📄 নবুয়্যতের ১৩তম বছর
এ বছর যিলহজ মাসে আকাবার তৃতীয় বাইয়াত অনুষ্ঠিত হয়। নবুওয়াতের ১২তম বর্ষে (আকাবার বাইয়াতকালে) মদীনার আনসারগণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, আগামী বছর একই স্থানে এসে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংগে সাক্ষাৎ করবেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বছর হজ্বের মৌসুমে মিনা চলে যান। অতঃপর আনসার সাহাবাদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ৭৩ জন পুরুষ এবং দু'জন মহিলা আইয়ামে তাশরীফের মধ্যবর্তী রাতে একই স্থানে এসে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংগে সাক্ষাৎ করে বাইয়াত ও ইসলাম গ্রহণে ধন্য হন। এছাড়াও মদীনায় আরো অনেকে ইসলাম গ্রহণ করে। এ বছর মতান্তরে পরের বছর হযরত সায়ীদ ইবনুল আস (রা.) এর জন্ম হয়। পরে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সাহাবী হওয়ার মর্যাদা লাভ করেন। তিনি সে ভাগ্যবান দলের অন্যতম সদস্য, যারা হযরত ওসমান (রা.) এর নির্দেশে কুরআন মাজীদ সংকলন করেছিলেন। তাঁর পিতা আস ইবনে সায়ীদ বদরের যুদ্ধে হযরত আলীর (রা.) হাতে নিহত হন।
ওলামাগণ লিখেছেন যে, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার আনসারদের নিকট থেকে তিনবার বাইয়াত অনুষ্ঠান করেছিলেন। প্রথমবার নবুওয়াতের একাদশ বর্ষে রজব মাসে, তখন ছয়জন বা আটজন মুসলমান হয়েছিলেন। দ্বিতীয়বার দ্বাদশ বর্ষের রজব মাসে, তখন বারজন মুসলমান হয়েছিলেন। তৃতীয়বার ত্রয়োদশ বর্ষের যিলহজ্ব মাসে, তখন ৭৩ জন পুরুষ এবং দু'জন মহিলা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এসকল আকাবা এবং হজ্ব রজব মাসে এ কারণে অনুষ্ঠিত হয়েছিল যে, কাফিররা কোন মাসকে আগে নিয়ে আসা কিংবা পিছিয়ে দেয়ার জাহেলি নিয়ম পালনে অভ্যস্ত ছিল। নবুওয়াত প্রাপ্তির যখন তের বছর পূর্ণ হয় তখন চৌদ্দতম বছর মক্কাতেই শুরু হয় এবং এটাই ছিল হিজরতের প্রথম বছর। কেননা নবুওয়াতের চৌদ্দতম বছরে তৃতীয় আকাবার তিন মাস পরে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মক্কা মুকাররমা থেকে মদীনা তৈয়বায় হিজরত করেন। এরপর থেকেই হিজরী সাল গণনা শুরু হয়।