📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 আক্রান্ত এলাকায় থেকে মৃত্যুবরণ করলে শহীদ

📄 আক্রান্ত এলাকায় থেকে মৃত্যুবরণ করলে শহীদ


পূর্বেও বলেছি যে, মহামারী পীড়িত এলাকা থেকে পলায়ন করা বা অন্যত্র চলে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ এবং কবিরাহ গুনাহ। কোনো কোনো বর্ণনায় একে যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করার মতোই অপরাধ বলা হয়েছে। সুতরাং যারা পূর্ব থেকেই সেখানে অবস্থান করছে, তারা সেখানেই থাকবে। যদি তার তাকদিরে এই 'মরণব্যাধি' লেখা না থাকে, তবে সে সংক্রমিত হবে না। আর তাকদিরে লেখা থাকলে পলায়ন করেও রক্ষা পাবে না।
অতএব কেউ যদি মহামারী পীড়িত এলাকায় অবস্থান করে এবং আল্লাহর নির্ধারিত ফায়সালা অনুযায়ী সেই রোগেই তার মৃত্যু হয়, তবে সে শাহাদাতের মর্তবা লাভ করবে। আর শহীদগণের মর্তবা হচ্ছে তাদের কোনো হিসাব-নিকাশ নেই, বরং মৃত্যুর পর সোজা জান্নাত। নিম্নে এমর্মে কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করা হলো:
১ম হাদীস عَن عائشة رضي الله عنها أَنَّهَا سَأَلَتُ رسولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم عَن الطاعون ، فَأَحْبَرَهَا أَنَّهُ كَانَ عَذَاباً يَبْعَثُهُ الله تعالى عَلَى مَنْ يَشَاءُ ، فَجَعَلَهُ اللَّهُ تعالى رحمةً لِلْمُؤْمِنِينَ ، فَلَيْسَ مِنْ عَبْدٍ يَقَعُ فِي الطَّاعُونَ فَيَمْكُثُ فِي بَلَدِهِ صَابِراً مُحْتَسِباً يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا يُصِيبُهُ إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ إِلا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ الشَّهِيدِ
অর্থ: হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা তিনি প্লেগ রোগ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন: এটা আল্লাহর একপ্রকার আযাব। তিনি যাকে চান, তার জন্যই প্রেরণ করেন। তিনি মুমিনদের জন্য একে রহমতে পরিণত করেছেন।
সুতরাং যদি কোনো ব্যক্তি এ রোগে আক্রান্ত হয় এবং সে নিজ এলাকায় ধৈর্যের সাথে সওয়াবের নিয়তে এ কথা মনে রেখে অবস্থান করে যে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন, তা পৌঁছবেই (অতঃপর সেই রোগেই তার মৃত্যু হয়), তবে সে শহীদের মতোই সওয়াব লাভ করবে। (বুখারী-৩৪7৪, ৫৭৩৪, ৬৬১৯, ইফা.-৩২২৫, আহমাদ-২৩৮৩৭, ৩৪৬৮৬, ২৫৬০৮, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
২য় হাদীস عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الطَّاعُونُ شَهَادَةً لِكُلِّ مُسْلِمٍ অর্থ: আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: মহামারীতে মৃত প্রত্যেক মুসলমান শহীদ। (বুখারী-২৮৩০, ৫৭৩২, ইফা.-২৬৩৪, মুসলিম-১৯১৬, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
৩য় হাদীস عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الشُّهَدَاءُ خَمْسَةٌ : الْمَطْعُونُ، وَالْمَبْطُونُ، وَالْغَرِيقُ، وَصَاحِبُ الْهَدْمِ ، وَالشَّهِيدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: শহীদ পাঁচ প্রকার- (১). প্লেগে (মহামারীতে) মৃত ব্যক্তি, (২). কলেরায় মৃত ব্যক্তি, (৩). পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি, (৪). (দেয়াল বা ভারী কোনো জিনিসে) চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি, (৫). আল্লাহ্র রাস্তায় (যুদ্ধের ময়দানে) শহীদ। (বুখারী-৬৫৩, ৭২০, ২৮২৯, ৫৭৩৩, ইফা.-৬২২, মুসলিম-৪৩৭, ৪৩৯, ১৯১৫, তিরমিযী-২২৫, ১০৬৩, ১৯৫৮, নাসাঈ-৪৫০, ৭৭1, আবু দাউদ- ৫২৪৫, ইবনে মাজাহ-৯৭৯, আহমাদ-৭১৮৫, ৭৬৮০, ৭৭৮২, ৭৯৬২, ৮১০৬, ৮২৯৩, ৯২০২, ৯৭৫০, মালিক-১৫১, ২৯৫, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
৪র্থ হাদীস عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : مَا تَعُدُّونَ الشَّهِيدَ فِيكُمْ, قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ, مَنْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ شَهِيدٌ, قَالَ إِنَّ شُهَدَاءَ أُمَّتِي إِذًا لَقَلِيلٌ, قَالُوا فَمَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ, قَالَ مَنْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ مَاتَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ شَهِيدٌ وَمَنْ مَاتَ فِي الطَّاعُوْنِ فَهُوَ شَهِيدٌ وَمَنْ مَاتَ فِي الْبَطْنِ فَهُوَ شَهِيدٌ وَالْغَرِيقُ شَهِيدٌ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: তোমরা তোমাদের মধ্যে কাকে শহীদ বলে গণ্য কর? সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যে আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছে সেই শহীদ। তিনি বললেন, তাহলে তো আমার উম্মতের মধ্যে শহীদের সংখ্যা খুবই কম হবে। তারা আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে তারা কারা? তিনি বললেন- (১). যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় (শত্রুর আঘাতে) নিহত হলো সে শহীদ, (২). যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় (যুদ্ধে গিয়ে) স্বাভাবিক অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলো সে শহীদ, (৩). যে ব্যক্তি মহামারীতে মৃত্যুবরণ করলো সে শহীদ, (৪). যে ব্যক্তি পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণ করলো সে শহীদ, (৫). পানিতে ডুবে যার মৃত্যু হলো সেও শহীদ। (মুসলিম-৫০৫০, ৫০৫১, ৪৮৩৫, তিরমিযী-১০৬২, ১৯৫৮, আবু দাউদ-৫১৪৫, ইবনে মাজাহ-২৮০৪, ৩৬৮২, আহমাদ-৭৭৮২, ৭৯৭৯, ৮১০৬, ৮৩১৫, ৯১১৫, মালিক-২৯৫, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00