার, কুয়েত, ওমান ও দুবাই সহ অধিকাংশ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা ইহুদী-খিস্টানদের অনুসরণ করে থাকেন। অতএব, তাদের উপর কিয়াস করে বাংলাদেশের মসজিদ বন্ধের ফতোয়া দেয়া কোনোভাবেই জায়েয হবে না।

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 মসজিদ বন্ধ করার ব্যাপারে হাদীসের অপব্যাখ্যা ও তার জবাব

📄 মসজিদ বন্ধ করার ব্যাপারে হাদীসের অপব্যাখ্যা ও তার জবাব


বর্তমানে কিছু লোক বুখারী শরীফের একটি হাদীসের উপর কিয়াস করে, ঢালাওভাবে মসজিদ বন্ধ করার ফতোয়া দিচ্ছেন। পাঠকবৃন্দের সুবিধার্থে হাদীসখানা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، أَذَّنَ بِالصَّلَاةِ فِي لَيْلَةٍ ذَاتِ بَرْدٍ وَرِيحٍ، ثُمَّ قَالَ: أَلَا صَلُّوا فِي الرِّحَالِ، ثُمَّ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُ المُؤَذِّنَ إِذَا كَانَتْ لَيْلَةٌ ذَاتُ بَرْدٍ وَمَطَرٍ ، يَقُولُ: أَلَّا صَلُّوا فِي الرِّحَالِ
অর্থ: নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, একবার ইবনে উমর রাযি. প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও ঝড়ো হাওয়ার রাতে সালাতের আযান দিলেন। তারপর ঘোষণা করলেন: প্রত্যেকে নিজ নিজ স্থানে সালাত আদায় করে নাও। এরপর বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচণ্ড শীত ও বৃষ্টির রাতে মুয়াজ্জিনকে এ কথা বলার নির্দেশ দিতেন 'তোমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ স্থানে সালাত আদায় করে নাও।' (বুখারী-৬৬৬, ইফা.-৬৩৩, মুসলিম-৬৯৭, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
নোট: আলোচ্য হাদীসের একাধিক ব্যাখ্যা রয়েছে:
(১). সাহাবীগণ আযান শুনার সাথে সাথে পাগলের মতো মসজিদে ছুটে আসতেন। কোনো কিছুই তাদের বিরত রাখতে পারতো না। এমনকি প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ও ঠাণ্ডা বায়ু উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়ও (অন্ধকার রাতে) তারা মসজিদে চলে আসতেন। তাই সাহাবীগণের অধিক কষ্টের প্রতি লক্ষ্য করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচণ্ড শীত ও বৃষ্টির রাতে যার যার ঘরে সালাত পড়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
(২). ইসলামের প্রাথমিক যুগে শরীয়তের বিধি-বিধান বেশ শিথিল থাকায় এরূপ নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে এই হুকুম রহিত হয়ে গেছে। বর্তমানে হুকুম হলো, দূর্যোগপূর্ণ অবস্থায়ও মসজিদে আযান ও জামাআত' হবে। যারা ঝুঁকিমুক্ত থাকবে তারা মসজিদে আসবে, আর যারা ঝুঁকিপূর্ণ তারা বিরত থাকবে। এটাই সহীহ মাসআলা।
(৩). তখনকার সময় গোটা মক্কা-মদিনায় হাতে গোনা কয়েকটি মসজিদ ছিলো। তাই সাহাবাগণ অনেক দূর থেকে এসে জামাআতে শামিল হতেন। আর প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির সময় গ্রামের কর্দমাক্ত রাস্তা পেরিয়ে দূরদূরান্ত থেকে মসজিদে উপস্থিত হওয়া শুধু ঝুঁকিপূর্ণই ছিলো না, বরং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সুনিশ্চিত ছিলো। এজন্য একেবারে সময়িক সময় তথা মাত্র এক-দুই ওয়াক্তের জন্য বাড়িতে নামাজ পড়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছিলো।
কিন্তু বর্তমান দুনিয়ার অবস্থা আগের মতো নয়। এখন অলিতে-গলিতে মসজিদ। রাস্তাঘাটও অনেক উন্নত। কাদামাটি নেই বললেই চলে। তাছাড়া 'করোনাভাইরাস' হচ্ছে আতঙ্কের নাম। এ সময় মসজিদে আসলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সুনিশ্চিত নয়, বরং অনিশ্চিত। আর প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে মসজিদে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সুনিশ্চিত। সুতরাং একটি অনিশ্চিত বিষয়কে সুনিশ্চিত বিষয়ের উপর কিয়াস করে জায়েয ফতোয়া দেয়া কোনোভাবেই সমীচীন হবে না।
তবে হ্যাঁ, এ কথা আমিও বলি যে, যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, তারা মসজিদে আসবে না। তারা নিজ নিজ অবস্থানে নামাজ আদায় করে নিবে।

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 মসজিদ বন্ধ করে দেয়া মারাত্মক অপরাধ

📄 মসজিদ বন্ধ করে দেয়া মারাত্মক অপরাধ


وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ مَنَعَ مَسَاجِدَ اللهِ أَنْ يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَى فِي خَرَابِهَا أُولَئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَنْ يَدْخُلُوهَا إِلَّا خَائِفِينَ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ অর্থ: ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নামের যিকির ও অন্যান্য ইবাদত করতে বাধা প্রদান করে এবং তার ক্ষতি সাধনে চেষ্টা করে? ভীত-সন্ত্রস্ত হওয়া ব্যতীত তাদের জন্যে মসজিদে প্রবেশ করা উচিত নয়। তাদের জন্য দুনিয়াতে আছে লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি। (সূরা বাকারা-১১৪)
নোট: আলোচ্য আয়াতটির কোনো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। কেননা এ আয়াতে অত্যন্ত পরিস্কারভাবেই বলা হয়েছে যে, যারা আল্লাহর ঘর মসজিদে যিকির ও ইবাদত করতে বাধা প্রদান করে তারা সবচেয়ে বড় যালিম (অপরাধী-পাপী)। আর মহান আল্লাহ যাদেরকে যালিম বলেছেন তারা কত নিকৃষ্ট তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আলোচ্য আয়াতে শুধু যিকিরের কথা উল্লেখ করা হলেও এখানে যিকির, তিলাওয়াত, নামাজ, দুআ- দুরূদ, তাসবীহ, তাহলীল, তা'লীম, ওয়াজ-নসীহত ইত্যাদি এর মধ্যে শামিল। শরীয়তের কোনো ইবাদাত পালনে নিষেধ করা যাবে না, বরং সব ধরণের ইবাদাতের জন্য মসজিদকে উন্মুক্ত রাখাই উদ্দেশ্য। (তাফসীরে আবীস সউদ-১/১৪৯)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00