📄 যমযমের পানি পান করার আদব
হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তওয়াফে এফাদা শেষে এক বালতি যমযমের পানি তোলার আদেশ দেন। তিনি সে পানি দিয়ে অযু করেন এবং বলেন, হে বনি আব্দুল মুত্তালিব! তোমরা পানি তোল, তোমরা পানি না তুললে অন্যরা তোমাদেরকে এ কাজ থেকে বঞ্চিত করবে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক বালতি যমযমের পানি তুলতে এবং তাঁকে তা দাঁড়িয়ে পান করতে দেখিছি। হযরত ইবনে আব্বাসের অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিসমিল্লাহ বলে বালতি ধরেন এবং অনেকক্ষণ যাবত পানি পান করেন। তারপর মাথার উপরের দিকে তুলে 'আলহামদু লিল্লাহ' বলেন। এভাবে তিনি তিনবার পানি পান করেন। ২য় বার আগের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম সময় এবং ৩য় বার আরো কম সময় ধরে তিনি যমযমের পানি পান করেন। উলামায়ে কেরামের মতে, যমযমের পানি ডান হাতে গ্লাস নিয়ে কিবলামুখী হয়ে বিসমিল্লাহ বলে দাঁড়িয়ে পান করতে হবে। এ পানি তিনশ্বাসে পান করবে। পান শেষে আল্লাহর হামদ প্রকাশ করবে এবং পেট ভরে পানি পান করবে। যার বিন হোবাইস বলেন, আমি হযরত আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিবকে মসজিদে হারামে, যমযমের চারপার্শ্বে প্রদক্ষিণ করা অবস্থায় বলতে শুনেছি যে, আমি যমযমের পানিকে গোসলের জন্য জায়েয মনে করি না; এ পানি দ্বারা অযু করা যাবে এবং তা পান করা যাবে। মালেকী মাযহাবে যমযমের পানি দিয়ে অযু করাকে উত্তম বলা হয়েছে। শাফেঈ মাজহাবে, এ পানি দিয়ে অযু গোসল দুটোই জায়েয আছে। ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের এক রেওয়াতে এ পানি দিয়ে অজু করাকে মাকরূহ বলা হয়েছে। ইমাম ফার্সী বলেন, ৪ মাজহাবের সর্বসম্মত মত অনুযায়ী যমযমের পানি অন্য স্থান বা দেশে নেয়া জায়েয আছে। যমযমের পানি স্থানান্তরের ব্যাপারে তিরমিযীর হাদীসটিই প্রধান ভিত্তি। হযরত (রা.) আয়িশা বোতলে করে যমযমের পানি বয়ে নিয়ে গেছেন এবং বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলসী এবং চামড়ার মশকে করে যমযমের পানি নিয়ে গেছেন, রোগীদেরকে তা পান করিয়েছেন এবং রোগীদের উপর উক্ত পানি ছিটিয়ে দিয়েছেন। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোহাইল বিন আমরকে যমযমের পানি উপহার দিয়েছিলেন। বিনিময়ে সোহাইল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য দুটো ভারবাহী পশু উপহার পাঠিয়েছিলেন।