📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাতে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

📄 ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাতে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম


ইহুদীদের ধর্মশাস্ত্র 'তাওরাত'-এ বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ভবিষ্যৎ বাণী রয়েছে। তোমাদের প্রভু ঈশ্বর তোমাদের ভাইদের মধ্য থেকে আমার (মূসার) মতই একজন নবী উত্থিত করবেন। তার কথা তোমরা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করবে (Duet -II:18)। অন্যত্র আছে ঈশ্বর বলেছেন আমি তাদের ভ্রাতাদের মধ্য হতে তোমার (মূসার) মতই একজন নবী উত্থিত করব এবং তাঁর মুখে আমার বাণী প্রকাশ করব। তিনি তোমাদেরকে আমি যা আদেশ করব তাই শুনাবেন এবং এটা অবশ্যই ঘটবে যে, তাঁর মুখ নিঃসৃত আমার সে বাণী, যারা শুনতে চাবে না তাদেরকেও আমি শুনতে বাধ্য করব। আরও উল্লেখ আছে, ঈশ্বরের মনোনীত পুরুষ মূসা (আ.) মরণের আগে এ বলে বনী ঈসরাইলদের জন্য দোয়া করলেন: প্রভু (মূসা) সিনাই পর্বত হতে আসলেন এবং সিয়ের পর্বত হতে উঠলেন। কিন্তু তার (অর্থাৎ যিনি আসবেন) জ্যোতি ফারান পর্বত হতে বিকীর্ণ হল। তিনি দশ হাজার ভক্ত সঙ্গে আনলেন এবং তার ডান হাত থেকে এক জীবন্ত আইন গ্রন্থ বের হল। (Duet-33:1-2)

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সর্বাবিকামে আরব ভূমি

📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সর্বাবিকামে আরব ভূমি


এরূপে আমি আপনার উপর কুরআনকে আরবি ভাষায় নাযিল করেছি যেন আপনি মক্কাবাসী ও আশে পাশের বাসিন্দাদেরকে ভয় প্রদর্শন করেন (সূরা শূরাঃ ৫৭)। আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা ও হিকমতের ফয়সালা ছিল যে, মানবতার হিদায়াত ও নাজাত লাভের সূর্য তথা সমগ্র বিশ্বজগৎ বিকাশিত আলোকবর্তিকা রাহমাতুল লিল আলামিনকে জাযিরাতুল আরবের দিকচক্র থেকে উদিত করবেন। যে আরব ছিল বিশ্বের সবচেয়ে অন্ধকার ভূভাগ। যাতে এমন প্রখর আলোক রশ্মির প্রয়োজন ছিল সর্বাধিক। প্রশ্ন জাগে যে, রোম, পারসিক, অথবা ভারতীয় গোষ্ঠী যাদের উন্নতি, অগ্রগতি জ্ঞান বিজ্ঞান, শিল্পকলা এবং সভ্যতা সংস্কৃতি ও দর্শনে ছিল বিরাট খ্যাতি; তাদের মধ্যে এ বিশ্বজনীন পয়গাম্বরের আগমন না করে উম্মি আরবীদের উপদ্বীপে আবির্ভূত হলেন কেন? এ প্রসংগে সাইয়েদ আলী নদভী বলেন, আরবদের হৃদয়পট ছিল একেবারে স্বচ্ছ নির্মল। পূর্ব থেকে কোন অংকিত ছবি কিংবা চিত্র এতে ছিল না; যা মুছে ফেলা কঠিন হত। কেননা, আরবদের অন্তর ও চিন্তা ভাবনা সে মামুলী হালকা রচনার সাথে পরিচিত, যা তাদের মূর্খতা অশিক্ষা ও বেদুঈন জীবনের সাথে জড়িত ছিল। যা ধুইয়ে মুছে ফেলা এবং তদস্থলে নতুন চিত্র অংকন করা খুবই সহজ ছিল। পক্ষান্তরে ঐসব শিক্ষিত জাতির মধ্যে গর্ব অহংকারের এমন কিছু মানসিক উচ্চাশা ও চিন্তাগত জটিলতা সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল যা দূর করা সহজ ছিল না।

তখনকার শাস্ত্রীয় পরিভাষায় আরবরা অকাট্য ও নির্ভেজাল মূর্খতার শিকার ছিল। আর এটাই ছিল সে ভুল যার প্রতি বিধান হতে পারত। অপরাপর সুসভ্য ও উন্নত জাতি গোষ্ঠী ছিল মিশ্রিত ও ভেজাল মূর্খতার ভিতর লিপ্ত; যার চিকিৎসা ও সংশোধন হওয়া এবং তাদের স্মৃতিপট ধুয়ে মুছে নতুন কিছু অংকন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল। এক কথায় বলতে গেলে, আরবরা তাদের আপন প্রকৃতিতে ছিল সমুজ্জল, মজবুত ও লৌহসম সুদৃঢ় ইচ্ছা শক্তির অধিকারী। যেকোন সত্য বা হক কথা তাদের উপলব্ধিতে ধরা না পড়লে, তারা তার বিরুদ্ধে তলোয়ার হাতে তুলে নিতে এতটুকুও ইতস্তত করত না। আর যে সত্য বা হক কথা স্বচ্ছ সুন্দর দর্পণের ন্যায় তাদের সম্মুখে ধরা পড়ত, তারা তা মনে প্রাণে গ্রহণ করতে প্রানের চেয়েও অধিক ভালবাসত এবং এর জন্য প্রয়োজনে জীবন বিলিয়ে দিতেও এতটুকুও দ্বিধা করত না। এভাবে সর্বদিক বিবেচনায়, সত্য বিকাশে এবং বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের জন্য আরব ভূমিই ছিল সবচেয়ে উপযুক্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00