📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 মানুষের পাপের কারণেই তাদেরকে শাস্তি দেয়া হয়

📄 মানুষের পাপের কারণেই তাদেরকে শাস্তি দেয়া হয়


فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللهُ أَنْ يُصِيبَهُمْ بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ لَفْسِقُونَ

অর্থ: জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কেবল তাদেরকে তাদের পাপের কারণেই আযাব দিতে চান। আর মানুষের অনেকেই ফাসিক। (সূরা মায়িদা-৪৯)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 আযাব আসলে মানুষ শুধু আল্লাহকেই ডাকে

📄 আযাব আসলে মানুষ শুধু আল্লাহকেই ডাকে


قُلْ أَرَأَيْتَكُمْ إِنْ أَتَكُمْ عَذَابُ اللهِ أَوْ أَتَتْكُمُ السَّاعَةُ أَغَيْرَ اللَّهِ تَدْعُونَ إِنْ كُنْتُمْ صَدِقِينَ

অর্থ: আপনি বলুন, 'তোমরা ভেবে দেখো, যদি তোমাদের উপর আল্লাহর আযাব এসে যায় অথবা কিয়ামত আগমন করে, তবে তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও? (সূরা আনআম-৪০)

নোট: আল্লামা কাজী সানাউল্লাহ পানিপত্তি রহ. বলেন, মানুষ মাত্রেই বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ ব্যতীত কেউ বালা-মুসীবত দূর করতে পারে না, তাই মুশরিকরাও বিপদের সময় আল্লাহকে ডাকে।
আলোচ্য আয়াতে মূলত নাফরমানদেরকে সতর্কবার্তা জানানো হচ্ছে যে, তোমরা বিপদাপদে যেহেতু আল্লাহকেই ডেকে থাকো, সুতরাং পরকালীন বিপদ আসার পূর্বেই তাঁকে ডাকো। (অনুবাদক)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 বেশি নাফরমানী করলে শেকড়সহ আল্লাহ ধ্বংস করে দেন

📄 বেশি নাফরমানী করলে শেকড়সহ আল্লাহ ধ্বংস করে দেন


فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِينَ ظَلَمُوا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعُلَمِينَ

অর্থ: যালিম সম্প্রদায়কে শেকড়সহ কেটে ফেলা হয়েছে। আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। (সূরা আনআম-৪৫)

ব্যাখ্যা: আলোচ্য আয়াতে দবির শব্দের অর্থ মূল বা শেকড়। আল্লাহ তায়ালার রীতি হলো, অপরাধের সূচনাতেই কোনো সম্প্রদায়কে তিনি ধ্বংস করেন না; বরং অপরাধ ও নাফরমানীর ধরণ অনুযায়ী প্রথমে অল্প অল্প শাস্তি দিয়ে তাদেরকে সতর্ক করেন। কিন্তু এরপরও যদি তারা বিরত না হয়; বরং অন্যায় ও পাপাচারে নিমজ্জিত থাকে, তখন তাদেরকে ব্যাপক শাস্তি, এমনকি সমূলে ধ্বংস করে দেন। আর পূর্ববর্তী বহু যালিম সম্প্রদায়কে এভাবে সমূলে ধ্বংস করা হয়েছিলো। যেমন-

(১) আদ জাতিকে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ও তুফান দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিলো। একটানা ৮দিন পর্যন্ত এই অবস্থা ছিলো।

(২) সামুদ জাতিকে শুধু একটি ভয়াবহ আওয়াজ দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিলো।

(৩) হযরত নূহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়কে প্রলয়ংকারী প্লাবন দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিলো।

(৪) হযরত লূত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়কে জমীন সহ বস্তি উল্টে দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিলো।

(৫) হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়কে শূকর ও বানরে পরিণত করে ধ্বংস করা হয়েছিলো।

(৬) এ ছাড়া ফেরাউন, নমরূদ, হামান, কারুণ, আবু জাহেল সহ অসংখ্য যালিম সম্প্রদায়কে ধ্বংস করা হয়েছিলো। (তাফসীরে নেকাতুল কুরআন-৩য় খণ্ড)

📘 মহামারী ও ফিতনা > 📄 নাফরমানীর কারণে মানুষকে বানর ও শুকর বানানো হয়েছিলো

📄 নাফরমানীর কারণে মানুষকে বানর ও শুকর বানানো হয়েছিলো


وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِينَ اعْتَدَوْا مِنْكُمْ فِي السَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ )) অর্থ: তোমাদের মধ্যে যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করেছিল, তাদের ব্যাপারে অবশ্যই তোমরা জানো। অতঃপর আমি তাদেরকে বললাম, 'তোমরা নিকৃষ্ট বানর হয়ে যাও'। (সূরা বাকারা-৬৫)

ব্যাখ্যা: হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের যামানায় 'আইলা' নামক শহরে ৭০ হাজার লোক বসবাস করতো। বর্তমানে মুসলমানদের জন্য জুমুআর দিন যেমন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ ও পবিত্রতম দিন, তেমনিভাবে হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের যামানায় ইহুদীদের জন্য শনিবার ছিলো শ্রেষ্ঠ ও পবিত্রতম দিন। জুমুআন দিন আজানের পরে যেমনিভাবে কাজ-কর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিষিদ্ধ, তেমনিভাবে তাদের জন্যও শনিবার ছিলো 'মৎস শিকার' নিষিদ্ধ। বরং তাদের শরীয়তে শনিবার ছিলো ইবাদতের জন্য খাছ।

হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম তাদেরকে শনিবার মাছ ধরতে সম্পূর্ণ নিষেধ করেন। তারা প্রথম প্রথম মৎস শিকার থেকে বিরত থাকলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বন করে। মাছগুলোকে কোনো একটি নালায় আটকে রেখে পরের দিন তা শিকার করে। এভাবেই তারা আল্লাহ হুকুম লংঘন করে। এ অবস্থায় সেখানকার অধিবাসীরা তিনভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।

(ক). একদল মৎস শিকার থেকে বিরত থাকে এবং অন্যদেরকে বাধা দেয়।

(খ). আরেকদল নিজেরা বিরত থাকে, কিন্তু অন্যদেরকে বাধা দেয় না।

(গ). আরেকদল আল্লাহর হুকুম অমান্য করে মৎস শিকার করতে থাকে।

প্রথম দল বাধা দেয়া সত্ত্বেও তারা যখন অন্যায় থেকে বিরত হলো না, তখন তারা ওদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিলেন। ফলে যখন দ্বিতীয় ও তৃতীয় দলকে বানর ও শূকরে রূপান্তরিত করা হলো, তখন প্রথম দলকে আল্লাহ হেফাজত করলেন। এমর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেন-

أَنْجَيْنَا الَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوءِ وَأَخَذْنَا الَّذِينَ ظَلَمُوا بِعَذَابٍ بَئِيسٍ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ

"আমি নাজাত দিয়েছি তাদেরকে যারা মন্দ হতে নিষেধ করে। আর যারা যুলুম করেছে, তাদেরকে কঠিন আযাব দ্বারা পাকড়াও করলাম। কারণ, তারা পাপাচার করতো।” (সূরা আরাফ-১৬৫)

আর দ্বিতীয় দল যাদেরকে সুবিধাভোগী দল বলা হয়, তারা অন্যায় করতো না ঠিকই, কিন্তু অন্যায় বন্ধ করার চেষ্টাও করতো না। ফলে তৃতীয় দলের সাথে আল্লাহ দ্বিতীয় দলকেও বানর ও শূকরে রূপান্তরিত করে দেন।

হযরত কাতাদাহ বলেন, তাদের যুবকরা বানরে এবং বৃদ্ধরা শূকরে পরিণত হয়েছিলো। রূপান্তরিত বানরগুলো নিজ নিজ আত্মীয়-স্বজনকে চিনতো এবং তাদের কাছে এসে অঝোরে কান্না করতো। তারা তিনদিন পর্যন্ত এ অবস্থায় ছিলো। এরপর আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করে দেন। (তাফসীরে ইবনে কাসীর (উর্দু), কুরতুবী, মাআরিফুল কুরআন)

আল্লামা কাজী সানাউল্লাহ পানিপত্তি রহ. বলেন, রূপান্তরিত বানরের সংখ্যা ছিলো ১২ হাজার। যখন তারা আল্লাহর নাফরমানী করলো এবং নবীগণের উপদেশও প্রত্যাখ্যান করলো, তখন হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম তাদের প্রতি লা'নত করলেন। ফলে তারা নিকৃষ্ট বানর হয়ে গেলো। (তাফসীরে মাজহারী-১ম খণ্ড)

নোট : সম্মানিত পাঠক! এ সকল আয়াত ছাড়াও পবিত্র কুরআনে আরো বহু আয়াত রয়েছে, যেগুলো স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, এইডস, সার্স, মার্স, করোনা ভাইরাস ইত্যাদি মহামারী আল্লাহ তায়ালার আযাব, যা আমাদের পাপ ও গুনাহের কারণে আল্লাহ তায়ালা আমদের উপর নাযিল করেছেন।

এ সকল আয়াত থেকে আরো প্রতীয়মান হয় যে, পূর্ববর্তী উম্মতগণ মাত্র একটি-দুইটি হুকুম লংঘন করলেই তাদের উপর আল্লাহর আযাব নেমে এসেছে। কোনো জাতির উপর অগ্নিবৃষ্টি হয়েছে, কোনো জাতিকে মাটিতে দাবিয়ে দেয়া হয়েছে, কোনো জাতির উপর প্রস্তরবৃষ্টি হয়েছে, কোনো জাতিকে তুফান দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছে।

অথচ আজ এই উম্মত আল্লাহ পাকের হাজারো, লাখো হুকুম লংঘন করে চলছে, প্রকাশ্যে ব্যভিচার ও অশ্লীলতায় লিপ্ত হচ্ছে। ৩ বছরের শিশু কন্যা থেকে শুরু করে ৯০ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। তাহলে এই জাতির উপর কেন আল্লাহ পাকের আযাব আসবে না?

তাছাড়া বর্তমানে চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী, সুদ, ঘুষ, মাদক, হত্যা, লুণ্ঠন, অশ্লীল নাচ-গান, যুলুম-অত্যাচার, বেহায়াপনা, যিনা, পরকীয়া, সমকামিতা ইত্যাদি মহামারি আকার ধারণ করেছে, যা বলার অপেক্ষা রাখে না।

অতএব, উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা পরিস্কার বলতে পারি যে, বর্তমান বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া 'করোনা ভাইরাস' (কভিড-১৯) নিঃসন্দেহে আমাদের হাতের কামাই। আমাদের গুনাহের কারণে আল্লাহ পাক আমাদের উপর এই আযাব নাযিল করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00