📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 ইসলামের চতুর্থ খলিফা মহাবীর হযরত আলী (রা.)

📄 ইসলামের চতুর্থ খলিফা মহাবীর হযরত আলী (রা.)


তরুণ/বালকদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। হযরত আলী (রা.) ইসলামের চতুর্থ খলিফা। তিনি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা আবু তালিবের জৈষ্ঠ পুত্র এবং বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবসময়ের সঙ্গী ও প্রিয় পাত্র ছিলেন। ছোট (বালক) বয়স থেকেই বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বসবাস করা তথা কাছে থেকে দেখার সুবাদে তিনি বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গভীরভাবে জেনেছেন।

আলী (রা.) সারাটি জীবন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে ও সহচর্যে থেকে নিজেকে দ্বীনের জন্য উৎসর্গ করেছেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি যদি জ্ঞানের শহর হই, তবে আলী (রা.) তার দরজা। আলী (রা.) ইসলামের তত্ত্বজ্ঞান তথা আল্লাহপাকের গভীর মারিফাত হাসিল করেছিলেন।

তিনি অত্যন্ত সাহসী ও সমরবিদ ছিলেন। তিনি শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা, সাহসী বীর ও শক্তিমান পুরুষ ছিলেন। বদর যুদ্ধের প্রারম্ভে সামনাসামনি সমরযুদ্ধে শত্রুদের বীর সেনাকে তরবারীর এক আঘাতে ভূলুণ্ঠিত করেছিলেন। খায়বারের বিজয় সূচিত হয় তার হাতে। সে যুদ্ধে খায়বার দুর্গের লোহার দরজাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন আলী (রা.)। যুদ্ধের পর তার ব্যবহৃত ঢাল, সাতজন শক্তিমান পুরুষও সম্মিলিতভাবে তুলতে সক্ষম হননি। তবে যুদ্ধে আলী (রা.) এটি কিভাবে ব্যবহার করেছেন, মহান আল্লাহই তা ভাল জানেন।

যুদ্ধের ময়দানে, তার বীরত্বে, হুংকারে, বাহুবলে, সাহসিকতায় ও কৌশলে যেকোন শত্রু সহজেই পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হত। সাহসে, বীরত্বে, শৌর্যে, বীর্যে ও সমরের শক্তিমত্তায় তাকে আল্লাহর সিংহ (শেরে খোদা) উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।

ইসলামের ক্ষতি দেখলেই তিনি বজ্রের হুংকার দিতেন। শত্রুদের উপড় বাঘের মত ঝাঁপিয়ে পড়তেন। পাশাপাশি তিনি সরল ও উদারতায় মহৎ প্রাণ ব্যক্তি ছিলেন। জ্ঞানে-ত্যাগে-মহত্ত্বে-ইবাদতে-বীরত্বে সর্বত্রই তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ।

কুরআন, হাদীস ও ফিকাহ শাস্ত্রে তিনি ছিলেন জ্ঞান ও বিদ্যার মহাসাগর। তিনি বিখ্যাত কবি ছিলেন। রাসূলের জীবদ্দশায় যত যুদ্ধ হয়েছে, সবগুলোতেই আলী (রা.) বীর দর্পে অংশগ্রহণ করেন ও বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। যুদ্ধের শুরুতেই তিনি আবির্ভূত হতেন সিংহের মত। মুহূর্তেই শত্রুকে ধরাশয়ী করতেন।

পুরুষদের মধ্যে তিনি প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। অথচ তখন তিনি বালক। তিনি বালক অবস্থায় বিশ্বনবী ও মা খাদীজা (রা.) কে নামায পড়তে দেখতেন এবং এক সময় তিনিও তাদের পাশে এসে নামায পড়া শুরু করেন। অথচ মনে মনে এর পূর্বেই ইসলামের কলেমা পড়ে নেন। পিতা আবু তালিব তাকে ধর্ম বিষয়ে জিজ্ঞেস করায় তিনি অকপটে ইসলাম ধর্মে দীক্ষার কথা স্বীকার করেন এবং বাকী জীবন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যে কাটিয়ে দেয়ার কথা ঘোষণা করেন। অথচ সে সময় তার শিশু মনে কতটুকুই বা বুঝ ছিল? আবু তালিব পুত্রের দৃঢ়তায় মুগ্ধ হন এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাকে রেখে যান।

যেদিন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাফিররা হত্যা করার জন্য মনস্থির করে তাঁর ঘরের চারদিকে ঘিরে রেখেছিল; সেদিন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশে আলী (রা.) তাঁর বিছানায় নির্ভয়ে রাত্রি যাপন করেন। পরদিন কাফিরদের প্রশ্নের কাট কাট জবাব দেন। এতে তার সাহস এবং বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি গভীর বিশ্বাসের যথার্থ বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তিনি এতটাই অকুতোভয় ও সাহসী ছিলেন।

আলী (রা.) বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় কন্যা এবং বেহেশতের নারীদের নেত্রী ফাতিমার (রা.) স্বামী ছিলেন। তার দু'পুত্র ইমাম হাসান ও হোসাইন (রা.) যুগ শ্রেষ্ঠ ইমাম, নেতা এবং বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়পাত্র ছিলেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হোসাইন (রা.) কে তাঁর কলিজার টুকরা বলেছেন। তার এ পুত্রদ্বয় (রা.) ইসলামের তথা দাওয়াত ও তাবলীগের তরে শহীদ হয়েছেন।

বদরের প্রান্তরে সামনাসামনি মল্লযুদ্ধে তাঁর হাতে বীর কাফির সেনা ওলীদ ও সায়বা নিহত হন। এছাড়া মুসলিমদের ক্ষুদ্র বাহিনীর বিজয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ওহুদ প্রান্তরে মল্লযুদ্ধে আলীর হাতে তালহা নিহত হন। খন্দকের যুদ্ধে বীর কাফির সর্দার আমর তার হাতে নিহত হন। এভাবে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের শুরুতে, প্রতিবারই বিজয় দিয়ে আলী (রা.) মুসলিম বাহিনীকে উজ্জীবিত করেছেন। হুনাইনের যুদ্ধেও মুসলমানরা প্রথম দিকে হারতে বসেছিল। এখানেও আলী (রা.) অবিচল থেকে মুসলিম বাহিনীর পতাকা হাতে যুদ্ধ করে যান এবং শেষে মুসলমানরা জয়ী হয়।

হযরত ওসমানের (রা.) শাহাদাতের পর মুসলমানদের মাঝে চরম বিশৃংখলা দেখা দেয়। এ সময় আলীর (রা.) উপর খিলাফতের গুরু দায়িত্ব আসে। সূচনা থেকেই খিলাফত তার জন্য ছিল কন্টক শয্যার মত। ঘরে ও বাহিরে (মদীনা ও অন্যান্য রাজ্যে) ছিল অসন্তোষ ও হাঙ্গামা। নানারকম দল, উপদলে এবং দাবি ও বিদ্রোহে মদীনা প্রকম্পিত। আয়িশা, যুবায়ের ও তালহার (রা.) মত জ্ঞানী সাহাবীরাও আলীকে (রা.) ভুল বুঝেছিল। জঙ্গে জামালে হাজার হাজার সাহাবা শহীদ হন। আলী (রা.) পুরো ব্যাপারটিই খুবই বিচক্ষণতা, প্রজ্ঞা এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর খারিজীদের বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। মুয়াবিয়া (রা.) নিজেকে খলিফা ঘোষণা করেন। এটাও বুদ্ধিমত্তার সাথে নিয়ন্ত্রণ করেন আলী (রা.)।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, আলী (রা.) শহীদ হবে এবং নিরপরাধে তাকে হত্যা করা হবে। আর হয়েছেও তাই। এক খারেজী গোলাম (আব্দুর রহমান) তাকে ১৭ই রমযানে, ফজরের নামাযে ইমামতি করার সময় পিছন থেকে ছুরিকাঘাত করে। তিনি জায়নামাযে লুটিয়ে পড়েন। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর তিনি খলিফার দায়িত্ব পালন করেন। ইন্তিকালের সময় তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৬ বছর।

হযরত আলী (রা.) পৃথিবীতে থেকে জান্নাতের ঘোষণা শুনেছেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শহীদ হওয়া এবং জান্নাত লাভের কথা পূর্বেই শুনিয়েছেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রা.) সম্পর্কে এরূপ মন্তব্য করেন যে, হে আলী তোমার অবস্থা ঈসার (রা.) মত হবে। ইহুদীরা তার শত্রুতা করে তাঁর মাতা সম্পর্কে কুৎসা রটায়। অপরদিকে নাসারারা (খ্রীষ্টানরা) তাকে এমন মর্যাদায় উঠায় যে, তাকে আল্লাহর পুত্র বলে। অথচ সেটার অধিকারী তিনি ছিলেন না। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা বাস্তবেও রূপ নিয়েছিল। খারেজী ও নাছেবীয়রা আলীর (রা.) নামে দুর্নাম রটিয়েছে। অপরদিকে রাওয়াফের ও শিয়ারা তাকে এতটা উপরে তুলেছে যে, একেবারে আল্লাহর সাথে মিলিয়ে দিয়েছে (নাউযু বিল্লাহ)। অর্থাৎ একপক্ষ তাঁর শত্রুতা করে ধ্বংস হয়েছে এবং অপর পক্ষ মিত্রতার সীমালঙ্ঘন করে কুফরী করেছে। উভয় দলই ধ্বংস এবং মহাপাপ করেছে।

নামাযে আলীর (রা.) একাগ্রচিত্ততার বিস্ময়কর নজির রয়েছে। যুদ্ধে আলীর (রা.) পায়ে তীর বিদ্ধ হলে, কোনভাবেই তা বের করা যাচ্ছিল না। এমন সময় বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশে আলী (রা.) নামাযে দাঁড়ান। আর তিনি মহান আল্লাহর সাথে গভীর মিরাজে হারিয়ে যান। এসময়, আলীর (রা.) পায়ে অস্ত্রপচার করে বিদ্ধ তীর বের করা হয়। তিনি (রা.) টু শব্দটি পর্যন্ত করেননি। ইবাদতে এমন একাগ্রচিত্তের উদাহরণ বিরল।

মহাবীর আলী (রা.) শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই যুদ্ধ করেছেন। একবার যুদ্ধক্ষেত্রে এক বীর কাফিরকে ধরাশয়ী করে হত্যা করতে অস্ত্র উত্তোলন করেন। এমন সময় কাফির কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে আলীর (রা.) মুখে থুথু মারে। আলী (রা.) ধরাশয়ী কাফিরকে হত্যা না করে উঠে পড়লেন। পরাজিত কাফির সেনা বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে আলীকে (রা.) জিজ্ঞেস করে, ভাই তুমি আমাকে হাতের নাগালে পেয়েও, হত্যা না করে ছেড়ে দিলে কেন? আলী (রা.) বলেন, হে পরাজিত সৈনিক! আমি যুদ্ধ করি মহান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির জন্য। নিজের বীরত্ব জাহিরের জন্য নয়। নিজের খায়েশাতের জন্য নয়। তুমি যখন আমাকে থুথু মারলে তখন আমার তোমার প্রতি ব্যক্তিগত ক্ষোভ চাঙ্গা হয়ে উঠল। সে অবস্থায় যদি, আমি তোমাকে হত্যা করতাম, তবে তা হত ব্যক্তিগত ক্ষোভ চরিতার্থের শামিল। আমি তো নিজের জন্য তোমাকে হত্যা করব না। তাই আমি তোমাকে মুক্ত করে দিয়েছি। কাফির সেনা ইসলামের মহত্ত্বে এবং আলীর (রা.) ঈমানী শক্তির কাছে লুটিয়ে পড়ে। সাথে সাথে চিৎকার করে ঘোষণা করে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। ভাই আলী আমাকে ক্ষমা কর! আমাকে পবিত্র কর! আর আমাকে মহান ইসলামের শান্তির কাছে আশ্রয় দাও। এ হচ্ছে মহাবীর আলীর (রা.) মহানুভবতা ঈমানী জোর আর তাকওয়ার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, খিলাফতের শাসন আমল হবে ৩০ বছর। এরপর নিছক রাজ্য শাসন শুরু হবে। বাস্তবেও তাই হয়েছিল। আবু বকর (রা.) দু'বছর; ওমর (রা.) সাড়ে দশ বছর, ওসমান (রা.) বার বছর এবং আলী (রা.) মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর খিলাফতের দায়িত্বে ছিলেন। বাস্তবেও সর্বমোট ৩০ বছর খোলাফায়ে রাশেদীনের ন্যায়নীতির ও ইসলামের শাসন কায়েম ছিল। এরপর শুরু হয়েছিল সাধারণ রাজ্য শাসন। খোলাফায়ে রাশেদীনের শাসনামল ছিল ইসলামী আদর্শের বাস্তব রূপ এবং অনুসরণীয় কর্মপন্থা। ওটাই আমাদের জন্য মডেল এবং অনুকরণীয় যোগ্য আদর্শ।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 মদীনার বৈশিষ্ট্য এবং মর্যাদা

📄 মদীনার বৈশিষ্ট্য এবং মর্যাদা


১. বর্ণিত আছে, বিশ্বনবী (সাঃ), আবু বকর (রা.) এবং উমর (রা.) সহ মদীনায় দাফনকৃত অধিকাংশ সাহাবীকে মদীনার মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কার অর্থাৎ কা'বার মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের আহ্বানে প্রথমে কা'বার মাটিই সাড়া দিয়েছিল এবং কা'বা থেকেই যমীনের বিস্তার হয়েছে。
২. মদীনা অন্যান্য সকল স্থান থেকে উত্তম। এ ব্যাপারে উম্মতের ইজমা' (ঐকমত্য) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
৩. উম্মাহর শ্রেষ্ঠ লোকদের সেখানে (মদীনায়) দাফন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাহাবায়ে কেরাম রয়েছেন।
৪. মদীনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজ প্রাণ উৎসর্গকারী উত্তম শহীদানের কবর রয়েছে। তাদের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষ্য দিবেন।
৫. আল্লাহ মদীনাকে সৃষ্টির সেরা ও সম্মানিত নবীর বাসস্থান বানিয়েছেন।
৬. আল্লাহ মদীনাবাসীদেরকে সাহায্য ও আশ্রয়দানের জন্য পছন্দ করেছেন।
৭. অন্যান্য সকল শহর যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়েছে। একমাত্র মদীনা কুরআন দ্বারা বিজিত হয়েছে।
৮. আল্লাহ মদীনা থেকেই অন্যান্য শহরগুলো বিজিত করেছেন। এমনকি মক্কাও। তিনি মদীনাকে দ্বীন প্রচার ও প্রদর্শনীর কেন্দ্র বানিয়েছেন।
৯. ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে, মক্কা বিজয়ের পূর্বে মদীনায় হিজরত করা ওয়াজিব ছিল এবং মুহাজিরদেরকে সর্বাত্মক সাহায্য করা আনসারদের উপর ফরয ছিল। যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে মদীনায় হিজরত করেছেন তাদের জন্য হজ্জ ও উমরাহ শেষে মক্কায় মাত্র তিন দিন থাকার অনুমতি ছিল।
১০. কিয়ামতের দিন উম্মাহর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা মদীনা থেকেই উঠবেন।
১১. মদীনার নাম হচ্ছে, মুমিনাহ-মুসলিমাহ অর্থাৎ বিশ্বাসিণী ও আনুগত্যকারিণী। আল্লাহ একমাত্র এ শহরকে এ বৈশিষ্ট্যসহ সৃষ্টি করেছেন।
১২. আল্লাহ কুরআনে মদীনাকে 'আরদুল্লাহ' অর্থাৎ আল্লাহর যমীন বলে উল্লেখ করেছেন। (সূরা নিসা: ৯৭)
১৩. আল্লাহ মদীনাকে রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, অনুরূপভাবে আল্লাহ আপনাকে আপনার ঘর (মদীনা) থেকে সত্যসহকারে বের করে এনেছেন।
১৪. এক বর্ণনা অনুযায়ী আল্লাহ আল কুরআনের আয়াতে মদীনার শপথ করে কথা বলেছেন, আমি এই শহরের (মদীনার) শপথ করে বলছি।
১৫. আল্লাহ আল কুরআনের আয়াতে মদীনার কথা আগে উল্লেখ করেছন, হে আল্লাহ আমাকে সত্যের পথে প্রবেশ করাও এবং সত্যের নির্গমন পথ থেকে নির্গমন করাও। (সূরা বনী ইসরাইল: ৮০)
১৬. আল্লাহ তাওরাতে এ শহরের নাম মারহুমাহ (রহমতপ্রাপ্ত) উল্লেখ করেছেন।
১৭. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ শহরকে মক্কা কিংবা এর চাইতেও বেশি প্রিয় বানিয়ে দেয়ার দোয়া করেছেন এবং এজন্য এর নাম হচ্ছে হাবীবাহ বা 'প্রিয়া'।
১৮. মদীনায় পৌঁছার আগে এর দেয়াল দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীকে দ্রুত তাড়া করতেন। মক্কা থেকে মদীনায় পৌছার পথে তিনি আসায়াহ নামক স্থানে কাঁধ থেকে চাদর সরিয়ে বলতেন: 'আমি মদীনার সুঘ্রাণ পাচ্ছি।
১৯. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার বরকতের জন্য দোয়া করেছেন।
২০. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাকে 'হারাম' (সম্মানিত) ঘোষণা করেছেন।
২১. তিনি নিজ হাতে সেখানে মসজিদে নববী প্রতিষ্ঠা করেন এবং উম্মাহর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ সাহাবায়ে কেরাম তাতে অংশ নেন।
২২. সেখানে এমন মসজিদ রয়েছে যার প্রশংসা স্বয়ং আল্লাহ কুরআনে বর্ণনা করেছেন। সেটি হচ্ছে কুবা মসজিদ। আল্লাহ বলেন, 'যে মসজিদ প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত'। (সূরা তওবা: ১০৮)
২৩. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হুজরাহ ও মিম্বারের মাঝখানে বেহেশতের বাগানসমূহের একটি বাগান রয়েছে। এ মসজিদের এ অংশটুকু ছাড়া গোটা যমীনের বেহেশতের আর কোন অংশের অস্তিত্বের কথা বর্ণিত নেই।
২৪. তাঁর মিম্বার মুবারক বেহেশতের সিঁড়ির উপর অবস্থিত। আরেক হাদীসে বর্ণিত রয়েছে, 'আমার মিম্বার আমার হাউজের (কাউসার) উপর'।
২৫. মসজিদে নববীতে ইবাদতে এক হাজার গুন বেশী সওয়াব হয়।
২৬. তাবারানী তাঁর আওসাত গ্রন্থে একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। তাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যে আমার এ মসজিদে ৪০ ওয়াক্ত নামায পড়বে, তাকে দোযখ ও আযাব থেকে মুক্তি দেয়া হবে এবং সে মুনাফিকী থেকেও মুক্তি পাবে।'
২৭. মসজিদে নববীতে নামাযের উদ্দেশ্যে পবিত্রতাসহকারে আগমনকারী ব্যক্তি হজ্জের সওয়াব পাবে এবং ঘর থেকে মসজিদের উদ্দেশ্যে আসার পথে প্রতি কদমে একটি সওয়াব ও একটি গুনাহ থেকে মুক্তি পাবে।
২৮. হাদীসে রয়েছে, ঘর থেকে ওযু করে মসজিদে কুবায় গিয়ে দু'রাকাত নামায পড়লে একটি উমরার সওয়াব পাওয়া যায়।
২৯. হাদীসে রয়েছে, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মদীনায় রমযান মাসের রোযা অন্য জায়গার এক হাজার রোযার চাইতে উত্তম এবং মদীনার জুমআর নামায অন্য জায়গার ১ হাজার নামায অপেক্ষা উত্তম।' অন্যান্য নেক কাজগুলোর সওয়াবও অনুরূপ। তবে মদীনায় যে সকল ইবাদাতের হুকুম নাযিল হয়েছে সেগুলো মক্কা অপেক্ষা মদীনায় আদায় করা উত্তম বলে কেউ কেউ মনে করেন।
৩০. হাদীসে রয়েছে, মসজিদে নববী থেকে আযান শুনার পর বিনা প্রয়োজনে বের হওয়া এবং পুনরায় ফিরে না আসা মুনাফিকী।
৩১. মদীনার মসজিদে নববীতে দাওয়াত ও তা'লীম অর্থাৎ দ্বীন শিক্ষা-দীক্ষা কার্যকর ছিল এবং থাকবে।
৩২. মসজিদে নববীতে অধিকতর আদব-কায়দা প্রদর্শন ও নিম্নস্বরে কথা বলতে হয়। কেননা, সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শায়িত আছেন।
৩৩. মসজিদে নববীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেহরাব (নামায পড়ার স্থান) সুনির্দিষ্ট আছে।
৩৪. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বার ও মসজিদের মুসাল্লার মাঝে বেহেশতের বাগানসমূহের একটি বাগান অবস্থিত।
৩৫. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'ওহুদ পাহাড় বেহেশতের সিঁড়িসমূহের একটি' এবং 'ওহোদ আমাদেরকে ভালবাসে, আমরাও ওহুদকে ভালবাসি।'
৩৬. হাদীসে বর্ণিত আছে, মদীনার বুতহাস উপত্যকা বেহেশতের সিঁড়িসমূহের একটির উপর অবস্থিত।
৩৭. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকীক উপত্যকাকে 'মুবারক' বলে আখ্যায়িত করেছেন। হাদীসে রয়েছে 'আমরা আকীককে ভালবাসি, আকীকও আমাদেরকে ভালবাসে।'
৩৮. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় বসবাস করার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
৩৯. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় মৃত্যুর ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন এবং তাদের জন্য সাক্ষ্য ও সুপারিশের ওয়াদা করেছেন।
৪০. মদীনায় মৃত্যুর ব্যাপারে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
৪১. মদীনার অধিবাসীরা সর্বপ্রথম সুপারিশ লাভ করবেন এবং তাদের জন্য সম্মান ও অধিকতর সুপারিশের নিশ্চয়তা রয়েছে।
৪২. হাশরের দিন মদীনার মুর্দাগণের নিরাপদ পুনরুত্থান হবে।
৪৩. জান্নাতুল বাকী গোরস্থান থেকে পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বল ৭০ হাজারের অধিক লোককে পুনরুত্থিত করে বিনা হিসাবে বেহেশতে পাঠানো হবে। অনুরূপভাবে, বনী সালামাহ গোরস্তান থেকেও লোকদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে।
৪৪. অন্যান্য সকল লোকের আগে মদীনাবাসীদেরকে কবর থেকে উঠানো হবে।
৪৫. মদীনার গরম ও তাপ সহ্যকারীদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুপারিশ কিংবা সাক্ষ্যের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
৪৬. মসজিদে নববী যিয়ারতকারীর জন্য তাঁর সুপারিশ ওয়াজিব হবে। বলে হাদীসে উল্লেখ আছে।
৪৭. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবরের পার্শ্বে দোয়া কবুল হয়। এ ছাড়াও তাঁর মিম্বারের কাছে মসজিদে ফাতাহ, মসজিদে এজাবাহ ও মসজিদে সুকিয়ায় দোয়া কবুল হয়।
৪৮. মদীনা অপবিত্র লোকদেরকে দূর করে দেয়।
৪৯. আগুন যেমন লোহর মরিচা দূর করে, মদীনাও তেমনি গুনাহ দূর করে।
৫০. মদীনাবাসীদের উপর যুলুম ও ভীতি প্রদর্শনকারীর কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে।
৫১. হাদীসে রয়েছে: যে মদীনাবাসীদের ক্ষতি করার ইচ্ছা করবে। লবণ যেমন পানিতে মিশে যায়, ঠিক আল্লাহও তাকে ওমনি করে গলিয়ে দিবেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘আল্লাহ তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবেন।’
৫২. যে ব্যক্তি মদীনায় কোন দুর্ঘটনা ঘটায় কিংবা কোন দুর্ঘটনাকারীকে আশ্রয় দেয়, তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুমকি রয়েছে।
৫৩. মদীনাবাসীদেরকে সম্মান না করলে শাস্তি হবে। উম্মাহর উপর তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ওয়াজিব।
৫৪. হাদীসে রয়েছে: 'যে মদীনাবাসীদেরকে ভীতিপ্রদর্শন করে, সে যেন আমার দুই পার্শ্বে ভীতি প্রদর্শন করল।'
৫৫. কেউ মদীনা থেকে অনাগ্রহী হয়ে বাইরে না গেলে তার অনুপস্থিতিতে আল্লাহ তার উত্তম কল্যাণ দেবেন (মুসলিম)। অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে বাইরে গেলে এবং মদীনাকে অপছন্দ না করলে, অনুপস্থিতির সময়টুকুও বরকতময় হবে।
৫৬. মদীনা থেকে সংক্রামক রোগ ও জ্বরকে দূরে সরিয়ে দিয়ে আল্লাহ একে সম্মানিত করেছেন।
৫৭. মদীনার মাটিতে শেফা ও চিকিৎসা রয়েছে।
৫৮. মদীনায় দাজ্জালের প্রবেশাধিকার নেই।
৫৯. তাবারানীর বর্ণিত হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সকল মুসলমানের উচিত মদীনা যিয়ারত করা।
৬০. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সালাম দেয়া যায় ও উত্তর পাওয়া যায়।
৬১. মদীনায় ঈমান পুনরায় ফিরে আসবে।
৬২. মদীনার প্রহরা ফিরিশতাদের উপর অর্পিত।
৬৩. প্রথম মসজিদ (মসজিদে কুবা) মদীনায় নির্মিত হয়েছে।
৬৪. মসজিদে নববী আম্বিয়ায়ে কেরামের পক্ষ থেকে সর্বশেষ মসজিদ।
৬৫. মদীনায় অধিক মসজিদ, ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শন বিদ্যমান। তাই ইমাম মালিক বলেছেন, কিভাবে আমি মদীনাকে ভাল না বাসি, যেখানে এমন কোন রাস্তা নেই যা দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলেননি এবং জিব্রাঈল (আ.) আল্লাহর কাছ থেকে প্রতি ঘণ্টায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসেছেন?
৬৬. মদীনার স্নিগ্ধ বাতাসে ও মাটিতে বিশেষ সুঘ্রাণ রয়েছে।
৬৭. মদীনার জীবন যাপন আরামদায়ক ও সুখকর।
৬৮. মসজিদে নববীর মিম্বারের পার্শ্বে মিথ্যা শপথকারীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুমকি রয়েছে।
৬৯. মদীনার এক রাস্তা দিয়ে প্রবেশ ও ভিন্ন রাস্তা দিয়ে বের হওয়া উত্তম। (বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপ করতেন)।
৭০. মদীনায় প্রবেশের জন্য গোসল করা উত্তম।
৭১. মদীনায় দোয়া করা ও মৃত্যু প্রার্থনা করা উত্তম।
৭২. মদীনা চিরন্তন দারুল ইসলাম। হাদীসে বর্ণিত আছে, 'শয়তান এ অঞ্চলে তার পূজার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেছে।
৭৩. মদীনা হচ্ছে হজ্জ ও উমরার দূরতম মীকাত। মদীনাবাসীদের সম্মানে আল্লাহ এ ব্যবস্থা করেছেন।
৭৪. মদীনা থেকে ইহরাম পরা উত্তম। কেননা, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে ইহরাম পরে হজ্জ ও উমরাহ করেছেন।
৭৫. মদীনাবাসী ৩৬ রাকাত তারাবীহের নামায পড়ত।
৭৬. মক্কার চাইতেও মদীনায় বরকত বেশী। এক হাদীসে রয়েছে, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার জন্য মক্কার চাইতে ৬ গুন বেশী বরকতের দোয়া করেছেন।
৭৭. নাসাঈ, বাজ্জার ও হাকিমে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে : এক সময় 'মানুষ উটের পিঠে সওয়ার হয়ে আলেম তালাশ করতে থাকবে। তবে মদীনার আলেমের চাইতে বেশী জ্ঞানী আলেম কোথাও পাবে না।'
৭৮. চিকিৎসার উদ্দেশ্য ব্যতীত, মদীনার মাটি ও পাথর অন্যত্র স্থানান্তর করা হারাম।
৭৯. মদীনায় অস্ত্র বহন করা হারাম।
৮০. ঘোষণা দানের উদ্দেশ্য ছাড়া মদীনায় পড়ে থাকা জিনিস উঠানো যাবেনা।
৮১. মদীনায় শিকার করা ও গাছপালা কাটা নিষেধ।
৮২. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবর যিয়ারতের মানত করলে তা পূরণ করা জরুরী (ওয়াজিব)। না করলে গোনাহ হবে।
৮৩. মদীনার চারপাশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভবিষ্যৎ সতর্কবাণী অনুযায়ী হেজাযের অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।
৮৪. মদীনার বাজারের বরকতের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করেছেন।
৮৫. মদীনার বাজারের ব্যবসায়ী আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর সমতুল্য বলে হাদীসে বর্ণিত আছে।
৮৬. মদীনার মওজুদদার আল্লাহর কুরআনে বর্ণিত কাফিরের সমান।
৮৭. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নে দেখেন, তিনি বেহেশতের একটি কূপের কাছে গেছে। সে দিন তিনি গারস কূপের কাছে ভোরে জেগে গিয়েছিলেন।
৮৮. হাদীসে রয়েছে, 'মদীনার আজওয়া হচ্ছে বেহেশতের খেজুর।'
৮৯. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসবাসের জন্য মদীনাকে সবচেয়ে উত্তম মনে করেছেন এবং বাস্তবেও তাই করেছেন।
৯০. মদীনায় বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন; এখনও শুয়ে আছেন এবং কিয়ামতের দিন এখান থেকেই উঠবেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00