📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 পাপকাজে বাঁধা না দিলে আযাব আসবেই

📄 পাপকাজে বাঁধা না দিলে আযাব আসবেই


عَنْ جَرِيرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : مَا مِنْ رَجُلٍ يَكُونُ فِي قَوْمٍ يُعْمَلُ فِيهِمْ بِالْمَعَاصِي يَقْدِرُونَ عَلَى أَنْ يُغَيِّرُوا عَلَيْهِ فَلَا يُغَيِّرُوا إِلَّا أَصَابَهُمُ اللَّهُ بِعَذَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَمُوتُوا

অর্থ: হযরত জারীর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: যখন কোনো কওমের মধ্যে আল্লাহর নাফরমানী করা হয় আর তাদের শক্তি থাকা সত্ত্বেও তা প্রতিহত করে না, তখন আল্লাহ তা'আলা ঐ কওমের সকলকেই মৃত্যুর পূর্বে শাস্তি প্রদান করেন। (আবু দাউদ-৪৩৪১, তিরমিযী-২১৬৮, আহমাদ-১, ১৭, ৩০, ৫৪, হাদীসের শব্দাবলী আবু দাউদের)

নোট: শক্তি থাকা সত্ত্বেও পাপ কাজে বাঁধা না দেয়া বড় গুনাহ। কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ পাক জিজ্ঞেস করবেন, তোমাকে শক্তি দিয়েছিলাম, তুমি ইচ্ছা করলে অমুক অমুক অন্যায় কাজে বাঁধা দিতে পারতে, কিন্তু দাওনি। ইচ্ছা করলে মদ, জুয়া ও ব্যভিচার বন্ধ করতে পারতে, কিন্তু করোনি।

ফকীহগণ বলেন, পাপ কাজে বাঁধা দেয়ার শক্তি থাকলে বাঁধা দেয়া ফরয। যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বাঁধা না দেয় বা দেখেও না দেখার ভান করে, তবে পরকালের শান্তি তো আছেই, হাদীসের ঘোষণা অনুযায়ী দুনিয়াতেও আযাব নাযিল হবে। অতএব, "করোনা ভাইরাস” তারই অংশ।

বর্তমানে নাফরমানীর কাজে বাঁধা প্রদান তো দূরের কথা, আজ মুসলমানের প্রায় প্রতিটি ঘরেই নাফরমানী। প্রতিটি ঘরে টিভি, দোকানে টিভি, গাড়ীতে টিভি, লঞ্চে টিভি, বিমানে টিভি, রাস্তার মোড়ে মোড়ে মূর্তি, মোবাইলে মেয়েদের নগ্ন ছবি, যিনার আসবাব। মুসলমানের ঘরে মদ, হারাম খাদ্য। মুসলমানের স্ত্রী ও মেয়েরা নগ্ন-বেপর্দা। আলমারীগুলোতে ছোট ছোট মূর্তি। মনে হয় পুরো ঘরটিই যেন দোজখখানা।

আজ মুসলমানের ঘরে নামাজ নেই, তালীম নেই, তিলাওয়াত নেই, সুন্নাত নেই, যিকির নেই, তাহাজ্জুদ নেই, কান্নাকাটিও নেই। এই যদি হয় মুসলমানের অবস্থা, তাহলে আল্লাহ পাকের আযাব ও গযব আসবে না কেন? তাই আসুন, আল্লাহর দরবারে খাঁটি দিলে তাওবাহ করি এবং আল্লাহ পাকের হুকুম ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরিকা মোতাবেক জীবন যাপন করি। এর মধ্যে দুনিয়াতেও শান্তি, আখেরাতেও কামিয়াবী।

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 অন্যায় দেখে বাঁধা না দিলে তার দুআ কবুল হয় না

📄 অন্যায় দেখে বাঁধা না দিলে তার দুআ কবুল হয় না


عَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ أَوْ لَيُؤْشِكَنَّ اللَّهُ أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَابًا مِنْهُ ثُمَّ تَدْعُوْنَهُ فَلَا يُسْتَجَابُ لَكُمْ

অর্থ: হযরত হুযাইফা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ঐ সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। অন্যথায় অতিশীঘ্রই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর আযাব পাঠাবেন। অতঃপর তোমরা তাঁর কাছে দুআ করবে, কিন্তু দুআ' কবুল হবে না। (তিরমিযী- ২১৬৯, ইবনে মাজাহ-৪০০৪, আহমাদ-২৪৭২৭, হাদীসের শব্দাবলী তিরমিযীর, হাদীসটি হাসান)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00