📄 নবুয়্যতের ৬ষ্ঠ বছর
নবুওয়াতের ৫ম বা ৬ষ্ঠ বছর আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ ঘোষণা দেন, আমি আপনাকে সমস্ত বিশ্বের মানুষের হিদায়াতের জন্য প্রেরণ করেছি। এ নির্দেশ পাওয়া মাত্র বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা বিশ্বের মানুষের জন্য দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ শুরু করেন। সূরা ফুরকানের প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে, পবিত্র ও মহান সে সত্তা, যিনি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী কিতাব নাযিল করেছেন নিজের বান্দা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর, যেন তিনি সারা বিশ্ববাসীকে ভয় প্রদর্শন করেন (ফুরকান-১)। এ জন্যেই বিশ্বনবী বিদায় হজ্জে বলেছেন, উপস্থিত জনতার প্রত্যেকেই অনুপস্থিত জনতাকে আমার আনীত দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিবে। নবুওয়াতের ৬ষ্ঠ বছরে কুরাইশ কাফিরদের নির্যাতনের কারণে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরকাম ইবনে আবুল আরকামের গৃহে অবস্থান করেন। সেখানে তিনি গোপনে নামায আদায় করতেন। এমন অবস্থায় একদিন বিস্ময়করভাবে হযরত ওমর (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করার পর ঘর থেকে বের হয়ে প্রকাশ্যে মসজিদুল হারামে গিয়ে জামায়াতে নামায আদায় করেন। দার এ আরকাম হচ্ছে মক্কা আল মুকাররমার মসজিদুল হারামের পার্শ্বে সাফা পাহাড়ের সংলগ্ন একটি স্থান।
হযরত ওমরের (রা.) ইসলাম গ্রহণ ছিল নবুওয়াতের দ্বিতীয় কিংবা পঞ্চম বছরের ঘটনা। হযরত ওমর (রা.) তখন ছিলেন ছাব্বিশ বছরের যুবক। তার আগে ঊনচল্লিশ জন নারী ও পুরুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এ বছর হযরত ওমর (রা.) যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখন আয়াত নাযিল হয়, 'হে নবী! আপনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট আর যারা ঈমানদার আপনার অনুসরণ করেছেন।' এ বছর বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি মোজেযা প্রকাশিত হয়। একটি গরুর বাচ্চা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের ঘোষণা দেয়। ঘটনাটি হযরত ওমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণের অন্যতম একটি কারণ হয়েছিল।
অভিশপ্ত আবু জাহল কুরাইশদের এক সমাবেশে বক্তব্য দানকালে বলে বসে, 'হে কুরাইশবাসী! মুহাম্মদ (সা.) আমাদের ধর্মকে বাতিল বলে থাকেন। আমাদের দেবতাদেরকে কটাক্ষ করেন। যে ব্যক্তি তার মাথা কেটে নিয়ে আসবে, তাকে একশত উট এবং একশত উকিয়া রৌপ্য পুরস্কার দিব।' এক উকিয়া চল্লিশ দিরহাম। ঘোষণা শুনে হযরত ওমর (রা.) কোষ থেকে তরবারী উন্মুক্ত করে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন নাশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। আবতাহ নামক স্থানে পৌঁছার পর দেখতে পেলেন কতিপয় কাফির একটি গরুর ছানাকে হাত পা বেঁধে যবাই করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আর গরুর বাচ্চার ভেতর থেকে আওয়াজ আসছে, হে যুরাইহের বংশ! এক ব্যক্তি অত্যন্ত সুন্দর প্রাঞ্জল ভাষায় সজোরে ঘোষণা দিচ্ছেন এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর দাওয়াত দিচ্ছেন।
এ ঘটনা দেখে হযরত ওমর (রা.) অভিভূত হয়ে পড়েন এবং তার অন্তরে ইসলামের সত্যতা অনুপ্রবেশ করে। পথিমধ্যে ওমর তার বোন ফাতিমা বিনতে খাত্তাব এর ঘরে যান। তার স্বামী সায়ীদ ইবনে যায়েদ (রা.) সুসংবাদপ্রাপ্ত দশ জন সাহাবীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তারা উভয়েই সদ্য নাযিলকৃত সূরা 'তোহা' এর পাঁচটি আয়াত তিলাওয়াত করছিলেন। ওমর যখন এ আয়াতটি শুনলেন, 'তোমরা যদি প্রকাশ্যে কথা বল; তবে তিনি চুপে চুপে বলা কথা এবং তার চেয়েও গোপনে বলা কথা জানতে পারেন। তিনি (আল্লাহ) এমন যে, তিনি ছাড়া আর কোন মা'বুদ নেই। তার সুন্দর নামসমূহ রয়েছে।' (সূরা তোহা-৭)। এ আয়াত শুনে হযরত ওমর (রা.) ইসলাম গ্রহণের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেন। যেন তার প্রাণ ওষ্ঠাগত হতে যাচ্ছিল। সংগে সংগে দরবারে রিসালাতে এসে হাজির হন। দ্বীন ইসলামের কাছে মস্তক অবনত করে দেন। ফলে মুসলমানদের মাঝে নারায়ে তকবীরের আওয়াজে আকাশ ভারী হয়ে উঠে।
হযরত ওমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণের জন্য মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে দোয়া করেছিলেন, 'হে আল্লাহ! আবু জাহল ইবনে হিশাম অথবা ওমর ইবনে খাত্তাবের মধ্যে যাকে তুমি পছন্দ কর তার দ্বারা ইসলামকে শক্তিশালী কর।' দোয়া কবুল হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং পরদিন হযরত ওমর (রা.) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কদমে লুটিয়ে পড়েন। বিশ্বনবী বুধবারে দোয়া করেছেন আর বৃহস্পতিবারে হযরত ওমর (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেছেন। হযরত ওমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণ করার ফলে মুসলমান জনতার মধ্যে আনন্দের ঢেউ খেলে যায়। ইসলামের মান মর্যাদা ব্যাপক হয়ে উঠে।
ইসলাম গ্রহণ করেই সাহসী বীর হযরত ওমর (রা.) মক্কার বাজারে বেরিয়ে পড়েন। হাতে ছিল খোলা তরবারী। কালিমার শব্দে মক্কার মাটি থরথর করে কাঁপছিল। তিনি যালেম কাফিরদের লক্ষ্য করে ঘোষণা করেন, তোমাদের যে কেউ আপন স্থান ত্যাগ করবে, আমার তরবারী তাকে এমন আঘাত হানবে যে, সে মাটির সংগে মিশে যাবে। ইসলাম গ্রহণের পর ওমর (রা.) প্রকাশ্যে কাবা ঘরে নামায পড়েন। এরপর হযরত ওমর (রা.)-এর সন্তান আব্দুল্লাহও ইসলাম গ্রহণ করেন। আল্লামা আমির আল রিয়াজুল মুস্তাবাহ কিতাবে লিখেছেন, ইবনে ওমর তাঁর পিতার সংগে ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
এ বছর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দারে আরকামে অবস্থান করছিলেন তখন হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) এর মাতা উম্মুল খায়র সালমা বিনতে ছখর মুসলমান হয়েছিলেন। এ বছর দারে আরকামে অবস্থানকালীন সময়ে আয়াস ইবনে বুকাইর ইবনে আবদে ইয়ালিল ইবনে নাশিব আল কেনানী (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি বদর, উহুদ, খন্দকসহ সব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তেমনিভাবে তার তিনজন সহোদর ভাই আমির, আকিল এবং খালিদ ইবনে গাজওয়াহ (রা.) বদর যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। তাছাড়া তার তিনজন বৈপিত্রয় ভাই মুয়াওয়াজ, মায়াজ এবং আওফর (রা.) বদর যুদ্ধে কৃতিত্বের ও বীরত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তার মাতা হলেন প্রখ্যাত মহিলা সাহাবী আফরা বিনতে ওবায়েদ ইবনে ছা'লাবা আল আনসারী। এ বছর মক্কায় কাফির ও মুনাফিকদের অত্যাচার এত বেড়ে গিয়েছিল যে, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দারে আকরামে আত্মগোপন করতে হয়েছিল। এ সময় কাফিররা আবু বকর (রা.)-কে এমনভাবে প্রহার করেছিল যে, তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। আবু বকর (রা.) এর যখন জ্ঞান ফিরে আসে, তিনি নিজের কথা না ভেবে বারবার শুধু বলছিলেন, আল্লাহর রাসূল কেমন আছেন? তাকে রাসূলের ব্যাপারে নিশ্চিত করা হলে, তিনি শান্ত হন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আবু বকরের (রা.) এটা ছিল অকৃত্রিম ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ। এজন্যেই মুমিনদের মাঝে আবু বকরের মর্যাদা এতবেশী।
📄 নবুয়্যতের ৭ম বছর
নবুওয়াতের সপ্তম বর্ষের পহেলা মহররম মতান্তরে অষ্টম বছর কুরাইশরা একটি অন্যায় লিখিত আদেশের মাধ্যমে বনু হাশিমের সংগে সামাজিক বয়কট করে। তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মহানবীর সংগে বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব ইবনে আবদে মানাফকে শুয়াবে আবি তালিবে (দু'পাহাড়ের অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে) বন্দী করে রাখে। কুরাইশরা যখন দেখতে পেল যে ক্রমশঃ তাদের ধর্ম সঙ্কুচিত হচ্ছে এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বীন দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে।
পাশাপাশি হযরত হামযা (রা.) এবং হযরত ওমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণের ফলে ইসলাম নতুন করে অত্যন্ত কার্যকরী উপায় ও নিজের গতি পেয়ে গেছে। এদিকে সাধারণ মুসলমানগণ আবিসিনিয়া হিজরত করে নাজ্জাশীর নিকট আশ্রয় কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। নাজ্জাশী তাদের অতিমাত্রায় সহযোগিতা ও সদ্ব্যবহার করছেন। অপরদিকে আবু তালিব এবং তার ভ্রাতৃপ্রতীম বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে আছে। এমনি অবস্থায় কুরাইশ দল পরামর্শক্রমে চুক্তিবদ্ধ হয় যে, বনু হাশিম এবং বনু মুত্তালিবের সংগে সম্পর্ক ছেদ করতে হবে এবং তাদেরকে শহরের বাইরে কোন গিরি সংকটে আবদ্ধ করে রাখতে হবে। সে গিরি-গুহার নাম ছিল শুয়াবে আবি তালিব। এ সময় আল্লাহপাক বিশ্বনবীকে জানান, নিশ্চয় তোমাদের ভীতি, ধন, সম্পদ ও শস্যহানী দ্বারা পরীক্ষা করে দেখব। আপনি সেসব ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দিন, যারা বিপদে পতিত হলে বলে আমরা আল্লাহর জন্য। তার দিকেই আমরা প্রত্যাবর্তন করব। (বাকারা : ১৫৫-১৫৬)। এরপর মুসলমানরা অসীম ধৈর্যধারণ করে। দাওয়াত ও তাবলীগের সফলতা আসবে ধৈর্যের মাধ্যমে। এ কথাটি পুনরায় বাস্তব বলে প্রমাণ হয়। এ সময় মুসলমানরা গাছের পাতা, শুকনো চামড়া, এসব অখাদ্য খেয়ে জীবন ধারণ করেছিল। কিন্তু মুশরিকদের অন্তর সামান্যতম নরম হয়নি।
কুরাইশের এ চুক্তি মৌখিক ছিল না। বরং তা ছিল লিপিবদ্ধ দলিল আকারে। এ চুক্তিটি কা'বা শরীফের দেয়ালে লটকিয়ে রাখা হয়েছিল। এ চুক্তির অমানুষিক ও ভয়ংকর দফাগুলো ছিল নিম্নরূপঃ
১. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বনী হাশিম ও বনী আবদে মনাফসহ শহর থেকে বিতাড়িত করতে হবে।
২. কুরাইশের কোন সদস্য তাদের সংগে কোন ধরনের আত্মীয়তা করতে পারবে না।
৩. তাদের নিকট কোন ধরনের খাদ্য পানীয় সরবরাহ করতে দেয়া হবে না।
৪. কোন ব্যক্তি তাদের কাছে কোন জিনিস বিক্রি করতে পারবে না। তাদের কোন জিনিসও কেউ ক্রয় করতে পারবে না।
৫. মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যতক্ষণ পর্যন্ত কুরাইশের হাতে হস্তান্তর করা না হবে; ততক্ষণ কোন সন্ধি বা আপোষ করা হবে না।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু হাশিম এবং বনু মুত্তালিবের সাথে শুয়াবে আবি তালিবে বন্দী অবস্থায় তিন বছর থাকেন। অবশেষে আল্লাহর নির্দেশে ঐ চুক্তিনামাটি উইপোকা কেটে ফেলে এবং একমাত্র আল্লাহর নাম ছাড়া একটি শব্দও অবশিষ্ট ছিল না। মহানবী (সা.) ওহী মারফত এটা জেনে স্বীয় চাচা আবু তালিবকে এ বিষয়টি অবহিত করেন। আবু তালিব সেটা কুরাইশদেরকে অবগত করেন। কুরাইশরা তা বিশ্বাস করতে রাজী হল না। আবু তালিব বলেন, চুক্তিনামা খুলে দেখ। সুতরাং সেটা খোলা হল এবং দেখা গেল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা মত চুক্তিনামাটি একেবারে পরিষ্কার; তাতে কোন লিখা নেই। এতে কুরাইশরা খুবই লজ্জিত হল। কাফিররা চুক্তিনামাটি ছিঁড়ে ফেলে। তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। এমনিভাবে তিন বছর পর অর্থাৎ নবুওয়াতের দশম বছরে মহানবী (সা.), তাঁর স্বজন, সাহাবী (রা.) এবং ভক্ত প্রেমিকগণ নিজেদের ঘরে ফিরে আসতে সক্ষম হন।
নবুওয়াতের সপ্তম বর্ষের পহেলা মহররম মতান্তরে অষ্টম বছর কুরাইশরা একটি অন্যায় লিখিত আদেশের মাধ্যমে বনু হাশিমের সংগে সামাজিক বয়কট করে। তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মহানবীর সংগে বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব ইবনে আবদে মানাফকে শুয়াবে আবি তালিবে (দু'পাহাড়ের অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে) বন্দী করে রাখে। কুরাইশরা যখন দেখতে পেল যে ক্রমশঃ তাদের ধর্ম সঙ্কুচিত হচ্ছে এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বীন দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে।
পাশাপাশি হযরত হামযা (রা.) এবং হযরত ওমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণের ফলে ইসলাম নতুন করে অত্যন্ত কার্যকরী উপায় ও নিজের গতি পেয়ে গেছে। এদিকে সাধারণ মুসলমানগণ আবিসিনিয়া হিজরত করে নাজ্জাশীর নিকট আশ্রয় কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। নাজ্জাশী তাদের অতিমাত্রায় সহযোগিতা ও সদ্ব্যবহার করছেন। অপরদিকে আবু তালিব এবং তার ভ্রাতৃপ্রতীম বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে আছে। এমনি অবস্থায় কুরাইশ দল পরামর্শক্রমে চুক্তিবদ্ধ হয় যে, বনু হাশিম এবং বনু মুত্তালিবের সংগে সম্পর্ক ছেদ করতে হবে এবং তাদেরকে শহরের বাইরে কোন গিরি সংকটে আবদ্ধ করে রাখতে হবে। সে গিরি-গুহার নাম ছিল শুয়াবে আবি তালিব। এ সময় আল্লাহপাক বিশ্বনবীকে জানান, নিশ্চয় তোমাদের ভীতি, ধন, সম্পদ ও শস্যহানী দ্বারা পরীক্ষা করে দেখব। আপনি সেসব ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দিন, যারা বিপদে পতিত হলে বলে আমরা আল্লাহর জন্য। তার দিকেই আমরা প্রত্যাবর্তন করব। (বাকারা : ১৫৫-১৫৬)। এরপর মুসলমানরা অসীম ধৈর্যধারণ করে। দাওয়াত ও তাবলীগের সফলতা আসবে ধৈর্যের মাধ্যমে। এ কথাটি পুনরায় বাস্তব বলে প্রমাণ হয়। এ সময় মুসলমানরা গাছের পাতা, শুকনো চামড়া, এসব অখাদ্য খেয়ে জীবন ধারণ করেছিল। কিন্তু মুশরিকদের অন্তর সামান্যতম নরম হয়নি।
কুরাইশের এ চুক্তি মৌখিক ছিল না। বরং তা ছিল লিপিবদ্ধ দলিল আকারে। এ চুক্তিটি কা'বা শরীফের দেয়ালে লটকিয়ে রাখা হয়েছিল। এ চুক্তির অমানুষিক ও ভয়ংকর দফাগুলো ছিল নিম্নরূপঃ
১. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বনী হাশিম ও বনী আবদে মনাফসহ শহর থেকে বিতাড়িত করতে হবে।
২. কুরাইশের কোন সদস্য তাদের সংগে কোন ধরনের আত্মীয়তা করতে পারবে না।
৩. তাদের নিকট কোন ধরনের খাদ্য পানীয় সরবরাহ করতে দেয়া হবে না।
৪. কোন ব্যক্তি তাদের কাছে কোন জিনিস বিক্রি করতে পারবে না। তাদের কোন জিনিসও কেউ ক্রয় করতে পারবে না।
৫. মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যতক্ষণ পর্যন্ত কুরাইশের হাতে হস্তান্তর করা না হবে; ততক্ষণ কোন সন্ধি বা আপোষ করা হবে না।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু হাশিম এবং বনু মুত্তালিবের সাথে শুয়াবে আবি তালিবে বন্দী অবস্থায় তিন বছর থাকেন। অবশেষে আল্লাহর নির্দেশে ঐ চুক্তিনামাটি উইপোকা কেটে ফেলে এবং একমাত্র আল্লাহর নাম ছাড়া একটি শব্দও অবশিষ্ট ছিল না। মহানবী (সা.) ওহী মারফত এটা জেনে স্বীয় চাচা আবু তালিবকে এ বিষয়টি অবহিত করেন। আবু তালিব সেটা কুরাইশদেরকে অবগত করেন। কুরাইশরা তা বিশ্বাস করতে রাজী হল না। আবু তালিব বলেন, চুক্তিনামা খুলে দেখ। সুতরাং সেটা খোলা হল এবং দেখা গেল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা মত চুক্তিনামাটি একেবারে পরিষ্কার; তাতে কোন লিখা নেই। এতে কুরাইশরা খুবই লজ্জিত হল। কাফিররা চুক্তিনামাটি ছিঁড়ে ফেলে। তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। এমনিভাবে তিন বছর পর অর্থাৎ নবুওয়াতের দশম বছরে মহানবী (সা.), তাঁর স্বজন, সাহাবী (রা.) এবং ভক্ত প্রেমিকগণ নিজেদের ঘরে ফিরে আসতে সক্ষম হন।
📄 নবুয়্যতের ৮ম বছর
কুরাইশ কর্তৃক বিশ্বনবী ও তার অনুসারীদের এ বয়কট ছিল হৃদয় বিদারক ও ভয়াবহ। বয়কটের তিন বছর শিশু-কিশোর-মহিলা ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা খাদ্য ও পানির অভাবে রাতে চিৎকার করে কাঁদতো। পিপাসা এবং ক্ষুধার তাড়নায় বেহুশ হয়ে যেত। গাছের ছাল, পাতা, পশুর চামড়া খেয়ে দিন অতিবাহিত করত। তাদের করুণ অবস্থায় আকাশ বাতাস ভারাক্রান্ত হয়ে যেত। দ্বীনের জন্য এত যুলুম অত্যাচার, সকল ইতিহাসকে হার মানিয়ে যায়। অথচ কাফির মুশরিকরা এসব দেখে হাসি, তামাশা এবং ব্যঙ্গ- বিদ্রূপ করত। তাদের কর্ম পশুত্বকেও হার মানিয়েছিল। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীরা এর মাঝেও দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ অব্যাহত রাখেন। তা'লীম, গাশত, দাওয়াত, ইবাদত চলতে থাকে যথারীতি। সময়টা ছিল ইসলামের জন্য সংকটাপন্ন ও দুর্বিসহ।
মক্কার কাফিরদের নিকট সংবাদ পৌঁছে যে, পারস্যের কাফিরগণ অর্থাৎ নওশের এর সন্তান বা রোমানদের উপর বিজয়ী হয়ে গেছে। সংবাদ শুনে মক্কার কাফিররা খুবই আনন্দিত হয়ে উঠে। তারা মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলতে থাকে, রোমনরাও তোমাদের মত আহলে কিতাব। অপর পারস্যবাসী আমাদের মত কিতাব ছাড়া। আমাদের ভাইয়েরা সে দেশে যেভাবে রোমান ভাইদের উপর বিজয়ী হয়েছে, তেমনিভাবে আমরাও তোমাদের উপর বিজয়ী হব। এতে মুসলমানগণ মর্মাহত ও ব্যথিত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সূরা রূমের প্রাথমিক আয়াতসমূহ নাযিল হয়। এ সূরার মর্মকথা হল, আগামী দশ বছরের মধ্যে রোমানরা পুনরায় পারস্যের উপর আক্রমণ করবে এবং তারা পারস্যের উপর বিজয়ী হবে।
হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) মক্কার কাফিরদের ঐ আয়াতটি পড়ে শুনান। তখন কাফিরগণ সেটা বিশ্বাস করতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করে। উবাই ইবনে খালফ, হযরত আবু বকর সিদ্দীকের (রা.) উপর এ শর্ত আরোপ করে যে, তোমাদের দাবী অনুযায়ী যদি নয় বছরের মধ্যে রোম পারস্যের উপর বিজয়ী হতে পারে, তবে আমি তোমাকে একশত উট পুরস্কার দিব। অন্যথায় তোমার নিকট থেকে একশত উট আদায় করে ছাড়ব। উভয়পক্ষ থেকে এ চুক্তির জামিন নির্ধারিত হয়। অতঃপর মুসলমানগণ যেদিন বদর যুদ্ধে জয়লাভ করেন; ঠিক সেদিন সংবাদ এসে পৌঁছে যে, রোম পারস্যের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে। এ কথা শুনে মুসলমানদের অন্তরে আনন্দের জোয়ার দেখা দেয়। পবিত্র কুরআনে এ সম্পর্কে ইরশাদ হচ্ছে, 'আর সেদিন খুশি হবে মুসলমানগণ।' হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.), উবাই ইবনে খালফের জামিনের নিকট থেকে একশত উট আদায় করে নেন।
নবুওয়াতের ৮ম বছর আওস এবং খাজরায কাবিলার মধ্যে 'বুয়াস' নামক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। একই বছর বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়ার মোজেযা ঘটে। মুশরিকরা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট দাবী জানায় যে, 'আপনি এমন কোন ঘটনা দেখান; যা আকাশের মধ্যে ঘটবে।' তাই মহানবী (সা.) পূর্ণিমার রাতে চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত করার অবিস্মরণীয় অলৌকিক ঘটনা দেখান। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাহাদত আংগুল দ্বারা চাঁদের প্রতি ইংগিত করেন এবং চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। এক টুকরা হেরা পর্বতের ডান দিকে এবং অপর টুকরা বাম দিকে পৃথিবীর নিকটে ঝুঁকে পড়ে। হেরা পর্বত উভয়ের মধ্যখানে সুস্পষ্টভাবে চমকে উঠে। তা দর্শনে কাফিরগণ বলে উঠে, এটা (এক শক্ত) প্রকাশ্য যাদু। তারা তা অবিশ্বাস করে এবং ইসলাম গ্রহণ না করে নিজেদের মনের খায়েশ অনুসারে চলতে থাকে। (সূরা কুমার)। বর্ণিত আছে চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ঘটনা ভারতবর্ষের এক হিন্দু রাজা দর্শন করেছিলেন এবং তিনি রাজ্য ছেড়ে দেশান্তরি হয়ে মক্কায় গিয়ে মুসলমান হয়েছিলেন। অথচ যাদের জন্য এ মোজেযা প্রকাশিত হয়েছিল, তাদের ভাগ্যে হিদায়াত নসীব হয়নি। অথচ হিদায়াত নসীব হয়েছিল দূর দেশের এক মুশরিক রাজার। হিদায়াত আল্লাহর কাছে।
কুরাইশ কর্তৃক বিশ্বনবী ও তার অনুসারীদের এ বয়কট ছিল হৃদয় বিদারক ও ভয়াবহ। বয়কটের তিন বছর শিশু-কিশোর-মহিলা ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা খাদ্য ও পানির অভাবে রাতে চিৎকার করে কাঁদতো। পিপাসা এবং ক্ষুধার তাড়নায় বেহুশ হয়ে যেত। গাছের ছাল, পাতা, পশুর চামড়া খেয়ে দিন অতিবাহিত করত। তাদের করুণ অবস্থায় আকাশ বাতাস ভারাক্রান্ত হয়ে যেত। দ্বীনের জন্য এত যুলুম অত্যাচার, সকল ইতিহাসকে হার মানিয়ে যায়। অথচ কাফির মুশরিকরা এসব দেখে হাসি, তামাশা এবং ব্যঙ্গ- বিদ্রূপ করত। তাদের কর্ম পশুত্বকেও হার মানিয়েছিল। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীরা এর মাঝেও দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ অব্যাহত রাখেন। তা'লীম, গাশত, দাওয়াত, ইবাদত চলতে থাকে যথারীতি। সময়টা ছিল ইসলামের জন্য সংকটাপন্ন ও দুর্বিসহ।
মক্কার কাফিরদের নিকট সংবাদ পৌঁছে যে, পারস্যের কাফিরগণ অর্থাৎ নওশের এর সন্তান বা রোমানদের উপর বিজয়ী হয়ে গেছে। সংবাদ শুনে মক্কার কাফিররা খুবই আনন্দিত হয়ে উঠে। তারা মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলতে থাকে, রোমনরাও তোমাদের মত আহলে কিতাব। অপর পারস্যবাসী আমাদের মত কিতাব ছাড়া। আমাদের ভাইয়েরা সে দেশে যেভাবে রোমান ভাইদের উপর বিজয়ী হয়েছে, তেমনিভাবে আমরাও তোমাদের উপর বিজয়ী হব। এতে মুসলমানগণ মর্মাহত ও ব্যথিত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সূরা রূমের প্রাথমিক আয়াতসমূহ নাযিল হয়। এ সূরার মর্মকথা হল, আগামী দশ বছরের মধ্যে রোমানরা পুনরায় পারস্যের উপর আক্রমণ করবে এবং তারা পারস্যের উপর বিজয়ী হবে।
হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) মক্কার কাফিরদের ঐ আয়াতটি পড়ে শুনান। তখন কাফিরগণ সেটা বিশ্বাস করতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করে। উবাই ইবনে খালফ, হযরত আবু বকর সিদ্দীকের (রা.) উপর এ শর্ত আরোপ করে যে, তোমাদের দাবী অনুযায়ী যদি নয় বছরের মধ্যে রোম পারস্যের উপর বিজয়ী হতে পারে, তবে আমি তোমাকে একশত উট পুরস্কার দিব। অন্যথায় তোমার নিকট থেকে একশত উট আদায় করে ছাড়ব। উভয়পক্ষ থেকে এ চুক্তির জামিন নির্ধারিত হয়। অতঃপর মুসলমানগণ যেদিন বদর যুদ্ধে জয়লাভ করেন; ঠিক সেদিন সংবাদ এসে পৌঁছে যে, রোম পারস্যের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে। এ কথা শুনে মুসলমানদের অন্তরে আনন্দের জোয়ার দেখা দেয়। পবিত্র কুরআনে এ সম্পর্কে ইরশাদ হচ্ছে, 'আর সেদিন খুশি হবে মুসলমানগণ।' হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.), উবাই ইবনে খালফের জামিনের নিকট থেকে একশত উট আদায় করে নেন।
নবুওয়াতের ৮ম বছর আওস এবং খাজরায কাবিলার মধ্যে 'বুয়াস' নামক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। একই বছর বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়ার মোজেযা ঘটে। মুশরিকরা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট দাবী জানায় যে, 'আপনি এমন কোন ঘটনা দেখান; যা আকাশের মধ্যে ঘটবে।' তাই মহানবী (সা.) পূর্ণিমার রাতে চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত করার অবিস্মরণীয় অলৌকিক ঘটনা দেখান। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাহাদত আংগুল দ্বারা চাঁদের প্রতি ইংগিত করেন এবং চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। এক টুকরা হেরা পর্বতের ডান দিকে এবং অপর টুকরা বাম দিকে পৃথিবীর নিকটে ঝুঁকে পড়ে। হেরা পর্বত উভয়ের মধ্যখানে সুস্পষ্টভাবে চমকে উঠে। তা দর্শনে কাফিরগণ বলে উঠে, এটা (এক শক্ত) প্রকাশ্য যাদু। তারা তা অবিশ্বাস করে এবং ইসলাম গ্রহণ না করে নিজেদের মনের খায়েশ অনুসারে চলতে থাকে। (সূরা কুমার)। বর্ণিত আছে চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ঘটনা ভারতবর্ষের এক হিন্দু রাজা দর্শন করেছিলেন এবং তিনি রাজ্য ছেড়ে দেশান্তরি হয়ে মক্কায় গিয়ে মুসলমান হয়েছিলেন। অথচ যাদের জন্য এ মোজেযা প্রকাশিত হয়েছিল, তাদের ভাগ্যে হিদায়াত নসীব হয়নি। অথচ হিদায়াত নসীব হয়েছিল দূর দেশের এক মুশরিক রাজার। হিদায়াত আল্লাহর কাছে।
📄 নবুয়্যতের ৯ম বছর
নবুওয়াতের নবম বছরে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ জোরদার হয়। মুসলমানদের উপর অত্যাচারও বহুগুণে বেড়ে যায়। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার আশেপাশে বেশী বেশী দাওয়াতের কাজ করেন। বিশ্বনবীর সাহাবীরাও শত বাঁধা ও অত্যাচারের মাঝে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ অব্যাহত রাখেন। দরিদ্র দাস-দাসীদের অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করে। তবে ধনী, বংশীয় ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোকেরা ইসলাম থেকে দূরে থেকে যান। তাদের অহংকার এবং লোকে কি বলবে, এ মনোভাবের কারণে হিদায়াত নসীব হয়নি। অনেক মুশরিক ও কাফির স্পষ্টই অনুধাবন করেছিল যে, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য রাসূল এবং ইসলাম সর্বশেষ ও খাঁটি ধর্ম। কিন্তু নিজেদের মিথ্যা অহংকারে তারা হিদায়াত থেকে বঞ্চিত রয়ে যায়।
নবুওয়াতের নবম বছরে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ জোরদার হয়। মুসলমানদের উপর অত্যাচারও বহুগুণে বেড়ে যায়। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার আশেপাশে বেশী বেশী দাওয়াতের কাজ করেন। বিশ্বনবীর সাহাবীরাও শত বাঁধা ও অত্যাচারের মাঝে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ অব্যাহত রাখেন। দরিদ্র দাস-দাসীদের অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করে। তবে ধনী, বংশীয় ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোকেরা ইসলাম থেকে দূরে থেকে যান। তাদের অহংকার এবং লোকে কি বলবে, এ মনোভাবের কারণে হিদায়াত নসীব হয়নি। অনেক মুশরিক ও কাফির স্পষ্টই অনুধাবন করেছিল যে, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য রাসূল এবং ইসলাম সর্বশেষ ও খাঁটি ধর্ম। কিন্তু নিজেদের মিথ্যা অহংকারে তারা হিদায়াত থেকে বঞ্চিত রয়ে যায়।