📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 রোম সম্রাট কায়সারের কাছে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্র

📄 রোম সম্রাট কায়সারের কাছে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্র


বুখারীর এক দীর্ঘ হাদীসে এ চিঠির বিবরণ উল্লেখ রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোম সম্রাট হেরাক্লিয়াসকে যে চিঠি লিখেছিলেন, সে চিঠিতে লেখা ছিল: পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল মুহাম্মদের পক্ষ থেকে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি। সালাম সে ব্যক্তির প্রতি, যিনি হিদায়াতের আনুগত্য করেন। আপনি যদি ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে শান্তিতে থাকবেন এবং দ্বিগুণ পুরস্কার পাবেন। যদি অস্বীকৃতি জানান, তবে আপনার প্রজাদের পাপও আপনার উপর বর্তাবে। হে আহলে কিতাব, এমন একটি বিষয়ের প্রতি আস, যা আমাদের ও তোমাদের জন্যে একই সমান। সেটি হচ্ছে, আমরা আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারো উপাসনা ও আনুগত্য করব না, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করব না। আল্লাহ ব্যতীত আমাদের কেউ পরস্পরকে এবং অন্য কিছুকে প্রভু হিসেবে গ্রহণ করব না, যদি লোকেরা অমান্য করে তবে তাদের বলে দাও, তোমরা সাক্ষী থাক, আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি।

এ চিঠি পৌছানোর জন্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত দেহইয়া ইবনে খলীফা কালবী (রা.) কে মনোনীত করেন। তাকে বলা হয়, তিনি যেন এ চিঠি বসরার শাসনকর্তার হাতে দেন। বসরার শাসনকর্তা এটা সম্রাট হিরাক্লিয়াসকে পৌঁছে দিবেন। এরপর যা কিছু হয়েছে, তার বিবরণ বুখারীতে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আবু সুফিয়ান ইবনে হারব তাকে বলেছেন, সম্রাট হিরাক্লিয়াস তাকে কুরাইশদের একদল লোকের সাথে তার দরবারে আমন্ত্রণ জানান। হুদাইবিয়ার সন্ধির শর্তানুযায়ী এ কাফেলা ব্যবসার মালামাল নিয়ে সিরিয়ায় গিয়েছিল। সম্রাট (হিরাক্লিয়াস) এর আহ্বানে কাফেলার লোকজন ইলিয়ায় (বায়তুল মোকাদ্দাসে) তার দরবারে হাযির হয়। সম্রাট তাদের কাছে বসান। সে সময় তার আশেপাশে দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

সম্রাট হিরাক্লিয়াস মক্কার বাণিজ্য প্রতিনিধি দলকে সমনে রেখে তার দোভাষীকে তলব করেন। এরপর দোভাষীর মাধ্যমে জিজ্ঞেস করেন, যিনি নিজেকে নবী বলে দাবী করেন তার সাথে বংশগত সম্পর্কের দিক থেকে তোমাদের মধ্যে কে অধিক নিকটবর্তী? আবু সুফিয়ান বলেন, আমি তখন বাদশাহকে বলি, আমিই বংশগত দিক থেকে তার অধিক নিকটবর্তী। হিরাক্লিয়াস তখন বলেন, তুমি আমার কাছাকাছি এসো। তিনি বলেন, এর সঙ্গীদের পিছনে বসাও। এরপর হিরাক্লিয়াস তার দোভাষীকে বলেন, এ লোকটিকে আমি সে নবীর দাবীদার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করব। যদি সে কোন কথার জবাবে মিথ্যা বলে, তবে তার সঙ্গীদের বলে দাও, তারা যেন সাথে সাথে তার প্রতিবাদ করে। আবু সুফিয়ান বলেন, আল্লাহর শপথ, যদি মিথ্যা বলার দুর্নাম হওয়ার ভয় না থাকত, তবে আমি তাঁর সম্পর্কে অবশ্যই মিথ্যা বলতাম। হিরাক্লিয়াসের সাথে আবু সুফিয়ানের দোভাষীর উপস্থিতিতে বিশদ আলোচনা হয়। এরপর হিরাক্লিয়াস তার দোভাষীকে বলেন, এ লোকটিকে বল, আমি যখন নবুওয়াতের দাবীদারের বংশ মর্যাদা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি, তখন সে বলেছে, তিনি উচ্চ বংশ ও মর্যাদাসম্পন্ন। নিয়ম হচ্ছে, নবী রাসূলগণ উচ্চ বংশ ও মর্যাদাসম্পন্ন লোকদের মধ্য থেকেই প্রেরিত হয়ে থাকেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছি, তাঁর আগে তোমাদের মধ্যে অন্য কেউ এ ধরনের কথা বলেছিল কিনা। সে বলেছে, বলেনি। যদি সে অন্য কারো বলা কথারই পুনরাবৃত্তি করত, তবে আমি বলতাম, এ লোকটি অন্যের বলা কথারই প্রতিধ্বনি করছে। আমি জিজ্ঞেস করেছি, তার বাপ-দাদাদের মধ্যে কেউ বাদশাহ ছিল কিনা? সে বলেছে না, ছিল না। যদি তার বাপ-দাদাদের মধ্যে কেউ বাদশাহ থাকত, তবে আমি বলতাম, এ লোক বাপ-দাদার বাদশাহী লাভের আকাঙ্ক্ষা করছে। আমি জিজ্ঞেস করেছি, তিনি যা বলেছেন এর আগে তোমরা তাকে মিথ্যাবাদী হিসেবে অভিযুক্ত করেছিলে কিনা? সে বলেছে, না। কাজেই মানুষের ব্যাপারে যিনি মিথ্যা কথা বলেন না। তিনি সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে মিথ্যা বলবেন, এটা হতেই পারে না। আমি একথাও জিজ্ঞেস করেছি, বড়লোকেরা তার আনুগত্য করছে, নাকি দুর্বল লোকেরা? সে বলেছে দুর্বল লোকেরা। প্রকৃতপক্ষে দুর্বল লোকেরাই নবী রাসূলের আনুগত্য করে। আমি জিজ্ঞেস করেছি, তার দ্বীন গ্রহণের পর কেউ মোরতাদ (বেদ্বীন) হয়েছে কিনা? সে বলেছে, না। প্রকৃতপক্ষে ঈমানের সজীবতা অন্তরে প্রবেশের পর এরকমই হয়ে থাকে। আমি জিজ্ঞেস করেছি, তিনি চুক্তি অংগীকার ভংগ করেন কিনা? সে বলেছে, না। প্রকৃতপক্ষে নবী রাসূল এরকমই হয়ে থাকেন। তারা চুক্তি অংগীকার ভংগ করেন না। আমি জিজ্ঞেস করেছি, তিনি কি কি কাজের আদেশ দিয়ে থাকেন? সে বলেছে, তিনি আমাদের আল্লাহর ইবাদাতের, তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করার আদেশ করেন, মূর্তিপূজা নিষেধ করেন এবং নামায, সত্যবাদিতা, পরহেযগারী, পবিত্রতা-পরিচ্ছন্নতার আদেশ দেন। সে যা কিছু বলেছে, যদি এসব সত্য হয়ে থাকে, তবে তিনি খুব শীঘ্রই আমার দুই পায়ের নীচের জায়গারও মালিক হয়ে যাবেন। আমি জানতাম, এ নবী আসবেন, কিন্তু আমার ধারণা ছিল না, তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই আসবেন। আমি যদি নিশ্চিত জানতাম তাঁর কাছে পৌছতে পারব, তবে তাঁর সাথে সাক্ষাতের কষ্ট স্বীকার করতাম এবং তাঁর কাছে থাকলে তাঁর দুই চরণ ধুয়ে দিতাম।

এরপর হিরাক্লিয়াস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিঠি চেয়ে নিয়ে পাঠ করেন। তিনি চিঠি পড়া শেষ করতেই সেখানে শোরগোল এবং উচ্চৈঃস্বরে কথাবার্তা শুরু হয়। এরপর হিরাক্লিয়াসের আদেশে আমাদেরকে (অর্থাৎ আবু সুফিয়ানের কাফেলাকে) সেখান থেকে বের করে দেয়া হয়। বাইরে এসে সঙ্গীদের আমি বললাম, আবু কাবশার পুত্রের ঘটনা তো দেখছি বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তাকে তো দেখছি বনু আসফারের (রোমানদের) বাদশাও ভয় পায়।

এরপর আমি সব সময় এ বিশ্বাস পোষণ করতাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বীন বিজয়ী হবেই। আল্লাহ রব্বুল আলামীন এরপর আমার মাঝে ইসলামের আলো জ্বেলে দিয়েছেন। রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি আল্লাহর রাসূলের প্রেরিত চিঠির প্রভাবই ছিল আবু সুফিয়ানের এ বিবরণী যা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। এ চিঠির আরেকটি প্রভাব এও ছিল যে, সম্রাট হিরাক্লিয়াস রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্র বাহক হযরত দেহইয়া কালবী (রা.) কে বেশ কিছু মালামাল ও কাপড় চোপড় প্রদান করেন। হযরত দেহইয়া (রা.) সেসব নিয়ে মদীনায় ফেরার পথে, হুসমা নামক জায়গায় জুযام গোত্রের কিছু লোক ডাকাতি করে সব কিছু ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মদীনায় পৌঁছে হযরত দেহইয়া (রা.) নিজের বাড়ীতে না গিয়ে প্রথমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে গিয়ে সব কথা ব্যক্ত করেন। সব শুনে বিশ্বনবী হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা (রা.) এর নেতৃত্বে পাঁচশ সাহাবীকে হুসমা অভিযানে প্রেরণ করেন। হযরত যায়েদ (রা.) জুযাম গোত্রের লোকদের উপর নৈশ আক্রমণ চালিয়ে তাদের বেশ কিছু লোককে হত্যা করেন। এরপর তাদের পশুপাল ও মহিলাদের হাঁকিয়ে নিয়ে আসে। পশুপালের মধ্যে এক হাজার উট ও পাঁচ হাজার বকরী এবং বন্দীদের মধ্যে একশ নারী ও শিশু ছিল।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 বাহরাইনের শাসনকর্তা মোনযের এর কাছে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্র

📄 বাহরাইনের শাসনকর্তা মোনযের এর কাছে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্র


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহরাইনের শাসনকর্তা মোনযের ইবনে সাওয়ার এর নামে চিঠি লিখে তাকেও ইসলামের দাওয়াত দেন। এ চিঠি হযরত আলা ইবনে হাযরামীর হাতে প্রেরণ করা হয়েছিল। জবাবে মোনযের লিখেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার চিঠি আমি বাহরাইনের অধিবাসীদের পড়ে শুনিয়েছি। কিছু লোক ইসলাম পছন্দ করেছে, পবিত্রতার দৃষ্টিতে দেখেছে এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে। আবার অনেকে পছন্দ করেনি। এখানে ইহুদী এবং অগ্নি উপাসকও রয়েছে। আপনি ওদের ব্যাপারে আমাকে নির্দেশ দিন। এর জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিঠি লিখেন: পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদের পক্ষ থেকে মোনযের ইবনে সাওয়ার নামে। আপনার প্রতি সালাম। আমি আপনার কাছে আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি ব্যতীত ইবাদাত পাওয়ার উপযুক্ত কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতঃপর আমি আপনাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। মনে রাখবেন, যে ব্যক্তি ভালো কাজ করবে, সে তা নিজের জন্যেই করবে। যে ব্যক্তি আমার দূতদের আনুগত্য করবে এবং তাদের আদেশ মান্য করবে, সে ব্যক্তি যেন আমারই আনুগত্য করেছে। যারা আমার দূতদের সাথে ভাল ব্যবহার করবে, তারা আমার সাথেই ভাল ব্যবহার করেছে বলে মনে করা হবে। আমার দূতরা আপনার প্রশংসা করেছেন। আপনার জাতি সম্পর্কে আপনার সুপারিশ আমি গ্রহণ করেছি। কাজেই মুসলমানরা যে অবস্থায় ঈমান এনেছে তাদের সে অবস্থায় ছেড়ে দিন। আমি দোষীদের ক্ষমা করে দিয়েছি, আপনিও তাদের ক্ষমা করুন। আপনি যতদিন সঠিক পথ অনুসরণ করবেন, ততদিন আমি আপনাকে পদ থেকে বরখাস্ত করব না। যারা ইহুদীদের ধর্মকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করেছে অথবা অগ্নি উপাসনার উপর কায়েম রয়েছে, তাদের জিযিয়া (কর) দিতে হবে।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 ইয়ামামার শাসনকর্তা হাওযা এর কাছে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্র

📄 ইয়ামামার শাসনকর্তা হাওযা এর কাছে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্র


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামামার শাসনকর্তা হাওয়া ইবনে আলীর কাছে চিঠি প্রেরণ করেন। তাতে লেখা ছিল: পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদের পক্ষ থেকে হাওয়া ইবনে আলীর প্রতি। সে ব্যক্তির উপর সালাম, যিনি হিদায়াতের অনুসরণ করেন। আপনার জানা থাকা উচিত, আমার দ্বীন উট ও ঘোড়ার শেষ গন্তব্যস্থল পর্যন্ত প্রসার লাভ করবে। কাজেই ইসলাম গ্রহণ করুন। শান্তিতে থাকবেন এবং আপনার অধীনে যা কিছু রয়েছে সেসব আপনার জন্যে অক্ষুণ্ণ রাখা হবে। এ চিঠি পৌছানোর জন্যে সালীত ইবনে আমরকে (রা.) দূত মনোনীত করা হয়। হযরত সালীত, সীলমোহর লাগানো এ চিঠি নিয়ে ইয়ামামার শাসনকর্তা হাওয়া বিন আলীর দরবারে পৌঁছেন। হাওয়া তাকে নিজের মেহমান হিসেবে গ্রহণ করে মোবারকবাদ জানান। হযরত সালীত চিঠিখানি শাসনকর্তাকে পড়ে শোনান। তিনি দ্বীনের ব্যাপারে মাঝামাঝি ধরনের কথা বলেন। এরপর বাদশা আল্লাহর রাসূলের কাছে নিম্নরূপ লিখিত জবাব দেন। 'আপনি যে বিষয়ের দাওয়াত দিচ্ছেন, তার কল্যাণ ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রশ্নাতীত। আরবদের উপর আমার প্রভাব রয়েছে। কাজেই আপনি আমাকে কিছু কাজের দায়িত্ব দিন, আমি আপনার আনুগত্য করব।'

ইয়ামামার শাসনকর্তা হাওয়া আল্লাহর রাসূলের দূতকে কিছু উপঢৌকন প্রদান করেন। সে উপঢৌকনের মাঝে মূল্যবান পোশাকও ছিল। হযরত সালীত (রা.) সেসব নিয়ে আল্লাহর রাসূলের দরবারে আসেন এবং তাঁকে সব কিছু অবহিত করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ চিঠি পাঠ শেষে মন্তব্য করেন, সে যদি এক টুকরো জমিও আমার কাছে চায়, তবু আমি তাকে দিব না। সে নিজেও ধ্বংস হবে এবং যা কিছু তার হাতে রয়েছে, সেসবও ধ্বংস হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয় থেকে ফিরে আসার পর হযরত জিবরাঈল (আ.) তাঁকে খবর দেন, বাদশা হাওয়া মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতঃপর সাহাবীদের বলেন, শোনো, ইয়ামামায় একজন মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব ঘটবে এবং আমার পরে সে নিহত হবে। একজন সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, তাকে কে হত্যা করবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি এবং তোমার সাথীরা। পরবর্তীকালে আল্লাহর রাসূলের কথাই সত্য প্রমাণিত হয়েছিল।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 দামেশকের শাসনকর্তা হারেস এর কাছে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্র

📄 দামেশকের শাসনকর্তা হারেস এর কাছে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্র


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দামেশকের শাসনকর্তা হারেস বিন আবী শেমার গাসসানীর কাছে প্রেরিত চিঠিতে লিখেন: পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদের পক্ষ থেকে হারেশ ইবনে আবু শেমারের নামে। সে ব্যক্তির প্রতি সালাম, যিনি হিদায়াতের অনুসরণ করেন, ঈমান আনেন এবং সত্যতা স্বীকার করেন। আপনাকে আমি আল্লাহর উপর ঈমান আনার দাওয়াত দিচ্ছি, যিনি এক অদ্বিতীয় এবং যাঁর কোনো শরীক নেই। আপনাদের জন্যে আপনাদের রাজত্ব স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে। এ চিঠি আসাদ ইবনে খোযায়মা গোত্রের সাথে সম্পর্কিত সাহাবী হযরত শুজা ইবনে ওয়াহাবের (রা.) হাতে প্রেরণ করা হয়। হারেসের হাতে এ চিঠি দেয়ার পর তিনি বলেন, আমার বাদশাহী আমার কাছ থেকে কে ছিনিয়ে নিতে পারে? শীঘ্রই আমি তার বিরুদ্ধে হামলা করতে যাচ্ছি। এ বদনসীব ইসলাম গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে সে ও তার রাজত্ব ধ্বংসে পতিত হয়। বাদশা ও তার রাজ্য পরাভূত ও নিঃশেষ হয়ে যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00