📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 বেদ ও পুরাণে (হিন্দু ধর্মে) আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

📄 বেদ ও পুরাণে (হিন্দু ধর্মে) আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম


বেদ-পুরাণ এবং উপনিষদ হিন্দুদের বিশিষ্ট ধর্মগ্রন্থ। এসব প্রাচীন ধর্মশাস্ত্রে আল্লাহ, রাসূল, মুহাম্মদ ইত্যাদি শব্দগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাপারটি একটু লক্ষ্য করলেই অবাক হয়ে যেতে হয়।

(১) অথর্ববেদীয় উপনিষদ-এ আছে: অস্য ইল্ললে মিত্রাবরুণো রাজা তস্মাৎ তানি দিব্যানি পুনস্তং দুধ্যু হবয়ামি মিলং কবর ইল্ললাং আল্লা, রাসূল, মহামদ, কং বরস্য আল্লা আল্লম ইল্লাল্লতি ইল্লাল্লাহ ॥৯॥

(২) ভবিষৎ পুরাণ-এ আছে: এতল্লিন্নন্তরে স্লেচ্ছ আচার্যেন সমন্বিত মহামদ ইতি খ্যাত মিষ্যশাকাসমন্বিত ॥৫॥ নমস্তে গিরিজানাথ মরুস্থল, নিবাসিনে ত্রিপুরা, সুরনাশায় বহুমায়া প্রবর্তিনে ॥৭॥ অর্থাৎ ঠিক সে সময়ে মুহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি - যার বাস মরুস্থলে অর্থাৎ (আরব দেশে)- আপন দলবলসহ আবির্ভূত হবেন। হে আরবের প্রভু, হে জগৎ গুরু, তোমার প্রতি আমার স্তুতিবাদ। তুমি জগতের সমুদয় কলুষ দূর করার বহু উপায় জান, তোমাকে নমস্কার। হে পবিত্র পুরুষ! আমি তোমার দাস। আমাকে তোমার চরণ তলে স্থান দাও।

(৩) অল্পোপনিষদ-এ দেখতে পাওয়া যায়: আল্লা, রাসূল, মহামদ, কং বরস্য আল্লা আল্লাম আব্দল্লাহ, বুকমে ককম আল্লাবুক নিখাতকম অর্থাৎ হে মানুষেরা মনোযোগ দিয়ে শোন প্রশংসিত জন, লোকদের মাঝ থেকেই আবির্ভূত হবেন। আমরা তাকে ৬০,০০০ জন শত্রুর মধ্যে পরিবেষ্টিত পাব। বলাবাহুল্য, এখানে যে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথাই বলা হয়েছে, তাতে কোনই সন্দেহ নেই। কারণ মুহাম্মদ অর্থই প্রশংসিত জন আর মক্কার অধিবাসীদের তৎকালীন সংখ্যাও ছিল প্রায় ৬০,০০০। উপরোক্ত উদ্ধৃতিসমূহ থেকে পরিষ্কার বুঝা যায়, আর্য ঋষিগণ ধ্যানবলে হাজার হাজার বছর আগেই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্বরূপ ও আবির্ভাব সম্বন্ধে অনেক তথ্যই অবগত ছিলেন।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 বৌদ্ধ ধর্ম শাস্ত্রে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

📄 বৌদ্ধ ধর্ম শাস্ত্রে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম


বৌদ্ধদের ধর্ম গ্রন্থ দিঘা-নিয়ায় বর্ণিত রয়েছে, মানুষ যখন গৌতম বুদ্ধের ধর্ম ভুলে যাবে, তখন আর একজন বৌদ্ধ আসবেন, তাঁর নাম ‘মৈত্রেয়’ (সংস্কৃত শব্দ মৈত্রেয়) অর্থাৎ শান্তি ও করুণার বুদ্ধ। সিংহল থেকে পাওয়া (from Ceylonese sources) একটি প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানেও উপরোক্ত কথার সমর্থন পাওয়া যায়। একবার আনন্দ বুদ্ধকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার মৃত্যুর পর কে আমাদেরকে উপদেশ দান করবে? বুদ্ধ বললেন আমিই একমাত্র বুদ্ধ বা শেষ বুদ্ধ নই। যথাসময়ে আর একজন বুদ্ধ আসবেন। আমার চেয়েও তিনি পবিত্র ও অধিকতর আলোকপ্রাপ্ত। তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্মমত প্রচার করবেন। আনন্দ জিজ্ঞাসা করলেন, তাকে আমরা চিনব কি করে? বুদ্ধ বললেন, তার নাম হবে মৈত্রেয়। এ মৈত্রেয় বা ‘শান্তি ও করুণার বুদ্ধ’ যে মুহাম্মদ তাতে কোন সন্দেহ নেই। কুরআনে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিশেষণ, অবিকল এমনই বর্ণিত হয়েছে। তাঁর সম্বন্ধে বলা হয়েছে, তিনি ‘রাহমাতুল লিলআলামিন’ অর্থাৎ সমগ্র বিশ্বের জন্য করুণা ও রহমতস্বরূপ।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 পার্সী ধর্মশাস্ত্রে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

📄 পার্সী ধর্মশাস্ত্রে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম


পার্সী জাতির ধর্মগ্রন্থের নাম ‘যিন্দাবেস্তা’ ও ‘দসাতির’। যিন্দাবেস্তায়, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাবের সুস্পষ্ট ভবিষ্যৎ বাণী রয়েছে। এমনকি ‘আহমদ’ নামটিও উল্লিখিত রয়েছে। মূল শ্লোক ও তার অনুবাদ এরূপ : আমি ঘোষণা করছি, হে স্পিতাম জরথুষ্ট্র, পবিত্র আহমদ (ন্যায়বানদের আশীর্বাদ) নিশ্চয়ই আসবেন, যার কাছ থেকে তোমরা সৎ চিন্তা, সৎ বাক্য, সৎকার্য এবং বিশুদ্ধ ধর্ম লাভ করবে। (Zend-Avesta, Part-1. Translated by Muller. Page 260) ‘দসাতির’ ধর্ম গ্রন্থেও অনুরূপ আর একটি ভবিষ্যৎ বাণী রয়েছে। যার সারমর্ম হচ্ছে : যখন পার্সীরা নিজেদের ধর্ম ভুলে গিয়ে নৈতিক অধঃপতনের চরম সীমায় উপনীত হবে, তখন আরবদেশে একজন মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করবেন। যার শিষ্যরা পারস্যদেশ এবং দুর্ধর্ষ পারসিক জাতিকে পরাজিত করবে। যারা নিজেদের মন্দিরে অগ্নি পূজা করবে না। তারা ইব্রাহীমের কা’বা ঘরের দিকে মুখ করে প্রার্থনা করবে। সে কা’বা ঘরও প্রতিমা মুক্ত হবে। সে মহাপুরুষের শিষ্যরা বিশ্ববাসীর পক্ষে আশীর্বাদস্বরূপ হবে। তারা পারস্য, মাদায়েন, তুস, বলখ ইত্যাদি পারস্যবাসীদের যাবতীয় পবিত্র স্থান অধিকার করবে। তাদের নবী একজন বাগ্মী পুরুষ হবেন এবং তিনি অনেক বিস্ময়কর কথা বলবেন। (Muhammad in world scriptures by A Haq Vidyarthi Page 47)

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাতে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

📄 ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাতে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম


ইহুদীদের ধর্মশাস্ত্র 'তাওরাত'-এ বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ভবিষ্যৎ বাণী রয়েছে। তোমাদের প্রভু ঈশ্বর তোমাদের ভাইদের মধ্য থেকে আমার (মূসার) মতই একজন নবী উত্থিত করবেন। তার কথা তোমরা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করবে (Duet -II:18)। অন্যত্র আছে ঈশ্বর বলেছেন আমি তাদের ভ্রাতাদের মধ্য হতে তোমার (মূসার) মতই একজন নবী উত্থিত করব এবং তাঁর মুখে আমার বাণী প্রকাশ করব। তিনি তোমাদেরকে আমি যা আদেশ করব তাই শুনাবেন এবং এটা অবশ্যই ঘটবে যে, তাঁর মুখ নিঃসৃত আমার সে বাণী, যারা শুনতে চাবে না তাদেরকেও আমি শুনতে বাধ্য করব। আরও উল্লেখ আছে, ঈশ্বরের মনোনীত পুরুষ মূসা (আ.) মরণের আগে এ বলে বনী ঈসরাইলদের জন্য দোয়া করলেন: প্রভু (মূসা) সিনাই পর্বত হতে আসলেন এবং সিয়ের পর্বত হতে উঠলেন। কিন্তু তার (অর্থাৎ যিনি আসবেন) জ্যোতি ফারান পর্বত হতে বিকীর্ণ হল। তিনি দশ হাজার ভক্ত সঙ্গে আনলেন এবং তার ডান হাত থেকে এক জীবন্ত আইন গ্রন্থ বের হল। (Duet-33:1-2)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00