📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 ঐশী গ্রন্থ পবিত্র কুরআন

📄 ঐশী গ্রন্থ পবিত্র কুরআন


বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের সবচেয়ে প্রামাণ্য উৎস হচ্ছে আল্লাহর অবতীর্ণ ঐশী গ্রন্থ আল কুরআন। এর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক জীবন-চরিতের উৎস পৃথিবীর আর কোথাও নেই। সমস্ত কুরআনই বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। শেষনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে অনেক বিধান বা বিষয় অবতীর্ণ হয়েছে। তাই এর মূখ্য চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। উদাহরণ হিসেবে নিম্নের আয়াতগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ও আখলাক বিষয়ে বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য।

১। বিশ্বনবী ছিলেন ইয়াতীম, নিঃস্ব ও মানুষের মুক্তির পথ অন্বেষণকারী তাঁকে আল্লাহ আশ্রয় দেন, অভাবমুক্ত করেন এবং পথের দিশা দেন। (সূরা ৯৩: আয়াত ৬-৭)
২। তিনি দিনের বেশীরভাগ সময় নানা কাজে ব্যস্ত থাকতেন, তাই নবুওয়াত ও রিসালাতের দায়িত্ব বহনের জন্য তাঁর রাত্রি জাগরণ আবশ্যক হয়ে পড়ত। (৭৩/১-৮)
৩। বিশ্বনবীর শিশু পুত্র ইন্তিকাল করলে কাফিররা তাকে 'নির্বংশ' বলে উপহাস করে। আল্লাহপাক তাদের এ আচরণের জবাব দেন। (১০৮/১-৩)
৪। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি প্রথম ওহী নাযিল হওয়া। (৯৬/১-৫)
৫। ওহীর ভার বহনের জন্য তাঁর হৃদয়ের প্রশস্তকরণ। (৯৪/১-৩)
৬। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাতে ভুলে না যান, সে জন্য ওহী এলে তা তিনি বারে বারে আবৃতি করতেন। কুরআন সংরক্ষণ ও পাঠদানের দায়িত্ব আল্লাহর। সুতরাং এ ব্যাপারে তাঁকে অধীর হতে নিষেধ করা হয়। (৭৫/১৬-১৯)
৭। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্মীয়স্বজনদের সতর্ক করার নির্দেশ। (২৬/২১৪-২০)
৮। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা আবু লাহাব ও তার স্ত্রী উম্মে জামিলের বৈরিতা ও এর পরিণাম। (১১১/১-৫)
৯। শেষনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে কুরাইশ ধনকুবের মালিক অলীদ ইবনে মুগিরার আচরণ ও এর পরিণতি। (৫৩/৩৩, ৩৪, ৬৮/১০-১৬, ৭৪/১১-৩০)
১০। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে আবু জাহলের আচরণ ও এর পরিণতি। (৮/৩২, ৭৫/৩১-৩৫)
১১। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কাফিরদের আপোষ প্রস্তাব। (১০৯/১-৬)
১২। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে মক্কার মুশরিকদের অর্থ ব্যয়। (৯০/৫-৭)
১৩। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নাখলার জীনদের সাক্ষাৎ ও তাদের ঈমান আনয়ন। (৪৬/২৯-৩২)
১৪। হিজরতের পূর্বে মিনায় কাফিররা তাঁর কাছে মু'জেযা দেখতে চাইলে চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত করে দেখান। (৫৮/১-৮)
১৫। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ এক রাতে মসজিদে হারাম হতে মসজিদে আকসা ভ্রমণ করান। (১৭/১)
১৬। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিস্ময়কর মি'রাজের বিবরণ। (৫৩/৫-১৭)।
১৭। মক্কা হতে মদীনায় বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরত। (৯/৪০, ৪৭/১৩)
১৮। কুবায় মসজিদ নির্মাণ। (৯/১০৮-১০৯)
১৯। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সশস্ত্র যুদ্ধ ও অভিযান প্রসঙ্গ- ক) বদরের জিহাদ। (৩/১৩, ১২৩, ৮/৫-১৯, ২৬, ৪১, ৫০, ৬৫-৭২) খ) ওহুদের জিহাদ। (৩/১২১-১২৬, ১৪৯-১৫৫, ১৬৫-১৬৮) গ) হুদাইবিয়ার সন্ধি। (৪৮/২৭) ঘ) খন্দকের জিহাদ। (৩৩/৯-২০) ঙ) খায়বারের জিহাদ। (৪৮/২৭) চ) হুনাইন অভিযান। (৯/২৫-২৬) ছ) তাবুক অভিযান। (৯/৩৮-৪৯, ৮১-৯৬, ১১৭, ১২০, ১২১)
২০। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে অনুষ্ঠিত কুরাইশদের চুক্তি ভঙ্গ প্রসঙ্গ। (৮/৫৬,৯/৪,৭-১০,১৩)।
২১। বনী কায়নুকা, বনী কুরায়যা ও বনী নযীরের আচরণ ও পরিণতি। (২/৮৩-৮৫, ৮৯-৯১)
২২। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে নাজরানের খ্রীষ্টানদের মুবাহালা। (৩/৬১)
২৩। আহলে কিতাবদেরকে দাওয়াত। (৩/৬৮-৭১)
২৪। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের সম্পর্কে। (৩৩/২৮-৩৩৪)
২৫। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবাহের বিশেষ অনুমতি। (৩৩/৫০-৫৩)
২৬। বিশ্বনবীর স্ত্রী আয়িশার প্রতি অপবাদ রটনা ও এর অপনোদন রহস্য উন্মোচন। (২৪/১১-২৬)
২৭। যুদ্ধ ও অভিযানলব্ধ গনীমত ও ফায়-এ তাঁর হিস্যা। (৮/১, ৪১, ৩৩/৫০, ৫৯/৬-৭)।
২৮। শেষনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে আদব তরবীয়ত মোতাবেক আচরণ প্রসঙ্গে। (২৪/৬৩, ৩৩/৫৩-৫৬,৪৯/১-৫)
২৯। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান চরিত্রের অধিকারী। (৬৮/৪-৬)
৩০। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই একমাত্র অনুসরণীয় আদর্শ। (৩৩/২১)
৩১। পবিত্র কুরআনে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র নাম 'মুহাম্মদ' চার স্থানে এবং 'আহমদ' এক স্থানে উল্লেখ আছে।
৩২। কুরআনের বিভিন্ন স্থানে তাঁর বিবিধ গুণবাচক নামে তাঁকে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- নবী, শাহেদ, মুদদাসসীর, নযীর, সিরাজাম মুনিরা, রহমাতুল্লিল আ'লামিন, আল-মযামমিল, হারীস, রাহীম, রউফ, বশীর, উম্মী, ইয়াসীন, উসওয়াতুন হাসানা প্রভৃতি। এসব প্রতিটি শব্দ তার পবিত্র সীরাত নির্মাণে যথেষ্ট সহায়ক হয়েছে।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 সাহাবীদের কাবাকীর্তি সম্বলিত গ্রন্থসমূহ

📄 সাহাবীদের কাবাকীর্তি সম্বলিত গ্রন্থসমূহ


বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাবের সময় আরবে কাব্যচর্চার বহুল প্রচলন ছিল। আরবের লোকদের অনেকেই ছিলেন স্বভাব কবি ও কাব্যমনা। সাহাবীদের (রা.) অনেকেই কবি হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। সাহাবীদের অনেকেই রাসূলুল্লাহকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বচক্ষে নিকট থেকে দেখে তাঁর ব্যক্তিত্ব ও তাকওয়ার প্রভাবে ভীষণভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। সেসব বিশ্বাসী মানুষগুলো কবিতায়, গানে কিংবা আলেখ্য রচনার মাধ্যমে স্ব-স্ব অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। এসব বর্ণনাকারীর সংখ্যা সহস্রাধিক ছিল। সেসব বর্ণনা বা কাব্যসমূহ এতটাই হৃদয়গ্রাহী যে, তা কালজয়ী আরবী সাহিত্যের অমূল্য সম্পদে পরিণত হয়। আবার অনেক সাহাবী আবেগময় মুহূর্তে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রসংশায় কবিতা লিখেছেন। রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিরোধানে বা ইন্তিকালে সাহাবীরা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন। তাঁদের অনেকেই সে শোককে গেঁথেছেন কাব্য কীর্তির অপূর্ব মালায়। যা হয়েছে আরবী সাহিত্যের চিরস্থায়ী সম্পদ। হযরত আয়িশার (রা.) শোক গাঁথাটিতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বাঙ্গ সুন্দর আদর্শ চরিত্রের একটি সত্যিকার চিত্র ফুটে উঠেছে। হযরত সাফিয়া (রা.) ও হযরত ফাতিমার (রা.) শোকগাঁথাগুলো অপূর্ব সুন্দর ও মূল্যবান সাহিত্যকর্ম। রাসূলের সভাকবি ও মহাকবি হযরত হাসসান বিন সাবিত (রা.) মহানবীর ওফাতে যে দীর্ঘ শোক গেঁথেছেন তাঁর অনবদ্য কাব্যকীর্তির মাধ্যমে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহাজীবনের অনেক তথ্য ও আদর্শ প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বনবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি জিহাদের বা যুদ্ধগাঁথা নিয়ে তিনি বিরাট কবিতা লিখেছেন যা 'মাগাযী' বিদ্যার উত্তম উপাদান হয়ে আছে। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করেছেন হযরত আলী (রা.), আব্বাস (রা.), আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রা.), কা'ব বিন জুহাইর (রা.), কা'ব বিন মালিক (রা.), লাবিদ বিন রবীয়া (রা.) প্রমুখ মহামতি কবিগণ। পরবর্তীতে তাঁদের কাব্য সংগ্রহ বা 'দীওয়ান' প্রকাশিত হয়েছে। এসব 'দীওয়ান' নবীচরিত নির্মাণে অনেক তথ্য সরবরাহ করেছে। নিচে কয়েকটি 'দীওয়ান' এর নাম উল্লেখ করা হলো।

১। কাসিদা-ই-কা'ব বিন জুহাইর (রা.) ফী মাদহে রাসূলিল্লাহ (সাঃ)।
২। দীওয়ান-ই-কা'ব বিন মালিক আনসারী (রা.)।
৩। দীওয়ান-ই-হাসসান বিন সাবিত আনসারী (রা.)।
৪। দীওয়ান-ই-আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.)।
৫। কাসিদাতু বানাত সুআদ-কবি কা'ব বিন জুহাইর (রা)।
৬। দীওয়ান-ই-হযরত আলী (রা.)।
৭। দীওয়ান-ই-খানসা বিনতে আমর (রা.)।
৮। দীওয়ান-ই-হযরত আব্বাস (রা.)।
৯। দীওয়ান-ই-হযরত ফাতিমা (রা.)।
১০। দীওয়ান-ই-হযরত আয়িশা (রা.)।

এসব দীওয়ানের সংকলিত কবিতার অনেক অংশই পরবর্তী ইতিহাস, সাহিত্য, সীরাত ও হাদীস গ্রন্থে স্থান লাভ করেছে।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 পবিত্র হাদিস গ্রন্থসমূহ

📄 পবিত্র হাদিস গ্রন্থসমূহ


বিশ্ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনকালেই অনেক সাহাবী তার পবিত্র বাণী বিশেষত বক্তৃতা, চিঠিপত্র, আলোচনা, নির্দেশনামা ইত্যাদি লিখিত আকারে সংরক্ষণ করেছিলেন। এগুলো পরে মুহাদ্দিসগণের সংকলিত গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়। খলিফা ওমর ইবনে আবদুল আজিজের শাসনকালে (৯৯-১০১ হি/৭১৭-৭২০ খ্রীঃ) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি বাণী মদীনার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার নিকট হতে সংগৃহীত হয়। খলিফার নির্দেশে ইমাম ইবনে শিহাব যুহরী (৫০-১২৪ হিঃ) মদীনার ঘরে ঘরে অনুসন্ধান করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী সংগ্রহ করেন। অসংখ্য সাহাবী (রা.) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনকর্ম ও বাণীর বর্ণনা দেন। এঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী বর্ণনা দিয়েছেন সাত জন বিশিষ্ট সাহাবী। সর্বশেষ হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.)। যিনি ৯৩ হিজরীতে ইন্তিকালের মাধ্যমে সাহাবীদের এ জামাতের পরিসমাপ্তি ঘটে। তাবেয়ীগণ দ্বারা আরো ব্যাপকভাবে হাদীস ও সীরাত চর্চা শুরু হয়। আল্লামা সাইয়েদ সুলায়মান নদভী (রাহ.) বলেন, "সাহাবায়ে কিরামের জীবদ্দশায় তাবেয়ীগণ দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিয়ে যুবক, বৃদ্ধ, নারীপুরুষ প্রত্যেকের নিকট থেকে অনুসন্ধান চালিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যেকটি বাণী, কাজকর্ম এবং তাঁর সম্পর্কিত সকল তথ্য লিপিবদ্ধ করে গেছেন।" এ কাজে তাবে-তাবেয়ীগণও ব্যাপকভাবে অংশ গ্রহণ করেন। এভাবে সংগৃহীত হাদীসের সংখ্যা প্রায় লক্ষাধিক। এগুলোর মধ্যে ভুল, দুর্বল, সন্দেহপূর্ণ ও মনগড়া হাদীস, মুহাদ্দিসরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পৃথক করেন এবং গ্রন্থে শুধুমাত্র নির্ভুল, বিশুদ্ধ হাদীস সংকলন করেন। কঠোর সমালোচনা ও বাছাই করে সিহাহ সিত্তাহ ও অন্যান্য মসনদ সংকলিত হয়েছে। এগুলোতে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী ও শিক্ষাসমূহ সনদসহ বর্ণিত হয়েছে। আল-কুরআনের পরে এ উৎসটি সবচেয়ে বেশী নির্ভরযোগ্য। উদাহরণস্বরূপ কয়েকটি প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থের নাম উল্লেখ করা হলো:

(১) আল-জামি আস-সহীহ-ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী (১৯৪-২৫৬ হিঃ)।
(২) আল-জামি আস-সহীহ মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ (২০৪-২৬১ হিঃ)।
(৩) আল-জামি আস-সুনান-ইমাম আবু দাউদ (২০২-২৭৫ হিঃ)।
(৪) আল-জামি আস-সুনান-ইমাম আবু ঈসা আত-তিরমিযী (২০৯-২৭৯ হিঃ)।
(৫) আস-সুনান-ইমাম আবদুর রহমান আহমদ ইবনে আলী আল-নাসাঈ (২১৫-৩০৩ হিঃ)।
(৬) আস-সুনান-ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজীদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাজাহ (২০৯-২৭৩ হিঃ)।
(৭) আল-মুয়াত্তা-ইমাম মালেক ইবনে আনাস (৯৩-১৭৯ হিঃ)।
(৮) সুনান ও শুআবুল ইমাম-ইমাম আবু বকর আহমদ বায়হাকী (মৃতঃ ২৪০ হিঃ)।
(৯) মুসনাদ-ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (১৬৪-২৬১ হিঃ)।
(১০) মুসান্নাফ-ইমাম আবদুর রাজ্জাক (মৃতঃ ২১১ হিঃ)।
(১১) মুসান্নাফ-ইবনে আবী শায়বা (মৃতঃ ২৩৫ হিঃ)।
(১২) মু'জাম-ইমাম সুলায়মান ইবনে আহমদ তিবরানী (২৬০-৩৬০ হিঃ)।
(১৩) আল-মুসতাদরাক-ইমাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাকিম (মৃতঃ ৪০৫ হিঃ)।
(১৪) কানজুল উম্মাল ফিস সুনান-শায়খ আলী মুত্তাকী (মৃতঃ ৯৫৫ হিঃ)।

আয়িশা (রা.) বলেন আলকুরআনই হচ্ছে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রের/সীরাতের পূর্ণ প্রতিফলন। আর আল্লাহ ঘোষণা করেন যে, তিনিই এ কুরআন নাযিল করেছেন এবং তিনিই এর সংরক্ষক। অতএব, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত কিয়ামত পর্যন্ত অক্ষত থাকবে।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 সীরাত ও মাগাযী গ্রন্থসমূহ

📄 সীরাত ও মাগাযী গ্রন্থসমূহ


বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মজীবন ও বাণী সংগ্রহের মাধ্যমেই সীরাতের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু হয়। সাহাবীদের (রা.) আমল থেকেই এ কাজ আরম্ভ হয়। ইসলামের প্রারম্ভিক সময় থেকেই অসংখ্য সাহাবী (রা.), তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ী সীরাত চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। তবে নবী জীবনী রচনার কাজ কে প্রথম শুরু করেছিলেন এ সম্পর্কে ভিন্ন মত রয়েছে। তৃতীয় খলিফা ওসমান (রা.)-এর ছেলে আবান (২০-১০৫ হিঃ) বিচ্ছিন্ন আকারে কিছু তথ্য সংগ্রহ করেন। অতঃপর উরওয়া (২৩-৯৪ হিঃ) ইবনে যুবায়ের ইবনে আওয়াম অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন। অনেকে তাঁকেই প্রথম সীরাত রচয়িতা বলে উল্লেখ করেছেন। হযরত আবু বকরের (রা.) কন্যা আসমার (রা.) পুত্র উরওয়া ও তাঁর ভাই আবদুল্লাহ নবীপত্নিগণের (রা.) অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ইসলামের স্বর্ণযুগের জ্ঞানের উপর উরওয়ার অসাধারণ দখল ছিল। প্রথম দিকে নবী জীবনী ও মাগাযী সংগ্রহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: ১। ইমাম শা'বী (মৃতঃ ১০৯ হিঃ), ২। ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বাহ (মৃতঃ ১১০হিঃ), ৩। আসিম ইবনে ওমর ইবনে কাতাদা (মৃতঃ ১২১ হিঃ), ৪। শুরাহবিল ইবনে সা'দ (মৃতঃ ১২৩ হিঃ), ৫। আবদুল্লাহ বিন আবু বকর ইবনে হাযম (মৃতঃ ১৩০ হিঃ), ৬। মুহাম্মদ বিন মুসলিম ইবনে শিহাব যুহরী (৫০-১২৪ হিঃ), ৭। মূসা ইবনে উশবা (৫৫-১৪১ হিঃ), ৮। হিশাম ইবনে উরওয়া (মৃতঃ ১৪৬ হিঃ), ৯। মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক।

তবে সীরাত চর্চার প্রকৃত সূত্রপাত হয় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরলোক গমনের ৮৫ বছর পর থেকে। তখন ছিল খলিফা ওমর ইবনে আবদুল আজীজ ওরফে দ্বিতীয় ওমরের শাসনকাল। দ্বিতীয় ওমর ছিলেন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রধান সহচর এবং ধর্মপ্রাণ খলিফা ওমরের (রা.) দৌহিত্রীর গর্ভজাত সন্তান। তিনি আচার-আচরণে হযরত ওমরের মত এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনাড়ম্বর ও ধর্মনিষ্ঠতার বলিষ্ঠ অনুসরণকারী ছিলেন। তিনি সম্রাটের আড়ম্বরতা ত্যাগ করে সহজ সরল জীবন যাপন করতেন। তিনি দ্বীন ইসলামের খেদমতে নিজেকে উজাড় করে দিতেন।

তিনি আল্লাহ ও আল্লাহর নবীর আদর্শ বা দ্বীনকে সুপ্রসারিত ও সুরক্ষিত করার জন্য সর্বোপায়ে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী বা হাদীস এবং নবী-জীবনী বা সীরাতুন্নবী চর্চার সুচিন্তিত কর্মসূচি গ্রহণ করেন।

তিনি মদীনার শাসনকর্তা ইবনে হাযমকে লিখিতভাবে আদেশ দিয়েছিলেন, "আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি হাদীস তন্ন তন্ন করে খুঁজে বের করতে থাকুন এবং লিখে রাখুন। আমার ভয় হচ্ছে যে, এ ব্যবস্থা না করলে একদিন এ জ্ঞানভাার বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ জ্ঞান ভাারের রক্ষক সাহাবী ও তাবেয়ীগণ দুনিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছেন।" (বুখারী শরীফ)। এভাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী ও কর্মজীবন সংকলনের সাথে সাথে তাঁর মহিমাময় জীবনচরিত-চর্চা বা সীরাত-চর্চার সূত্রপাত করেছিলেন খলিফা ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.)। খলিফার অনুরোধক্রমে আসিম ইবনে ওমর ইবনে কাতাদা দামেস্কের মসজিদে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবন চরিত অর্থাৎ সীরাতুন্নবী শিক্ষাদান শুরু করেন।

শুরু হয় 'মাগাযী' বা যুদ্ধ-বিগ্রহের তথা সশস্ত্র জিহাদের ইতিহাস শিক্ষাদানেরও পাঠ্যসূচী। কিন্তু সীরাত-চর্চার সূচনালগ্নে কোন সীরাত গ্রন্থ রচনা করা সম্ভব হয়নি। আলকুরআন ও হাদীস-চর্চার ঊষালগ্নের মতই সীরাত-চর্চাও সূচনালগ্নে কেবল মৌখিক প্রয়াসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সীরাত-চর্চার প্রথম গ্রন্থ রচনা করেন বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম বুখারী উস্তাদতুল্য সর্ববিদ্যাবিশারদ ইমাম ইবনে শিহাব যুহরী (রহ)। ইমাম যুহরী মদীনার ঘরে ঘরে গিয়ে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার কাছ থেকে যে তথ্য সংগ্রহ করেন; তা যাচাই করে 'কিতাবুল মাগাযী' নামক সীরাত সংক্রান্ত গ্রন্থ রচনা করেন। খলিফা আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ান এবং খলিফা ওমর ইবনে আবদুল আজিজ ইমাম যুহরীর খাঁটি অনুরাগী ও ভক্ত ছিলেন। মূসা ইবনে উশবা, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, ওমর ইবনে রাশেদ, আবদুর রহমান ইবনে আবদুল আজিজ, মুহাম্মদ ইবনে ছালেহ (মৃতঃ ১৬৮ হিঃ) প্রমুখ পণ্ডিত ও ঐতিহাসিকেরা তার ছাত্র ছিলেন। তারাও কিতাবুল মাগাযী রচনা করেন।

হিজরী প্রথম শতকের সীরাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপাত্ত সংগ্রহকারীদের মধ্যে সর্ববিচারে ইমাম যুহরীর নাম শীর্ষস্থানীয়। এছাড়া উপরে বর্ণিত মনীষীরা এবং কায়েস বিন আবি হাযেম (মৃতঃ ৯৮ হিঃ), সাঈদ বিন যুবাইর (মৃঃ ৯৫ হিঃ), আতা বিন আবি রিবাহ (মৃতঃ ১১০ হিঃ), আবু যানাত (মৃতঃ ১৩০ হিঃ) প্রমুখ তাবেয়ীগণ এ বিষয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। পরবর্তীতে সীরাত ও মাগাযী সংগ্রহের কাজ করেছেন আবু মাশার নাজিহুল মাদানী (মৃঃ ১৭০ হিঃ), আবদুল্লাহ ইবনে জাফর আল মাখযুমী (মৃতঃ ১৭০ হিঃ), আবদুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ আনসারী (মৃতঃ ১৭৬ হিঃ), আলী ইবনে মুজাহিদ আররাযী (মৃতঃ ১৮০ হিঃ), যিয়াদ ইবনে আবদুল আল বুকাই (মৃতঃ ১৮৩ হিঃ), আলী ইবনে মুসলিম কারাশী (মৃতঃ ১৯৫ হিঃ), ইফনুস ইবনে বুকাইর (মৃতঃ ১৯৯ হিঃ) প্রমুখ মনীষীরা।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন চরিত্রের উপকরণাদি সংগ্রহ, সংকলন ও গ্রন্থায়ন করার কাজ শুরু থেকেই তিন পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। প্রথম পর্যায়ের কাজ হয় সাহাবীদের ও তাবেয়ীদের দ্বারা ব্যক্তিগতভাবে। তাঁদের তথ্য ও উপাত্তের উপর দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয়। এ পর্যায়ে তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীগণ বিভিন্ন শহর থেকে সংগৃহীত তথ্যাবলী একত্রিত করেন। তৃতীয় পর্যায়ে কাজ করেছেন সিহাহ সিত্তার মহাজ্ঞানী ইমামগণ ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সীরাতবিদগণ। হিজরী তৃতীয় শতকের পরও তাদের কারো কারো কর্মকাণ্ড অব্যাহত ছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে সংগৃহীত তথ্যাবলী তৃতীয় যুগে এসে এক বিশাল ভাণ্ডারে পরিণত হয় এবং হাজার হাজার পৃষ্ঠার গ্রন্থে সুনির্বাচিত প্রামাণ্য সম্পদ নবী প্রেমিকদের নিকট উপস্থিত হয়। এসবই আজ পর্যন্ত নবী জীবনের সর্বাপেক্ষা মূল্যবান ও নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে মওজুদ রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের সীরাত সংগ্রহকারকদের উল্লেখযোগ্য হলেন মূসা বিন উশবা, মুয়াম্মার বিন রাশেদ (মৃতঃ ১৫০ হিঃ), মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক (৮৫-১৫১ হিঃ)। ইবনে ইসহাকের সীরাত ও মাগাযী গ্রন্থ সবচেয়ে বেশী তথ্য ও তত্ত্বের আলো বিতরণ করেছে। বার খণ্ডে রচিত তাঁর 'সীরাতে রাসূলুল্লাহ' হলো সবচেয়ে প্রসিদ্ধ, সর্বাধিক প্রামাণ্য ও উন্নতমানের সীরাত গ্রন্থ। নির্ভরযোগ্য এ বিশাল গ্রন্থখানা আব্বাসী খলিফা মনসুরের অনুপ্রেরণায় রচিত হয়। এটিই প্রাচীন সীরাত সংগ্রহের প্রধান ভিত্তি বা মূল। দু'একজন মুহাদ্দিস ছাড়া সকলেই ইবনে ইসহাকের জ্ঞান, মেধা, স্মৃতিশক্তি, সীরাত ও মাগাযী বিষয়ে অসাধারণ অভিজ্ঞতার ব্যাপারে আস্থাবান ছিলেন। ইবনে ইসহাক তাঁর বিশাল গ্রন্থটিকে খলিফার অনুরোধে সংক্ষিপ্ত করে তিন খণ্ডে পরিবেশন করেন। "তিনি সনাতন মাগাযীর পরিবর্তে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী লেখার সম্পূর্ণ নতুন একটি পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। তাঁর প্রবর্তিত পদ্ধতি পরবর্তীকালে সীরাত সাহিত্যের পথ প্রদর্শকরূপে পরিগণিত হয়। তিনি বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একজন ঐতিহাসিক বিবর্তনের নায়করূপে চিত্রিত করেন। এটা সুনিশ্চিত যে, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবর্তনের চূড়ান্ত পরিণতিতেই মুসলমানদের অভ্যুত্থান ও ইসলামের প্রসার। ইবনে ইসহাকের সীরাত গ্রন্থ বাংলাসহ বহুভাষায় অনূদিত হয়েছে।

ইবনে ইসহাকের পর সীরাত ও মাগাযী বিষয়ে গ্রন্থ লিখেছেন যিয়াদ ইবনে আবদুল্লাহ আল বুকাই, মুহাম্মদ বিন আমর আল ওয়াকিদী (১৩০-২০৭ হিঃ), আবদুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম (মৃতঃ ২১১ হিঃ), আবদুল মালিক ইবনে হিশাম (মৃতঃ ২১৮ হিঃ), মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ মাদায়েনী (১৩৫-২২৫ হিঃ), মুহাম্মদ বিন সা'দ আয-যুহরী (১৬৮-২৩০ হিঃ) প্রমুখ। ইবনে ইসহাকের পর বসরার প্রখ্যাত জীবনীকারক লেখক আব্দুল মালিক ইবনে হিশাম মূল সীরাত রচনায় খ্যাতিমান মৌলিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্বীকৃত। তিনি নবী জীবনের কোন গ্রন্থ রচনা করেননি। ইবনে ইসহাকের বিশাল সীরাত গ্রন্থ 'সীরাতে রাসূলুল্লাহ'-র মূল নির্যাস অবলম্বনে সম্পাদনা ও সংযোজন করে, পরিমার্জিত আকারে 'সীরাতে ইবনে হিশাম' নির্মাণ করেন। অর্ধশতাব্দী পরে পূর্বোক্ত যিয়াদ আল-বুকাইর এর মধ্যস্থাতায় ইবনে হিশাম এ কাজটি করেন। 'সীরাত ইবনে হিশাম' বাংলাসহ কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ইবনে হিশামের পর উল্লেখযোগ্য সীরাত লেখক হলেন মুহাম্মদ ইবনে সা'দ আয-যুহরী (১৬৮-২৩০ হিঃ)। তিনি ইবনে সা'দ নামে প্রসিদ্ধ। তিনি আল-ওয়াকিদীর সচিব ছিলেন। তবে নির্ভরযোগ্যতায় ওয়াকিদীর চেয়ে তিনি অনেক বেশী গ্রহণযোগ্য। তাঁর অনেক গ্রন্থ রয়েছে। 'কিতাবুত তাবকাত' নামক বিশাল ১৫ খণ্ডে সমাপ্ত সীরাত গ্রন্থটির জন্য তিনি অমর হয়ে আছেন। পরে অবশ্য গ্রন্থটি ১২ খণ্ডে সম্পাদিত হয়। হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীতে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ মাদায়েনী বিভিন্ন স্থান ভ্রমণ করে নবী জীবনের খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলীতে প্রথম দিকে নবী জীবনের ঘটনাবলী সন্নিবেশিত হয়েছে। তিনি নিষ্ঠাবান সীরাত সংগ্রহক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

সীরাত ও মাগাযী সম্পর্কিত আরও কিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ রয়েছে। ১। আনসাবুল আশরাফ-আল-বালাজুরী (মৃতঃ ২৭৯ হিঃ) ২। আর রাউদিল উনুফ-আবদুর রহমান আল সুহায়লী (৫০৮-৮১ হিঃ), ৩। আদ-দুরার ফী ইসতিসারিল মাগাযী ওয়াস-সিয়ার-ইবনে আবদিল বার্র (মৃতঃ ৪৬২ হিঃ), ৪। কিতাবুত তাবাকতিল কবীর-মুহাম্মদ ইবনে সা'দ আল কাতিব (মৃতঃ ২৩০ হিঃ), ৫। আল-ইকতিফা ফী মাগাযী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সালাসাতিল খুলাফা সুলায়মান ইবনে মুসা আল-কালায়ী (মৃতঃ ৬৩৪ হিঃ), ৬। উয়ুনুল আসার ফী ফুনুলিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার-ইবনে সাইদুন্নাস (মৃতঃ ৭৩৪ হিঃ), ৭। আস-সীরাতুন নাবাবিয়া-ইবনে কাসির (মৃতঃ ৭৬১ হিঃ), ৮। আল-ইশাবা ইলা সীরাতিন নাবাবিয়া-হাফেজ মুগলতাঈ (মৃতঃ ৭৬১ হিঃ), ৯। বাজাতুল মাহাফিক ফি'স সিয়ার ওয়াল মু'জেযাত ওয়াশ শামাইল-ইয়াহিয়া ইবনে আবি বকর আল-আমিরী (মৃতঃ ৮৯৩ হিঃ), ১০। সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফী সিরাতে খাইরিল ইবাদ (সীরাতে শামী)-শামসুদ্দীনর আস-সালিহী শামী (মৃতঃ ৯৪২ হিঃ), ১১। আল ওয়াফা ফী আহওয়ালিল মুস্তাফা-ইবনুল জাওযী (মৃতঃ ৫৭৯ হিঃ), ১২। জাওয়ামিউল সীরাহ-ইবনে হাযম (মৃতঃ ৪৫৬ হিঃ), ১৩। সীরাতিল হালাবিয়া-আলী ইবনে বুরহানউদ্দীন আল হালাবী (মৃতঃ ৯৭০ হিঃ), ১৪। সীরাতে দিমইয়াতী-হাফিজ আবদুল মোমেন (মৃতঃ ৭০৫ হিঃ), ১৫। সীরাতে খলাতী-আলাউদ্দীন ইবনে মুহাম্মদ খালাতী (মৃতঃ ৭০৮ হিঃ), ১৬। সীরাতে গায়বোনী-শায়খ জহিরউদ্দীন আলী ইবনে মুহাম্মদ গায়বোনী (মৃতঃ ৬৯৪ হিঃ), ১৭। যা'দুল মাআদ ফী হাদয়ি খয়রিল ইবাদ-ইবনে কাইয়িম (মৃতঃ ৭৫১ হিঃ), ১৮। আশশিফা বিত'রিফি হুকুকিল মোস্তফা (সাঃ)-আবুল ফযল আয়াজ ইবনে মূসা (মৃতঃ ৫৪৪ হিঃ), ১৯। আস-সারিকুল মাসলুল-শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (৬৬১-৭২৮ হিঃ), ২০। ইমতাউল আসমা ফীমার রাসূল মিনাল আসমা ওয়াল মাতা-আহমদ ইবনে আলী আল-মাকারীযী (মৃতঃ ৮৪৫ হিঃ)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00