📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ফারুক (রা.)

📄 ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ফারুক (রা.)


তিনি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। আবু বকরের (রা.) ইন্তিকালের সময়, মুসলিমদের খেলাফতের জন্য একজন দাবীদার ছিলেন। ইনি হলেন হযরত তালহা (রা.)। তিনি সম্পর্কে আবু বকরের (রা.) আত্মীয় ছিলেন। তিনি যোগ্যও ছিলেন বটে। তিনি আবু বকরের নিকট গিয়ে বললেন, খলিফা, আপনি ওমর (রা.) কে ২য় খলিফা হিসেবে মনোনীত করতে যাচ্ছেন। আপনি কি জানেন না, ওমর কত রূঢ়। তার ব্যবহার কত কঠিন? আপনি এব্যাপারে আল্লাহর কাছে কি জবাব দিবেন? তালহার (রা.) এ কথা শুনে আবু বকর (রা.) উত্তেজিত হয়ে জবাব দিলেন, তুমি কি আমাকে আল্লাহর ভয় দেখাতে এসেছ? আমি আল্লাহর নামে শপথ করেই বলছি, আমি আল্লাহকে গিয়ে বলব একজন সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষকে খিলাফতের দায়িত্ব দিয়ে এসেছি। এই হচ্ছে ওমর (রা.)। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সনদ দিচ্ছেন, বিশ্বের আরেক শ্রেষ্ঠ মনীষী আবু বকর সিদ্দিক (রা.)।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমিই শেষনবী। এরপর যদি নবী থাকতো, তবে ওমর (রা.) হত সে নবী। দাওয়াতের ময়দানে কাজ করতে করতে তিনি এত বড় যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন।

ইসলামের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, শ্রেষ্ঠ বিচারক, শ্রেষ্ঠ ইসলাম প্রচারক তথা ইসলামী রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্প্রসারণকারী হলেন ওমর (রা.)। আরব দেশে একটি প্রবাদ বাক্য খুবই প্রচলিত ছিল, সব লম্বা লোকই বোকা একমাত্র ওমর ব্যতীত। পা থেকে মাথা পর্যন্ত অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ওমর (রা.) যেমন জ্ঞানী ছিলেন, তেমনি বীর ও শক্তিশালী ছিলেন।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সকল নবীর দু'জন করে আসমানী ও যমিনী উজির বা উপদেষ্টা থাকে। আমার দু'জন আসমানী উপদেষ্টা হলেন জিব্রাঈল ও মিকাইল (আ.) এবং যমিনী উপদেষ্টা হলেন আবু বকর ও ওমর ফারুক (রা.)।

আরবের বীর ও সাহসী যুবক ওমর (রা.) যেদিন ইসলাম গ্রহণ করেন, সেদিন প্রথম মুসলমানরা দলগতভাবে কা'বা তাওয়াফ করে সেখানে নামায আদায় করেন। মুসলমানরা প্রকাশ্যে নিজেদের মুসলমান হওয়ার ব্যাপার ঘোষণা করতে থাকেন। সেদিন থেকেই বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রকাশ্যে স্বমহিমায় ইসলাম প্রচার করতে থাকেন। মক্কায় এতে স্পষ্ট পার্থক্য ফুটে উঠে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এজন্যে ওমর (রা.) কে 'ফারুক' বা পার্থক্যকারী উপাধিতে ভূষিত করেন অর্থাৎ ওমরের (রা.) ইসলামে যোগদান করায় মুসলমানদের কাজে-কর্মে ও দ্বীন প্রচারে নতুন জোয়ার আসে।

ওমরের (রা.) দশ বছরের শাসনামলে পবিত্র মক্কার উত্তর দিকে ১৩৬ মাইল এবং পূর্বের পুরাটাই বিজিত হয়। প্রায় সাড়ে বাইশ লক্ষ বর্গমাইল এলাকায় ইসলাম কায়েম হয়। তিনি তীক্ষ্ম বুদ্ধি, দূরদর্শী, বীর যোদ্ধা ও আল্লাহপাকের প্রতি একনিষ্ঠ ছিলেন।

ওমর (রা.) বিশ্বনবীর সাথে ২৩টি যুদ্ধ ও অভিযানের সবগুলোতেই অংশগ্রহণ করে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ওহুদের যুদ্ধে মুসলমানদের যখন ভয়াবহ শোচনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়। যে সময় খালিদ বিন ওয়ালিদ (তিনি তখনও মুসলমান হননি) বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লামের উপর অতর্কিত হামলা করেন। এ সময় কয়েকজন আনসারকে নিয়ে ওমর (রা.) প্রতিহত করে, খালিদকে তাড়িয়ে দেন। প্রতিটি যুদ্ধেই তিনি অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের পরিচয় দেন।

ওহুদ ও হুদাইবিয়ার সন্ধিসহ আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ওমর (রা.) বিশ্বনবীর মতের বিপরীতে মত পোষণ করেন। আল্লাহপাক প্রায় সকল ক্ষেত্রে ওমরের (রা.) দৃঢ়তার এবং বিচক্ষণ পরামর্শের ব্যাপারে একমত পোষণ করে আয়াত নাযিল করেছেন। এতে ওমরের (রা.) দূরদর্শী, বিচক্ষণতা, দৃঢ় ঈমান এবং আল্লাহ প্রেমের নিদর্শন ফুটে উঠে। তাবুকের যুদ্ধের সময় প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ থাকা সত্ত্বেও ওমর (রা.) তার সম্পদের অর্ধেক আল্লাহর রাস্তায় দান করেছিলেন।

ওমরের (রা.) মহানুভবতা, ঈমানী জোশ, কঠোর পরিশ্রম, কঠিন সংযম, চরম ন্যায় বিচার এবং অতি সাধারণ জীবন যাপনের ফলে তাঁর দশ বৎসরের শাসনামলে বহু রাজ্য জয় হয় এবং ইসলামের আওতায় আসতে বাধ্য হয়। ওমর (রা.) শাসন ও কর্মকর্তা নিয়োগের সময় এ শপথ বাক্য পাঠ করাতেন: আমি কোনদিন মিহি কাপড়ের পোশাক পরব না; মিহি আটার রুটি খাব না; দরজায় দারোয়ান নিযুক্ত করব না; জনসাধারণের জন্য দরজা সর্বদা উন্মুক্ত রাখব; তুর্কী ঘোড়ায় সওয়ার হব না (অর্থাৎ দামী যানবাহন ব্যবহার করব না)। কতটুকু সৎ ও জনদরদী হলে, কোন বাদশা এমনটি করতে পারেন, তা সহজেই অনুমেয়।

বর্ণিত আছে, একবার মদীনার কোথাও আগুন লাগলে ওমর (রা.) আগুনকে চিরকুট লিখে দেন- হে আগুন আল্লাহর হুকুমে নিভে যাও এবং সত্যি সত্যিই আগুন নিভে যায়। ইতিহাসে বর্ণিত আছে মিশরের নীল নদে প্রতিবছর একজন করে যুবতীকে হত্যা করে রক্তে রঞ্জিত করা হত, যেন নীল নদ বহমান থাকে। অন্যথায় নীলনদ শুকিয়ে যেত। এরপর মিশর যখন ওমরের (রা.) শাসনের অন্ত র্ভুক্ত হয় তখন মিশরের গভর্নরের কাছে ওমর (রা.) একটি চিঠি লিখে পাঠান। যেখানে নির্দেশ ছিল: ওমরের (রা.) লেখা নীলনদকে নির্দেশ দেয়া চিঠি নীলনদে ফেলতে হবে। চিঠিতে লেখা ছিল: এটা মুসলিম জাহানের খলিফার কাছ থেকে লেখা চিঠি। এখন থেকে আল্লাহর হুকুমে হে নীলনদ, তুমি প্রবাহিত হতে থাকবে।

এরপর লক্ষ জনতার সামনে ওমরের (রা.) সে চিঠি নীলনদে নিক্ষেপ করা হলে, নীলনদ ফুসে উঠে বইতে থাকে এবং তা কিয়ামত পর্যন্ত বইতে থাকবে। আল্লাহর সাথে কি ধরনের সম্পর্ক থাকলে এ কাজ সম্ভব, তা সহজেই অনুমেয়। এ হচ্ছে মুসলিম জগতের ২য় খলিফা ওমর ফারুক (রা.)। ওমর (রা.) ৬৪৪ খ্রিঃ রোজ বুধবার ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি প্রায় দশ বছর হুয়ামস ইসলামের খলিফা ছিলেন। তাঁর চরিত্র খোদাভীতি ও তাকওয়া ছিল পরিপূর্ণ। তিনি সমাজের মধ্যে পদ-পদবী ও ছোট বড়র মাঝে সাম্যের নমুনা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। রোম ও পারস্য সম্রাটের দূতেরা মদিনায় এসে খলিফা ও সাধারণ লোকের মাঝে পার্থক্য করতে পারত না। বর্ণিত আছে ওমর (রা.) গাছের নিচে ইঁট মাথায় দিয়ে ঘুমাতেন। রাতের গভীরে প্রজাদের অবস্থা নিজ চোখে দেখতে একাকী বের হতেন। এত কম ও অতিসাধারণ খাদ্য খেতেন যে, তাঁর গায়ের চামড়া খসখসে হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলতেন, “ওমরের রাজ্যে যদি একটা কুকুরও না খেয়ে মারা যায়, তবে হাশরের ময়দানে ওমরকে জবাবদিহি করতে হবে। এমন ন্যায়পরায়ণ বাদশা, ইতিহাসে দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান গনি (রা.)

📄 ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান গনি (রা.)


ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা.) মক্কার গোত্রপতি, নেতা, ধনী এবং বংশীয় ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর চরিত্র এত মহৎ ছিল যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার তৃতীয় কোন মেয়ে থাকলে ওসমানের নিকট বিবাহ দিতাম।” উল্লেখ্য ওসমান (রা.) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু’কন্যাকে পর পর (একজনের মৃত্যুর পর অপরজনকে) বিয়ে করেছিলেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ দু’কন্যাই রাসূলের জীবদ্দশায় মারা যান। তখন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপরের মন্তব্য করেছিলেন।

ওসমান (রা.) ইসলামের ইতিহাসে প্রথম সফরকারী বা হিজরতকারী দলের প্রধান ছিলেন। মক্কার কাফিরদের অত্যাচারে ৬ষ্ঠ হিজরীতে মুসলমানদের প্রথম দল যখন আবিসিনিয়ায় হিজরত করে, তখন সে দলের অন্যতম সঙ্গী হন ওসমান (রা.) এবং তাঁর স্ত্রী নবীকন্যা রুকাইয়া (রা.)। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাকারী এবং দ্বীন রক্ষার জন্য হিজরতকারী হিসেবে ইসলামের ইতিহাসে এটিই মুসলমানদের প্রথম কাফেলা।

ওসমান গণি (রা.) সর্বপ্রথম কুরআনকে পূর্ণ পুস্তক আকারে পেশ ও সংরক্ষণ করেন। জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনায় তিনি চুপ হয়ে যেতেন। আর কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রমের সময় তিনি এত বেশী কাঁদতেন যে, তাঁর দাঁড়ি মোবারক ভিজে যেত। তিনি আরবের নামকরা ব্যবসায়ী ছিলেন। আরবে তাঁর চেয়ে বড় ও ধনী ব্যবসায়ী কেউ ছিল না। অধিক সম্পদের মালিক হওয়ার কারণে তাঁকে গণি বলা হত। তিনি প্রায় সকল সম্পদ ইসলামের খেদমতে পেশ করেছিলেন।

আল-কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় তিনি শহীদ হন। তার রক্তে আল-কুরআনের যে আয়াতটি রঞ্জিত হয়েছিল তা হল : আল্লাহ তোমার জন্য যথেষ্ট; তিনি শ্রবণকারী ও জ্ঞাত। বিদ্রোহীরা ওসমানকে (রা.) তার বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রাখে। তাকে খাবার পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এরপর তার গৃহে প্রবেশ করে কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

বিস্ময়কর ব্যাপার হল, ওসমানের (রা.) ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্বেই বলে গেছেন, একটি ফিৎনায় তাকে নিরপরাধভাবে হত্যা করা হবে (তিরমিযী) এবং তাই হয়েছিল। এ সবই আল্লাহর ইচ্ছা।

ওসমান (রা.) যেমনি ধনী এবং দানবীর ছিলেন, তেমনি মিতব্যয়ী ছিলেন। একবার জনৈক লোক বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে কিছু সাহায্য চাইলেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটিকে, ওসমানের (রা.) কাছে পাঠালেন। লোকটি ওসমানের (রা.) বাড়িতে এসে দেখেন, তিনি পিঁপড়ার মুখ থেকে সামান্য শস্য দানা সংগ্রহ করছেন। লোকটি ওসমানকে (রা.) কৃপণ ভেবে পুনরায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলেন। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটিকে পুনরায় ওসমানের (রা.) কাছে প্রেরণ করেন। লোকটি এবার ওসমানের (রা.) কাছে সাহায্য চাইলেন (সওয়াল করলেন)। এসময় ওসমানের (রা.) কাফেলা আসছিল। ওসমান (রা.) শস্যভর্তি উটের কাফেলার প্রথম উটটিকে দান করে দিলেন। লোকটি বিস্ময় এবং খুশীতে উট নিয়ে রওনা হলেন। কিন্তু দেখা গেল কাফেলার সমস্ত উট প্রথম উটের পিছে রওনা হয়েছে। দানবীর ওসমান (রা.) হেসে বললেন, ওহে বিদেশী, ঐ সমুদয় উটের কাফেলাই তোমার। লোকটি ওসমানের (রা.) এতবড় হৃদয় এবং দানশীলতা দেখে অভিভূত হয়ে তখনই দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে যান।

একবার বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহুদ পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে ওহুদ! শান্ত হও! তোমার উপর একজন নবী, একজন সিদ্দিক এবং দু'জন শহীদ রয়েছে। এসময় প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আবু বকর (রা.); ওমর (রা.) এবং ওসমান (রা.) ছিলেন। পরবর্তীতে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা বাস্তবে পরিণত হয়। ওমর (রা.) কাফির গোলামের হাতে এবং ওসমান (রা.) বিদ্রোহীদের হাতে শাহাদাত বরণ করেন। (বুখারী)

ওসমান (রা.) উন্নত শাসন ব্যবস্থা ও কর প্রবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ওসমান (রা.) কোমল প্রকৃতির ও সুন্দর ব্যবহারের মানুষ ছিলেন। তার সে সরলতা ও কোমলতার সুযোগে অনেকেই তার খিলাফতের সময় নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করত। তার মধ্যে কোন কঠোরতা ছিল না। তিনি সবাইকে সহজে বিশ্বাস করতেন এবং সরল জীবন যাপন করতেন। তিনি ইসলামের প্রতি একনিষ্ঠ ছিলেন।

ওসমান (রা.), বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সকল সামরিক যুদ্ধে ও অভিযানে অংশ গ্রহণ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এসব যুদ্ধ ও অভিযানে, বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ দান করেন। তাবুকের অভিযানে তার মত আরবের শ্রেষ্ঠ ধনী লোক নিজস্ব সকল সম্পদের অর্ধেক সম্পদ দান করে ছিলেন।

ওসমান (রা.) মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আরবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আরবদের কাছে তার একটা প্রতিষ্ঠিত গ্রহণযোগ্যতা ছিল। হুদাইবিয়ার অভিযানেও তিনি কুরাইশদের সাথে মধ্যস্থতা করতে গিয়েছিলেন এবং বন্দী হয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তার সাহস, বীরত্ব ও বলিষ্ঠতার প্রকাশ অনুসরণযোগ্য। কেননা শত্রুদের কাছে এভাবে একাকী যাওয়াটা বীরত্বেরই বহিঃপ্রকাশ বটে।

তিনি খিলাফতের গুরু দায়িত্ব পালনে সারাদিন ব্যস্ত থাকতেন। অপরদিকে প্রায়ই তিনি সারারাত জাগতেন এবং একই রাকাতে সমগ্র কুরআন মাজীদ খতমে তিলাওয়াত করতেন। প্রায়ই রোযা রাখতেন। কখনও কখনও মাসের পর মাস রোযা রাখতেন। তিনি খুব সামান্যই আহার করতেন। অথচ তিনি আরবের শ্রেষ্ঠ ধনী ছিলেন। প্রতিবছরই হজ্জ পালন করতেন এবং হজ্জের জামাতের আমীর হতেন। দাওয়াত ও তাবলীগে গভীর মনোনিবেশ করতেন। তিনি অনেক গোলাম, দাস-দাসীকে মুক্ত করে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে নিয়ে এসেছেন। তাঁর দাওয়াত ও তাবলীগের কারণে অনেক নামকরা আরব ইসলামের ছায়াতলে দীক্ষিত হয়েছিলেন।

তিনি জনহিতকর কাজে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতেন। রাস্তাঘাট, মসজিদ নির্মাণ, পানির ব্যবস্থা করা, কূপ, খাল-নদী খনন ইত্যাদিতে প্রচুর ব্যয় করতেন। বন্ধু ও গরীব আত্মীয় স্বজন নিয়ে আহার করতেন। পোশাক-আশাকে অতি সাধারণ ছিলেন। কখনই দামি ও মিহি কাপড় পড়েননি। আরবের শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যক্তি হয়েও অতি সাধারন জীবন যাপন করে, একজন পূর্ণ ও সফল মুসলমান হিসেবে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন ওসমান গনি (রা.)।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 ইসলামের চতুর্থ খলিফা মহাবীর হযরত আলী (রা.)

📄 ইসলামের চতুর্থ খলিফা মহাবীর হযরত আলী (রা.)


তরুণ/বালকদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। হযরত আলী (রা.) ইসলামের চতুর্থ খলিফা। তিনি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা আবু তালিবের জৈষ্ঠ পুত্র এবং বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবসময়ের সঙ্গী ও প্রিয় পাত্র ছিলেন। ছোট (বালক) বয়স থেকেই বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বসবাস করা তথা কাছে থেকে দেখার সুবাদে তিনি বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গভীরভাবে জেনেছেন।

আলী (রা.) সারাটি জীবন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে ও সহচর্যে থেকে নিজেকে দ্বীনের জন্য উৎসর্গ করেছেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি যদি জ্ঞানের শহর হই, তবে আলী (রা.) তার দরজা। আলী (রা.) ইসলামের তত্ত্বজ্ঞান তথা আল্লাহপাকের গভীর মারিফাত হাসিল করেছিলেন।

তিনি অত্যন্ত সাহসী ও সমরবিদ ছিলেন। তিনি শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা, সাহসী বীর ও শক্তিমান পুরুষ ছিলেন। বদর যুদ্ধের প্রারম্ভে সামনাসামনি সমরযুদ্ধে শত্রুদের বীর সেনাকে তরবারীর এক আঘাতে ভূলুণ্ঠিত করেছিলেন। খায়বারের বিজয় সূচিত হয় তার হাতে। সে যুদ্ধে খায়বার দুর্গের লোহার দরজাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন আলী (রা.)। যুদ্ধের পর তার ব্যবহৃত ঢাল, সাতজন শক্তিমান পুরুষও সম্মিলিতভাবে তুলতে সক্ষম হননি। তবে যুদ্ধে আলী (রা.) এটি কিভাবে ব্যবহার করেছেন, মহান আল্লাহই তা ভাল জানেন।

যুদ্ধের ময়দানে, তার বীরত্বে, হুংকারে, বাহুবলে, সাহসিকতায় ও কৌশলে যেকোন শত্রু সহজেই পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হত। সাহসে, বীরত্বে, শৌর্যে, বীর্যে ও সমরের শক্তিমত্তায় তাকে আল্লাহর সিংহ (শেরে খোদা) উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।

ইসলামের ক্ষতি দেখলেই তিনি বজ্রের হুংকার দিতেন। শত্রুদের উপড় বাঘের মত ঝাঁপিয়ে পড়তেন। পাশাপাশি তিনি সরল ও উদারতায় মহৎ প্রাণ ব্যক্তি ছিলেন। জ্ঞানে-ত্যাগে-মহত্ত্বে-ইবাদতে-বীরত্বে সর্বত্রই তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ।

কুরআন, হাদীস ও ফিকাহ শাস্ত্রে তিনি ছিলেন জ্ঞান ও বিদ্যার মহাসাগর। তিনি বিখ্যাত কবি ছিলেন। রাসূলের জীবদ্দশায় যত যুদ্ধ হয়েছে, সবগুলোতেই আলী (রা.) বীর দর্পে অংশগ্রহণ করেন ও বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। যুদ্ধের শুরুতেই তিনি আবির্ভূত হতেন সিংহের মত। মুহূর্তেই শত্রুকে ধরাশয়ী করতেন।

পুরুষদের মধ্যে তিনি প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। অথচ তখন তিনি বালক। তিনি বালক অবস্থায় বিশ্বনবী ও মা খাদীজা (রা.) কে নামায পড়তে দেখতেন এবং এক সময় তিনিও তাদের পাশে এসে নামায পড়া শুরু করেন। অথচ মনে মনে এর পূর্বেই ইসলামের কলেমা পড়ে নেন। পিতা আবু তালিব তাকে ধর্ম বিষয়ে জিজ্ঞেস করায় তিনি অকপটে ইসলাম ধর্মে দীক্ষার কথা স্বীকার করেন এবং বাকী জীবন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যে কাটিয়ে দেয়ার কথা ঘোষণা করেন। অথচ সে সময় তার শিশু মনে কতটুকুই বা বুঝ ছিল? আবু তালিব পুত্রের দৃঢ়তায় মুগ্ধ হন এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাকে রেখে যান।

যেদিন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাফিররা হত্যা করার জন্য মনস্থির করে তাঁর ঘরের চারদিকে ঘিরে রেখেছিল; সেদিন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশে আলী (রা.) তাঁর বিছানায় নির্ভয়ে রাত্রি যাপন করেন। পরদিন কাফিরদের প্রশ্নের কাট কাট জবাব দেন। এতে তার সাহস এবং বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি গভীর বিশ্বাসের যথার্থ বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তিনি এতটাই অকুতোভয় ও সাহসী ছিলেন।

আলী (রা.) বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় কন্যা এবং বেহেশতের নারীদের নেত্রী ফাতিমার (রা.) স্বামী ছিলেন। তার দু'পুত্র ইমাম হাসান ও হোসাইন (রা.) যুগ শ্রেষ্ঠ ইমাম, নেতা এবং বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়পাত্র ছিলেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হোসাইন (রা.) কে তাঁর কলিজার টুকরা বলেছেন। তার এ পুত্রদ্বয় (রা.) ইসলামের তথা দাওয়াত ও তাবলীগের তরে শহীদ হয়েছেন।

বদরের প্রান্তরে সামনাসামনি মল্লযুদ্ধে তাঁর হাতে বীর কাফির সেনা ওলীদ ও সায়বা নিহত হন। এছাড়া মুসলিমদের ক্ষুদ্র বাহিনীর বিজয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ওহুদ প্রান্তরে মল্লযুদ্ধে আলীর হাতে তালহা নিহত হন। খন্দকের যুদ্ধে বীর কাফির সর্দার আমর তার হাতে নিহত হন। এভাবে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের শুরুতে, প্রতিবারই বিজয় দিয়ে আলী (রা.) মুসলিম বাহিনীকে উজ্জীবিত করেছেন। হুনাইনের যুদ্ধেও মুসলমানরা প্রথম দিকে হারতে বসেছিল। এখানেও আলী (রা.) অবিচল থেকে মুসলিম বাহিনীর পতাকা হাতে যুদ্ধ করে যান এবং শেষে মুসলমানরা জয়ী হয়।

হযরত ওসমানের (রা.) শাহাদাতের পর মুসলমানদের মাঝে চরম বিশৃংখলা দেখা দেয়। এ সময় আলীর (রা.) উপর খিলাফতের গুরু দায়িত্ব আসে। সূচনা থেকেই খিলাফত তার জন্য ছিল কন্টক শয্যার মত। ঘরে ও বাহিরে (মদীনা ও অন্যান্য রাজ্যে) ছিল অসন্তোষ ও হাঙ্গামা। নানারকম দল, উপদলে এবং দাবি ও বিদ্রোহে মদীনা প্রকম্পিত। আয়িশা, যুবায়ের ও তালহার (রা.) মত জ্ঞানী সাহাবীরাও আলীকে (রা.) ভুল বুঝেছিল। জঙ্গে জামালে হাজার হাজার সাহাবা শহীদ হন। আলী (রা.) পুরো ব্যাপারটিই খুবই বিচক্ষণতা, প্রজ্ঞা এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর খারিজীদের বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। মুয়াবিয়া (রা.) নিজেকে খলিফা ঘোষণা করেন। এটাও বুদ্ধিমত্তার সাথে নিয়ন্ত্রণ করেন আলী (রা.)।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, আলী (রা.) শহীদ হবে এবং নিরপরাধে তাকে হত্যা করা হবে। আর হয়েছেও তাই। এক খারেজী গোলাম (আব্দুর রহমান) তাকে ১৭ই রমযানে, ফজরের নামাযে ইমামতি করার সময় পিছন থেকে ছুরিকাঘাত করে। তিনি জায়নামাযে লুটিয়ে পড়েন। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর তিনি খলিফার দায়িত্ব পালন করেন। ইন্তিকালের সময় তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৬ বছর।

হযরত আলী (রা.) পৃথিবীতে থেকে জান্নাতের ঘোষণা শুনেছেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শহীদ হওয়া এবং জান্নাত লাভের কথা পূর্বেই শুনিয়েছেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রা.) সম্পর্কে এরূপ মন্তব্য করেন যে, হে আলী তোমার অবস্থা ঈসার (রা.) মত হবে। ইহুদীরা তার শত্রুতা করে তাঁর মাতা সম্পর্কে কুৎসা রটায়। অপরদিকে নাসারারা (খ্রীষ্টানরা) তাকে এমন মর্যাদায় উঠায় যে, তাকে আল্লাহর পুত্র বলে। অথচ সেটার অধিকারী তিনি ছিলেন না। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা বাস্তবেও রূপ নিয়েছিল। খারেজী ও নাছেবীয়রা আলীর (রা.) নামে দুর্নাম রটিয়েছে। অপরদিকে রাওয়াফের ও শিয়ারা তাকে এতটা উপরে তুলেছে যে, একেবারে আল্লাহর সাথে মিলিয়ে দিয়েছে (নাউযু বিল্লাহ)। অর্থাৎ একপক্ষ তাঁর শত্রুতা করে ধ্বংস হয়েছে এবং অপর পক্ষ মিত্রতার সীমালঙ্ঘন করে কুফরী করেছে। উভয় দলই ধ্বংস এবং মহাপাপ করেছে।

নামাযে আলীর (রা.) একাগ্রচিত্ততার বিস্ময়কর নজির রয়েছে। যুদ্ধে আলীর (রা.) পায়ে তীর বিদ্ধ হলে, কোনভাবেই তা বের করা যাচ্ছিল না। এমন সময় বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশে আলী (রা.) নামাযে দাঁড়ান। আর তিনি মহান আল্লাহর সাথে গভীর মিরাজে হারিয়ে যান। এসময়, আলীর (রা.) পায়ে অস্ত্রপচার করে বিদ্ধ তীর বের করা হয়। তিনি (রা.) টু শব্দটি পর্যন্ত করেননি। ইবাদতে এমন একাগ্রচিত্তের উদাহরণ বিরল।

মহাবীর আলী (রা.) শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই যুদ্ধ করেছেন। একবার যুদ্ধক্ষেত্রে এক বীর কাফিরকে ধরাশয়ী করে হত্যা করতে অস্ত্র উত্তোলন করেন। এমন সময় কাফির কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে আলীর (রা.) মুখে থুথু মারে। আলী (রা.) ধরাশয়ী কাফিরকে হত্যা না করে উঠে পড়লেন। পরাজিত কাফির সেনা বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে আলীকে (রা.) জিজ্ঞেস করে, ভাই তুমি আমাকে হাতের নাগালে পেয়েও, হত্যা না করে ছেড়ে দিলে কেন? আলী (রা.) বলেন, হে পরাজিত সৈনিক! আমি যুদ্ধ করি মহান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির জন্য। নিজের বীরত্ব জাহিরের জন্য নয়। নিজের খায়েশাতের জন্য নয়। তুমি যখন আমাকে থুথু মারলে তখন আমার তোমার প্রতি ব্যক্তিগত ক্ষোভ চাঙ্গা হয়ে উঠল। সে অবস্থায় যদি, আমি তোমাকে হত্যা করতাম, তবে তা হত ব্যক্তিগত ক্ষোভ চরিতার্থের শামিল। আমি তো নিজের জন্য তোমাকে হত্যা করব না। তাই আমি তোমাকে মুক্ত করে দিয়েছি। কাফির সেনা ইসলামের মহত্ত্বে এবং আলীর (রা.) ঈমানী শক্তির কাছে লুটিয়ে পড়ে। সাথে সাথে চিৎকার করে ঘোষণা করে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। ভাই আলী আমাকে ক্ষমা কর! আমাকে পবিত্র কর! আর আমাকে মহান ইসলামের শান্তির কাছে আশ্রয় দাও। এ হচ্ছে মহাবীর আলীর (রা.) মহানুভবতা ঈমানী জোর আর তাকওয়ার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, খিলাফতের শাসন আমল হবে ৩০ বছর। এরপর নিছক রাজ্য শাসন শুরু হবে। বাস্তবেও তাই হয়েছিল। আবু বকর (রা.) দু'বছর; ওমর (রা.) সাড়ে দশ বছর, ওসমান (রা.) বার বছর এবং আলী (রা.) মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর খিলাফতের দায়িত্বে ছিলেন। বাস্তবেও সর্বমোট ৩০ বছর খোলাফায়ে রাশেদীনের ন্যায়নীতির ও ইসলামের শাসন কায়েম ছিল। এরপর শুরু হয়েছিল সাধারণ রাজ্য শাসন। খোলাফায়ে রাশেদীনের শাসনামল ছিল ইসলামী আদর্শের বাস্তব রূপ এবং অনুসরণীয় কর্মপন্থা। ওটাই আমাদের জন্য মডেল এবং অনুকরণীয় যোগ্য আদর্শ।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 মদীনার বৈশিষ্ট্য এবং মর্যাদা

📄 মদীনার বৈশিষ্ট্য এবং মর্যাদা


১. বর্ণিত আছে, বিশ্বনবী (সাঃ), আবু বকর (রা.) এবং উমর (রা.) সহ মদীনায় দাফনকৃত অধিকাংশ সাহাবীকে মদীনার মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কার অর্থাৎ কা'বার মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের আহ্বানে প্রথমে কা'বার মাটিই সাড়া দিয়েছিল এবং কা'বা থেকেই যমীনের বিস্তার হয়েছে。
২. মদীনা অন্যান্য সকল স্থান থেকে উত্তম। এ ব্যাপারে উম্মতের ইজমা' (ঐকমত্য) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
৩. উম্মাহর শ্রেষ্ঠ লোকদের সেখানে (মদীনায়) দাফন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাহাবায়ে কেরাম রয়েছেন।
৪. মদীনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজ প্রাণ উৎসর্গকারী উত্তম শহীদানের কবর রয়েছে। তাদের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষ্য দিবেন।
৫. আল্লাহ মদীনাকে সৃষ্টির সেরা ও সম্মানিত নবীর বাসস্থান বানিয়েছেন।
৬. আল্লাহ মদীনাবাসীদেরকে সাহায্য ও আশ্রয়দানের জন্য পছন্দ করেছেন।
৭. অন্যান্য সকল শহর যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়েছে। একমাত্র মদীনা কুরআন দ্বারা বিজিত হয়েছে।
৮. আল্লাহ মদীনা থেকেই অন্যান্য শহরগুলো বিজিত করেছেন। এমনকি মক্কাও। তিনি মদীনাকে দ্বীন প্রচার ও প্রদর্শনীর কেন্দ্র বানিয়েছেন।
৯. ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে, মক্কা বিজয়ের পূর্বে মদীনায় হিজরত করা ওয়াজিব ছিল এবং মুহাজিরদেরকে সর্বাত্মক সাহায্য করা আনসারদের উপর ফরয ছিল। যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে মদীনায় হিজরত করেছেন তাদের জন্য হজ্জ ও উমরাহ শেষে মক্কায় মাত্র তিন দিন থাকার অনুমতি ছিল।
১০. কিয়ামতের দিন উম্মাহর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা মদীনা থেকেই উঠবেন।
১১. মদীনার নাম হচ্ছে, মুমিনাহ-মুসলিমাহ অর্থাৎ বিশ্বাসিণী ও আনুগত্যকারিণী। আল্লাহ একমাত্র এ শহরকে এ বৈশিষ্ট্যসহ সৃষ্টি করেছেন।
১২. আল্লাহ কুরআনে মদীনাকে 'আরদুল্লাহ' অর্থাৎ আল্লাহর যমীন বলে উল্লেখ করেছেন। (সূরা নিসা: ৯৭)
১৩. আল্লাহ মদীনাকে রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, অনুরূপভাবে আল্লাহ আপনাকে আপনার ঘর (মদীনা) থেকে সত্যসহকারে বের করে এনেছেন।
১৪. এক বর্ণনা অনুযায়ী আল্লাহ আল কুরআনের আয়াতে মদীনার শপথ করে কথা বলেছেন, আমি এই শহরের (মদীনার) শপথ করে বলছি।
১৫. আল্লাহ আল কুরআনের আয়াতে মদীনার কথা আগে উল্লেখ করেছন, হে আল্লাহ আমাকে সত্যের পথে প্রবেশ করাও এবং সত্যের নির্গমন পথ থেকে নির্গমন করাও। (সূরা বনী ইসরাইল: ৮০)
১৬. আল্লাহ তাওরাতে এ শহরের নাম মারহুমাহ (রহমতপ্রাপ্ত) উল্লেখ করেছেন।
১৭. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ শহরকে মক্কা কিংবা এর চাইতেও বেশি প্রিয় বানিয়ে দেয়ার দোয়া করেছেন এবং এজন্য এর নাম হচ্ছে হাবীবাহ বা 'প্রিয়া'।
১৮. মদীনায় পৌঁছার আগে এর দেয়াল দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীকে দ্রুত তাড়া করতেন। মক্কা থেকে মদীনায় পৌছার পথে তিনি আসায়াহ নামক স্থানে কাঁধ থেকে চাদর সরিয়ে বলতেন: 'আমি মদীনার সুঘ্রাণ পাচ্ছি।
১৯. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার বরকতের জন্য দোয়া করেছেন।
২০. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাকে 'হারাম' (সম্মানিত) ঘোষণা করেছেন।
২১. তিনি নিজ হাতে সেখানে মসজিদে নববী প্রতিষ্ঠা করেন এবং উম্মাহর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ সাহাবায়ে কেরাম তাতে অংশ নেন।
২২. সেখানে এমন মসজিদ রয়েছে যার প্রশংসা স্বয়ং আল্লাহ কুরআনে বর্ণনা করেছেন। সেটি হচ্ছে কুবা মসজিদ। আল্লাহ বলেন, 'যে মসজিদ প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত'। (সূরা তওবা: ১০৮)
২৩. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হুজরাহ ও মিম্বারের মাঝখানে বেহেশতের বাগানসমূহের একটি বাগান রয়েছে। এ মসজিদের এ অংশটুকু ছাড়া গোটা যমীনের বেহেশতের আর কোন অংশের অস্তিত্বের কথা বর্ণিত নেই।
২৪. তাঁর মিম্বার মুবারক বেহেশতের সিঁড়ির উপর অবস্থিত। আরেক হাদীসে বর্ণিত রয়েছে, 'আমার মিম্বার আমার হাউজের (কাউসার) উপর'।
২৫. মসজিদে নববীতে ইবাদতে এক হাজার গুন বেশী সওয়াব হয়।
২৬. তাবারানী তাঁর আওসাত গ্রন্থে একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। তাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যে আমার এ মসজিদে ৪০ ওয়াক্ত নামায পড়বে, তাকে দোযখ ও আযাব থেকে মুক্তি দেয়া হবে এবং সে মুনাফিকী থেকেও মুক্তি পাবে।'
২৭. মসজিদে নববীতে নামাযের উদ্দেশ্যে পবিত্রতাসহকারে আগমনকারী ব্যক্তি হজ্জের সওয়াব পাবে এবং ঘর থেকে মসজিদের উদ্দেশ্যে আসার পথে প্রতি কদমে একটি সওয়াব ও একটি গুনাহ থেকে মুক্তি পাবে।
২৮. হাদীসে রয়েছে, ঘর থেকে ওযু করে মসজিদে কুবায় গিয়ে দু'রাকাত নামায পড়লে একটি উমরার সওয়াব পাওয়া যায়।
২৯. হাদীসে রয়েছে, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মদীনায় রমযান মাসের রোযা অন্য জায়গার এক হাজার রোযার চাইতে উত্তম এবং মদীনার জুমআর নামায অন্য জায়গার ১ হাজার নামায অপেক্ষা উত্তম।' অন্যান্য নেক কাজগুলোর সওয়াবও অনুরূপ। তবে মদীনায় যে সকল ইবাদাতের হুকুম নাযিল হয়েছে সেগুলো মক্কা অপেক্ষা মদীনায় আদায় করা উত্তম বলে কেউ কেউ মনে করেন।
৩০. হাদীসে রয়েছে, মসজিদে নববী থেকে আযান শুনার পর বিনা প্রয়োজনে বের হওয়া এবং পুনরায় ফিরে না আসা মুনাফিকী।
৩১. মদীনার মসজিদে নববীতে দাওয়াত ও তা'লীম অর্থাৎ দ্বীন শিক্ষা-দীক্ষা কার্যকর ছিল এবং থাকবে।
৩২. মসজিদে নববীতে অধিকতর আদব-কায়দা প্রদর্শন ও নিম্নস্বরে কথা বলতে হয়। কেননা, সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শায়িত আছেন।
৩৩. মসজিদে নববীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেহরাব (নামায পড়ার স্থান) সুনির্দিষ্ট আছে।
৩৪. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বার ও মসজিদের মুসাল্লার মাঝে বেহেশতের বাগানসমূহের একটি বাগান অবস্থিত।
৩৫. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'ওহুদ পাহাড় বেহেশতের সিঁড়িসমূহের একটি' এবং 'ওহোদ আমাদেরকে ভালবাসে, আমরাও ওহুদকে ভালবাসি।'
৩৬. হাদীসে বর্ণিত আছে, মদীনার বুতহাস উপত্যকা বেহেশতের সিঁড়িসমূহের একটির উপর অবস্থিত।
৩৭. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকীক উপত্যকাকে 'মুবারক' বলে আখ্যায়িত করেছেন। হাদীসে রয়েছে 'আমরা আকীককে ভালবাসি, আকীকও আমাদেরকে ভালবাসে।'
৩৮. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় বসবাস করার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
৩৯. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় মৃত্যুর ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন এবং তাদের জন্য সাক্ষ্য ও সুপারিশের ওয়াদা করেছেন।
৪০. মদীনায় মৃত্যুর ব্যাপারে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
৪১. মদীনার অধিবাসীরা সর্বপ্রথম সুপারিশ লাভ করবেন এবং তাদের জন্য সম্মান ও অধিকতর সুপারিশের নিশ্চয়তা রয়েছে।
৪২. হাশরের দিন মদীনার মুর্দাগণের নিরাপদ পুনরুত্থান হবে।
৪৩. জান্নাতুল বাকী গোরস্থান থেকে পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বল ৭০ হাজারের অধিক লোককে পুনরুত্থিত করে বিনা হিসাবে বেহেশতে পাঠানো হবে। অনুরূপভাবে, বনী সালামাহ গোরস্তান থেকেও লোকদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে।
৪৪. অন্যান্য সকল লোকের আগে মদীনাবাসীদেরকে কবর থেকে উঠানো হবে।
৪৫. মদীনার গরম ও তাপ সহ্যকারীদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুপারিশ কিংবা সাক্ষ্যের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
৪৬. মসজিদে নববী যিয়ারতকারীর জন্য তাঁর সুপারিশ ওয়াজিব হবে। বলে হাদীসে উল্লেখ আছে।
৪৭. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবরের পার্শ্বে দোয়া কবুল হয়। এ ছাড়াও তাঁর মিম্বারের কাছে মসজিদে ফাতাহ, মসজিদে এজাবাহ ও মসজিদে সুকিয়ায় দোয়া কবুল হয়।
৪৮. মদীনা অপবিত্র লোকদেরকে দূর করে দেয়।
৪৯. আগুন যেমন লোহর মরিচা দূর করে, মদীনাও তেমনি গুনাহ দূর করে।
৫০. মদীনাবাসীদের উপর যুলুম ও ভীতি প্রদর্শনকারীর কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে।
৫১. হাদীসে রয়েছে: যে মদীনাবাসীদের ক্ষতি করার ইচ্ছা করবে। লবণ যেমন পানিতে মিশে যায়, ঠিক আল্লাহও তাকে ওমনি করে গলিয়ে দিবেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘আল্লাহ তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবেন।’
৫২. যে ব্যক্তি মদীনায় কোন দুর্ঘটনা ঘটায় কিংবা কোন দুর্ঘটনাকারীকে আশ্রয় দেয়, তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুমকি রয়েছে।
৫৩. মদীনাবাসীদেরকে সম্মান না করলে শাস্তি হবে। উম্মাহর উপর তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ওয়াজিব।
৫৪. হাদীসে রয়েছে: 'যে মদীনাবাসীদেরকে ভীতিপ্রদর্শন করে, সে যেন আমার দুই পার্শ্বে ভীতি প্রদর্শন করল।'
৫৫. কেউ মদীনা থেকে অনাগ্রহী হয়ে বাইরে না গেলে তার অনুপস্থিতিতে আল্লাহ তার উত্তম কল্যাণ দেবেন (মুসলিম)। অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে বাইরে গেলে এবং মদীনাকে অপছন্দ না করলে, অনুপস্থিতির সময়টুকুও বরকতময় হবে।
৫৬. মদীনা থেকে সংক্রামক রোগ ও জ্বরকে দূরে সরিয়ে দিয়ে আল্লাহ একে সম্মানিত করেছেন।
৫৭. মদীনার মাটিতে শেফা ও চিকিৎসা রয়েছে।
৫৮. মদীনায় দাজ্জালের প্রবেশাধিকার নেই।
৫৯. তাবারানীর বর্ণিত হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সকল মুসলমানের উচিত মদীনা যিয়ারত করা।
৬০. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সালাম দেয়া যায় ও উত্তর পাওয়া যায়।
৬১. মদীনায় ঈমান পুনরায় ফিরে আসবে।
৬২. মদীনার প্রহরা ফিরিশতাদের উপর অর্পিত।
৬৩. প্রথম মসজিদ (মসজিদে কুবা) মদীনায় নির্মিত হয়েছে।
৬৪. মসজিদে নববী আম্বিয়ায়ে কেরামের পক্ষ থেকে সর্বশেষ মসজিদ।
৬৫. মদীনায় অধিক মসজিদ, ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শন বিদ্যমান। তাই ইমাম মালিক বলেছেন, কিভাবে আমি মদীনাকে ভাল না বাসি, যেখানে এমন কোন রাস্তা নেই যা দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলেননি এবং জিব্রাঈল (আ.) আল্লাহর কাছ থেকে প্রতি ঘণ্টায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসেছেন?
৬৬. মদীনার স্নিগ্ধ বাতাসে ও মাটিতে বিশেষ সুঘ্রাণ রয়েছে।
৬৭. মদীনার জীবন যাপন আরামদায়ক ও সুখকর।
৬৮. মসজিদে নববীর মিম্বারের পার্শ্বে মিথ্যা শপথকারীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুমকি রয়েছে।
৬৯. মদীনার এক রাস্তা দিয়ে প্রবেশ ও ভিন্ন রাস্তা দিয়ে বের হওয়া উত্তম। (বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপ করতেন)।
৭০. মদীনায় প্রবেশের জন্য গোসল করা উত্তম।
৭১. মদীনায় দোয়া করা ও মৃত্যু প্রার্থনা করা উত্তম।
৭২. মদীনা চিরন্তন দারুল ইসলাম। হাদীসে বর্ণিত আছে, 'শয়তান এ অঞ্চলে তার পূজার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেছে।
৭৩. মদীনা হচ্ছে হজ্জ ও উমরার দূরতম মীকাত। মদীনাবাসীদের সম্মানে আল্লাহ এ ব্যবস্থা করেছেন।
৭৪. মদীনা থেকে ইহরাম পরা উত্তম। কেননা, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে ইহরাম পরে হজ্জ ও উমরাহ করেছেন।
৭৫. মদীনাবাসী ৩৬ রাকাত তারাবীহের নামায পড়ত।
৭৬. মক্কার চাইতেও মদীনায় বরকত বেশী। এক হাদীসে রয়েছে, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার জন্য মক্কার চাইতে ৬ গুন বেশী বরকতের দোয়া করেছেন।
৭৭. নাসাঈ, বাজ্জার ও হাকিমে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে : এক সময় 'মানুষ উটের পিঠে সওয়ার হয়ে আলেম তালাশ করতে থাকবে। তবে মদীনার আলেমের চাইতে বেশী জ্ঞানী আলেম কোথাও পাবে না।'
৭৮. চিকিৎসার উদ্দেশ্য ব্যতীত, মদীনার মাটি ও পাথর অন্যত্র স্থানান্তর করা হারাম।
৭৯. মদীনায় অস্ত্র বহন করা হারাম।
৮০. ঘোষণা দানের উদ্দেশ্য ছাড়া মদীনায় পড়ে থাকা জিনিস উঠানো যাবেনা।
৮১. মদীনায় শিকার করা ও গাছপালা কাটা নিষেধ।
৮২. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবর যিয়ারতের মানত করলে তা পূরণ করা জরুরী (ওয়াজিব)। না করলে গোনাহ হবে।
৮৩. মদীনার চারপাশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভবিষ্যৎ সতর্কবাণী অনুযায়ী হেজাযের অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।
৮৪. মদীনার বাজারের বরকতের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করেছেন।
৮৫. মদীনার বাজারের ব্যবসায়ী আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর সমতুল্য বলে হাদীসে বর্ণিত আছে।
৮৬. মদীনার মওজুদদার আল্লাহর কুরআনে বর্ণিত কাফিরের সমান।
৮৭. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নে দেখেন, তিনি বেহেশতের একটি কূপের কাছে গেছে। সে দিন তিনি গারস কূপের কাছে ভোরে জেগে গিয়েছিলেন।
৮৮. হাদীসে রয়েছে, 'মদীনার আজওয়া হচ্ছে বেহেশতের খেজুর।'
৮৯. বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসবাসের জন্য মদীনাকে সবচেয়ে উত্তম মনে করেছেন এবং বাস্তবেও তাই করেছেন।
৯০. মদীনায় বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন; এখনও শুয়ে আছেন এবং কিয়ামতের দিন এখান থেকেই উঠবেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00