📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 নাফরমানীর কারণে মানুষকে বানর ও শুকর বানানো হয়েছিলো

📄 নাফরমানীর কারণে মানুষকে বানর ও শুকর বানানো হয়েছিলো


وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِينَ اعْتَدَوْا مِنْكُمْ فِي السَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ )) অর্থ: তোমাদের মধ্যে যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করেছিল, তাদের ব্যাপারে অবশ্যই তোমরা জানো। অতঃপর আমি তাদেরকে বললাম, 'তোমরা নিকৃষ্ট বানর হয়ে যাও'। (সূরা বাকারা-৬৫)

ব্যাখ্যা: হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের যামানায় 'আইলা' নামক শহরে ৭০ হাজার লোক বসবাস করতো। বর্তমানে মুসলমানদের জন্য জুমুআর দিন যেমন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ ও পবিত্রতম দিন, তেমনিভাবে হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের যামানায় ইহুদীদের জন্য শনিবার ছিলো শ্রেষ্ঠ ও পবিত্রতম দিন। জুমুআন দিন আজানের পরে যেমনিভাবে কাজ-কর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিষিদ্ধ, তেমনিভাবে তাদের জন্যও শনিবার ছিলো 'মৎস শিকার' নিষিদ্ধ। বরং তাদের শরীয়তে শনিবার ছিলো ইবাদতের জন্য খাছ।

হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম তাদেরকে শনিবার মাছ ধরতে সম্পূর্ণ নিষেধ করেন। তারা প্রথম প্রথম মৎস শিকার থেকে বিরত থাকলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বন করে। মাছগুলোকে কোনো একটি নালায় আটকে রেখে পরের দিন তা শিকার করে। এভাবেই তারা আল্লাহ হুকুম লংঘন করে। এ অবস্থায় সেখানকার অধিবাসীরা তিনভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।

(ক). একদল মৎস শিকার থেকে বিরত থাকে এবং অন্যদেরকে বাধা দেয়।

(খ). আরেকদল নিজেরা বিরত থাকে, কিন্তু অন্যদেরকে বাধা দেয় না।

(গ). আরেকদল আল্লাহর হুকুম অমান্য করে মৎস শিকার করতে থাকে।

প্রথম দল বাধা দেয়া সত্ত্বেও তারা যখন অন্যায় থেকে বিরত হলো না, তখন তারা ওদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিলেন। ফলে যখন দ্বিতীয় ও তৃতীয় দলকে বানর ও শূকরে রূপান্তরিত করা হলো, তখন প্রথম দলকে আল্লাহ হেফাজত করলেন। এমর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেন-

أَنْجَيْنَا الَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوءِ وَأَخَذْنَا الَّذِينَ ظَلَمُوا بِعَذَابٍ بَئِيسٍ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ

"আমি নাজাত দিয়েছি তাদেরকে যারা মন্দ হতে নিষেধ করে। আর যারা যুলুম করেছে, তাদেরকে কঠিন আযাব দ্বারা পাকড়াও করলাম। কারণ, তারা পাপাচার করতো।” (সূরা আরাফ-১৬৫)

আর দ্বিতীয় দল যাদেরকে সুবিধাভোগী দল বলা হয়, তারা অন্যায় করতো না ঠিকই, কিন্তু অন্যায় বন্ধ করার চেষ্টাও করতো না। ফলে তৃতীয় দলের সাথে আল্লাহ দ্বিতীয় দলকেও বানর ও শূকরে রূপান্তরিত করে দেন।

হযরত কাতাদাহ বলেন, তাদের যুবকরা বানরে এবং বৃদ্ধরা শূকরে পরিণত হয়েছিলো। রূপান্তরিত বানরগুলো নিজ নিজ আত্মীয়-স্বজনকে চিনতো এবং তাদের কাছে এসে অঝোরে কান্না করতো। তারা তিনদিন পর্যন্ত এ অবস্থায় ছিলো। এরপর আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করে দেন। (তাফসীরে ইবনে কাসীর (উর্দু), কুরতুবী, মাআরিফুল কুরআন)

আল্লামা কাজী সানাউল্লাহ পানিপত্তি রহ. বলেন, রূপান্তরিত বানরের সংখ্যা ছিলো ১২ হাজার। যখন তারা আল্লাহর নাফরমানী করলো এবং নবীগণের উপদেশও প্রত্যাখ্যান করলো, তখন হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম তাদের প্রতি লা'নত করলেন। ফলে তারা নিকৃষ্ট বানর হয়ে গেলো। (তাফসীরে মাজহারী-১ম খণ্ড)

নোট : সম্মানিত পাঠক! এ সকল আয়াত ছাড়াও পবিত্র কুরআনে আরো বহু আয়াত রয়েছে, যেগুলো স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, এইডস, সার্স, মার্স, করোনা ভাইরাস ইত্যাদি মহামারী আল্লাহ তায়ালার আযাব, যা আমাদের পাপ ও গুনাহের কারণে আল্লাহ তায়ালা আমদের উপর নাযিল করেছেন।

এ সকল আয়াত থেকে আরো প্রতীয়মান হয় যে, পূর্ববর্তী উম্মতগণ মাত্র একটি-দুইটি হুকুম লংঘন করলেই তাদের উপর আল্লাহর আযাব নেমে এসেছে। কোনো জাতির উপর অগ্নিবৃষ্টি হয়েছে, কোনো জাতিকে মাটিতে দাবিয়ে দেয়া হয়েছে, কোনো জাতির উপর প্রস্তরবৃষ্টি হয়েছে, কোনো জাতিকে তুফান দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছে।

অথচ আজ এই উম্মত আল্লাহ পাকের হাজারো, লাখো হুকুম লংঘন করে চলছে, প্রকাশ্যে ব্যভিচার ও অশ্লীলতায় লিপ্ত হচ্ছে। ৩ বছরের শিশু কন্যা থেকে শুরু করে ৯০ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। তাহলে এই জাতির উপর কেন আল্লাহ পাকের আযাব আসবে না?

তাছাড়া বর্তমানে চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী, সুদ, ঘুষ, মাদক, হত্যা, লুণ্ঠন, অশ্লীল নাচ-গান, যুলুম-অত্যাচার, বেহায়াপনা, যিনা, পরকীয়া, সমকামিতা ইত্যাদি মহামারি আকার ধারণ করেছে, যা বলার অপেক্ষা রাখে না।

অতএব, উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা পরিস্কার বলতে পারি যে, বর্তমান বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া 'করোনা ভাইরাস' (কভিড-১৯) নিঃসন্দেহে আমাদের হাতের কামাই। আমাদের গুনাহের কারণে আল্লাহ পাক আমাদের উপর এই আযাব নাযিল করেছেন।

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 মহামারী কেন আসে? (হাদীসের আলোকে)

📄 মহামারী কেন আসে? (হাদীসের আলোকে)


আমরা পূর্বেও বলেছি যে, এইডস, সার্স, মার্স, করোনাভাইরাস, কুষ্টরোগ ইত্যাদি মরণব্যাধি নিঃসেন্দহে আল্লাহ তায়ালার এক প্রকার আযাব, যা আমাদের গুনাহ ও পাপের কারণে আমাদের উপর নাযিল হয়। নিম্নে এ সম্পর্কিত কতিপয় সহীহ হাদীস উল্লেখ করা হলো:

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 মহামারী ব্যভিচার ও অশ্লীলতার ফসল

📄 মহামারী ব্যভিচার ও অশ্লীলতার ফসল


عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ, أَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ, يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ خَمْسٌ إِذَا ابْتُلِيتُمْ بِهِنَّ وَأَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ تُدْرِكُوهُنَّ لَمْ تَظْهَرِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ قَطُّ حَتَّى يُعْلِنُوا بِهَا إِلَّا فَشَافِيهِمُ الطَّاعُونُ وَالأَوْجَاعُ الَّتِي لَمْ تَكُنْ مَضَتْ فِي أَسْلَافِهِمُ الَّذِينَ مَضَوْا

অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে এগিয়ে এসে বললেন: হে মুহাজিরগণ! তোমরা পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। তবে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেছি, যেন তোমরা তার সম্মুখীন না হও। যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, (যেমন, ব্যভিচার, বেহায়াপনা, মাদক, সুদ, ঘুষ ইত্যাদি) তখন সেখানে প্লেগ, মহামারী ও এমন সব রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে, যা তাদের পূর্বেকার লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। (ইবনে মাজাহ-৪০১৯, আল-মুস্তাদরাক-৪/৫৮৩, সহীহ আল-জামি- ২/১৩২১, সহীহাহ-১/২১৬, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)

নোট: আলোচ্য হাদীসে খুব পরিস্কারভাবেই বলা হয়েছে যে, কোনো জাতি যখন ব্যাপকভাবে ব্যভিচার ও অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়, তখন ঐ জাতির উপর এমন সব মরণব্যাধি নেমে আসে, যা ইতোপূর্বে কখনো ছিলো না।

সম্মানিত পাঠক! আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন। আজ তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমানে সার্চ, মার্স, এইডস, করোনা ভাইরাসসহ যেসব মরণব্যাধি দেখা দিয়েছে, তা ইতোপূর্বে পৃথিবীতে ছিলো না। এগুলো আমাদেরই পাপের ফসল। আমাদের গুনাহ ও নাফরমানীর কারণে এই আযাব নাযিল হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, আলোচ্য হাদীসে পাঁচ প্রকার আযাবের কথা বলা হয়েছে। প্রথমটি উপরে বর্ণিত হয়েছে। অবশিষ্ট চারটি নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

দ্বিতীয় আযাব وَلَمْ يَنْقُصُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ إِلَّا أُخِذُوا بِالسِّنِينَ وَشِدَّةِ الْمَؤُنَةِ وَجَوْرِ السُّلْطَانِ عَلَيْهِمْ

অর্থাৎ, যখন কোনো জাতি ওজনে ও পরিমাপে কারচুপি করে, তখন তাদের উপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ, কঠিন মুসীবত এবং যালিম শাসক তাদের উপর চেপে বসে। (ইবনে মাজাহ-৪০১৯, আল-মুস্তাদরাক-৪/৫৮৩, সহীহ আল-জামি-২/১৩২১, সহীহাহ-১/২১৬, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)

তৃতীয় আযাব وَلَمْ يَمْنَعُوا زَكَاةَ أَمْوَالِهِمْ إِلاَّ مُنِعُوا الْقَطْرَ مِنَ السَّمَاءِ وَلَوْلَا الْبَهَائِمُ لَمْ يُمْطَرُوا

অর্থাৎ, যখন কোনো জাতি ঠিকমত যাকাত আদায় না করে, তখন আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়া হয়। যদি ভূ-পৃষ্ঠে চতুস্পদ জন্তু ও নির্বাক প্রাণী না থাকতো, তাহলে আর কখনো বৃষ্টিপাত হতো না। (ইবনে মাজাহ-৪০১৯, আল-মুস্তাদরাক-৪/৫৮৩, সহীহ আল-জামি-২/১৩২১, সহীহাহ-১/২১৬, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)

চতুর্থ আযাব وَلَمْ يَنْقُضُوا عَهْدَ اللهِ وَعَهْدَ رَسُولِهِ إِلَّا سَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ غَيْرِهِمْ فَأَخَذُوا بَعْضَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ

অর্থাৎ, যখন কোনো জাতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে (দ্বীনের উপর চলে না), তখন আল্লাহ তাদের উপর তাদের বিজাতীয় দুশমনকে ক্ষমতাসীন করেন এবং তারা তাদের সহায়-সম্পদ সবকিছু কেড়ে নেয়। (ইবনে মাজাহ-৪০১৯, আল-মুস্তাদরাক-৪/৫৮৩, সহীহ আল-জামি-২/১৩২১, সহীহাহ-১/২১৬, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)

পঞ্চম আযাব وَمَا لَمْ تَحْكُمْ أَيْتَتُهُمْ بِكِتَابِ اللَّهِ وَيَتَخَيَّرُوا مِمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَّا جَعَلَ اللَّهُ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ

অর্থাৎ, যখন তোমাদের শাসকবর্গ আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী বিচার- ফায়সালা না করে এবং আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানকে গ্রহণ না করে, তখন আল্লাহ তাদের পরস্পরের মধ্যে দ্বন্দ্ব-যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেন। (ইবনে মাজাহ-৪০১৯, আল- মুস্তাদরাক-৪/৫৮৩, সহীহ আল-জামি-২/১৩২১, সহীহাহ-১/২১৬, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 ১৫ ধরণের পাপ কাজে আল্লাহর আযাব আসে

📄 ১৫ ধরণের পাপ কাজে আল্লাহর আযাব আসে


عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا فَعَلَتْ أُمَّتِي خَمْسَ عَشَرَةَ خَصْلَةً حَلَّ بِهَا الْبَلَاءُ, فَقِيْلَ وَمَا هُنَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ إِذَا كَانَ الْمَغْنَمُ دُوَلًا وَالْأَمَانَةُ مَغْنَمًا وَالزَّكَاةُ مَغْرَمًا وَأَطَاعَ الرَّجُلُ زَوْجَتَهُ وَ عَقَّ أُمَّهُ وَبَرَّ صَدِيقَهُ وَجَفَا أَبَاهُ وَارْتَفَعَتِ الْأَصْوَاتُ فِي الْمَسَاجِدِ وَكَانَ زَعِيمُ الْقَوْمِ أَرْذَلَهُمْ وَأُكْرِمَ الرَّجُلُ مَخَافَةَ شَرِهِ وَشُرِبَتِ الْخُمُورُ وَلَبِسَ الْحَرِيرُ وَاتَّخِذَتِ الْقَيْنَاتُ وَالْمَعَازِفُ وَلَعَنَ آخِرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَوَّلَهَا فَلْيَرْتَقِبُوا عِنْدَ ذَلِكَ رِيحًا حَمْرَاءَ أَوْ خَسْفًا أَوْ مَسْخًا

অর্থ: হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যখন আমার উম্মত ১৫ টি পাপ কাজে লিপ্ত হবে, তখন তাদের উপর বালা-মুসিবত ও আযাব নেমে আসবে। প্রশ্ন করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেগুলো কি কি? তিনি বললেন:

(১). যখন গনিমতের (সরকারী) মালকে ব্যক্তিগত সম্পদ বানিয়ে ফেলবে। (২). আমানতকে লুটের মাল বানিয়ে ফেলবে। (৩). যাকাতকে জরিমানা মনে করবে। (৪). পুরুষ লোকেরা স্ত্রীর আনুগত্য করবে। (৫). লোকেরা মায়ের অবাধ্য হবে। (৬). বন্ধুর সাথে ভালো ব্যবহার করবে।
(৭). পিতার সাথে খারাপ আচরণ করবে।
(৮). মসজিদে শোরগোল করা হবে।
(৯). সর্বাধিক খারাপ চরিত্রের লোকেরা সমাজের নেতা হবে।
(১০). মানুষকে তার অনিষ্টের ভয়ে সম্মান করা হবে।
(১১). ব্যাপকভাবে মাদক সেবন করা হবে।
(১২). রেশমী বস্ত্র পরিধান করা হবে।
(১৩). নর্তকী গায়িকাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।
(১৪). বাদ্যযন্ত্রের কদর করা হবে। (১৫). এ উম্মতের শেষ যামানার লোকেরা পূর্ববর্তীদেরকে লা'নত দিবে। তখন তোমরা অগ্নি বায়ু, অথবা ভূমিধ্বস কিংবা চেহারা বিকৃতির আযাবের অপেক্ষা করো। (তিরমিযী-২২১০, জামিউস সগীর-১১৭৫)

নোট : হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাযি. থেকে অপর এক বর্ণনায় উল্লেখ আছে। এক সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, কিয়ামত তখন হবে, যখন উম্মাহর পতন ঘটবে। আর পতন তখন ঘটবে, যখন তারা তারকার জ্ঞানকে বিশ্বাস করবে। তাকদিরকে অস্বীকার করবে। আমানতকে গনিমত মনে করবে। দান খয়রাতকে জরিমানা মনে করবে এবং পাপাচার বৃদ্ধি পাবে। তখনই কিয়ামত কায়েম হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00