📄 আম্মানের বাদশাহ জেফারের কাছে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্র
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আম্মানের বাদশাহ জেফার এবং তার ভাই আবদের নামেও একখানা চিঠি লিখেন। তাদের পিতার নাম ছিল জুলানদি। চিঠির বক্তব্যে লিখেন: পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদের পক্ষ থেকে জুলানদির দুই পুত্র জেফার ও আবদের নামে। সালাম সে ব্যক্তির উপর, যিনি হিদায়াতের অনুসরণ করেন। অতঃপর আমি আপনাদের উভয়কে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন। কেননা আমি সকল মানুষের প্রতি আল্লাহর রাসূল। যারা জীবিত আছে তাদের পরিণামের দায় দেখানো এবং কাফিরদের জন্যে আল্লাহর কথার সত্যতা প্রমাণের জন্যেই আমি কাজ করছি। ইসলাম গ্রহণ করলে আপনাদেরকেই শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রাখা হবে। যদি অস্বীকৃতি জানান, তবে আপনাদের বাদশাহী শেষ হয়ে যাবে। আপনাদের ভূখণ্ড ঘোড়ার হামলার শিকার হবে। আপনাদের বাদশাহীর উপর আমার নবুওয়াত বিজয়ী হবে।
এ চিঠি পৌঁছানোর জন্যে হযরত আমর ইবনুল আস (রা.) কে মনোনীত করা হয়। তিনি বলেন, আমি রওনা হয়ে আম্মানে পৌছি এবং আবদের সাথে সাক্ষাৎ করি। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবদে ছিলেন নরম মেজাযের। তাকে বলি, আমি আপনার এবং আপনার ভাইয়ের কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে দূত হিসেবে এসেছি। জবাবে তিনি বলেন, আমার ভাই বয়স এবং বাদশাহী, উভয় দিক থেকেই আমার চেয়ে বড় এবং অগ্রগণ্য। কাজেই আমি আপনাকে তার কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। তিনি নিজেই আপনার আনীত চিঠি পড়বেন। এরপর আবদের সাথে আসের দীর্ঘ আলোচনা হয়। পরদিন পুনরায় বাদশার কাছে যেতে চাই, কিন্তু তিনি ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেননি। আমি ফিরে এসে তার ভাইকে বলি, আমি বাদশার কাছ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারিনি। আবদে আমাকে বাদশার কাছে পৌঁছে দেয়। বাদশাহ বলেন, আপনার উপস্থাপিত দাওয়াত সম্পর্কে আমি ভেবে দেখেছি। আমি যদি বাদশাহী এমন একজনের কাছে ন্যস্ত করি, যার সেনাদল এখনো পৌছেনি, তবে আমি আরবে সবচেয়ে দুর্বল ভীরু বলে পরিচিত হব। যদি তার সৈন্যরা এখানে এসেই পড়ে, তবে আমরা তাদের যুদ্ধের সাধ মিটিয়ে দেব। জবাবে আমি বলি, ঠিক আছে, আমি আগামীকাল ফিরে যাচ্ছি। আমার যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হওয়ার পর বাদশাহ তার ভাইয়ের সাথে নির্জনে মতবিনিময় করেন। বাদশাহ তার ভাইকে বলেন, এ রাসূল যাদের উপর বিজয়ী হয়েছে, তাদের তুলনায় আমরা কিছুই না। তিনি যার কাছেই পয়গাম পাঠিয়েছেন তিনিই দাওয়াত কবুল করেছেন। পরদিন সকালে পুনরায় আমাকে বাদশার দরবারে ডাকা হয়। বাদশাহ এবং তার ভাই উভয়েই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ঈমান আনেন। সদাকা আদায় এবং বাদী বিবাদীর মধ্যে ফয়সালা করতে আমাকে স্বাধীনতা দেয়া হয়। কেউ আমার বিরোধিতা করলে তারা আমাকে যথেষ্ট সাহায্য সহযোগিতা করেন।
এ ঘটনার বিবরণ ও প্রকৃতি দেখে মনে হয়, অন্যান্য সকল বাদশার নিকট চিঠি প্রেরণের পরে আল্লাহর রাসূল এ চিঠি আম্মানের বাদশাহকে প্রেরণ করেছিলেন। সম্ভবত মক্কা বিজয়ের পর এ চিঠি প্রেরণ করা হয়। এ সকল চিঠির মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্বের অধিকাংশ এলাকায় তাঁর দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছিলেন। জবাবে কেউ ঈমান এনেছে, কেউ কুফরীর উপরই অটল থেকেছে। তবে এ সকল চিঠির প্রভাব এটুকু হয়েছে যে, যারা কুফরী করেছে তাদের মনোযোগও এদিকে আকৃষ্ট হয়েছে এবং তাদের কাছে আল্লাহর রাসূলের নাম এবং তাঁর প্রচারিত দ্বীন একটি পরিচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। পরবর্তীতে চিঠি মারফত দাওয়াত ও তাবলীগের বিষয়টি ইসলামের প্রচার, প্রসার ও বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। এভাবেই বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা বিশ্বে দাওয়াত ও তাবলীগ করেছেন। দ্বীন ইসলামকে সারাবিশ্বে পৌঁছে দিয়েছিলেন।