📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 বাইতুল্লাহর প্রতি দৃষ্টির ফযীলত

📄 বাইতুল্লাহর প্রতি দৃষ্টির ফযীলত


বাইতুল্লাহর প্রতি নজর করা একটি ইবাদত। যাঁরা বাইতুল্লাহকে দেখে এবং এর প্রতি নজর দেয় তাঁরা সওয়াব পান। হযরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কা'বা শরীফ দেখা একটি ইবাদত। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) এ ঘরের বিভিন্ন প্রকার ইবাদতের ব্যাপারে আল্লাহর রহমতের যে বণ্টনের কথা উল্লেখ করেছেন তাতে আল্লাহর ঘরের প্রতি দৃষ্টিদানকারীদের জন্য ২০টি রহমত নির্ধারণ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, এ কাবা ঘরের উপর প্রত্যেক দিন ও রাতে ১২০টি রহমত নাযিল হয়। এর মধ্যে তওয়াফকারীদের জন্য ৬০টি, মসজিদে হারামে এতেকাফকারীদের জন্য ৪০টি এবং কা'বার প্রতি দৃষ্টিদানকারীদের জন্য ২০টি রহমত নাযিল হয়। অন্য এক বর্ণনায় নামাযীদের জন্য ৪০টি রহমত নাযিলের কথা এসেছে। ঐ রেওয়াতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ, মক্কার মসজিদের লোকদের জন্য ১২০টি রহমত নাযিল করেন। সাখাওয়ী তাঁর মাকাসেদ হাসানা গ্রন্থে, তাবারানী তাঁর মায়াযেম গ্রন্থে, আজরাকী, বায়হাকী এবং হারেস তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে এ হাদীসটির উল্লেখ করেছেন। ঐ রহমত নাযিলের দু'টো ব্যাখ্যা আছে : প্রথমটি হচ্ছে, ঐ রহমত বর্ণিত তিন দলের প্রত্যেকের উপর সমানভাবে নাযিল হবে, তা তাদের কম বা বেশী আমলের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। এ আলোকে প্রত্যেক তওয়াফকারী ৬০টি, প্রত্যেক কাবা দর্শনকারী ২০টি এবং প্রত্যেক নামাযী ৪০টি রহমত পাবে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, এ রহমত আমলের পরিমাপ, (কম-বেশী আমল) এবং আমলের গুণগতমানের উপর নির্ভর করে নাযিল হবে। এ ব্যাখ্যাটিই বেশী প্রসিদ্ধ। এ ব্যাখ্যার আলোকে, সকল তওয়াফকারী ৬০টি, সকল কাবা দর্শনকারী ২০টি এবং সকল মুসল্লী ৪০টি রহমত পাবে। এতে করে উপরোল্লিখিত তিনদলের প্রত্যেক দলের বহুসংখ্যক লোক আল্লাহর ঐ রহমতের সুশীতল ছায়া পাবে এবং প্রতিটি লোক বহুসংখ্যক রহমতের অধিকারী হবে।

আল-কোরা কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'কা'বা শরীফ দেখা ইবাদত' এর সমর্থনে হযরত আয়িশার বর্ণিত হাদীসটিও উল্লেখযোগ্য। আমাদের অতীতের বুজুর্গদের অনেকেই এই ইবাদতটির ফযীলতের ব্যাপারে নিজেদের রুচি, জ্ঞান এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলেছেন। আযরাকী এ বিষয়ের ৪টি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।
১. হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন: কা'বার দিকে নজর করা খালেস ঈমানের পরিচয়। মুজাহিদ বলেছেন, কা'বার দিকে নজর করা ইবাদত।
২. সাইদ বিন মুসাইয়েব বলেছেন, যে ঈমান ও সত্য বিশ্বাসের সাথে কা'বা শরীফের দিকে তাকায়, সে গুনাহ থেকে নবজাত শিশুর মত নিষ্পাপ হয়ে যায়।
৩. আতা বলেছেন, কাবার দিকে নজর করা এক বছরের নামায তথা কিয়াম, রুকু ও সিজদা থেকে উত্তম।
৪. ইবনুস সায়েব আল-মাদানী বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও সত্য বিশ্বাসসহকারে কাবার দিকে তাকায়, গাছ থেকে যেমন পাতা ঝরে পড়ে, তেমনি তাঁর গুনাহও ঝরে পড়ে। (মুসীরুল গারাম) কা'বার দিকে নজর করা ইবাদত। কা'বার প্রতি নজরকারী ব্যক্তির মর্যাদা হচ্ছে, সার্বক্ষণিক রোযাদার এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী মুজাহিদের সমান।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 বাইতুল্লাহর তওয়াফের ফযীলত

📄 বাইতুল্লাহর তওয়াফের ফযীলত


হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর (রা.) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি : 'যে ব্যক্তি হিসাব করে, এক সপ্তাহব্যাপী কাবা শরীফ তওয়াফ করে সে একটি গোলাম আযাদ করার সওয়াব পাবে।' আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আরও বলতে শুনেছি, "সে ব্যক্তির প্রতি কদমে আল্লাহ তাঁর অপরাধ ক্ষমা করেন এবং নেক লেখা হয়।" তিরমিযী এই হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।

হযরত ইবনে উমর (রা.) থেকে আরো একটি হাদীস বর্ণিত রয়েছে : 'আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে কা'বার তওয়াফ করবে এবং দু'রাকাত নামায পড়বে, সে একটি গোলাম আযাদ করার সওয়াব পাবে।' নাসায়ী শরীফে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। 'যে সাত চক্কর তওয়াফ শেষ করবে সে একটি গোলাম আযাদ করার সওয়াব পাবে। হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে মক্কায় আসার পর সবচেয়ে প্রিয় কাজ ছিল বাইতুল্লাহ শরীফের তওয়াফ করা।

হযরত জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে বাইতুল্লাহ শরীফের সাত চক্কর তওয়াফ করবে, মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দু'রাকাত নামায পড়বে এবং যমযমের পানি পান করবে তার গুনাহ যত বেশীই হউক না কেন, তা মাফ করে দেয়া হবে।' এক রেওয়ায়াতে এসেছে, কোন ব্যক্তি তওয়াফের নিয়তে ঘর থেকে বের হলে সে আল্লাহর রহমত পাওয়ার নিকটবর্তী হয়। সে যখন তওয়াফে প্রবেশ করে, তখন আল্লাহর রহমত তাকে ঢেকে ফেলে। তারপর প্রতি কদমের উঠা-নামার সাথে সাথে আল্লাহ তার জন্য পাঁচশ' নেকী লিখেন, পাঁচশ পাপ মোচন করেন এবং পাঁচশ মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। তওয়াফ শেষে মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দু'রাকাত নামায পড়লে সে সদ্যপ্রসূত নবজাত শিশুর মত নিষ্পাপ হয়ে যায়, আওলাদে ইসমাঈলের ১০টি গোলাম আযাদ করার বিনিময় পায় এবং হাজরে আসওয়াদের একজন ফিরিশতা তাকে স্বাগত জানায় এবং বলে : যে কাজে তোমাকে স্বাগত জানানো হয়, সে কাজ পুনরায় কর; তবে যা করেছ তা অতীতের গুনাহ মাফের জন্য যথেষ্ট এবং তার পরিবারের সত্তর জনের জন্য সুপারিশ করা হবে।' এক রেওয়াতে এসেছে, 'যে ভাল করে অজু করে হাজারে আসওয়াদে চুমু দেয়ার উদ্দেশ্যে আসবে সে আল্লাহর রহমতে প্রবেশ করল। তারপর যখন চুমু দিল এবং দোয়া পড়ল তখন রহমত তাকে ঢেকে ফেলল। তারপর বাইতুল্লাহর তওয়াফ করলে, তার প্রতি কদমে আল্লাহ সত্তর হাজার নেক লিখবেন, সত্তর হাজার গুনাহ মাফ করবেন, সত্তর হাজার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং তার বংশের সত্তর হাজার লোকের জন্য সুপারিশ করবেন। তারপর মাকামে ইবরাহীমের পিছনে ঈমান ও সওয়াবের নিয়তে দু'রাকাত নামায পড়লে আল্লাহ তার জন্য আওলাদে ইসমাঈলের ১৪ জন গোলাম আযাদ করার সওয়াব লিখবেন এবং সদ্যপ্রসূত নিষ্পাপ শিশুর মত গোনাহমুক্ত করবেন। অন্য এক রেওয়াতে এসেছে যে, 'একজন ফিরিশতা এসে বলবে, তুমি তোমার ভবিষ্যতের জন্য আমল কর, যা করেছ তা অতীতের অপরাধের ক্ষমার জন্য যথেষ্ট।'

হযরত আয়িশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'আল্লাহ ফিরিশতাদের নিকট তওয়াফকারীদের ব্যাপারে গর্ব করে থাকেন।' হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে। 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ৫০ বার বাইতুল্লাহর তওয়াফ করে সে সদ্য ভূমিষ্ঠ নিষ্পাপ শিশুর মত পাপমুক্ত হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতিটি দিন ও রাতে, বাইতুল্লাহর প্রতি ১২০টি রহমত নাযিল হয়। এর মধ্যে ৬০টি হচ্ছে তওয়াফকারীদের জন্য, ৪০টি হচ্ছে এ ঘরের নামাযীদের জন্য এবং ২০টি হচ্ছে এ ঘরের প্রতি নজরকারীদের জন্য। হযরত আদম (আ.) সাত সপ্তাহ রাতে এবং পাঁচ সপ্তাহ যাবত দিনে তওয়াফ করেছেন। তিনি তওয়াফের সময় এ দোয়া করেছেন, হে আল্লাহ! তুমি আমার বংশধরদের মধ্য থেকে এ ঘরের আবাদকারী লোক তৈরী কর। তখন আল্লাহ তাঁর কাছে ওহী পাঠান এবং বলেন, 'আমি তোমার বংশধরদের মধ্য থেকে এ ঘরের আবাদকারী একজন নবী পাঠাবো; তাঁর নাম হবে ইব্রাহীম। তাঁর হাতে আমি এ ঘর নির্মাণ করাবো, এর পানি পান করানোর সব আঞ্জাম দেব, তাঁকে এর হারাম ও হালাল এলাকা এবং এ ঘরের যর্থাথ স্থান দেখাব; তাঁকে এখানকার পবিত্র স্থানসমূহ এবং এর বিধি বিধান শিখিয়ে দেব।' এক রেওয়াতে এসেছে, আল্লাহ দুনিয়াতে কোন কাজের জন্য কোন ফিরিশতা পাঠাতে চাইলে, সে ফিরিশতা আল্লাহর কাছে প্রথমে বাইতুল্লাহর তওয়াফের অনুমতি চায়। পরে সে ফিরিশতা নেমে আসে। হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর (রা.) উল্লেখ করেন, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এ ঘর থেকে উপকৃত হও, এ ঘর দু'বার ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং তৃতীয়বারে তা তুলে নেয়া হবে।' (ইবনে হিব্বান) হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, এ ঘর উঠিয়ে নেয়ার আগে এবং এ ঘরের অবস্থান সম্পর্কে মানুষের ভুলে যাওয়ার পূর্বে, তোমরা এ ঘরের বেশী যিয়ারত কর; কুরআন উঠিয়ে নেয়ার আগে বেশী করে কুরআন তিলাওয়াত কর। তাঁকে লোকেরা প্রশ্ন করল, কাগজে লিখিত কুরআন তুলে নেয়া সম্ভব হলেও মানুষের মন থেকে কিভাবে তা তুলে নেয়া হবে? তিনি উত্তরে বলেন, মানুষ রাতে অন্তরে কুরআনসহকারে থাকবে সকাল বেলায় তাদের অন্তর থেকে কুরআন মুছে যাবে, এমনকি তারা তখন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এ কালেমাটিও ভুলে যাবে। তখন মানুষ আবার যাহেলিয়াতের দিকে ফিরে যাবে এবং বিভিন্ন জাহেলী জিনিসের অনুসরণ করবে। (আযরাকী) হযরত উমর বিন খাত্তাব (রা.) বলেছেন, 'একদিন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তওয়াফ করছিলাম। হঠাৎ করে তিনি থেমে গেলেন এবং মৃদু হাসলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আপনি প্রথমে থেমে গেলেন এবং মৃদু হাসলেন! তখন রাসূলুল্লাহ (রা.) বললেন, আমার সাথে ঈসা বিন মরিয়মের দেখা হল, তিনি তওয়াফ করছেন এবং তাঁর সাথে দু'জন ফিরিশতা রয়েছে। তিনি আমাকে সালাম দিলেন এবং আমি সালামের জবাব দিলাম।' এ ঘটনা দ্বারা বুঝা যায় যে, পবিত্র কা'বার তওয়াফের জন্য সবাই আগ্রহী।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'বাইতুল্লাহর তওয়াফ নামাযের সমতুল্য। সাবধান! এতে ব্যতিক্রম হচ্ছে, এতে আল্লাহ কথা বলা জায়েয করেছেন, কেউ কথা বললে সে যেন ভাল কথা ছাড়া খারাপ কথা না বলে।' হাজ্জাজ বিন আবি রোকাইয়া বলেন, আমি কা'বা শরীফের তওয়াফ করছিলাম। তখন আমি ইবনে উমর (রা.) কে দেখি। ইবনে উমর বলেন, হে ইবনে আবি রোকাইয়া, বেশী বেশী করে তওয়াফ কর, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে এ ঘরের তওয়াফ করতে করতে পা ব্যথা করে ফেলেছে, বেহেশতে তার পা'কে আরাম দেয়া আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যায়। ফকেহী কা'আব থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনশত রাসূল বাইতুল্লাহর তওয়াফ করেছেন এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছেন তাদের সর্বশেষ রাসূল। এ ছাড়াও ১২ হাজার বুজুর্গ লোক এ ঘরের তওয়াফ করেছেন; মাকামে ইবরাহীমে নামায পড়ার আগে তারা হিজরে ইসমাঈলের নামায পড়েছেন। তাঁদের কেউ তওয়াফে আল্লাহর যিকির ব্যতীত অন্য কোন কথা-বার্তা বলেননি। তাওয়াফে, তাঁদের কেউ আসরের নামাযের পর এবং মাগরিবের আগে নামায পড়েননি। হযরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'আল্লাহর যিকর কায়েমের জন্যই বাইতুল্লাহর তওয়াফের বিধান চালু করা হয়েছে।।' হযরত আলী (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তওয়াফকারী মানুষের দিকে তাকালেন এবং বললেন, হে মানুষেরা! আল্লাহর হামদ ও তাকবীর বল। তওয়াফকারীরা ঐ কথা শুনে আল্লাহর প্রশংসা ও শ্রেষ্ঠত্বের গুণ-গান করলেন। (ফাকিহী) আ'তা বিন আবী রেহাব বলেছেন যে, জীবিত ও মৃত লোকের পক্ষ থেকে তওয়াফ করা যায়। হযরত ইবনে উমর (রা.) বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর 'কাসওয়া' নামক উটের উপর সওয়ার ছিলেন এবং একটি কালো চাদর পরা ছিলেন। তাঁর হাতে একটি লাঠি ছিল। তওয়াফের সময় সে লাঠি দিয়ে তিনি হাজারে আসওয়াদ স্পর্শ করেন। হযরত জাবের (রা.) বলেন, বিদায় হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীর উপর আরোহণ করে বাইতুল্লাহ তওয়াফ এবং সাফা মারওয়ার সাঈ করেছেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ভিড়ের ভিতর যেন তিনি সবাইকে দেখেন এবং লোকেরা যেন তাঁকে বিভিন্ন বিষয় জিজ্ঞাসা করতে পারে। (ফাকেহী) আল্লাহর ঘর-বাইতুল্লাহ তথা কা'বা শরীফ যমীনের উপর আল্লাহর বিরাট নিদর্শন। এটি একটি বরকতপূর্ণ স্থান। এ স্থানের মর্যাদা ও পবিত্রতার জন্যই আল্লাহ এখানে এতো ফযীলতের ব্যবস্থা রেখেছেন।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 বাইতুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ ক’টি বৈশিষ্ট্য

📄 বাইতুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ ক’টি বৈশিষ্ট্য


১. পেশাব-পায়খানা করার সময় বাইতুল্লাহ শরীফের দিকে মুখ করে কিংবা পিঠ দিয়ে বসা হারাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, 'তোমাদের কেউ যদি পেশাব পায়খানার জন্য উন্মুক্ত মাঠে যায়, সে যেন আল্লাহর কিবলার সম্মান করে এবং কিবলামুখি হয়ে না বসে।'

২. কা'বা শরীফে সিল্কের পর্দা বা গেলাফ ব্যবহার করা জায়েয। ইমাম গাযালী (রাহ.) তাঁর ফতোয়ায় বলেছেন, কুরআন শরীফকে সোনা দিয়ে এবং কা'বা শরীফকে সিল্ক দিয়ে সাজানো জায়েয আছে। কা'বা ব্যতিত অন্য কিছুতে তা জায়েয নেই। পুরুষের জন্য সিল্ক ব্যবহার নিষিদ্ধ। কা'বা সাজানো উত্তম। আল্লাহ বলেছেন, 'বল আল্লাহর সৌন্দর্যকে হারাম করেছে? বিশেষ করে অহংকার ও গর্ব প্রকাশের জন্য না হলে, স্বাভাবিক সৌন্দর্য প্রকাশের বেলায় তা অবশ্যই জায়েয।

৩. হযরত আয়িশা (রা.) বলেছেন, আমার নিকট কা'বা শরীফে সোনা রূপা উপহার দেয়ার চেয়ে কা'বা শরীফে সুগন্ধি লাগানো অপেক্ষাকৃত বেশী উত্তম। তিনি বলেছেন, তোমরা কা'বা শরীফে সুগন্ধি লাগাও, এটি কা'বাকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন রাখার অন্তর্ভুক্ত। এ বলে তিনি কুরআনের একটি নির্দেশের দিকে ইঙ্গিত দেন। সেটি হচ্ছে: 'আমার ঘরকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন কর'। হযরত আব্দুল্লাহ বিন যোবায়ের (রা.) কা'বা শরীফের ভিতরের সকল অংশে সুগন্ধি মেখেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন যুগে কা'বার বাইরে তওয়াফের ও ভিতরে সুঘ্রাণযুক্ত ধোঁয়া দেয়ার প্রথা চালু ছিল। ভিতরেও সুঘ্রাণযুক্ত ধোয়া দেয়া হত। এতে করে তওয়াফের লোকেদের ভাল হত। দেহ ও মনের খুশি সঞ্চার হত।

৪. আল্লাহ কা'বাকে কুচক্রী ও ধ্বংসাত্মক লোকদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন এবং কা'বা ধ্বংসকারীদের ধ্বংস করে দিয়েছেন। সূরা ফীলে আবরাহা বাদশাহর হস্তীবাহিনীকে তিনি ধ্বংস করার ঘটনা উল্লেখ করেছেন। উম্মুল মুমেনীন হযরত উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যারা এ ঘরের ক্ষতি করতে চাইবে আল্লাহ তাদেরকে উন্মুক্ত ময়দানে ধ্বংস করে দিবেন।'

হযরত আয়িশা (রা.) বলেন, আমরা শুনে আসছিলাম যে, আসাফ ও নায়েলা জোরহাম গোত্রের দু'জন নারী ও পুরুষ ছিল। তারা কা'বার অঙ্গনে অন্যায় কাজ করায় আল্লাহ তাদেরকে দুটো পাথরে পরিণত করে দিয়েছেন। জাহেলিয়াতের যুগে একজন মেয়েলোক কা'বায় এসে স্বামীর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় কামনা করছিল। এক ব্যক্তি তার দিকে খারাপ নিয়তে হাত বাড়ালে, তাঁর হাত অবশ হয়ে যায়। আয্যাওয়ী বলেছেন, সে ব্যক্তিটি ছিল হুয়াইতাব। আমি তাকে ইসলামী যুগেও অবশ দেখেছি। কেননা, সে কা'বার সম্মান রক্ষা করেনি।

এক ব্যক্তি কা'বার তওয়াফ করছিল। তখন তওয়াফে এক সুন্দরী রমণীর খোলা হাত বিদ্যুতের মত চমকাতে দেখে তার হাতের উপর নিজের হাত রেখে যৌনাকর্ষণ উপভোগ করতে লাগলো। এতে দু'জনের হাত এমনভাবে লেগে গেল যে আর খোলা যাচ্ছিল না। ঐ দু'জন অন্য এক নেককার ব্যক্তির কাছে গিয়ে তাদের হাত খোলার জন্য দোয়ার অনুরোধ জানালো। তিনি দু'জনকে তাদের হাত আটকে যাওয়ার ঘটনাটি জিজ্ঞেস করায় তারা তা খুলে বলল। তিনি দু'জনকে উপদেশ দিলেন, তোমরা যে জায়গায় ঐ পাপ কাজটি করেছ সে জায়গায় ফিরে যাও এবং আল্লাহর কাছে তওবা ও অঙ্গীকার কর যে, তোমরা আর কখনও অনুরূপ কাজ করবে না। তারা ঐ রকম তওবা করায়, শেষ পর্যন্ত মুক্তি পেয়েছিল।

আরেকটি প্রসিদ্ধ ঘটনা হচ্ছে, ইয়েমেনের বাদশাহ তুব্ব'র ঘটনা। তাঁর আসল নাম ছিল আসআদ। তিনি প্রাচ্যের কোন দেশে গিয়েছিলেন। মক্কা ও মদীনার পথে স্বদেশে রওনা হন। মদীনা থেকে বিরাট সেনাবাহিনীসহকারে মক্কার দিকে রওনা হলে পথে হোজাইল গোত্রের একটি দলের সাথে তাঁর দেখা হয়। তাঁরা তাকে মক্কার কাবা ধ্বংস করে, এর পরিবর্তে ইয়েমেনে অনুরূপ একটি কাবা তৈরির জন্য উৎসাহিত করে এবং বলে যে, এখন থেকে যদি ইয়েমেনে হজ্জের ব্যবস্থা করা হয়, এতে বাদশাহর আয় ও মর্যাদা বাড়বে এবং তাঁর দেশ পূর্ণ আবাদ হবে। একথা শুনে, বাদশাহ রাজী হন এবং কা'বা শরীফ ভাঙ্গার জন্য প্রস্তুত হন। কিন্তু তার কাফেলার একটি পশুও চলল না। ঘোর অন্ধকার নেমে আসল এবং প্রচ ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করল। বাদশাহ বিভিন্ন রোগ শোকে আক্রান্ত হয়ে পড়ল এবং তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হল। বাদশার দু'চোখ থেকে পানি বের হল এবং গালের উপর দিয়ে বইতে শুরু করল। তাঁর মাথায় এমন এক বীভৎস রোগ শুরু হল যে, তা থেকে পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ বের হতে লাগল। দুর্গন্ধের কারণে তার কাছে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ল। তাঁর সাথে যে সকল পাদ্রী ও ডাক্তার ছিল, তারা বাদশাহর রোগ ও বীভৎস দৃশ্য দেখে আশ্চর্য হয়ে গেল। মৃত গাধার পঁচা দুর্গন্ধের মতই বাদশার মাথা থেকে পুঁজের দুর্গন্ধ বের হতে লাগল। তারা জিজ্ঞেস করল, আপনি কি বাইতুল্লাহর ব্যাপারে কোন খারাপ পরিকল্পনার চিন্তা করেছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তারপর তিনি তাঁর পরিকল্পনা তাদের কাছে প্রকাশ করলেন এবং হোজাইল গোত্রের একদল লোকের পরামর্শ সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করলেন।

এসব শুনে তাঁরা বলল, হোজাইল গোত্র আপনাকে, আপনার সেনাবানিীকে এবং আপনার সাথে আরো যারা আছে তাদের সবাইকে ধ্বংস করার পরামর্শ দিয়েছেন। এটি হচ্ছে আল্লাহর ঘর। কেউ এ ঘরের ক্ষতি করতে চাইলে আল্লাহ তাকে ধ্বংস করেই ছাড়েন। বাদশাহ জিজ্ঞাসা করলেন এখন উপায় কি? তারা জবাবে বলল, এখন আপনি এ ঘরের কল্যাণ কামনা করুন, এর সম্মান করুন, এতে গিলাফ পরান, এ ঘরের কাছে কুরবানী করুন এবং এ ঘরের অধিবাসীদের সাথে ভাল ব্যবহার করুন। বাদশাহ তাই করলেন। ফলে অন্ধকার চলে গেল, ঝড় বন্ধ হয়ে গেল, সওয়ারী পশুগুলো চলা শুরু করল, রাজার চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে এলো, তার মাথা সুস্থ হয়ে উঠলো। বাদশাহ খারাপ নিয়ত থেকে তওবা করলেন এবং সেনাবাহিনীকে ইয়েমেনের দিকে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন। তিনি নিজে মক্কায় কিছুদিন থাকলেন এবং প্রত্যেক দিন একশত উট কুরবানী করে মক্কার বাসিন্দাদেরকে খাওয়ালেন। তিনি কা'বা শরীফে গিলাফ পরালেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের সাতশত বছর আগে এ ঘটনা ঘটেছিল। আল্লাহ তাঁর ঘরকে যে কোন যালিমের হাত থেকে রক্ষা এবং একে সর্বাবস্থায় সুরক্ষিত রাখেন। এজন্য এ ঘরের অপর নাম হচ্ছে 'আতীক'। কেউ এ ঘর ধ্বংস করতে চাইলে আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেন। আল্লাহ কুরআন মাজীদে বলেছেন, 'কেউ অন্যায়ভাবে এতে কুফরী করলে, আমি তাদেরকে কষ্টদায়ক আযাবের স্বাদ গ্রহণ করাব'।

৫. যে ব্যক্তি কাবা শরীফকে স্বপ্নে দেখবে, তার সে স্বপ্ন সঠিক, (তাবারানী)। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে আমাকে স্বপ্নে দেখে, সে আমাকে ঠিকই দেখে কেননা শয়তান আমার এবং কা'বার ছবি ধারণ করতে পারে না অর্থাৎ শয়তান এ দুটো জিনিসের রূপ ধারণ করতে পারে না।

৬. কা'বা শরীফ একটি আবাদকৃত ঘর। মানুষ তওয়াফের মাধ্যমে সর্বদা একে আবাদ করে। মুহাম্মদ বিন আব্বাস বিন জাফর কিবলার দিকে মুখ করে বলতেন, 'আমার রব এর একটি মাত্র ঘর, কি সুন্দর, তিনি মনোরম! আল্লাহর শপথ, এটি আবাদকৃত ঘর'। কেউ কেউ বলেছেন, বাইতুল মা'মুর হচ্ছে সে ঘর যা হযরত আদম (আ.) প্রথমেই দুনিয়ায় এসে নির্মাণ করেন। হযরত নূহ (আ.) এর প্লাবনের সময় সে ঘরটিকে আল্লাহ আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন এবং দৈনিক ৭০ হাজার ফিরিশতা এর তওয়াফ করে। আরবীতে, (ফিরিশতা) শব্দের একটি প্রতিশব্দ হচ্ছে দূরে অবস্থানকারী। ফিরিশতাদের তওয়াফের ঘর যমীন থেকে আসমানে সরিয়ে দেয়ার কারণে, ফিরিশতারাই যেন দূরে সরে গেল। তাই তাদেরকে দূরে অবস্থানকারী' বলা হয়। আবু তোফায়েল (রা.) বলেন, হযরত আলীকে (রা.) 'বাইতুল মামুর' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, সেটাতো কা'বা শরীফ বরাবর দূরে অবস্থিত। এতে দৈনিক ৭০ হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করে এবং তাঁরা এতে কিয়ামত পর্যন্ত ২য় বার আর প্রবেশ করার সুযোগ পাবে না। 'বাইতুল মামুর' কোন আসমানে অবস্থিত তা নিয়ে মতভেদ আছে। কেউ বলেছেন, প্রথম আসমানে, কারো মতে, ৪র্থ আসমানে, কারো মতে, ৬ষ্ঠ আসমানে, কারো মতে, ৭ম আসমানে এবং কেউ কেউ অন্যমত পোষণ করেন। বুখারীতে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিনি বাইতুল মা'মুরে ৭০ হাজার ফিরিশতাকে প্রবেশ করতে দেখেছেন এবং তাঁরা এতে আর ২য় বার ফিরে আসবে না।' এইভাবে প্রত্যেকদিন ৭০ হাজার ফিরিশতা এ ঘরে আসে।

৭. ইবনে হিশাম তাঁর সীরাতুন্নবী বইতে লিখেছেন, হযরত নূহ (আ.) এর সময়ের বন্যার পানিতে কা'বা শরীফের আশ-পাশ পানিতে ডুবে গেলে, কা'বা শরীফ আসমানের নীচে বাতাসের মাঝে শূন্যে বিরাজ করতে থাকে। তখন হযরত নূহ (আ.) এর নৌকা কা'বা শরীফের চার দিকে তওয়াফ করতে থাকে। নূহ (আ.) নৌকার যাত্রীদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, "তোমরা আল্লাহর হারামে এবং আল্লাহর ঘরের পার্শ্বে আছ, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সম্মান ও মর্যাদা প্রকাশের জন্য ইহরাম কর এবং কেউ যেন কোন মেয়েলোক স্পর্শ না করে। তিনি পুরুষ ও মেয়েলোকের মাঝখানে পর্দা করে দিলেন।

৮. হাশরের দিন কা'বা শরীফকে বিবাহিতা সুসজ্জিতা কনের মত উঠানো হবে। যত লোক হজ্জ করেছে তাঁরা এর গিলাফ ধরে থাকবে এবং এর চতুষ্পার্শ্বে চলতে থাকবে যে পর্যন্ত না কা'বা শরীফ জান্নাতে প্রবেশ করে। তখন তারা সবাই একই সাথে বেহেশতে প্রবেশ করবে। ইমাম গাযালী এহইয়াউল উলুম গ্রন্থে এ হাদীসটিকে 'বাইতুল্লাহ ও মক্কার ফযীলত' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

৯. এ ঘর সৃষ্টির পর থেকে এর ইবাদত এবং তওয়াফ এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ নেই। মানুষ, জীন কিংবা ফিরিশতাদের অনেকেই সর্বদা এর তওয়াফ করেই যাচ্ছে।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 হিজরে ইসমাইলের/হাতীমের মর্যাদা

📄 হিজরে ইসমাইলের/হাতীমের মর্যাদা


বিশুদ্ধ ও মশহুর রেওয়াতে বর্ণিত আছে, কুরাইশরা অর্থাভাবে কা'বা নির্মাণের সময় উত্তর পার্শ্বে সাড়ে ছয় হাত কা'বার অংশ ছেড়ে দেয় এবং সে অংশটুকু হিজরে ইসমাঈলের সাথে যোগ করে দেয়। হিজরে ইসমাঈলের অপর নাম হচ্ছে হাতীমে কা'বা। হাতীম শব্দের অর্থ হচ্ছে ভাঙ্গা বা ভগ্নাংশ। হাতীমে কা'বার অর্থ হচ্ছে কা'বার ভগ্নাংশ তথা কাবার বাইরের অবশিষ্টাংশ। আযরাকী বর্ণনা করেছেন যে, হাজরে আসওয়াদ, মাকামে ইবরাহীম এবং যমযম কূপের মধ্যবর্তী স্থানকে হাতীম বলা হয়। এখানে দোয়া কবুল হয় বলে লোকেরা বেশী ভিড় করে। অনেক আলেম উল্লেখ করেছেন যে, হযরত ইসমাঈল (আ.) কে হিজরে ইসমাঈলে দাফন করা হয়েছে। তিনি ১৩০ বছর জীবিত ছিলেন। তাঁর মা হাজেরাকেও একই স্থানে দাফন করা হয়েছে। হিজরে ইসমাঈলে হযরত ইসমাঈল (আ.) এবং হযরত হাজেরার কবর সম্পর্কে, ইবনে ইসহাক, ইবনে হিশাম, ইবনে জারীর তাবারী এবং ইবনে কাসীর প্রমুখ ঐতিহাসিকগণ রেওয়ায়েত বর্ণনা করেন। হযরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি একবার বাইতুল্লাহর ভেতর ঢুকে নামায পড়তে চেয়েছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে আমাকে হিজরে ইসমাঈলে প্রবেশ করিয়ে দেন এবং বলেন, "এখানেই নামায পড়, যদি তুমি কা'বার ভেতর নামায পড়তে চাও; কেননা, এটি কা'বারই অংশ বিশেষ।" হযরত আলী বিন আবী তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "হিজরে ইসমাঈলের এক দরজায় একজন ফিরিশতা দাঁড়িয়ে এতে প্রবেশ করে দু'রাকাত নামায আদায়কারী লোকদের উদ্দেশ্যে বলতে থাকেন, 'তোমার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা হয়ে গেছে; এখন থেকে নতুনভাবে আ'মল কর।' এর অন্য দরজায় দুনিয়া সৃষ্টির পর থেকে কিয়ামতের সময় ঐ ঘর উঠিয়ে নেয়ার আগ পর্যন্ত দণ্ডায়মান আরেকজন ফিরিশতা, নামায শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময়, সকল মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে বলেন, যদি তুমি উম্মতে মুহাম্মদের সত্যিকার অনুসারী হও, তাহলে তুমি রহমতপ্রাপ্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00