📄 ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবা
১। হযরত খাদীজা (রা.)
২। হযরত আলী বিন আবু তালিব (রা.)
৩। হযরত যায়েদ বিন হারেসা (রা.)
৪। হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)
৫। হযরত উসমান বিন আফফান (রা.)
৬। হযরত যুবায়ের (রা.)
৭। হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা.)
৮। হযরত তালহা বিন উবায়দুল্লাহ (রা.)
৯। হযরত আবু উবায়দা বিন জাররাহ (রা.)
১০। হযরত আবু সালামা (রা.)
১১। হযরত আরকাম বিন আবু আরকাম (রা.)
১২। হযরত উসমান বিন মাজুন (রা.)
১৩। হযরত কুদামা বিন মাজুম (রা.)
১৪। হযরত আবদুল্লাহ বিন হারিস (রা.)
১৫। হযরত ফাতিমা বিনতে খাত্তাব (রা.)
১৬। হযরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.)
১৭। হযরত আমির বিন রাবিয়া (রা.)
১৮। হযরত আবদুল্লাহ বিন জাহশ (রা.)
১৯। হযরত আবু আহমদ বিন জাহশ (রা.)
২০। হযরত জাফর বিন আবু তালিব (রা.)
২১। হযরত আসমা বিনতে উমায়েস (রা.)
২২। হযরত হাতিব বিন হারিস (রা.)
২৩। হযরত ফাতিমা বিনতে মুজাল্লি (রা.)
২৪। হযরত হাত্তাব বিন হারিস (রা.)
২৫। হযরত ফুকায়হা বিনতে ইয়াসর (রা.)
২৬। হযরত আমর বিন হারিস (রা.)
২৭। হযরত সাইদ বিন হারি উসমান ইবনে মাজুন (রা.)
২৮। হযরত মুত্তালিব বিন আজহার (রা.)
২৯। হযরত রমলা বিনতে আবু আউফ (রা.)
৩০। হযরত আন্নাহাম বিন আবদুল্লাহ (রা.)
৩১। হযরত আমির বিন যুহায়রা (রা.)
৩২। হযরত খালিদ বিন সাঈদ (রা.)
৩৩। হযরত উমায়না (খালিদের স্ত্রী) (রা.)
৩৪। হযরত আয়িশা বিনতে আবু বকর (রা.)
৩৫। হযরত খাববাব (রা.)
৩৬। হযরত উমায়ের বিন আবু ওয়াক্কাস (রা.)
৩৭। হযরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.)
৩৮। হযরত মাসুম বিন কারী (রা.)
৩৯। হযরত সালিত বিন আমর (রা.)
৪০। হযরত আইয়াশ বিন রাবিয়া (রা.)
৪১। হযরত আসমা বিনতে সালামা (রা.)
৪২। হযরত খুনায়েস (রা.)
৪৩। হযরত হাতিব বিন আমর (রা.)
৪৪। হযরত আবু হুজায়ফা (রা.)
৪৫। হযরত ওয়াকিদ বিন আবদুল্লাহ (রা.)
৪৬। হযরত খালিদ বুকায়ের (রা.)
৪৭। হযরত আকিদ বিন বুকায়ের (রা.)
৪৮। হযরত আয়াস বিন বুকায়ের (রা.)
৪৯। হযরত আমির বিন বুকায়ের (রা.)
৫০। হযরত আম্মার বিন ইয়াসির (রা.)
৫১। হযরত সুহায়ের বিন সিনান (রা.)
৫২। হযরত ফাতিমা (রা.) বিনতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
৫৩। হযরত রুকাইয়া (রা.) বিনতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
৫৪। হযরত যয়নব (রা.) বিনতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
৫৫। হযরত উম্মে কুলসুম (রা.) বিনতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
উল্লেখ: নবুওয়াতের প্রথম তিন বছরের মধ্যে এসব সম্মানিত সাহাবীরা ঈমান আনেন। এরপর হযরত ওমর ফারুক (রা.) মুসলমান হলে প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত শুরু হয়। একই সময় হযরত হামযা ইবনে মুত্তালিব (রা.) ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমানদের শক্তি বৃদ্ধি করেন। (ইবনে ইসহাক)
📄 ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে ভয়াবহ নির্যাতন ভোগকারী সাহাবা
১। উসমান বিন আফফান (রা.) : উমাইয়া গোত্রের একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ৩৮ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণ করার কারণে তাঁর চাচা হাকাম বিন আবিল আস তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে বেদম প্রহার করেন। তিনি নীরবে সমস্ত অত্যাচার সহ্য করেন। উসমান (রা.) পরে ইসলামের তৃতীয় খলিফা নির্বাচিত হন।
২। যুবায়ের বিন আওয়াম (রা.) : বনু আসাদ গোত্রের একজন সাহসী পুরুষ ছিলেন। তিনি ইসলামের গোড়ার দিকে রাসূলুল্লাহ (রা.) এর নিকট দ্বীনের দীক্ষা গ্রহন করেন। তাঁর চাচা তাঁর সমস্ত শরীরে কম্বল দ্বারা জড়িয়ে আগুন ধরিয়ে শাস্তি দিত। যাতে তিনি ইসলাম ত্যাগ করেন। যুবায়ের (রা.) সমস্ত অত্যাচার হাসি মুখে সহ্য করে, বলিষ্ঠ কণ্ঠে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করতেন।
৩। সাইদ বিন যায়েদ (রা.) : বনু আদি গোত্রের একজন স্বনামধন্য ব্যক্তি এবং হযরত ওমর (রা.) এর ভগ্নিপতি ছিলেন। তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন শুনে, ওমর (রা.) (তখনও তিনি মুসলমান হননি) তাকে বেদম প্রহার করেছিলেন। প্রহারে বাধা দিলে এক পর্যায়ে ওমর (রা.) নিজের বোনকে রক্তাক্ত করে ফেলেন। বোনের রক্ত দেখে তাঁর চৈতন্যোদ্বয় হয়। বোনের নিকট থেকে কুরআন তিলাওয়াত শুনে তিনি ঐশী চেতনায় আপ্লুত হন। দৌড়ে গিয়ে তখনই মহানবীর (রা.) নিকট বাইয়াত হন।
৪। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) : তিনি হুদাইল সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন। কা'বা গৃহের সামনে তিনি একদিন গণপ্রহারে আহত হন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
৫। আবু যর গিফারী (রা.): সিরিয়ার নিকটবর্তী গিফার বংশের একজন জেদী পতি ছিলেন। ইসলাম গ্রহণ করায় মক্কার প্রান্তরে তাকে নির্দয়ভাবে প্রহার করা হয়। আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব তাকে উদ্ধার না করলে হয়ত সেদিন তিনি শহীদ হয়ে যেতেন।
৬। বিল্লাল বিন রাবাহ (রা.) : উমায়ের ইবনে খালফের ক্রীতদাস ছিলেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের কারণে তিনি যে অসহনীয় অত্যাচার সহ্য করেছেন এবং কেবল 'আহাদ' 'আহাদ' উচ্চারণ করেছেন; তা বিশ্ববিধৃত। তাঁর সুমধুর ও উচ্চ কণ্ঠস্বরের জন্য তাকে মসজিদে নববীতে মুয়াযযিন নিযুক্ত করা হয়। তাকে আরবের তপ্ত মরুর বালিতে খালি গায়ে টানা হেচড়া করা হত।
৭। আবু ফাকিহ (রা.): তিনি ছিলেন সঞ্চয়ান বিন উমাইয়ার ক্রীতদাস। আবু ফাকিহ (রা.) হযরত বিল্লালের মতই অত্যাচারিত ও নির্যাতিত হয়েছিলেন। তাকে বেদম প্রহার করা হত। প্রতিদিনই রুটিন করে মারপিট করা হত। তবুও তিনি ইসলামে অটল থেকেছেন।
৮। আমির ইবন ফুহাইর (রা.): তিনি একজন ক্রীতদাস ছিলেন। তাকেও অন্যান্য ক্রীত দাসের মত অজস্র দুঃখ কষ্ট নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল। হযরত আবু বকর (রা.) তাকে খরিদ করে আজাদ করে দেন। পরে তিনি আবু বকর (রা.) এর বকরী চরাতেন। তাকে অমানুষিকভাবে নির্যাতন করা হত। বনের পশু পাখিও এ ধরনের নির্দয় ব্যবহার পায়নি।
৯। লাবিনা (রা.) : তিনি ছিলেন বনু আদি গোত্রের একজন ক্রীতদাসী। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। হযরত ওমর (রা.) ইসলাম গ্রহণ করার পূর্বে লাবিনাকে নির্মমভাবে প্রহার করেছেন। প্রহার করতে করতে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়তেন, তখন বিশ্রাম নিয়ে আবার প্রহার করতেন। কিন্তু এত প্রহারের পরও কোন ফল হয়নি। লাবINA আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রশংসা থেকে এক মুহূর্তও বিরত হননি। ওমর (রা.) ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পর লাবিনা (রা.) তাকে বলেছিলেন, আপনি আমার সাথে যে নির্দয় ব্যবহার করেছেন, আপনি মুসলমান না হলে আল্লাহ আপনাকে কখনও ক্ষমা করতেন না।
১০। জুনায়ের (রা.): তিনি ছিলেন বনু মাখজুম গোত্রের একজন ক্রীতদাসী। আবু জাহল তাকে মারতে মারতে তার দু'চোখ নষ্ট করে দিয়েছিল।
১১। সুহায়েব বিন সিনান রুমী (রা.) : তাকে কুরাইশদের লোকেরা প্রায়ই মারতে মারতে বেহুশ করে ফেলত। সুহায়েব (রা.) এর কণ্ঠস্বর অত্যন্ত মধুর ছিল। তাঁর কুরআন পড়া শুনে লোকেরা মুগ্ধ হয়ে যেত।
১২। খাববাব বিন আরাত (রা.): তিনি কামারের কাজ করতেন। অত্যাচারের এক পর্যায়ে তারই কামারশালায় জ্বলন্ত অংগার তার পিঠে চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। এ ঘটনার কয়েক বছর পর, তিনি হযরত ওমর (রা.) এর নিকট এর বর্ননা করেন, তাঁর পিঠের সাদা গর্তগুলো তাকে দেখান। খাববারের (রা.) পিঠের গলিত চর্বিতে অংগার নিভে যেত। এমন নিমর্ম অত্যাচার কোন মানুষকে কখনো করা হয়নি।
১৩। আম্মার (রা.): তাঁকে আবু জাহল বহুবার বেদম প্রহার করে। একসময় আবু জাহল মনে করেছিল, তিনি মারা গেছেন। আল্লাহর অপূর্ব মহিমায় তিনি বেঁচে যান।
১৪। ইয়াসির এবং সুমাইয়া (রা.): আম্মারের (রা.) বাবা ইয়াসির ও তার জননী সুমাইয়া (রা.) আবু জাহেলের নির্যাতনে যথাক্রমে আহত ও প্রাণ ত্যাগ করেন। মহিলা সাহাবী সুমাইয়াকে (রা.) নির্মমভাবে শহীদ করা হয়। এটাই ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম শাহাদতের ঘটনা। সুমাইয়া (রা.) এর লজ্জাস্থানে আবু জাহল বর্শা নিক্ষেপ করে। ফলশ্রুতিতে এ মহিলা সাহাবী করুণভাবে মৃত্যুবরণ করেন।
📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশে ইসলামের প্রথম হিজরত ও প্রথম আবাসা
ইসলামে হিজরত (অর্থাৎ নিজ এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় শুধুমাত্র দ্বীনের খাতিরে যাওয়া) একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরয কাজ। আমরা সবাই জানি যে, প্রতিটি মানুষের কাছে তার জন্মভূমি, ধন-সম্পদ এবং পরিবার পরিজন সবচেয়ে প্রিয় এবং এসব মূল্যবান পুঁজির উপরই মানুষের পার্থিব জীবনের সুখ-শান্তি নির্ভরশীল। কিন্তু উন্নত ও আদর্শ জীবনের জন্য, এসব উদ্দেশ্যের ঊর্ধ্বেও আরো বিশেষ এক উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে। তা হচ্ছে মহান আল্লাহর মারিফত অর্থাৎ সান্নিধ্য বা পরিচয় লাভ করা। আর এ পরিচয় লাভ করার নামই দ্বীন। মানুষ যখন এর প্রকৃত উদ্দেশ্য লাভ করতে সক্ষম হয়, তখন তার দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে এমন প্রশস্ততা ও উচ্চতা সৃষ্টি হয়ে যায় যে, দুনিয়ার সকল মহামূল্যবান বিষয়, নিজের দেহ-মন, ধন-সম্পদ, এমনকি পরিবার-পরিজনকেও ত্যাগ করে, অমূল্য রত্ন ঈমানের গায়ে সামান্য আঁচ পর্যন্ত লাগতে দেয় না। এমনি এক বিশেষ অবস্থাকে ইসলামের পরিভাষায় হিজরত বলা হয়। এ কারণেই একজন খাঁটি মু'মিন এবং একজন কাফির বা মুনাফিক ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের জন্য হিজরত একটি সর্বোত্তম কষ্টিপাথর ও মাপকাঠি। রূহানী জগতের তাপমাত্রা জানার জন্য জিহাদ ও হিজরত এমন দু'টি থার্মোমিটার বা তাপমাপার যন্ত্র, যার দ্বারা মু'মিনের ঈমানের 'উত্তাপ' এর সঠিক অনুমান করা যায়। খাঁটি ঈমানদার ব্যক্তি ব্যতীত কারো পক্ষে হিজরত করা সম্ভব নয়। দ্বীনের জন্য সকল নবীকেই হিজরত করতে হয়েছে। হিজরতে হিদায়াত লাভ হয়। হিজরত ও জিহাদ মু'মিনের সর্বোচ্চ ও কঠিনতম পরীক্ষা।
এ পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহর দ্বীনের উপর সুদৃঢ় থাকা এবং দ্বীনের হিফাযতের উদ্দেশ্যে ইসলামের জন্য উৎসর্গকৃত প্রাণ সাহাবায়ে কেরামকে জন্মভূমি ত্যাগ করার পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। আল্লাহ বলেন- হে আমার ঈমানদার বান্দারা! আমার পৃথিবী বিশাল বিস্তৃীর্ণ। অতএব, তোমরা আমারই বন্দেগী গ্রহণ কর (সূরা আনকাবৃত: ৫৬)। অর্থাৎ মক্কায় যদি আল্লাহর বন্দেগী কঠিন হয়ে গিয়ে থাকে, তবে দেশ ত্যাগ করে চলে যাও। আল্লাহর যমীন সামান্য বা সংকীর্ণ নয়। যেখানে আল্লাহর বান্দা হয়ে বসবাস করতে পার সেখানেই চলে যাও। দেশ ও জাতির বন্দেগী করা তো তোমাদের কাজ নয়। নবুওয়াতের ৫ম বছর কুরাইশ সরদার ও নেতারা যখন ইসলামী দাওয়াতী কাজকে হাসি, ঠাট্টা-বিদ্রূপ, প্রলোভন, ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা অভিযোগ প্রভৃতি দ্বারা দমন করতে ব্যর্থ হল, তখন অত্যাচার, উৎপীড়ন, নিপীড়ন, মারপিট এবং অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার ব্যবহার করতে লাগল। এ অবস্থাটি বিশেষভাবে দরিদ্র ও ক্রীতদাসদের মর্মান্তিকভাবে নিষ্পেষিত করতে থাকে। যার করুণ চিত্র ইতিহাসের পাতায় সবিস্তারে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
এ অবস্থা যখন সহ্যের সীমা অতিক্রম করে গেল, তখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গী সাথীদের বললেন, তোমরা যদি হাবশায় (বর্তমান ইথিওপিয়া) চলে যাও, তবে খুব ভাল হয়। কেননা, সেখানে এমন একজন বাদশাহ আছে যার রাজত্বে কারো উপর যুলুম করা হয় না। তা কল্যাণের দেশ। যতদিন আল্লাহ তোমাদের জন্য এ বিপদ হতে মুক্তি লাভের কোন ব্যবস্থা করে না দেন, তত দিন তোমরা সেখানেই অবস্থান করতে থাক। হাবশার তৎকালীন শাসনকর্তা আসহামা নাজ্জাশী একজন ঈসায়ী ধর্মাবলম্বী শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন। এ কারণে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সাহাবীকে অনুমতি দিলেন যে, তারা যেন সোজাসুজি হাবশার দিকে হিজরত করে চলে যান। একথা শুনে প্রথমে ১১জন পুরুষ ও ৪জন মহিলা হাবশার পথে রওনা হয়ে যায়। কুরাইশ লোকেরা সাগরের তীর পর্যন্ত তাদের ধাওয়া করে। কিন্তু সৌভাগ্যবশতঃ তারা যথা সময়ে বন্দরে গিয়ে জাহাজে উঠে পড়েন। ফলে তারা কাফির মুশরিকদের হাত হতে বা গ্রেফতার থেকে রক্ষা পান। অতঃপর কয়েক মাসের মধ্যে আরো কিছু লোক হিজরত করে সেখানে চলে যান। এভাবে সেখানে ৮২জন পুরুষ ও ১১জন মহিলা এবং ৭জন অকুরাইশী মুসলমান (মোট ১০০ জন) তথায় একত্রিত হন। আর মক্কায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে রইল মাত্র ৪০ জন মুসলমান।
হিজরতের কারণে মক্কার ঘরে ঘরে রোল পড়ে যায়। কেননা, কুরাইশ বংশের কোন ঘর বা পরিবার এমন ছিল না, যার কোন না কোন সন্তান এ হিজরতে শামিল ছিল না। কারো পুত্র, কারো জামাতা, কারো কন্যা, কারো ভাই, আবার কারো বোন এতে অংশগ্রহণ করেছিল। কেউ কেউ এ কারণে ইসলামের শত্রুতায় আরো কঠোর ও নির্মম হয়ে পড়ল। আবার অনেকের মনে তার প্রতিক্রিয়া এমন দেখা দিল যে, শেষ পর্যন্ত মুসলমান না হয়ে আর থাকতে পারল না। তখন কুরাইশ সমাজপতিরা গভীরভাবে পরিস্থিতি বিবেচনা করতে বসে গেল এবং সিদ্ধান্ত নিল যে, কয়েকজন লোকের এক প্রতিনিধি দল বহু মূল্যবান উপঢৌকনসহ হাবশা বা আবিসিনিয়ায় পাঠান উচিত। আর যে কোনভাবে বাদশাহ নাজ্জাশীকে বাধ্য করে এ মুহাজিরদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই কুরাইশ বংশের দু'জন ঝানু ও দক্ষ কূটনীতিবিদ পাঠান হয়। তারা সরাসরি নাজ্জাশীর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে বিপুল পরিমাণ উপঢৌকন দিয়ে বলল, আমাদের শহরের কতিপয় অর্বাচীন লোক পালিয়ে আপনার দেশে এসে পৌঁছেছে। আমাদের সমাজপতিরা আপনার দরবারে তাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য দরখাস্ত পেশ করার জন্য আমাদেরকে পাঠিয়েছেন। এ অবুঝ বালকেরা আমাদের দ্বীন ত্যাগ করেছে, কিন্তু আপনার দ্বীনও তারা কবুল করেনি। বরং তারা এক নতুন অভিনব 'দ্বীন' বের করেছে।
কুরাইশ প্রতিনিধিদের কথা শুনে দরবারের সকলেই বলে উঠলো, এদেরকে অবশ্যই ফিরিয়ে দেয়া উচিত। এদের কি দোষ তা তাদের জাতির লোকেরাই ভাল জানে, সে জন্য আমাদের চিন্তা করার দরকার নেই। কিন্তু বাদশাহ নাজ্জাশী তাদের মন্তব্যে বিরক্ত স্বরে বললেন, এভাবে تو আমি তাদেরকে তোমাদের হাতে সপে দিতে পারি না। যেসব লোক আপন দেশ ত্যাগ করে আমার দেশের উপর ভরসা করে আশ্রয় নেয়ার উদ্দেশ্যে এখানে এসেছে, আমি তাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি না। প্রথমে আমি তদন্ত করে দেখব, এরা যা বলে তা কতখানি সত্য। এ বলে নাজ্জাশী মুহাজির মুসলমানদেরকে দরবারে ডেকে পাঠালেন। খবর শুনে মুহাজির মুসলমানরা পরস্পর পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিল যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে শিক্ষা দিয়েছেন কোনরূপ কম বেশী না করে, তাই নাজ্জাশীর দরবারে পেশ করবেন। নাজ্জাশী তাদেরকে তার দেশে থাকতে দিন আর না'ই দিন, সে বিষয়ে কোন চিন্তা করার দরকার নেই। উপরোক্ত সিদ্ধান্তের পর নাজ্জাশীর নিকট কথা বলার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাতো ভাই হযরত জাফর বিন আবু তালিবকে ঠিক করা হয়।
এরপর নাজ্জাশীর প্রশ্নের উত্তরে হযরত জাফর (রা.) ইসলাম ও তার বাহকের চরিত্র এবং বৈশিষ্ট্যগুলো তার ভাষণের মাধ্যমে তুলে ধরেন। সে ভাষণে তিনি প্রথমে আরবের জাহেলিয়াত যুগের নৈতিক ও সামাজিক দোষ ত্রুটিগুলো উল্লেখ করেন। অতঃপর প্রিয় নবীর আগমনে এবং আল্লাহর নিকট হতে আনীত কালামের আলোকে তিনি যে শিক্ষা দেন তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দান করেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য স্বীকার করার কারণে ঈমানদারদের উপর কুরাইশরা যেসব অত্যাচার যুলুম চালিয়েছে তারও বিবরণ পেশ করেন। শেষ পর্যায়ে তিনি এদেশে আশ্রয় গ্রহণের কারণ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন যে, আমরা আপনার দেশে এ আশায় এসেছি যে, আমাদের উপর কোনরূপ যুলুম করা হবে না।
নাজ্জাশী হযরত জাফরের (রা.) সম্পূর্ণ ভাষণ শুনে বললেন, খোদার নিকট হতে তোমাদের নবীর প্রতি যে, কালাম নাযিল হয়েছে বলে তোমরা দাবী কর, খানিকটা আমাকে শোনাও। হযরত জাফর (রা.) সূরা মরিয়মের প্রথম থেকে পাঠ করে শুনালেন। যাতে হযরত ইয়াইয়াহ (আ.) ও হযরত মরিয়ম (আ.) সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে। নাজ্জাশী তা মনোযোগ সহকারে শুনেন। শুনতে শুনতে তিনি কাঁদতে লাগলেন। চোখের পানিতে তার দাড়ি ভিজে যায়। নাজ্জাশীর সে অবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লাহ তা'আলা বলেন, রাসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা যখন তারা শুনে তখন আপনি দেখবেন যে, তাদের চক্ষু অশ্রু সজল। তা এ কারণে যে, তারা সত্যকে চিনে নিয়েছে। তারা বলে, হে আমাদের রব, আমরা ঈমান আনলাম। অতএব, আমাদেরকে সাক্ষ্য দানকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর (সূরা মায়েদা- ৮৩)। হযরত জাফর (রা.) যখন কুরআন পাঠ শেষ করলেন, তখন নাজ্জাশী বলে উঠলেন, এ কালাম এবং হযরত ঈসার নিয়ে আসা কালাম, যে একই মূল উৎস হতে উৎসারিত হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। আল্লাহর শপথ, আমি তোমাদেরকে কিছুতেই এদের হাতে সঁপে দেব না। পরদিন আবার কুরাইশ প্রতিনিধি দল নাজ্জাশীর নিকট অভিযোগ তুলল যে, এরা মরিয়ম পুত্র ঈসা সম্পর্কে খুব বড় একটা কথা বলে। তখন নাজ্জাশী সাহাবীদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলে হযরত জাফর দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তাঁর নিকট হতে আসা রূহ, একটি বাণী, আল্লাহ তাকে কুমারী কন্যা মরিয়মের গর্ভে প্রক্ষিপ্ত করেন। এ কথা শুনে নাজ্জাশী মাটি হতে এক তৃণ খণ্ড তুলে নেন আর বলেন, আল্লাহর শপথ, তুমি যা বলছ ঈসা (আ.) তদপেক্ষা এ তৃণ খণ্ডের বিন্দু মাত্র অধিক ছিলেন না। অতঃপর তিনি কুরাইশদের সব হাদিয়া-তোহফা ফেরত দিয়ে বলেন, আমি ঘুষ খাই না। আর মুহাজিরদের বলেন, তোমরা নিশ্চিন্তে এখানে বসবাস কর। ইবনে সাদ বর্ণনা করেন যে, নবুওয়াতের ৫ম বছর রজব মাসে সাহাবাদের ছোট একটি দল হাবশায় হিজরত করেছিল। পরে ঐ বছর রমযান মাসেই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের জনসমাবেশে সূরা 'নাজম' পাঠ করে শোনান এবং এতে কাফির ও ঈমানদার সবাই তাঁর সাথে সিজদায় পড়ে যায়। হাবশার মুহাজিরদের কাছে এ কাহিনী এভাবে পৌঁছে যে, মক্কার কাফিররা মুসলমান হয়ে গেছে। তখন তাদের কিছু লোক শাওয়াল মাসে মক্কায় ফিরে আসে। এসে তারা জানতে পারে যে, যুলুম নির্যাতন আগের মতই চলছে। ফলে হাবশায় দ্বিতীয়বার হিজরত করার ঘটনা সংঘটিত হয়। এতে প্রথম বারের তুলনায় অনেক বেশি লোক মক্কা ছেড়ে চলে যান (ইবনে হিশাম)। হাবশার এ হিজরত প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, যেসব লোক যুলুম সহ্য করার পর আল্লাহর খাতিরে হিজরত করে গেছে তাদেরকে আমি দুনিয়ায় উত্তম ঠিকানা এবং জায়গা দান করব। আর আখিরাতের প্রতিফল তো অনেক বড়। হায়, তারা যদি জানতে পারত যে, কত ভাল পরিণামই না তাদের অপেক্ষায় রয়েছে।
নবুওয়াতের একাদশ সালে হজ্জের মৌসুমে 'হেরা' ও 'মিনার' মধ্যবর্তী আকাবা নামক স্থানে সর্বপ্রথম ইয়াসরাব (মদীনা) হতে আগত কতিপয় লোক (৬ জন বা ৮ জন) রাতের নির্জন স্থানে প্রিয়নবীর হিদায়াতের আলো পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। পরবর্তী বছর ওদের সাথে আরো কতিপয় লোক মিলে মোট ১২ জন আনসার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হয়ে ইসলাম কবুল করেন। হযরত ওবাদা বিন সামেত (রা.) বলেন, আমরা আকাবার এ প্রথম সম্মেলনে নিম্নোক্ত শর্তসমূহের উপর ইসলামের বাইয়াত করলাম-(১) আল্লাহ ছাড়া কাউকে ইলাহ বানাব না (২) চুরি করব না (৩) যেনা বা ব্যভিচার করব না (৪) নিজের সন্তানদের হত্যা করব না (৫) কারো উপর মিথ্যা অপবাদ দেব না এবং (৬) কোন ভাল কাজে আপনার (নবীর) নাফরমানী করব না। বাইয়াত গ্রহণের পর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বলেন, যদি এসব শর্ত পালন কর, তবে তোমাদের জন্য এর বিনিময় জান্নাত লাভের সুসংবাদ রইল। আর যদি এসব গর্হিত কাজ হতে কোন একটি অবলম্বন কর। তবে তোমাদের ফয়সালা আল্লাহর হাতে থাকবে। ইচ্ছা করলে তিনি অপরাধ ক্ষমা করে দিবেন অথবা শাস্তিও দিতে পারেন। উপরোক্ত ঘটনার ফলে মদীনার প্রতিটি ঘরে ইসলামের আওয়ায পৌঁছতে থাকে। অবশেষে এমন হল যে, ত্রয়োদ্বশ বছর হজ্জের মৌসুমে ৭৩ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা 'আকাবার' নামক স্থানে একত্রিত হয়ে ইসলামের বাইয়াত গ্রহণ করেন। এ বাইয়াত কালে প্রিয়নবী তাদের সম্মুখে এক প্রাণস্পর্শী আলোচনা রাখেন, যার ফলে তাদের অন্তর ইসলামের নূরে আলোকিত হয়ে উঠে। অতঃপর সে বৈঠকে এ আবেগও প্রকাশ পায় যে, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি মদীনায় পদার্পণ করেন, তবে ইসলামের প্রচার কাজে খুব লাভ হবে এবং আমরা হুজুরের ফয়েয বা সাঙ্গ লাভের যথেষ্ট সুযোগ পাওয়া অর্থাৎ তাঁরা প্রিয় নবীকে মদিনায় গমনের আহ্বান জানালেন এবং সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করবেন বলে পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করেন। অতঃপর তাঁদের হতে ১২ জনকে মনোনীত করে ইসলামের দাওয়াত ও তাবলীগের জন্য প্রিয় নবী নিজের নবীকে বা প্রতিনিধি নিযুক্ত করে দেন। ইয়াসরাবে (মদিনায়) ইসলাম প্রচার কার্য যখন এরূপ দৈনন্দিন উন্নতির পথে অগ্রসর হতে লাগল তখন মহান আল্লাহ তাঁর নবীর মাধ্যমে মক্কার নিপীড়িত মুসলমানদেরকে মদিনায় হিজরত করে চলে যেতে নির্দেশ দিলেন। আল্লাহ বলেন, যে কেউ আল্লাহর পথে দেশ ত্যাগ করে, সে এর বিনিময়ে অনেক স্থান ও সচ্ছলতা প্রাপ্ত হবে। যে কেউ নিজ ঘর থেকে বের হয় আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি হিজরতের উদ্দেশ্যে; অতঃপর মৃত্যু মুখে পতিত হয়, তবে তাঁর সওয়াব আল্লাহর নিকট অবধারিত হয়ে যায়। আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়। (নিসা : ১০০)
এভাবে মুসলমানদের জন্য হিজরতকে ফরয বা অত্যাবশ্যকীয় করা হয়েছে। দ্বীন, ঈমান এবং ইসলামকে রক্ষার জন্য, শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হিজরত করা আল্লাহর কাছে অতি পছন্দনীয় কাজ। হিজরতে হেদায়াত মিলে। মহান প্রতিপালকের অতি পছন্দনীয় বান্দারাই হিজরতের মত মহান ইবাদত বা কাজের সুযোগ পায়। হিজরত সকল নবীর খাছ বা বিশেষ সুন্নাত। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা ছেড়ে মদিনায় গিয়ে হিজরতকে পূর্ণতা দেন। এমনকি বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেদিন মক্কা থেকে মদিনায় চলে যান, সেদিন থেকে হিজরী সাল গণনা শুরু হয়। ইসলামে হিজরতের গুরুত্ব ও মর্যাদা এতটাই উন্নত এবং শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার।
📄 ইসলামের প্রথম হিজরতকারী সাহাবাদের দল
নবুওয়্যাতের পঞ্চম বছরের শেষের দিকে কুরাইশদের অত্যাচার ও নিষ্ঠুরতা যখন চরমে উপনীত হয়, তখন বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশে এগারোজন পুরুষ ও চারজন মহিলা আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন। হিজরতকারীদের মধ্যে যারা সুপরিচিত তারা হলেন :
১ । হযরত ওসমান বিন আফ্ফান (রা.) ও তাঁর স্ত্রী রুকাইয়া (রা.) বিনতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
২ । হযরত জাফর বিন আবু তালিব (রা.)
৩ । হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা.)
৪ । হযরত যুবাইর বিন আওয়াম (রা.)
৫। হযরত আবু হুযাইফা বিন উতবা (রা.) ও তাঁর স্ত্রী সাহলা বিনতে সুহাইল (রা.)
৬। হযরত উসমান বিন মাযউন (রা.)
৭। হযরত মুসআব বিন উমাইর (রা.)
৮। হযরত আবু সালামা বিন আব্দুল আসাদ (রা.) ও তাঁর স্ত্রী সালামা বিনতে আবু উমাইয়া (রা.)
৯। হযরত আমের বিন রাবিয়া (রা.) ও তাঁর স্ত্রী লায়লা বিনতে আবি হাসমা (রা.)
১০। হযরত সুহাইল বিন বাইদা (রা.)
১১। হযরত আবু সাবরা বিন আবু রুহম (রা.)
ইবনে হিশামের মতে উসমান বিন মাযউন (রা.) ছিলেন দলনেতা। প্রসিদ্ধ মতে ওসমান বিন আফফান (রা.) ছিলেন দলের আমীর। আবিসিনিয়ায় নাজ্জাশীর মৃত্যু হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় তাঁর জানাযা আদায় করেন। সাইদ বিন মুসয়াবের (রা.) মতে মদীনা নগরীর পশ্চিম দিকে মোসাল্লামে ঈদ নামক মসজিদে এ জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়।