📄 কোনো রোগ-ব্যাধিকে ছোঁয়াচে মনে করা শিরক
কোনো রোগকে সংক্রমক মনে করার অর্থই হচ্ছে, তার (রোগের) নিজস্ব ক্ষমতা রয়েছে। অথচ আল্লাহর হুকুম ছাড়া অন্যকে আক্রান্ত করার ক্ষমতা কোনো রোগেরই নেই。
“রোগের নিজস্ব ক্ষমতা আছে এবং একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে আরেকজন আক্রান্ত হয়” এরূপ আকিদা রাখা শিরক। কোনো মুমিনের জন্য এরূপ আকিদা রাখা জায়েয নেই। বরং প্রত্যেক মুসলমানের জন্য এরূপ আকিদা রাখা আবশ্যক যে, পৃথিবীতে যা কিছু হয়, সব আল্লাহর হুকুমেই হয়ে থাকে। আল্লাহর হুকুম ছাড়া পৃথিবীতে কিছুই হয় না। এমর্মে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা বলেন: قُلْ لَنْ يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا هُوَ مَوْلَانَا وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ অর্থাৎ, আপনি বলে দিন, 'আমাদেরকে শুধু তা-ই আক্রান্ত করবে, যা আল্লাহ আমাদের তাকদিরে লিখে রেখেছেন। তিনিই আমাদের অভিভাবক, আর আল্লাহর উপরই মুমিনদের তাওয়াক্কুল করা উচিত। (সূরা তাওবাহ-৫১)
অপর এক আয়াতে তিনি আরো বলেন- وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوْتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتَابًا مُؤَجَّلًا অর্থাৎ, এ কথা সুনির্দিষ্টভাবে লিপিবদ্ধ আছে যে, কোনো প্রাণীই আল্লাহর হুকুম ব্যতীত মৃত্যুবরণ করে না। (সূরা আলে-ইমরান-১৪৫)
এ আয়াতদ্বয়ে খুব পরিস্কারভাবেই বলা হয়েছে যে, আল্লাহ যার তাকদিরে যতটুকু লিখে রেখেছেন, ঠিক ততটুকুই পৌঁছাবে। এক চুল পরিমাণও এদিক সেদিক হবে না। সুতরাং আল্লাহ যদি কারো ভাগ্যে রোগ-বালাই না লিখেন, তবে কস্মিণকালেও তার উপর তা আপতিত হবে না। এমনকি সংক্রমিত ব্যক্তিকে কাঁধে নিয়ে ঘুরে বেড়ালেও সে আক্রান্ত হবে না। এটাই হচ্ছে শিরক মুক্ত ঈমান।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, গাইরুল্লাহ তথা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুকে ক্ষমতাবান মনে করা শিরক। অর্থাৎ, “আল্লাহর হুকুম ছাড়া (কোনো রোগ) অন্যকে আক্রান্ত করতে পারে” এরূপ ধারণা করা শিরক। এমনিভাবে “বিশেষ কোনো নক্ষত্র উদয়ের কারণে বৃষ্টি হয়” এরূপ ধারণা করাও শিরক। এমর্মে নিম্নে একটি হাদীস উল্লেখ করা হলো: عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الجُهَنِيِّ، أَنَّهُ قَالَ: صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلاةَ الصُّبْحِ بِالحُدَيْبِيَةِ عَلَى إِثْرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلَةِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ، فَقَالَ: هَلْ تَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ ؟ قَالُوا : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ، قَالَ: أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرُ ، فَأَمَّا مَنْ قَالَ: مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللَّهِ وَرَحْمَتِهِ، فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرُ بِالكَوْكَبِ، وَأَمَّا مَنْ قَالَ: بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا ، فَذَلِكَ كَافِرُ بِي وَمُؤْمِنْ بِالكَوْكَبِ
অর্থ: হযরত যায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: একরাতে বৃষ্টির পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে হুদায়বিয়াতে ফজরের নামাজ আদায় করলেন। নামাজ শেষে তিনি লোকদের দিকে ফিরে বললেন: তোমরা কি জানো, তোমাদের রব কী বলেছেন? তাঁরা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তখন তিনি বললেন: আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: 'আমার বান্দাদের মধ্য কেউ আমার প্রতি মুমিন এবং কেউ কাফির হয়ে গেলো। যে বলেছে, আল্লাহর করুণা ও রহমতে আমরা বৃষ্টি লাভ করেছি, সে হলো আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে বলেছে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টিপাত হয়েছে, সে আমার উপর অবিশ্বাসী হয়েছে এবং নক্ষত্রের উপর বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়েছে। (বুখারী-৮৪৬, ১০৩৮, ৪১৪৭, ৭৫০৩, ইফা,-৮০৬, মুসলিম-৭১, নাসাঈ-১৫২৫, আবু দাউদ-৩৯০৬, আহমাদ-১৬৬১৩, ১৭০৬০, মালিক-৪৫১, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
নোট: আলোচ্য হাদীস দ্বারা আমাদের ঈমানকে শিরকমুক্ত করা হয়েছে।
কেননা আমরা অনেক সময় এরূপ বলে থাকি- 'অমুক নক্ষত্রের কারণে বৃষ্টি হয়েছে; অমুক পীরের দরবারে যাওয়ার কারণে ছেলে সন্তান হয়েছে; অমুক মাজারের বরকতে ব্যবসায় লাভ হয়েছে ইত্যাদি। কিন্তু আলোচ্য হাদীস থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, এরূপ আকিদা পোষণ করা 'শিরক'। কেউ যদি এরূপ আকিদা পোষণ করে, তবে শিরকী গুনাহ হবে এবং অনেক ক্ষেত্রে ঈমান চলে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।