📄 আল্লাহর আদেশ না মানলে হঠাৎ আযাব আসবে
فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُّبْلِسُونَ (৪৪)
অর্থ: অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা যখন তা ভুলে গেল, আমি তাদের উপর সব কিছুর দরজা খুলে দিলাম। অবশেষে যখন তাদেরকে যা প্রদান করা হয়েছিল তার কারণে তারা উৎফুল্ল হলো, আমি হঠাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। ফলে তখন তারা হতাশ হয়ে গেল। (সূরা আনআম-৪৪)
ব্যাখ্যা: পূর্ববর্তী উম্মতের ব্যাপারে আল্লাহর রীতি এই ছিলো যে, তাদেরকে সতর্ক করার জন্য কখনো অভাব-অনটন ও দুঃখ-কষ্টে ফেলতেন, যাতে বিপদে অস্থির হয়ে তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং সকল প্রকার পাপকর্ম বর্জন করে।
আবার কখনো পার্থিব প্রাচুর্য দান করতেন, যাতে এসব নিয়ামত দেখে কৃতজ্ঞ হয় এবং আল্লাহর হুকুমকে আঁকড়ে ধরে। উভয় অবস্থাই মানুষের জন্য কল্যাণকর। কিন্তু যারা উভয় অবস্থায় নাফরমানীতে লিপ্ত থাকতো, তাদেরকে আল্লাহ পাকের আজাব পাকড়াও করতো।
আলোচ্য আয়াতে সেদিকেই ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে ... فَلَمَّا نَسُوا مَا অর্থ, পূর্ববর্তী কোনো উম্মতকে প্রথমে দুঃখ-কষ্টে ফেলা হয়েছিলো। কিন্তু সেখান থেকে তারা উপদেশ গ্রহণ করেনি। এরপর তাদেরকে পার্থিব প্রাচুর্য দান করা হয়েছিলো। কিন্তু সেখান থেকেও তারা শিক্ষা গ্রহণ করেনি। অবশেষে তাদেরকে আল্লাহর আজাব পাকড়াও করেছিলো। (তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন, তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন)
📄 মানুষের পাপের কারণেই তাদেরকে শাস্তি দেয়া হয়
فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللهُ أَنْ يُصِيبَهُمْ بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ لَفْسِقُونَ
অর্থ: জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কেবল তাদেরকে তাদের পাপের কারণেই আযাব দিতে চান। আর মানুষের অনেকেই ফাসিক। (সূরা মায়িদা-৪৯)
📄 আযাব আসলে মানুষ শুধু আল্লাহকেই ডাকে
قُلْ أَرَأَيْتَكُمْ إِنْ أَتَكُمْ عَذَابُ اللهِ أَوْ أَتَتْكُمُ السَّاعَةُ أَغَيْرَ اللَّهِ تَدْعُونَ إِنْ كُنْتُمْ صَدِقِينَ
অর্থ: আপনি বলুন, 'তোমরা ভেবে দেখো, যদি তোমাদের উপর আল্লাহর আযাব এসে যায় অথবা কিয়ামত আগমন করে, তবে তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও? (সূরা আনআম-৪০)
নোট: আল্লামা কাজী সানাউল্লাহ পানিপত্তি রহ. বলেন, মানুষ মাত্রেই বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ ব্যতীত কেউ বালা-মুসীবত দূর করতে পারে না, তাই মুশরিকরাও বিপদের সময় আল্লাহকে ডাকে।
আলোচ্য আয়াতে মূলত নাফরমানদেরকে সতর্কবার্তা জানানো হচ্ছে যে, তোমরা বিপদাপদে যেহেতু আল্লাহকেই ডেকে থাকো, সুতরাং পরকালীন বিপদ আসার পূর্বেই তাঁকে ডাকো। (অনুবাদক)
📄 বেশি নাফরমানী করলে শেকড়সহ আল্লাহ ধ্বংস করে দেন
فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِينَ ظَلَمُوا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعُلَمِينَ
অর্থ: যালিম সম্প্রদায়কে শেকড়সহ কেটে ফেলা হয়েছে। আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। (সূরা আনআম-৪৫)
ব্যাখ্যা: আলোচ্য আয়াতে দবির শব্দের অর্থ মূল বা শেকড়। আল্লাহ তায়ালার রীতি হলো, অপরাধের সূচনাতেই কোনো সম্প্রদায়কে তিনি ধ্বংস করেন না; বরং অপরাধ ও নাফরমানীর ধরণ অনুযায়ী প্রথমে অল্প অল্প শাস্তি দিয়ে তাদেরকে সতর্ক করেন। কিন্তু এরপরও যদি তারা বিরত না হয়; বরং অন্যায় ও পাপাচারে নিমজ্জিত থাকে, তখন তাদেরকে ব্যাপক শাস্তি, এমনকি সমূলে ধ্বংস করে দেন। আর পূর্ববর্তী বহু যালিম সম্প্রদায়কে এভাবে সমূলে ধ্বংস করা হয়েছিলো। যেমন-
(১) আদ জাতিকে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ও তুফান দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিলো। একটানা ৮দিন পর্যন্ত এই অবস্থা ছিলো।
(২) সামুদ জাতিকে শুধু একটি ভয়াবহ আওয়াজ দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিলো।
(৩) হযরত নূহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়কে প্রলয়ংকারী প্লাবন দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিলো।
(৪) হযরত লূত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়কে জমীন সহ বস্তি উল্টে দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিলো।
(৫) হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়কে শূকর ও বানরে পরিণত করে ধ্বংস করা হয়েছিলো।
(৬) এ ছাড়া ফেরাউন, নমরূদ, হামান, কারুণ, আবু জাহেল সহ অসংখ্য যালিম সম্প্রদায়কে ধ্বংস করা হয়েছিলো। (তাফসীরে নেকাতুল কুরআন-৩য় খণ্ড)