📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 যে পাপের কারণে মানুষকে ধসিয়ে দেয়া হবে

📄 যে পাপের কারণে মানুষকে ধসিয়ে দেয়া হবে


عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ, قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَيَشْرَ بَنَّ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ يُسَبُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا, يُعْزَفُ عَلَى رُءُوسِهِمْ بِالْمَعَازِفِ وَالْمُغَنِيَاتِ, يَخْسِفُ اللَّهُ بِهِمُ الْأَرْضَ وَيَجْعَلُ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ

অর্থ: আবু মালিক আশআরী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আমার উম্মতের কিছু লোক শরাবের নাম পরিবর্তন করে (ভিন্ন নামে) তা পান করবে। তাদের সামনে বাদ্য বাজনা চলবে এবং গায়িকা নারীরা গান পরিবেশন করবে। আল্লাহ তায়ালা এদেরকে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দিবেন এবং তাদের কতককে বানর ও শূকরে রূপান্তরিত করবেন। (আবু দাউদ-৩৬৮৮, ইবনে মাজাহ-৪০২০, আহমাদ-২২৩৯৩, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 পাপীকে আল্লাহ সাময়িক সুযোগ দেন, তারপর আযাব শুরু

📄 পাপীকে আল্লাহ সাময়িক সুযোগ দেন, তারপর আযাব শুরু


عَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّ اللَّهَ لَيُمْلِي لِلظَّالِمِ حَتَّى إِذَا أَخَذَهُ لَمْ يُفْلِتْهُ قَالَ: ثُمَّ قَرَأَ: { وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ القُرَى وَهِيَ ظَالِمَةٌ إِنَّ أَخْذَهُ أَلِيمٌ شَدِيدٌ

অর্থ: হযরত আবু মূসা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আল্লাহ যালিমকে (পাপকাজ করার) সুযোগ দেন। কিন্তু তিনি যখন তাকে পাকড়াও করেন তখন আর রেহাই দেন না। এরপর তিনি این আয়াত তিলাওয়াত করেন- “তোমার প্রতিপালক যখন কোনো অত্যাচারী জনপদকে পাকড়াও করেন, তখন তাঁর পাকড়াও এরূপই হয়ে থাকে। তাঁর পাকড়াও অত্যন্ত কঠিন ও নির্মম। (সূরা হুদ- ১০২, বুখারী-৪৬৮৬, ইফা.-৪৩২৬, মুসলিম-২৫৮৩, তিরমিযী-৩১১০, ইবনে মাজাহ-৪০১৮, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 মদ্যপান ও গান-বাজনা বৃদ্ধি পেলে সে জাতির উপর আযাব আসে

📄 মদ্যপান ও গান-বাজনা বৃদ্ধি পেলে সে জাতির উপর আযাব আসে


عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ خَسْفٌ وَمَسْخُ وَقَذْفٌ : فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَا رَسُولَ اللَّهِ! وَمَتَى ذَاكَ ؟ قَالَ إِذَا ظَهَرَتِ الْقَيْنَاتُ وَالْمَعَازِفُ وَشُرِبَتِ الْخُمُورُ

অর্থ: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ভূমিধ্বস, চেহারা বিকৃতি এবং প্রস্তরবর্ষণের আযাব এই উম্মতের উপর হবে। জনৈক মুসলিম ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কখন এসব আযাব আসবে? তিনি বললেন: যখন গায়িকা নারী ও বাদ্যযন্ত্র বিস্তার লাভ করবে এবং মদ্যপানের সয়লাব হবে। (তিরমিযী-২২১২)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 একবার মাদক সেবন করলে ৪০ দিন নামাজ কবুল হয় না

📄 একবার মাদক সেবন করলে ৪০ দিন নামাজ কবুল হয় না


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ وَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلاةٌ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا، وَإِنْ مَاتَ دَخَلَ النَّارَ, فَإِنْ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ, وَإِنْ عَادَ فَشَرِبَ فَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا, فَإِنْ مَاتَ دَخَلَ النَّارَ, فَإِنْ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَإِنْ عَادَ فَشَرِبَ فَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا, فَإِنْ مَاتَ دَخَلَ النَّارَ, فَإِنْ تَابَ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ, وَإِنْ عَادَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يَسْقِيَهُ مِنْ رَدْغَةِ الْخَبَالِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ, قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا رَدْغَةُ الْخَبَالِ قَالَ عُصَارَةُ أَهْلِ النَّارِ

অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি মাদক সেবন করে এবং নেশাগ্রস্ত হয়, ৪০ দিন পর্যন্ত তার সালাত কবুল হবে না। এমতাবস্থায় সে মারা গেলে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আর যদি সে তাওবাহ করে, তবে আল্লাহ তাআলা তার তাওবাহ কবুল করবেন।

সে যদি পুনরায় মাদক সেবন করে এবং নেশাগ্রস্ত হয়, ৪০ দিন পর্যন্ত তার সালাত কবুল হবে না। এমতাবস্থায় সে মারা গেলে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আর যদি সে তাওবাহ করে, তবে আল্লাহ তাআলা তার তাওবাহ কবুল করবেন।

সে যদি পুনরায় মাদক সেবন করে এবং নেশাগ্রস্ত হয়, ৪০ দিন পর্যন্ত তার সালাত কবুল হবে না। এমতাবস্থায় সে মারা গেলে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আর যদি সে তাওবাহ করে, তবে আল্লাহ তাআলা তার তাওবাহ কবুল করবেন।

সে যদি পুনরায় মাদক সেবন করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাকে 'রাদগাতুল খাবাল' পান করাবেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! 'রাদগাতুল খাবাল' কী জিনিস? তিনি বললেন: জাহান্নামীদের দেহ থেকে নির্গত রক্ত ও পুঁজ। (তিরমিযী-১৮৬২, নাসাঈ-৫৬৬৪, ৫৬৬৮, ৫৬৭০, ইবনে মাজাহ-৩৩৭৭, আহমাদ-৬৬০৬, ৬৭৩৪, দারিমী-২০৯১, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)

নোট: ইসলামের পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও মাদক সেবন মারাত্মক অপরাধ। কেননা সমাজের অধিকাংশ অনাচার, ব্যভিচার, হাইজ্যাক, অশ্লীলতা, হত্যা, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, লুণ্ঠন ইত্যাদি অপরাধগুলো মাদকের নেশা থেকেই সৃষ্টি হয়। এর কারণ, সাধারণত মাদক সেবন করার পর মানুষের 'আক্বল' (জ্ঞান-বুদ্ধি) বিকল (নষ্ট) হয়ে যায়। যার ফলে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, মদখোর ব্যক্তি মদ্যপান করে নিজের স্ত্রীকে 'মা' আবার মাকে 'স্ত্রী' বলে জড়িয়ে ধরে। আবার কখনো নিজের ঘুমন্ত কন্যার বুকের উপর স্ত্রীর মতো চেপে বসে। এ হলো মদখোরদের কাণ্ড! এ কারণে ইসলামের পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিতেও মাদক সেবনকে সর্বাধিক ঘৃণিত আখ্যায়িত করা হয়েছে। (তাফসীরে উসমানী)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00