📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর দোয়া

📄 হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর দোয়া


হযরত ইব্রাহীম (আ.) বিবি হাজেরা ও পুত্র ইসমাঈলকে মক্কার সাফা-মারওয়া পাহাড়ের পাদদেশে সহায় সম্বলহীন অবস্থায় রেখে আসার সময় তাঁদের মঙ্গল কামনা করে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন। হে আমার রব! আমি আমার সন্তানকে এ কৃষি অনুপযোগী (তরুলতাবিহীন) উপত্যকায় তোমার পবিত্র ঘরের নিকট রেখে গেলাম। হে আমার প্রভু! তা এজন্য করলাম, যেন তারা নামাজ কায়েম করে। তাই আপনি মানুষের অন্তরকে তাদের দিকে ফিরিয়ে দিন, যেন তারা তাদের দিকে ঝুকে পড়ে (সূরা ইব্রাহীমঃ ৩৭)।

পরবর্তীতে ইব্রাহীম (আ.) ও তাঁর যোগ্য পুত্র ইসমাঈল (আ.) দু'জনে মিলে পবিত্র কা'বা ঘর নির্মাণের কাজ শেষ করার পর হারাম শরীফ ও সে স্থানের বাসিন্দাদের জন্য দোয়া করেন। আর তারা দু'জনে মিলে আল্লাহর দরবারে এভাবে প্রার্থনা করেন: হে আমাদের রব! তাদের মধ্য থেকেই তাদের জন্য একজন নবী প্রেরণ করুন। যিনি তাদেরকে আপনার আয়াতসমূহ পাঠ করে শুনাবেন, তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবেন এবং তাদেরকে পবিত্র করে দিবেন। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় (সূরা বাকারা: ১২৮, ১২৯)। উল্লিখিত আয়াতসমূহ থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, এ দোয়াতে হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর সাথে তার প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাঈলও (আ.) শরীক ছিলেন। আর যে নবীর জন্য তারা দোয়া করেছিলেন; তিনি উভয়ের বংশোদ্ভূত হবেন এবং মক্কা নগরে প্রেরিত হবেন। সুতরাং এ নবী যে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হবেন, তাতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ মক্কা শহরে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য কোন নবী, হযরত ইসমাঈলের আওলাদ হতে আবির্ভূত হননি। আবুল আলিয়া ও কাতাদাহ (রা.) বলেন, হযরত ইব্রাহীম (আ.) কে জানান হয়েছিল যে, তোমাদের দোয়া কবুল করা হল। তবে সে নবী আখেরী যমানায় আসবেন। (ইবনে কাসীর)

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 ঈসা (আ.) এর সুসংবাদ

📄 ঈসা (আ.) এর সুসংবাদ


হযরত ঈসা (আ.) যে সুসংবাদ দিয়েছিলেন, তা ইঞ্জীল কিতাবে উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ তারই পুনরোক্তি করেছেন আল কুরআনে। স্মরণ কর, যখন মরিয়ম পুত্র ঈসা (আ.) বলল: হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসূলরূপে আগমন করেছি, আমার পূর্বে যে তাওরাত অবতীর্ণ হয়েছিল আমি তা সত্য বলে বিশ্বাস করি এবং আমার পর 'আহমদ' নামক যে একজন রাসূল আগমন করবেন আমি তার সুসংবাদ দিচ্ছি (আল কুরআন)।

হাজার হাজার বছর ধরে অসংখ্য নবী রাসূলের মুখে একথাই উচ্চারিত হয়ে আসছে যে, সর্বশেষ একজন নবী আসবেন যিনি হবেন আম্বিয়া শ্রেষ্ঠ এবং বিশ্বনবী। ইতিহাসে এটা প্রমাণিত যে, হযরত মূসা (আ.) এর পর নতুন ধর্ম নিয়ে কোন নবীর আবির্ভাব হয়নি। যারা এসেছেন তাদের সবাই তার অনুসারী ছিলেন। মূসার (আ.) পরে দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পর, হযরত ঈসা (আ.) এর আগমন ঘটে। এ কারণে তাকে জিজ্ঞাস করা হলে, তিনি ঘোষণা করেন যে, তিনি নন বরং তারই পরবর্তী ব্যক্তি। হযরত মূসা ও হযরত ঈসা (আ.) তাদের নিজ নিজ কিতাবে যে রাসূলের কথা বলা হয়েছে, তা কুরআনের আয়াতেও উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা তার বর্ণনা নিজেদের কাছে (তাওরাত ও ইঞ্জীলে) লিখিত পাচ্ছে। (সূরা আরাফ: ১৫৭)

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 মা আমিনার স্বপ্ন

📄 মা আমিনার স্বপ্ন


হযরত আবু উমামা (রা.) বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম; আপনার ব্যাপারে প্রথম পূর্বাভাস কি ছিল? উত্তরে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে স্বপ্ন আমার মা দেখতে পান অর্থাৎ এক নূর তাঁর শরীর থেকে বের হয়ে শামদেশের প্রাসাদগুলো উদ্ভাসিত করে দিল (আল হাদীস)। এতে সে ইশারাই ছিল যে, তাঁর গর্ভের সন্তানের মাধ্যমে যে ধর্ম প্রচারিত হবে তা দূর দেশ পর্যন্ত প্রসার লাভ করবে। এ কারণে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পিতা ইব্রাহীমের দোয়া, হযরত ঈসার (আ.) সুসংবাদ এবং মায়ের স্বপ্নই ছিল আমার ব্যাপারে পূর্বাভাস।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 সকল ধর্মগ্রন্থে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন বার্তা

📄 সকল ধর্মগ্রন্থে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন বার্তা


প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীরাই বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আবির্ভাবের কথা জানতেন। তাঁর আবির্ভাবের সময় পৃথিবীতে হিন্দু, ফার্সী (অগ্নি উপাসক), বৌদ্ধ, ইহুদী এবং খৃষ্টান ধর্ম প্রচলিত ছিল। হিন্দুদের ধর্ম গ্রন্থ বেদ-পুরাণে, ফার্সীদের ধর্মগ্রন্থ যিন্দাবেস্তায় এবং বৌদ্ধদের ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটক ও দিঘানিকায়াতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আবির্ভাবের ভবিষ্যৎ বাণী করা হয়েছে। ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ তৌরাত এবং খৃষ্টানদের ধর্মগ্রন্থ ইঞ্জীল যে আল্লাহর তরফ হতে অবতীর্ণ হয়েছে, তা পবিত্র কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এ কিতাব দু'টির মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গুণাবলী এবং তাঁর শুভাগমনের ভবিষ্যৎ বাণী স্পষ্টাক্ষরে বর্ণিত হয়েছে। ইহুদী ও খৃষ্টানরা নিজ ধর্মগ্রন্থ পাঠ করে বহু পূর্বেই তারা বিশ্বনবীর আগমনবার্তা জানতে পেরেছিল।

আল্লাহ তা'আলা বলেন, যখন তাদের কাছে আল্লাহর তরফ থেকে তাদের ধর্মগ্রন্থের (তাওরাত) সমর্থনকারী কিতাব (কুরআন) পৌঁছল, অথচ ইতোপূর্বে তারা কাফিরদের (আরব পৌত্তলিকদের) কাছেও এর বর্ণনা করত। কিন্তু যখন তাদের জানা-শোনা বস্তু অর্থাৎ কুরআন তাদের কাছে পৌছল; তখন তারা তা অমান্য করে বসল। সুতরাং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ। (সূরা বাকারা-৮৯)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) ইহুদী ধর্মের বিজ্ঞ আলেম ছিলেন (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে)। পবিত্র তাওরাত সম্পর্কে তার অসাধারণ জ্ঞান ছিল। তিনি নিজে ইসলাম গ্রহণ করার পর সালামা এবং মুহাজির নামক তাঁর দুই ভাতিজাকে ইসলামের দিকে আহ্বান করেন। তিনি তাঁদেরকে বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্রদ্বয়, তোমরা উভয়ে নিঃসন্দেহভাবে অবগত আছ যে, আল্লাহ তা'আলা পবিত্র তাওরাতে বলেছেন, নিশ্চয় আমি হযরত ইসমাঈল (আ.) এর আওলাদদের মধ্য হতে একজন রাসূল প্রেরণ করব, তাঁর নাম আহমদ। যে ব্যক্তি তাঁর প্রতি ঈমান আনবে, সে হিদায়াত ও যথার্থ পথ প্রাপ্ত হবে। আর যে ব্যক্তি তাঁর প্রতি ঈমান আনবে না, সে অভিশপ্ত। অনন্তর সালামা (রা.) ইসলাম গ্রহণ করলেন। অথচ মুহাজির ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করল (বায়ানুল কুরআন)। এ সম্পর্কে আল কুরআনে আল্লাহ বলেন, মিল্লাতে ইব্রাহীম (ইসলাম) হতে শুধু সে ব্যক্তি বিমুখ থাকতে পারে, যে স্বভাবগতভাবেই নির্বোধ (সূরা বাকারা : ১৩০)। ইহুদী ধর্মের অভিজ্ঞ ব্যক্তি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেছেন, তাওরাতে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গুণাবলী লিখিত আছে এবং একথাও লিখিত আছে যে, হযরত ঈসা (আ.) কে তাঁর কবরের পাশে দাফন করা হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00