📄 তাকদীরের উপর ঈমান রাখা ফরয
৭ম হাদীস তাকদীরের উপর ঈমান রাখা ফরয عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ وَكَّلَ بِالرَّحِمِ مَلَكًا يَقُولُ: يَا رَبِّ نُطْفَةٌ ، يَا رَبِّ عَلَقَةٌ، يَا رَبِّ مُضْغَةً. فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَقْضِيَ خَلْقَهُ قَالَ: أَذَكَرُ أَمْ أُنْثَى شَقِيٌّ أَمْ سَعِيدٌ، فَمَا الرِّزْقُ وَالأَجَلُ فَيُكْتَبُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ
অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আল্লাহ তা'আলা মাতৃগর্ভের জন্য একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করে দিয়েছেন। সে (ভ্রুণ গঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে) বলতে থাকে, হে প্রভু! এখন বীর্য-আকৃতিতে আছে। হে প্রভু! এখন জমাট রক্তে পরিণত হয়েছে। হে প্রভু! এখন মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়েছে। এরপর আল্লাহ তা'আলা যখন তাকে পূর্ণাঙ্গ করতে চান, তখন জিজ্ঞেস করেন: পুরুষ, নাকি নারী? সৌভাগ্যবান, নাকি হতভাগা? রিযিক ও বয়স কী পরিমাণ? (নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এসব বিষয়ে) তার মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায়ই লিখে দেয়া হয়। (উল্লেখ্য যে, এ সব বিষয়ের উপর ঈমান রাখা জরুরী)। (বুখারী-৩১৮, ৩৩৩৩, ৬৫৯৫, ইফা.-৩১২, মুসলিম-২৬৪৬, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
নোট: এসব হাদীসে পরিস্কার বলা হয়েছে যে, ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছুই নেই। সংক্রমিত ব্যক্তিকে স্পর্শ করার দ্বারা যদি কেউ আক্রান্ত হয়, তাহলে মনে করতে হবে যে, এটাই তার তাকদির। অর্থাৎ, তার তাকদিরে এরূপই লেখা ছিলো। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের ধারণা অনুযায়ী যদি মহামারী ছোঁয়াচে রোগ হয়, তাহলে প্রথম ব্যক্তিকে বা প্রথম উটকে কে সংক্রমিত করলো? অতএব, ছোঁয়াচে বলতে কিছু নেই। এটা শুধু মানুষের ধারণা মাত্র। এরূপ আকিদা বর্জন করা জরুরী।
📄 কুষ্ঠ রোগ সম্পর্কিত হাদীসের অপব্যাখ্যা ও জবাব
“ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই” এমর্মে অসংখ্য সহীহ হাদীস থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে কিছু লোক তথাকথিত আধুনিক বিজ্ঞানীদের সাথে ছোঁয়াচে রোগের পক্ষে ছাপাই গাইতে শুরু করেছে। তাদের দলিল সাকীফ গোত্রের সেই কুষ্ঠ রোগী, যাকে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসতে বারণ করেছিলেন। পাঠকবৃন্দের সুবিধার্থে হাদীসখানা নিম্নে উল্লেখ করা হলো :
عَنْ عَمْرُو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كَانَ فِي وَفْدِ ثَقِيفٍ رَجُلٌ مَجْذُومٌ. فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ارْجِعْ فَقَدْ بَايَعْتُكَ
অর্থ: হযরত আমর রাযি. তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, 'সাকীফ' গোত্রের প্রতিনিধি দলের মধ্যে এক ব্যক্তি কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ছিলো। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি নির্দেশ পাঠালেন যে, "তুমি চলে যাও, আমি তোমাকে বাইআত করে নিলাম।” (মুসলিম-২২৩১, নাসাঈ- ৪১৮২, ইবনে মাজাহ-৩৫৪৪, আহমাদ-১৮৯৭৪, ১৮৯৮০, ১৯৪৯২, বায়হাকী-১৪০২২, জামেউল আহাদীস-৩১৪০, হাদীসের শব্দাবলী নাসাঈর, হাদীসটি সহীহ)
ব্যাখ্যা : ارْجِعُ فَقَدْ بَايَعْتُكَ "তুমি চলে যাও, আমি তোমাকে বাইআত করে নিলাম।” এ বাক্যের একাধিক ব্যাখ্যা হতে পারে। কেউ কেউ বলেছেন, সাকীফ গোত্রের ঐ লোকটি খুব অসুস্থ ছিলেন। মজলিস পর্যন্ত হেঁটে আসা তাঁর জন্য অনেক কষ্টকর ছিলো। তাই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ পাঠালেন যে, 'তোমার আসতে হবে না, তুমি চলে যাও, আমি তোমাকে বাইআত করে নিলাম।"
এটিই উত্তম ব্যাখ্যা। কারণ এ রোগটি যে ছোঁয়াচে নয়, তা পরবর্তীতে হাদীস থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়।
পরবর্তী হাদীসে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, একদা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন কুষ্ঠ রোগীর সাথে মুসাফাহা করেছেন এবং তাকে সাথে নিয়ে একই প্লেটে খাবারও খেয়েছেন। সুতরাং এটি যদি ছোঁয়াচে রোগ হতো, তবে তিনি অবশ্যই তা থেকে বিরত থাকতেন :
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَذَ بِيَدِ رَجُلٍ مَجْذُومٍ, فَأَدْخَلَهَا مَعَهُ فِي الْقَصْعَةِ, ثُمَّ قَالَ كُلِّ ثِقَةٌ بِاللَّهِ وَتَوَكُلا عَلَى اللَّهِ
অর্থ: হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন কুষ্ঠ রোগীর হাত ধরলেন, তারপর তা নিজের খানার প্লেটে রেখে বললেন: আল্লাহর উপর আস্থা রেখে খাও এবং আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করো। (তিরমিযী-১৮১৭, আবু দাউদ-৩৯২৫, ৩৯২৭, ইবনে মাজাহ-৩৫৪২, হাদীসের শব্দাবলী আবু দাউদ ও ইবনে মাজার)
দ্বিতীয় ব্যাখ্যা হলো, কেউ কেউ বলেছেন, কুষ্ঠ রোগীকে দেখার পর দূর্বল ঈমানের লোকেরা হয়তো একথা বলে ফেলতে পারে যে, “এ ব্যক্তিই আমাদের সর্বনাশ করবে, এর কারণেই আমরা আক্রান্ত হতে পারি।” আর এটা শিরকী কথা। কারণ আল্লাহর হুকুম ছাড়া কিছুই হয় না।
তাই দূর্বল লোকেদের ঈমান হেফাজতের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আসতে বারণ করেছিলেন।
উভয় ব্যাখ্যাই যুক্তিযুক্ত। কারণ, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে তাকে আসতে বারণ করবেন এটা কল্পনাও করা যায় না। আর এটা তাঁর শানেরও খেলাফ। আর এটা যদি ছোঁয়াচে রোগ হতো, তাহলে তিনি কুষ্ঠ রোগীকে নিয়ে একই প্লেটে খাবার খেলেন কেন?
নোট: আসল কথা হলো, শুধু সাকীফ গোত্রের সেই কুষ্ঠ রোগীই নয়; বরং তাঁর নিকট হেঁটে আসা কারো জন্য কষ্টকর মনে হলে কিংবা দূরদেশ থেকে কেউ বাইআত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আসতে নিষেধ করতেন এবং লোক মারফত কিংবা পত্রযোগে তাকে বাইআত করে নিতেন। যেমন- বাদশাহ নজ্জাশীর ঘটনা সকলেরই জানা। তিনি পত্রযোগে তাকে বাইআত করে নিয়েছিলেন।
এমনিভাবে সাহাবায়ে কিরামের মাঝেও এই আমল চালু ছিলো যে, দূরের লোকদেরকে পত্রযোগে বাইআত করতেন। যেমন সহীহ বুখারীতে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাযি. এর কথাও উল্লেখ আছে যে, তিনি পত্রযোগে খলিফা আবদুল মালিকের নিকট বাইআত হয়েছিলেন। হাদীসটি নিম্নরূপ: عَنْ عَبْدِ اللهِ بْن دِينَارٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: لَمَّا بَايَعَ النَّاسُ عَبْدَ المَلِكِ كَتَبَ إِلَيْهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ : إِلَى عَبْدِ اللَّهِ عَبْدِ المَلِكِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ إِنِّي أُقِرُ بِالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ لِعَبْدِ اللَّهِ عَبْدِ المَلِكِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى سُنَّةِ اللَّهِ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ، فِيمَا اسْتَطَعْتُ
অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে দিনার রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা যখন আবদুল মালিকের নিকট বাইআত হলো, তখন আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. তার কাছে পত্র লিখলেন যে, আমি মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদর্শ অনুযায়ী আল্লাহর বান্দা, আমীরুল মুমিনীন আবদুল মালিকের, কথা যথাসাধ্য শোনা ও তাঁর আনুগত্য করার অঙ্গীকার করছি। (সহীহ বুখারী-৭২০৫, ৭২০৩, ৭২০৪, ৭২৭২, ইফা.-৬৭১০, ৬৭১২)
অতএব, এসব ঘটনা থেকে আমরা পরিস্কার বলতে পারি যে, সংক্রমিত হওযার ভয়ে সাকীফ গোত্রের ঐ লোকটিকে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসতে নিষেধ করেননি; বরং তার কষ্টের প্রতি লক্ষ্য রেখে তিনি নিষেধ করেছিলেন। অতএব এই হাদীসকে ছোঁয়াচে রোগের পক্ষে দলিল বানানো জায়েয হবে না। والله اعلم
📄 কুষ্ঠ রোগী থেকে পলায়ন সম্পর্কিত হাদীসের অপব্যাখ্যা ও জবাব
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لا عَدْوَى وَلا طِيَرَةَ ، وَلا هَامَةً وَلاَ صَفَرَ، وَفِرَّ مِنَ المَجْذُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنَ الأَسَدِ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: রোগে কোনো সংক্রমণ নেই, অশুভ লক্ষণ বলতে কিছু নেই, পেচা অশুভের প্রতীক নয়, সফর মাসের কোনো অশুভ নেই। কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাকো, যেভাবে দূরে থাকো বাঘ থেকে। (সহীহ বুখারী-৫৭০৭, ৫৭১৭, ৫৭৫৭, ৫৭৭০, ৫৭৭৩, ৫৭৭৫)
উত্তম ব্যাখ্যা: “কোনো রোগেই সংক্রমণ তথা ছোঁয়াচে নেই এবং একজন আরেকজনকে সংক্রমিত করার ক্ষমতা রাখে না” একথা শতভাগ সত্য। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসের শুরুতে বলে দিয়েছেন- لَا عَدْوَى 'অর্থাৎ, কোনো রোগেই সংক্রমণ নেই।'
এরপর এ বিষয়টি প্রমাণের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই একজন কুষ্ঠ রোগীকে সাথে নিয়ে একই প্লেটে খানা খেয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, এতে কোনো সংক্রমণ নেই।
📄 কোনো রোগ-ব্যাধিকে ছোঁয়াচে মনে করা শিরক
কোনো রোগকে সংক্রমক মনে করার অর্থই হচ্ছে, তার (রোগের) নিজস্ব ক্ষমতা রয়েছে। অথচ আল্লাহর হুকুম ছাড়া অন্যকে আক্রান্ত করার ক্ষমতা কোনো রোগেরই নেই。
“রোগের নিজস্ব ক্ষমতা আছে এবং একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে আরেকজন আক্রান্ত হয়” এরূপ আকিদা রাখা শিরক। কোনো মুমিনের জন্য এরূপ আকিদা রাখা জায়েয নেই। বরং প্রত্যেক মুসলমানের জন্য এরূপ আকিদা রাখা আবশ্যক যে, পৃথিবীতে যা কিছু হয়, সব আল্লাহর হুকুমেই হয়ে থাকে। আল্লাহর হুকুম ছাড়া পৃথিবীতে কিছুই হয় না। এমর্মে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা বলেন: قُلْ لَنْ يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا هُوَ مَوْلَانَا وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ অর্থাৎ, আপনি বলে দিন, 'আমাদেরকে শুধু তা-ই আক্রান্ত করবে, যা আল্লাহ আমাদের তাকদিরে লিখে রেখেছেন। তিনিই আমাদের অভিভাবক, আর আল্লাহর উপরই মুমিনদের তাওয়াক্কুল করা উচিত। (সূরা তাওবাহ-৫১)
অপর এক আয়াতে তিনি আরো বলেন- وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوْتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتَابًا مُؤَجَّلًا অর্থাৎ, এ কথা সুনির্দিষ্টভাবে লিপিবদ্ধ আছে যে, কোনো প্রাণীই আল্লাহর হুকুম ব্যতীত মৃত্যুবরণ করে না। (সূরা আলে-ইমরান-১৪৫)
এ আয়াতদ্বয়ে খুব পরিস্কারভাবেই বলা হয়েছে যে, আল্লাহ যার তাকদিরে যতটুকু লিখে রেখেছেন, ঠিক ততটুকুই পৌঁছাবে। এক চুল পরিমাণও এদিক সেদিক হবে না। সুতরাং আল্লাহ যদি কারো ভাগ্যে রোগ-বালাই না লিখেন, তবে কস্মিণকালেও তার উপর তা আপতিত হবে না। এমনকি সংক্রমিত ব্যক্তিকে কাঁধে নিয়ে ঘুরে বেড়ালেও সে আক্রান্ত হবে না। এটাই হচ্ছে শিরক মুক্ত ঈমান।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, গাইরুল্লাহ তথা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুকে ক্ষমতাবান মনে করা শিরক। অর্থাৎ, “আল্লাহর হুকুম ছাড়া (কোনো রোগ) অন্যকে আক্রান্ত করতে পারে” এরূপ ধারণা করা শিরক। এমনিভাবে “বিশেষ কোনো নক্ষত্র উদয়ের কারণে বৃষ্টি হয়” এরূপ ধারণা করাও শিরক। এমর্মে নিম্নে একটি হাদীস উল্লেখ করা হলো: عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الجُهَنِيِّ، أَنَّهُ قَالَ: صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلاةَ الصُّبْحِ بِالحُدَيْبِيَةِ عَلَى إِثْرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلَةِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ، فَقَالَ: هَلْ تَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ ؟ قَالُوا : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ، قَالَ: أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرُ ، فَأَمَّا مَنْ قَالَ: مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللَّهِ وَرَحْمَتِهِ، فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرُ بِالكَوْكَبِ، وَأَمَّا مَنْ قَالَ: بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا ، فَذَلِكَ كَافِرُ بِي وَمُؤْمِنْ بِالكَوْكَبِ
অর্থ: হযরত যায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: একরাতে বৃষ্টির পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে হুদায়বিয়াতে ফজরের নামাজ আদায় করলেন। নামাজ শেষে তিনি লোকদের দিকে ফিরে বললেন: তোমরা কি জানো, তোমাদের রব কী বলেছেন? তাঁরা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তখন তিনি বললেন: আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: 'আমার বান্দাদের মধ্য কেউ আমার প্রতি মুমিন এবং কেউ কাফির হয়ে গেলো। যে বলেছে, আল্লাহর করুণা ও রহমতে আমরা বৃষ্টি লাভ করেছি, সে হলো আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে বলেছে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টিপাত হয়েছে, সে আমার উপর অবিশ্বাসী হয়েছে এবং নক্ষত্রের উপর বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়েছে। (বুখারী-৮৪৬, ১০৩৮, ৪১৪৭, ৭৫০৩, ইফা,-৮০৬, মুসলিম-৭১, নাসাঈ-১৫২৫, আবু দাউদ-৩৯০৬, আহমাদ-১৬৬১৩, ১৭০৬০, মালিক-৪৫১, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
নোট: আলোচ্য হাদীস দ্বারা আমাদের ঈমানকে শিরকমুক্ত করা হয়েছে।
কেননা আমরা অনেক সময় এরূপ বলে থাকি- 'অমুক নক্ষত্রের কারণে বৃষ্টি হয়েছে; অমুক পীরের দরবারে যাওয়ার কারণে ছেলে সন্তান হয়েছে; অমুক মাজারের বরকতে ব্যবসায় লাভ হয়েছে ইত্যাদি। কিন্তু আলোচ্য হাদীস থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, এরূপ আকিদা পোষণ করা 'শিরক'। কেউ যদি এরূপ আকিদা পোষণ করে, তবে শিরকী গুনাহ হবে এবং অনেক ক্ষেত্রে ঈমান চলে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।