📄 মদ্যপান ও গান-বাজনা বৃদ্ধি পেলে সে জাতির উপর আযাব আসে
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ خَسْفٌ وَمَسْخُ وَقَذْفٌ : فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَا رَسُولَ اللَّهِ! وَمَتَى ذَاكَ ؟ قَالَ إِذَا ظَهَرَتِ الْقَيْنَاتُ وَالْمَعَازِفُ وَشُرِبَتِ الْخُمُورُ
অর্থ: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ভূমিধ্বস, চেহারা বিকৃতি এবং প্রস্তরবর্ষণের আযাব এই উম্মতের উপর হবে। জনৈক মুসলিম ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কখন এসব আযাব আসবে? তিনি বললেন: যখন গায়িকা নারী ও বাদ্যযন্ত্র বিস্তার লাভ করবে এবং মদ্যপানের সয়লাব হবে। (তিরমিযী-২২১২)
📄 একবার মাদক সেবন করলে ৪০ দিন নামাজ কবুল হয় না
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ وَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلاةٌ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا، وَإِنْ مَاتَ دَخَلَ النَّارَ, فَإِنْ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ, وَإِنْ عَادَ فَشَرِبَ فَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا, فَإِنْ مَاتَ دَخَلَ النَّارَ, فَإِنْ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَإِنْ عَادَ فَشَرِبَ فَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا, فَإِنْ مَاتَ دَخَلَ النَّارَ, فَإِنْ تَابَ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ, وَإِنْ عَادَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يَسْقِيَهُ مِنْ رَدْغَةِ الْخَبَالِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ, قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا رَدْغَةُ الْخَبَالِ قَالَ عُصَارَةُ أَهْلِ النَّارِ
অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি মাদক সেবন করে এবং নেশাগ্রস্ত হয়, ৪০ দিন পর্যন্ত তার সালাত কবুল হবে না। এমতাবস্থায় সে মারা গেলে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আর যদি সে তাওবাহ করে, তবে আল্লাহ তাআলা তার তাওবাহ কবুল করবেন।
সে যদি পুনরায় মাদক সেবন করে এবং নেশাগ্রস্ত হয়, ৪০ দিন পর্যন্ত তার সালাত কবুল হবে না। এমতাবস্থায় সে মারা গেলে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আর যদি সে তাওবাহ করে, তবে আল্লাহ তাআলা তার তাওবাহ কবুল করবেন।
সে যদি পুনরায় মাদক সেবন করে এবং নেশাগ্রস্ত হয়, ৪০ দিন পর্যন্ত তার সালাত কবুল হবে না। এমতাবস্থায় সে মারা গেলে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আর যদি সে তাওবাহ করে, তবে আল্লাহ তাআলা তার তাওবাহ কবুল করবেন।
সে যদি পুনরায় মাদক সেবন করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাকে 'রাদগাতুল খাবাল' পান করাবেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! 'রাদগাতুল খাবাল' কী জিনিস? তিনি বললেন: জাহান্নামীদের দেহ থেকে নির্গত রক্ত ও পুঁজ। (তিরমিযী-১৮৬২, নাসাঈ-৫৬৬৪, ৫৬৬৮, ৫৬৭০, ইবনে মাজাহ-৩৩৭৭, আহমাদ-৬৬০৬, ৬৭৩৪, দারিমী-২০৯১, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)
নোট: ইসলামের পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও মাদক সেবন মারাত্মক অপরাধ। কেননা সমাজের অধিকাংশ অনাচার, ব্যভিচার, হাইজ্যাক, অশ্লীলতা, হত্যা, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, লুণ্ঠন ইত্যাদি অপরাধগুলো মাদকের নেশা থেকেই সৃষ্টি হয়। এর কারণ, সাধারণত মাদক সেবন করার পর মানুষের 'আক্বল' (জ্ঞান-বুদ্ধি) বিকল (নষ্ট) হয়ে যায়। যার ফলে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, মদখোর ব্যক্তি মদ্যপান করে নিজের স্ত্রীকে 'মা' আবার মাকে 'স্ত্রী' বলে জড়িয়ে ধরে। আবার কখনো নিজের ঘুমন্ত কন্যার বুকের উপর স্ত্রীর মতো চেপে বসে। এ হলো মদখোরদের কাণ্ড! এ কারণে ইসলামের পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিতেও মাদক সেবনকে সর্বাধিক ঘৃণিত আখ্যায়িত করা হয়েছে। (তাফসীরে উসমানী)
📄 পাপ কাজ করলে পুঁতির দানার মতো বিপদাপদ আসতেই থাকবে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا اتَّخِذَ الْفَيْءُ دُوَلًا وَالْأَمَانَةُ مَغْنَمًا وَالزَّكَاةُ مَغْرَمًا وَتُعُلِمَ لِغَيْرِ الدِّينِ وَأَطَاعَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَعَقَّ أُمَّهُ وَأَدْنَى صَدِيقَهُ وَأَقْصَى أَبَاهُ وَظَهَرَتِ الْأَصْوَاتُ فِي الْمَسَاجِدِ وَسَادَ الْقَبِيلَةَ فَاسِقُهُمْ وَكَانَ زَعِيمُ الْقَوْمِ أَرْذَلَهُمْ وَأُكْرِمَ الرَّجُلُ مَخَافَةَ شَرِهِ وَظَهَرَتِ الْقَيْنَاتُ وَالْمَعَازِفُ وَشُرِبَتِ الْخُمُورُ وَلَعَنَ آخِرُ هُذِهِ الْأُمَّةِ أَوَّلَهَا فَلْيَرْتَقِبُوا عِنْدَ رِيحًا حَمْرَاءَ وَزَلْزَلَةً وَخَسْفًا وَقَذْفًا وَ آيَاتٍ تَتَابَعُ كَنِظَامٍ بَالٍ قُطِعَ سِلْكُهُ فَتَتَابَعَ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: (ক). যখন গনিমতের মাল ব্যক্তিগত মালে পরিণত হবে, (খ). আমানতের মাল লুটের মালে পরিণত হবে, (গ). যাকাতকে জরিমানা মনে করা হবে, (ঘ). ধর্ম বিবর্জিত শিক্ষার প্রচলন হবে, (ঙ). পুরুষ লোকেরা স্ত্রীর আনুগত্য করবে, (চ). কিন্তু মায়ের অবাধ্য হবে, (ছ). বন্ধুদেরকে কাছে টেনে নিবে, (জ). কিন্তু নিজ পিতাকে দূরে ঠেলে দিবে, (ঝ). মসজিদে হট্রগোল করবে, (ঞ). পাপাচারীরা সমাজের নেতা হবে. (ট). নিকৃষ্ট লোকেরা সমাজের কর্ণধার হবে, (ঠ). কাউকে তার অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য সম্মান দেখানো হবে, (ড). নর্তকী-গায়িকা বৃদ্ধি পাবে, (ঢ). বাদ্যযন্ত্রের কদর করা হবে, (ণ). ব্যাপকভাবে মাদক সেবন করা হবে, (ত). এ উম্মতের শেষ যামানার লোকেরা পূর্ববর্তীদেরকে লা'নত দিবে। তখন তোমরা অগ্নিবায়ু, ভূমিকম্প, চেহারা বিকৃতি, পাথরবৃষ্টি ও অন্যান্য বালা-মুসিবতের অপেক্ষা করো, যা একের পর এক আসতে থাকবে, যেমন পুরাতন পুঁতিরমালা ছিঁড়ে গেলে একের পর এক ঝরে থাকে। (তিরমিযী-২২১১)
📄 শেষ যামানায় একের পর এক বিপদাপদ আসতেই থাকবে
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّ أُمَّتَكُمْ هَذِهِ جُعِلَ عَافِيَتُهَا فِي أَوَّلِهَا وَسَيُصِيبُ آخِرَهَا بَلاءُ وَأُمُورٌ تُنْكِرُونَهَا وَتَجِيءُ فِتْنَةٌ فَيُرَقِّقُ بَعْضُهَا بَعْضًا وَتَجِيءُ الْفِتْنَةُ فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ هَذِهِ مُهْلِكَتِي. ثُمَّ تَنْكَشِفُ وَتَجِيءُ الْفِتْنَةُ فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ هَذِهِ هَذِهِ. فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُزَحْزَحَ عَنِ النَّارِ وَيَدْخُلَ الْجَنَّةَ فَلْتَأْتِهِ مَنِيَّتُهُ وَهُوَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَأْتِ إِلَى النَّاسِ الَّذِي يُحِبُّ أَنْ يُؤْتَى إِلَيْهِ
অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: তোমাদের এ উম্মতের অবস্থা হলো প্রথম দিকে রয়েছে শান্তি ও সুস্থিরতা এবং শেষ দিকে রয়েছে বিপদ-মুসিবতের ঘনঘটা। তখন তোমরা এমন সব বিষয় ও ঘটনাবলীর সম্মুখীন হবে, যা তোমাদের অপছন্দনীয় হবে। এমন সব ফিতনার উদ্ভব হবে, যার একাংশ অপর অংশকে করবে দুর্বল (আগেরটির তুলনায় পরেরটি হবে আরো ভয়াবহ)। একেকটি মুসিবত আসবে আর মুমিন বলবে এটাই বুঝি আমাকে ধ্বংস করে ছাড়বে। তারপর সে বিপদ কেটে যাবে। পুনরায় বিপদ-মুসিবত আসবে। তখন মুমিন বলবে, এটাই হয়তো আমার ধ্বংসের কারণ হবে। এমন কঠিন মুহূর্তে যে ব্যক্তি জাহান্নামের আগুন থেকে দূরে থাকতে এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক, তার জন্য অপরিহার্য হলো আল্লাহ ও পরকালের উপর ঈমানদার হিসেবে মৃত্যুবরণ করা। আর যেরূপ ব্যবহার সে পেতে আগ্রহী সেরূপ ব্যবহারই যেন লোকদের সাথে করে। (মুসলিম-৪৮৮২, ৪৬৭০, ইফা.-৪৬২৪, নাসাঈ-৪১৯১, আবু দাউদ-৪২৪৮, ইবনে মাজাহ-৩৯৫৬, আহমাদ-৬৪৬৫, ৬৭৫৪, ৬৭৭৬, হাদীসের শব্দাবলী মুসলিমের)