📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 উন্মুল মু‘মিনীন খাদীজা (রা.)

📄 উন্মুল মু‘মিনীন খাদীজা (রা.)


বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লামের সর্বপ্রথম স্ত্রী। বিধবা (৪০ বছর) খাদীজার (রা.) সাথে তরুণ নবী (২৫ বছর) মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল。
ইসলামের প্রথমাবস্থায়, খাদীজা (রা.) তার বিপুল ধন-সম্পদ পুরোপুরি ইসলামের জন্য উৎসর্গ করেছেন। খাদীজা (রা.) একদিকে সহধর্মিণী হিসেবে যুবক নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালবাসায় সিক্ত করেছেন। অন্য দিকে মাতৃসুলভ স্নেহ-মমতা, আদর-যত্ন, অভিভাবকত্বের বন্ধনে এতীম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আগলে রেখেছেন।
খাদীজার (রা.) দীর্ঘ ২৫ বছরের বিবাহিত জীবনের (অর্থাৎ ৬৫ বছর বয়সে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত) মাঝে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কোন ২য় বিবাহ করেননি। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরবর্তী জীবনেও সর্বক্ষেত্রেই খাদীজা (রা.)-কে স্মরণ করেছেন। স্ত্রী হিসেবে তিনিই শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারিণী।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী রমণীদের মাঝে হযরত মরিয়ম (আ.) এবং খাদীজাই (রা.) মর্যাদাশীল ও শ্রেষ্ঠ। খাদীজা (রা.) মহাবিশ্বের নর-নারীর মাঝে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত দ্বীন ইসলামকে সর্বপ্রথম গ্রহণ করেন।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ফিরিশতা জিব্রাঈল (আ.) কর্তৃক আনীত কুরআন নাযিলের ঘটনায় নবীর বিচলিত ও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় সাহস যোগানসহ হেরা গুহায় দিনরাত সাধনায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে খাদীজা (রা.) অনন্যা হয়ে আছেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল জীবিত সন্তানরা এবং পরবর্তীতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশ চালু রয়েছে খাদীজার (রা.) সন্তান-সন্ততিদের মাধ্যমেই। বিশ্বনবীর বংশ চালু থাকবে খাদীজার (রা.) মাধ্যমেই।
খাদীজা (রা.) বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে প্রিয় সন্তান ও শ্রেষ্ঠ রমণীর মা অর্থাৎ ফাতিমা (রা.) খাদীজারই (রা.) সন্তান। ফাতিমা (রা.) বেহেশতে সকল রমণীর নেত্রী হবেন এবং তার স্বামী হযরত আলী (রা.) সকল পুরুষের মাঝে মর্যাদাবান।। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় নাতি এবং বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ইমামদ্বয় হাসান ও হোসাইন (রা.), ফাতিমারই (রা.) পুত্র সন্তান। হাসান ও হোসাইন (রা.) বেহেশতে যুবকদের নেতা হবেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়তম স্ত্রী আয়িশা (রা.) বলেন, আহا আমি যদি খাদীজার (রা.) মত ভাগ্য নিয়ে জন্ম লাভ করতাম; তবেই আমার জীবন ধন্য হত। আয়িশা (রা.) আরও বলেন, আহা আমি যদি ফাতিমার (রা.) একগাছি চুল হতাম। এ দু'টো মন্তব্যে বুঝা যায় খাদীজার (রা.) মর্যাদা কিরূপ ছিল।

খাদীজা (রা.) সম্পর্কে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মন্তব্য হল- খাদীজার (রা.) চেয়ে উত্তম স্ত্রী আমি লাভ করিনি। যখন দুনিয়ার সকল লোক কাফির মুশরিক ছিল, তখন খাদীজাই (রা.) আমার কথায় ঈমান এনেছিল। যখন সারা বিশ্ব আমাকে অবিশ্বাস করেছিল, তখন খাদীজাই (রা.) আমাকে বিশ্বাস করেছিল। এমনকি তার সকল ধন-সম্পদ আমার হাতে তুলে দিয়েছিল। তিনি পৃথিবীর একমাত্র মহিলা যিনি পৃথিবীতে থেকে জিব্রাঈল (আ.) এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম গ্রহণ করেছিলেন। আল্লাহপাক কতটুকু সন্তুষ্ট থাকলে পৃথিবীর একজন মানুষকে সালাম পেশ করতে পারেন, তা সহজেই অনুমেয়। অতএব খাদীজা (রা.) পৃথিবীর সার্থকতম এবং শ্রেষ্ঠ রমণী।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 নবীকন্যা হযরত ফাতিমা (রা.)

📄 নবীকন্যা হযরত ফাতিমা (রা.)


ফাতিমা (রা.) বেহেশতে সকল রমণীর নেত্রী হবেন। তাঁর স্বামী হযরত আলী (রা.) বেহেশতে মর্যাদাবান পুরুষদের মাঝে অন্যতম।
ফাতিমা (রা.) বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ইমামদ্বয় যথাক্রমে হাসান ও হোসাইন (রা.) এর মা। আল্লাহ পাক তাঁদের মাধ্যমেই বিশ্ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশকে কিয়ামত পর্যন্ত বিস্তার করবেন।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ফাতিমার (রা.) বিভিন্ন দিক দিয়ে অপূর্ব মিল ছিল। হযরত আয়িশা (রা.) বলেন, কথাবার্তা, চলাফেরা, উঠাবসা ও চারিত্রিক দিক দিয়ে হযরত ফাতিমার (রা.) তুলনায় বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাদৃশ্য কাউকে দেখিনি।
হযরত ফাতিমা (রা.) যখন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসতেন, তখন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে যেতেন এবং খুশি অনুভব করতেন; চুমু দিয়ে তাঁকে নিজের সামনে বসাতেন।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ফাতিমা (রা.) আমার শরীরের অংশ; যে তাঁর মনে কষ্ট দিল, সে যেন আমাকেই কষ্ট দিল। যে তাঁকে অসন্তুষ্ট করল, সে যেন আমাকেই অসন্তুষ্ট করল।
বিশ্বনবী জান্নাতে রমণীদের মর্যাদার ক্রমধারা বর্ণনা করেন এভাবে : জান্নাতে রমণীদের নেত্রী হবে ঈসার (আ.) মা মরিয়ম (আ.), তারপর ফাতিমা (রা.), তারপর খাদীজা (রা.), তারপর ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া (আ.)। এ চারজন নারীই বেহেশতে সকল নারীর নেত্রী হবেন। তাঁদের মর্যাদা ও সম্মান সর্বাধিক।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাকে (রা.) বলতেন, হে মা ফাতিমা (রা.)! তোমার সন্তুষ্টিতে স্বয়ং আল্লাহ সন্তুষ্ট হন। আর তোমার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহপাক ক্রুদ্ধ হন।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন আমি সর্বপ্রথম পুলসিরাত পার হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করব। এরপর ঘোষণা করা হবে, উপস্থিত সকল আদম সন্তান তোমরা চোখ বন্ধ কর, নবীর শ্রেষ্ঠ কন্যা ফাতিমা (রা.) পুলসিরাত পার হবেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর বেহেশতে প্রবেশ করবেন ফাতিমা (রা.)।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাকে পৃথিবীর মানুষদের মাঝে সবচেয়ে বেশি ভালবাসতেন, আদর ও স্নেহ করতেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোন সফর, যুদ্ধ বা বাহিরে থেকে ফিরে এসে প্রথমে মসজিদে দু'রাকাত নামায আদায় করতেন এবং এরপর ফাতিমার (রা.) বাড়িতে যেতেন। এরপর নিজ গৃহে ফিরে যেতেন। একবার গৃহের কাজ করতে গিয়ে ফাতিমা (রা.) ঘুমিয়ে পড়লে, তিনজন ফিরিশতা কর্তৃক যথাক্রমে গমের যাতা ঘুরানো, হোসাইনের (রা.) দোলনা দোলানো এবং ফাতিমার পর্দা রক্ষা ও তসবী পাঠ অব্যাহত রাখা হয়েছিল। মহান আল্লাহ ফাতিমার (রা.) উপর এতটাই সন্তুষ্ট ছিলেন।

ফাতিমা (রা.) শেরে-এ-খোদা আলীর (রা.) সম্মানিত স্ত্রী এবং বেহেশতের যুবকদের সর্দার হাসান ও হোসাইনের (রা.) মা। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, হাসান ও হোসাইনকে (রা.) নিজের কলিজার টুকরা বলেছেন। এ দু'বেহেশতি মহামানব, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিঠে চড়তেন এবং তাদের নানা বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া সাজতেন।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার ফাতিমা, আলী, হাসান ও হোসাইন (রা.) কে নিজের চাদরের নিচে টেনে নেন এবং বলেন, আল্লাহপাক তোমাদেরকে অপবিত্রতা দূর করে পবিত্র করণের ইচ্ছা পোষণ করেছেন। হযরত ফাতিমার (রা.) গৃহে ফেরেশতা মারফত বেহেশত থেকে খানা পরিবেশন করা হয়েছে এবং সে খানা বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেয়েছেন।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 উন্মুল মু‘মিনীন হযরত আয়িশা (রা.)

📄 উন্মুল মু‘মিনীন হযরত আয়িশা (রা.)


জিব্রাঈল (আ.) রেশমি কাপড়ে আয়িশার (রা.) ছবি নিয়ে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিয়ের পূর্বেই আগমন করেন এবং বিয়ের পয়গام পেশ করেন। হযরত আয়িশা (রা.) বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একমাত্র কুমারী স্ত্রী। বাকী সবাই বিধবা বা পূর্বে বিবাহিত ছিলেন।

তিনি সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় মুহাদ্দিস ছিলেন। তাঁর দ্বারা সহস্রাধিক হাদীস উম্মতে মুহাম্মদীর নিকট পেশ হয়েছে। তিনি পূত পবিত্র ছিলেন। বছরের পর বছর রোযা রাখতেন। রাতভর ইবাদত করতেন এবং দান খয়রাত করতে করতে রিক্তহস্ত হতেন। এমনভাবে দান করতেন যে, ইফতারের জন্য সামান্য খানা পর্যন্ত রাখতেন না। পবিত্র কুরআনে তার পবিত্রতার স্বপক্ষে দশটি আয়াত নাযিল হয়েছে। তার নামে অপবাদ দেয়া হয়েছিল এবং তিনি অসীম দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। আল্লাহ, একটি কচি শিশুকে বাক শক্তি দিয়ে তার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে আয়িশাকে (রা.) দোষ মুক্ত করেন।

তার কারণেই উম্মতে মুহাম্মদী তায়াম্মুমের মত পবিত্র হওয়ার সহজ নিয়ম তথা নির্দেশনা লাভ করেছে।

বড় বড় সাহাবী এবং খলিফাগণ ধর্মীয় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে তার কাছ থেকে নির্দেশ, সমাধান এবং উপদেশ গ্রহণ করতেন। তিনি আশির উপরে হায়াতে জিন্দেগীতে থেকে উম্মতে মুহাম্মদীর এ মহান সেবা করে গেছেন। অথচ তিনি মাত্র তেইশ বছর বয়সে বিশ্বনবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হারিয়ে বিশাল পরীক্ষার মধ্যে জীবন কাটিয়ে ছিলেন। তিনি এ উম্মতের অন্যতম মুফতী ও ফিকাহবিদ ছিলেন। তাঁর কোলেই বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত হয়। তাঁর গৃহেই বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমাধি রচিত হয়েছে। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশার (রা.) সাথে একই লেপের নিচে শায়িত অবস্থায় অহী নাযিল হয়েছে। তিনি (রা.) এতটাই পবিত্র ছিলেন। আয়িশা (রা.) ইসলামের প্রথম খলিফা এবং শ্রেষ্ঠ বিশ্বাসী আবু বকর সিদ্দিকের (রা.) কন্যা এবং সিদ্দিকা ছিলেন।

আয়িশা (রা.) শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক পরামর্শদাত্রী, যুদ্ধ ক্ষেত্রে সেবা পরিচালনাকারিণী, শ্রেষ্ঠ বাগ্মী, শ্রেষ্ঠ শিক্ষায়িত্রী, রাতভর নফল ইবাদতকারিণী এবং বছর ধরে রোযা পালনকারিণী ছিলেন। তিনি পবিত্র, শ্রেষ্ঠ নারী সাহাবী এবং মহান আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় ছিলেন। আয়িশা (রা.) সমগ্র নারী জাতির অহংকার।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.)

📄 ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.)


পূর্ণ বয়স্কদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণ করে তিনি জিজ্ঞেস করেন, হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাজ কি? বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দেন, হে আবু বকর আমার যে কাজ, তোমারও উচিত সে কাজের অনুসরণ করা অর্থাৎ ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানো। তিনি সে মুহূর্ত থেকে দাওয়াত ও তাবলীগ শুরু করেন এবং প্রথম দিনেই ছয় মতান্তরে চার জন বিখ্যাত সাহাবীকে ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে আসেন।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন আবু বকরের আমলের পাল্লা, সারা উম্মতে মুহাম্মদীর আমলের পাল্লার চেয়েও ওজনদার। কেননা, তিনি ইসলামের প্রথম দিন থেকে শুরু করে সবচেয়ে সফলভাবে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করেন। এমনকি পৃথিবীতে থাকা অবস্থায় দশ সাহাবী, যারা বেহেশতের সুসংবাদ পেয়েছেন; তাদের ছয়জনই আবু বকরের (রা.) অর্জন। তিনি ছিলেন দাওয়াত ও তাবলীগের মহীরুহ (বটবৃক্ষ)।

আবু বকর (রা.) বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অহী নাযিলের ঘটনা শোনামাত্র চিৎকার করে কলেমা পাঠ করেন- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। বালক আলীর (রা.) পর তিনিই প্রথম পুরুষ, যিনি বিনাবাক্যে ইসলাম গ্রহণ করেন। আবু বকর (রা.) ছিলেন আরবের খ্যাতনামা ব্যক্তি। বন্ধুমহলে তাঁর প্রচুর খ্যাতি ও গ্রহণ যোগ্যতা ছিল। তাই আবু বকর (রা.) বন্ধু মহলে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করে সফল হন। ওসমান, সায়াদ ইবনে ওয়াক্কাস, আবদুর রহমান ইবনে আউফ, তালহা, জুবায়ের (রা.) এর মত মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ প্রধানগণ আবু বকরের দাওয়াত ও তাবলীগের ফসল।

আবু বকর (রা.) শতসহস্র দাস-দাসীর মাঝে দাওয়াত ও তাবলীগ করেন এবং সফল হন। তিনি শত শত দাস-দাসীকে যুলুম থেকে উদ্ধার করেন। এদের মাঝে জগৎ বিখ্যাত সাহাবী বিলাল, খাব্বাব, আমর ইবনে ইয়াসের (রা.) প্রমুখ রয়েছেন। যাদেরকে উচ্চমূল্যে তাঁদের নিষ্ঠুর মালিকের কাছ থেকে ক্রয় করে মুক্ত করে দিয়েছিলেন কোমল প্রাণের অধিকারী আবু বকর (রা.)।

তাবুক যুদ্ধে মুসলমানদের হাতে ভয়াবহ অর্থকষ্ট ছিল। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলকে আহবান জানালেন। ওসমান এবং ওমর (রা.) তাঁদের সম্পদের অর্ধেক পেশ করলেন। আর আবু বকর তাঁর পুরো সম্পদ দান করে বললেন, আমি ঘরে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে রেখে এসেছি। তখন ওমর (রা.) বলেছিলেন, ইসলামের সেবায় কেউ আবু বকরকে (রা.) অতিক্রম করতে পারবে না।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মি'রাজের ঘটনা মক্কাবাসীর মাঝে ব্যক্ত করলেন, তখন সকলেই তাঁকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা শুরু করল। এ ঘটনায় কেউ হতবাক হলেন, কেউ বিস্মিত হলেন, কেউ দ্বিধান্বিত হলেন, কেউ চিন্তিত হলেন। আর কাফিররা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাগল বলতে লাগল (নাউযু বিল্লাহ)। সবাই আবু বকরের (রা.) কাছে গেল। তিনি মি'রাজের ঘটনা শুনে বললেন, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তা সত্য। আবু বকর (রা.) বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এতটুকু নিশ্চিত হলেন যে, তিনি ঐ কথা বলেছেন কিনা? এরপর উচ্চৈঃস্বরে আবু বকর (রা.) কলেমা পাঠ করলেন এবং বললেন, আল্লাহর রাসূল যা বলেন সবই সত্য। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরকে বললেন, তিনি সিদ্দিক (সত্যবাদী ও বিশ্বাসী)। এরপর থেকেই আবু বকরের (রা.) নাম সিদ্দিক হয়ে যায়।

মক্কার কাফিরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রিয়সাথী আবু বকরকে নিয়ে মদীনার পথে হিজরত করেন। পথিমধ্যে গুহার মাঝে তিনদিন অবস্থান করেন। গুহায় বিষধর সর্পের দংশনে আবু বকর (রা.) কাতর হয়ে যান। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মুখের লালা দংশিত স্থানে লাগান এবং আবু বকর (রা.) সুস্থ হয়ে উঠেন। আবু বকর গুহায় চিন্তিত হলে, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এ বলে আশ্বাস দেন যে, তুমি চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। এ ব্যাপারে আবু বকর (রা.) ও বিশ্বনবীকে নিয়ে আল-কুরআনে আয়াত নাযিল হয়েছে। (তওবা : ৪০)

আবু বকর (রা.) কে স্বয়ং আল্লাহপাক সালাম পেশ করেছেন। জিব্রাঈল (আ.) সে সালাম নিয়ে পৃথিবীতে এসেছেন। মসজিদে নববীতে আবু বকরের (রা.) দরজা সব সময় খোলা ছিল ও থাকবে। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয় আমি প্রেম ও ভক্তিতে আবু বকরকেই (রা.) শ্রেষ্ঠ মনে করি। এ মসজিদের সমস্ত দরজা বন্ধ থাকবে, কেবল মাত্র খোলা থাকবে আবু বকরের (রা.) দরজা।

ওহুদের যুদ্ধে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্তে পড়ে গেলে, আবু বকর (রা.) তাকে টেনে তোলেন। যুদ্ধে আবুবকর (রা.) তাঁর ছেলেকে (তখনও সে মুসলমান হয়নি) হত্যা করতে উদ্ধত হন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরকে বারণ করেন। ইসলামের সেবায় আবু বকর এতটাই দৃঢ়চেতা ও নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। পরিখার (খন্দকের) যুদ্ধে আবু বকর নিজের জামায় বেঁধে মাটি উত্তোলন করেছেন। হুদায়বিয়ার সন্ধির সময়, সকল সাহাবারা যখন মন কষ্টে চুপ করে থাকেন। তখনও একমাত্র আবুবকর (রা.) বিশ্বনবীকে অনুসরণ করেন। সকলকে বুঝাতে থাকেন ও বুঝাতে সক্ষম হন যে, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর ইঙ্গিতেই এ সন্ধিতে সম্মতি দিয়েছেন। মক্কা বিজয়ের দিন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই উটে বসেছিলেন আবুবকর (রা.), ঠিক যেভাবে একই উটে বসে মক্কা থেকে মদিনার পথে হিজরত করেছিলেন। এভাবে সুখে দুখে সবসময়ই আবু বকর (রা.), বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে থেকেছেন।

বিশ্বনবীর জীবদ্দশাতেই মসজিদে নববীতে ১৭ ওয়াক্ত নামাযের ইমামতি করেন আবু বকর (রা.)। এমনকি তিনি স্বয়ং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে দাঁড়িয়ে ইমামতির সুযোগ পেয়েছিলেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন জীবন সায়াহ্নে। জুমার নামাযে ইমামতি করছেন আবু বকর (রা.)। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামাগুড়ি দিয়ে, সাহাবাদের কাঁধে ভর দিয়ে পিছনে নামায পড়তে এলেন। আবু বকর (রা.) ইমামতির স্থান ত্যাগ করতে চাইলে, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নামায পরিচালনার নির্দেশ দেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পাশে বসে নামায আদায় করেন। এভাবেই সেদিন আবু বকর (রা.) পূর্ণ মানবের পরিপূর্ণ প্রতিনিধি হয়ে ইসলামের দুর্লভ সম্মানের অধিকারী হয়ে যান। তিনি ইসলামের অদ্বিতীয় ইমাম। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর সময় বলেন, আমি যদি আল্লাহকে ছাড়া কাউকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে আবু বকরকেই গ্রহণ করতাম। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতে নিজের অবর্তমানে আবু বকর (রা.)-কে ইসলামের প্রথম খলিফা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করে যান।

কথিত আছে একবার জিব্রাইল (আ.) আবু বকরের কাছে মানুষের আকৃতিতে এসে প্রশ্ন করেন, হে আবু বকর সিদ্দিক (রা.) আপনি কি বলতে পারবেন, এ মুহূর্তে জিব্রাঈল (আ.) কোথায়? আবু বকর (রা.) চোখ বন্ধ করলেন এবং তাকালেন। বললেন, আমি আকাশ ও যমীনে কোথাও জিব্রাঈল (আ.) কে খুঁজে পেলাম না। আর আমি যেহেতু আবু বকর; অতএব আপনিই ফিরিশতা জিব্রাঈল (আ.)। আল্লাহপাক আবু বকর (রা.) কে এতটাই যোগ্যতা দিয়েছিলেন। ফিরিশতা জিব্রাঈল (আ.) আবু বকরের এমন আধ্যাতিক যোগ্যতা দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যান। দাওয়াতের ময়দানে কুরবানী করতে করতে আর বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সবসময় জুড়ে থাকার কারণে আবু বকরের (রা.) ভিতর তাকওয়া, দ্বীনকে মানা এবং ঈমানের এমন এক যোগ্যতা অর্জিত হয়েছিল, যা অন্য কোন মানুষের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়। আল্লাহ যাকে ভালবাসেন, মহাবিশ্ব তাকে মর্যাদা করে এবং দুনিয়া তার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ে। এটাই জগতের নিয়ম। আবু বকর (রা.) এর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।

এক বর্ণনায় এসেছে, কিয়ামতের পর হাশরের ময়দানে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। মানুষ নিজেদের ঘামে সাঁতার কাটতে থাকবে। সবাই বলতে থাকবে আমার কি হবে? আমার কি হবে (ইয়া নাফসী! ইয়া নাফসী!)। সূর্য মাথার কাছাকাছি চলে আসবে। ঘিলু বা ব্রেইন টগবগ করে ফুটতে থাকবে। আল্লাহপাক ভয়ঙ্কর মূর্তি ধারণ করবেন। আল্লাহ বলবেন, আমি কাহহার; কঠিন হিসাব গ্রহণকারী; যথার্থ প্রতিদানকারী। কে আছ? কাকে আমার সামনে পেশ করবে? কে বিচারের জন্য প্রস্তুত? নবী রাসূলরা দিশেহারা হয়ে যাবেন। সকল নবী রাসূলরা বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরণাপন্ন হবেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সামনে যাবেন এবং বিচারের জন্য আবু বকরকে আল্লাহর কাছে পেশ করবেন। ফলশ্রুতিতে সেদিন কঠিন ও ভয়ঙ্কর মেজাযের আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা তাঁর কাহহার মূর্তি হতে অতি শীতল হয়ে যাবেন। আল্লাহ বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলবেন, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তুমি কাকে আমার কাছে পেশ করলে? আমি আবু বকরের প্রতি এত বেশী রাজিখুশী যে, তাঁর বিচার করতে লজ্জাবোধ করছি। যে আবু বকর দাওয়াত ও তাবলীগের জন্য, মানুষের মুক্তির জন্য; ইসলামের জন্য; নিজের জান, মাল, সময় দিল, দিমাক ও হিকমতকে শতভাগ কুরবানী করে দিয়েছে। সে আবু বকরের কি বিচার করব আমি? মহান আল্লাহপাকের এ উক্তিতে বিশ্বের সকল নবী রাসূলরা অভিভূত ও লজ্জিত হয়ে যাবেন। উম্মতে মুহাম্মদীর মর্যাদা এবং কুরবানী আল্লাহপাকের কাছে কতটাই পছন্দনীয়। আর এ আবু বকরের (রা.) পিছে লক্ষ কোটি মুসলমান- যারা তার দ্বারা হিদায়াত পেয়েছে এবং পরবর্তীতে এ সিলসিলা চালু রেখেছে; সকলেই বিশাল কাফেলার আকারে বেহেশতে প্রবেশ করবে। অন্যান্য নবী রাসূলরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাবেন। ভাববেন এ আবার কোন নবী? তার তো কোন নাম শুনিনি। হযরত আবু বকর দাওয়াত ও তাবলীগের কুরবানীর বিনিময়ে এতটাই মর্যাদা লাভ করেছেন এবং হাশরের ময়দানে পুনরায় মর্যাদার চূড়ায় অবস্থান করবেন।

আবু বকর (রা.) মৃত্যুর সময় কন্যা আয়িশাকে (রা.) বলেন, আমার গায়ে দু'টুকরা কাপড় আছে, আরেক টুকরা যোগাড় করে কাফন দিও (তিন টুকরাতে কাফন হবে)। তিনি সোমবার দিন অতি দ্বীনহীনভাবে আয়িশার (রা.) কোলে মাথা রেখে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তার সম্পদ হিসেবে ছিল, একজন হাবশী গোলাম, একখণ্ড বস্ত্র ও একটি উট। তিনি মাত্র দু'বছর খিলাফতের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ১৩ হিজরী বা ৬৩৪ খ্রীঃ মাগরিব ও এশার নামাযের মাঝামাঝি সময় রোজ সোমবার ৬৩ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন। সমগ্র মুসলিম জগতে স্বয়ং বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া যেকোন সংকটময় মুহূর্তে, যে কোন সমস্যার সমাধান কল্পে, পবিত্র কুরআনের উদ্ধৃতি প্রয়োগে আবু বকরের (রা.) মত এত পারদর্শী কেউ ছিলেন না। তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ তাফসীরকারক, শ্রেষ্ঠ মুফতী এবং অন্যতম সংস্কারক।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত (ইন্তিকালের) পর কিংকর্তব্যবিমূঢ় সাহাবাদের মাঝে চরম বিশৃংখলা দেখা দেয়। এমনকি ওমর (রা.) খোলা তরবারী নিয়ে চিৎকার করতে থাকেন। যে বলবে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেই; তাকে আমি কতল করে ফেলব। ঠিক তখন আবু বকর (রা.) শক্ত হাতে দৃঢ় মনোবলের সাথে সমস্ত ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করেন। আবু বকর (রা.) বলেন, তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইবাদত করে; সে জানুক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিশ্চয় ইন্তিকাল করেছেন এবং তোমাদের মাঝে যে, আল্লাহর ইবাদত করে, সে জানুক আল্লাহ চিরজীবিত; তিনি কখনও মরেন না। তিনি আল-কুরআনের দু'টি আয়াত পাঠ করেন। "মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন নবী ব্যতীত কিছু নন; তাঁর পূর্বেও বহু নবী গত হয়েছেন। যদি তিনি মারা যান বা নিহত হন, তাহলে কি তোমরা বিমুখ হবে? যারা বিমুখ হবে, তারা আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না এবং আল্লাহ সত্বর কৃতজ্ঞ বান্দাদের প্রতিদান দেন." "হে মুহাম্মদ; তোমাকে এবং তাদের সকলকেই মরতে হবে." এরপর সবকিছু নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। সবাই একে একে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য দোয়া করেন। আবু বকর (রা.) তার মেধা, দৃঢ়তা ও ঈমানী শক্তি দিয়ে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর মুসলমানদের নেতৃত্ব দেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের পর তিনিই প্রথম খলিফা নির্বাচিত হন এবং সফলভাবে দ্বীনের কাজ করেন। তার দাওয়াতের কর্মকাণ্ডে ও শাসনামলে বিধর্মীরা দলে দলে ইসলামে দীক্ষা লাভ করে। আবু বকরই ইসলামের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ সেবক, শ্রেষ্ঠ খলিফা, শ্রেষ্ঠ নবী প্রেমিক, শ্রেষ্ঠ মানব, শ্রেষ্ঠ সিদ্দিক বা বিশ্বাসী এবং শ্রেষ্ঠ মুসলমান। তিনি উম্মে মুহাম্মদীর সর্বশ্রেষ্ঠ দায়ী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00