📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামাজিক জীবন

📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামাজিক জীবন


হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন আরববাসীদের ঠিক সম্মুখে রয়েছে। নবুওয়াত লাভের পূর্বে পুরো চল্লিশটি বছর তিনি আরবদের মাঝেই, তাদের একজন হয়ে অতিবাহিত করেছেন। তাদের শহর মক্কাতেই তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন। তাদের চোখের সামনে তিনি শৈশব কাটিয়েছেন। সম্মানের সাথে উন্নত চরিত্র নিয়ে যৌবনে পদার্পণ করেছেন। জীবনের প্রায় পুরো সময় তাদের সাথে থাকা-খাওয়া, চলা-ফেরা, মেলামেশা করেছেন। বিয়ে-শাদীও তাদের সাথে করেছেন। লেন-দেন করেছেন। সকল প্রকার সামাজিক কাজে যোগ দিয়েছেন তথা সম্পর্ক স্থাপন তাদের সাথেই করেছেন। মেয়েদের বিয়ে শাদীও তাদের কাছে দিয়েছেন। তাঁর প্রতিটি দিকই তাদের নিকট প্রকাশ্য, উজ্জ্বল ও খোলা খাতার মত ছিল। দীর্ঘ চল্লিশ বছর তিনি কোন শিক্ষালয়ে প্রশিক্ষণ লাভ করেননি। এতীম অনাথ হওয়ার কারণে সে সুযোগও পাননি। তবে কি করে তিনি আল কুরআন হতে এমন তথ্য, তত্ত্ব জ্ঞান, বিজ্ঞতা লাভ করে, সহসাই নবুওতের দাবী করলেন? এর সাথে সাথেই তার মুখ হতে জ্ঞানের ঝর্ণধারা প্রবাহিত হতে লাগল? কেউ গবেষণা করল না? আসলে এর পিছে কি মহারহস্য লুকিয়ে আছে? কেউ তা ভেবে দেখল না? মহান রবের সরাসরি সাহায্য ব্যতীত কেউ কি এমনটি করতে পারে? অবশ্যই না। ইতিহাসই এর সাক্ষী।

দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় আরববাসীদের কাছে স্পষ্ট ছিল তা হলঃ মিথ্যাবাদ, ধোঁকা, প্রতারণা, জালিয়াতি, ঠকবাজী প্রভৃতি নৈতিক কদর্যতাপূর্ণ কাজ; তাঁর জীবনে কখনই দেখা যায়নি। দীর্ঘ চল্লিশ বছরে, কোন মানুষ এমন দাবী করতে পারেনি যে, তাঁর চরিত্রে ওসব কিছুর বিন্দু মাত্র লক্ষণ ছিল। পক্ষান্তরে যে লোকই তাঁর সংস্পর্শে এসেছে, সে তাঁকে একজন সত্যবাদী, সত্যদর্শী, নিষ্কলুষ ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে পেয়েছে। অতএব এ কিতাব (আল কুরআন) তাঁর বানিয়ে বলাটা সম্পূর্ণ নিরর্থক ও বোকামি। অথচ প্রিয়নবী যখন পবিত্র কুরআনের বাণী আরববাসীদের শোনাতে লাগলেন, তখন তারা বলতে লাগল, এটা আল্লাহর বাণী নয় বরং এটা তোমার নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত বানান কথা। এটাকে আল্লাহর নামে পেশ করার উদ্দেশ্য হল, তার সে বাণীর মূল্য ও গুরুত্ব বৃদ্ধি করা। মানুষ অজ্ঞতাবশত এভাবেই ভুল করে থাকে। প্রত্যেক নবী রাসূলের ক্ষেত্রেই এমনটি হয়েছে।

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স যখন পঁয়ত্রিশ বছর। নবুওয়াত লাভের মাত্র পাঁচ বছর বাকী। তখন কা'বা ঘর পুনঃনির্মাণের ও হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর পুনঃ স্থাপনের মত ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। সে সময় কা'বা গৃহের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে যায়। কারণ এ পবিত্র ঘরটি নিম্নভূমিতে স্থাপিত হয়েছিল। ফলে বর্ষাকালে সারা শহরের পানি হারাম শরীফেই জমা হত। এ পানি যাতে করে কাবা গৃহের ক্ষতি সাধন করতে না পারে, সে জন্য বাঁধ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বাঁধটি প্রায়ই ভেঙ্গে যেত।
ফলে হারাম শরীফের অবস্থা আরও করুণ হয়ে পড়ে। কা'বা ঘরকে ভালভাবে মেরামত করা জরুরী হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সব কিছুকে ভেঙ্গে ফেলা ছাড়া কোন উপায় ছিল না। অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছিল যে, আল্লাহর ঘর কিভাবে ভেঙ্গে ধূলিস্মাৎ করা যাবে? এটাতো ভয়ংকর পাপের কাজ। তখন বিজ্ঞ ব্যক্তিরা মতামত দিল, না! পাপ হবে কেন? এতো কা'বা ঘরকেই পুনঃনির্মাণের জন্য এবং মজবুত করে তৈরি করার জন্য করা হচ্ছে।

এভাবেই কা'বা ঘরের পুনঃনির্মাণে সকলেই ঐক্যমতে পৌঁছে। এদিকে সে সময় জিদ্দা বন্দরের উপকূলে ঝড়ের আঘাতে একটি জাহাজ অকেজো হয়ে ভেঙ্গে পড়ে। এ সংবাদে কুরাইশ নেতৃবৃন্দ, ওলীদকে পাঠিয়ে খুব অল্পদামে জাহাজের পরিত্যক্ত কাঠগুলো কা'বার ছাদের জন্য কিনে আনার ব্যবস্থা করে। কুরাইশ নেতৃবৃন্দ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কা'বা গৃহের সংস্কার কাজে অংশগ্রহণ করে। এতে দেয়ালগুলো খুব দ্রুত নির্দিষ্ট উচ্চতায় গিয়ে পৌঁছে। কিন্তু পবিত্র কালো পাথরটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কারণ এ পবিত্র পাথরটি দেয়ালে স্থাপন করার সম্মান ও গৌরব কোন গোত্রই হাতছাড়া করতে রাজী ছিল না। ফলে দাঙ্গা বাঁধার উপক্রম হল। সংঘাত অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠল। এ সংবাদে শহরের বাসিন্দারা আতংকিত হয়ে উঠল। আরব রীতিতে সংঘাত যদি শুরু হয়, তাহলে বংশানুক্রমে চলতে থাকে। কোন কোন গোত্র তাদের প্রথানুসারে রক্তপূর্ণ পাত্রে হাত ডুবিয়ে সংঘাতের জন্য প্রতিজ্ঞা করে বসল। এ পরিস্থিতিতে তাদের সম্মানী ব্যক্তিত্ব জ্ঞানবৃদ্ধ আবু উমাইয়া (মতান্তরে ওলীদ) সবাইকে লক্ষ্য করে বললেন, শোন তোমরা থাম! শুধু শুধু রক্তপাত কেন ঘটাবে? আগামীকাল সকালে যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম হেরেম শরীফের মধ্যে প্রবেশ করবে, তাকেই তোমরা সকলে পঞ্চায়েত মেনে নিবে। তার কথামতেই স্থাপিত হবে পবিত্র পাথর। সকলেই প্রস্তাবে রাজি হল। এরপর সবাই যার যার অবস্থানে চলে গেল।

পর দিন খুব ভোরে যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম সেখানে প্রবেশ করল, তিনি ছিলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁকে দেখতে পেয়েই সমবেত লোকেরা বলে উঠল, এ ব্যক্তি আল আমিন; বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য। আমরা তাকেই মীমাংসাকারী মেনে নিতে রাজি আছি। তিনি তো মুহাম্মদ। সত্যবাদী, বিজ্ঞ, সর্বজন স্বীকৃত ব্যক্তিত্ব। গোত্র প্রধানরা তাঁকে ঘিরে, তাদের সমস্যার কথা বললেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একটি বড় চাদর এনে জমিনে বিছানো হোক। অতঃপর প্রত্যেক গোত্রের প্রধান প্রধান ব্যক্তিরা এসে চাদরের চারিদিকে ধরল। এরপর তিনি কালো পাথরটি নিজ হাতে নিয়ে সে বিছানো চাদরের মাঝখানে রাখলেন। অতঃপর দলপতিরা চাদরের কোণা ধরে নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে গেল। তখন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথরটিকে নিজ হাতে তুলে নিয়ে নির্ধারিত স্থানে বসিয়ে দিলেন। এভাবে নবুওয়াত লাভের পূর্বেই মহান আল্লাহ, সমগ্র কুরাইশদের দ্বারা তাঁকে একজন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিরূপে স্বীকার করিয়ে নিলেন। সমাজে তাঁকে স্বীকৃত ব্যক্তিত্বের আসনে অধিষ্ঠিত করলেন। এসবই মহান প্রতিপালকের নিখুঁত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন আরববাসীদের ঠিক সম্মুখে রয়েছে। নবুওয়াত লাভের পূর্বে পুরো চল্লিশটি বছর তিনি আরবদের মাঝেই, তাদের একজন হয়ে অতিবাহিত করেছেন। তাদের শহর মক্কাতেই তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন। তাদের চোখের সামনে তিনি শৈশব কাটিয়েছেন। সম্মানের সাথে উন্নত চরিত্র নিয়ে যৌবনে পদার্পণ করেছেন। জীবনের প্রায় পুরো সময় তাদের সাথে থাকা-খাওয়া, চলা-ফেরা, মেলামেশা করেছেন। বিয়ে-শাদীও তাদের সাথে করেছেন। লেন-দেন করেছেন। সকল প্রকার সামাজিক কাজে যোগ দিয়েছেন তথা সম্পর্ক স্থাপন তাদের সাথেই করেছেন। মেয়েদের বিয়ে শাদীও তাদের কাছে দিয়েছেন। তাঁর প্রতিটি দিকই তাদের নিকট প্রকাশ্য, উজ্জ্বল ও খোলা খাতার মত ছিল। দীর্ঘ চল্লিশ বছর তিনি কোন শিক্ষালয়ে প্রশিক্ষণ লাভ করেননি। এতীম অনাথ হওয়ার কারণে সে সুযোগও পাননি। তবে কি করে তিনি আল কুরআন হতে এমন তথ্য, তত্ত্ব জ্ঞান, বিজ্ঞতা লাভ করে, সহসাই নবুওতের দাবী করলেন? এর সাথে সাথেই তার মুখ হতে জ্ঞানের ঝর্ণধারা প্রবাহিত হতে লাগল? কেউ গবেষণা করল না? আসলে এর পিছে কি মহারহস্য লুকিয়ে আছে? কেউ তা ভেবে দেখল না? মহান রবের সরাসরি সাহায্য ব্যতীত কেউ কি এমনটি করতে পারে? অবশ্যই না। ইতিহাসই এর সাক্ষী।

দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় আরববাসীদের কাছে স্পষ্ট ছিল তা হলঃ মিথ্যাবাদ, ধোঁকা, প্রতারণা, জালিয়াতি, ঠকবাজী প্রভৃতি নৈতিক কদর্যতাপূর্ণ কাজ; তাঁর জীবনে কখনই দেখা যায়নি। দীর্ঘ চল্লিশ বছরে, কোন মানুষ এমন দাবী করতে পারেনি যে, তাঁর চরিত্রে ওসব কিছুর বিন্দু মাত্র লক্ষণ ছিল। পক্ষান্তরে যে লোকই তাঁর সংস্পর্শে এসেছে, সে তাঁকে একজন সত্যবাদী, সত্যদর্শী, নিষ্কলুষ ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে পেয়েছে। অতএব এ কিতাব (আল কুরআন) তাঁর বানিয়ে বলাটা সম্পূর্ণ নিরর্থক ও বোকামি। অথচ প্রিয়নবী যখন পবিত্র কুরআনের বাণী আরববাসীদের শোনাতে লাগলেন, তখন তারা বলতে লাগল, এটা আল্লাহর বাণী নয় বরং এটা তোমার নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত বানান কথা। এটাকে আল্লাহর নামে পেশ করার উদ্দেশ্য হল, তার সে বাণীর মূল্য ও গুরুত্ব বৃদ্ধি করা। মানুষ অজ্ঞতাবশত এভাবেই ভুল করে থাকে। প্রত্যেক নবী রাসূলের ক্ষেত্রেই এমনটি হয়েছে।

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স যখন পঁয়ত্রিশ বছর। নবুওয়াত লাভের মাত্র পাঁচ বছর বাকী। তখন কা'বা ঘর পুনঃনির্মাণের ও হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর পুনঃ স্থাপনের মত ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। সে সময় কা'বা গৃহের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে যায়। কারণ এ পবিত্র ঘরটি নিম্নভূমিতে স্থাপিত হয়েছিল। ফলে বর্ষাকালে সারা শহরের পানি হারাম শরীফেই জমা হত। এ পানি যাতে করে কাবা গৃহের ক্ষতি সাধন করতে না পারে, সে জন্য বাঁধ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বাঁধটি প্রায়ই ভেঙ্গে যেত।
ফলে হারাম শরীফের অবস্থা আরও করুণ হয়ে পড়ে। কা'বা ঘরকে ভালভাবে মেরামত করা জরুরী হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সব কিছুকে ভেঙ্গে ফেলা ছাড়া কোন উপায় ছিল না। অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছিল যে, আল্লাহর ঘর কিভাবে ভেঙ্গে ধূলিস্মাৎ করা যাবে? এটাতো ভয়ংকর পাপের কাজ। তখন বিজ্ঞ ব্যক্তিরা মতামত দিল, না! পাপ হবে কেন? এতো কা'বা ঘরকেই পুনঃনির্মাণের জন্য এবং মজবুত করে তৈরি করার জন্য করা হচ্ছে।

এভাবেই কা'বা ঘরের পুনঃনির্মাণে সকলেই ঐক্যমতে পৌঁছে। এদিকে সে সময় জিদ্দা বন্দরের উপকূলে ঝড়ের আঘাতে একটি জাহাজ অকেজো হয়ে ভেঙ্গে পড়ে। এ সংবাদে কুরাইশ নেতৃবৃন্দ, ওলীদকে পাঠিয়ে খুব অল্পদামে জাহাজের পরিত্যক্ত কাঠগুলো কা'বার ছাদের জন্য কিনে আনার ব্যবস্থা করে। কুরাইশ নেতৃবৃন্দ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কা'বা গৃহের সংস্কার কাজে অংশগ্রহণ করে। এতে দেয়ালগুলো খুব দ্রুত নির্দিষ্ট উচ্চতায় গিয়ে পৌঁছে। কিন্তু পবিত্র কালো পাথরটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কারণ এ পবিত্র পাথরটি দেয়ালে স্থাপন করার সম্মান ও গৌরব কোন গোত্রই হাতছাড়া করতে রাজী ছিল না। ফলে দাঙ্গা বাঁধার উপক্রম হল। সংঘাত অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠল। এ সংবাদে শহরের বাসিন্দারা আতংকিত হয়ে উঠল। আরব রীতিতে সংঘাত যদি শুরু হয়, তাহলে বংশানুক্রমে চলতে থাকে। কোন কোন গোত্র তাদের প্রথানুসারে রক্তপূর্ণ পাত্রে হাত ডুবিয়ে সংঘাতের জন্য প্রতিজ্ঞা করে বসল। এ পরিস্থিতিতে তাদের সম্মানী ব্যক্তিত্ব জ্ঞানবৃদ্ধ আবু উমাইয়া (মতান্তরে ওলীদ) সবাইকে লক্ষ্য করে বললেন, শোন তোমরা থাম! শুধু শুধু রক্তপাত কেন ঘটাবে? আগামীকাল সকালে যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম হেরেম শরীফের মধ্যে প্রবেশ করবে, তাকেই তোমরা সকলে পঞ্চায়েত মেনে নিবে। তার কথামতেই স্থাপিত হবে পবিত্র পাথর। সকলেই প্রস্তাবে রাজি হল। এরপর সবাই যার যার অবস্থানে চলে গেল।

পর দিন খুব ভোরে যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম সেখানে প্রবেশ করল, তিনি ছিলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁকে দেখতে পেয়েই সমবেত লোকেরা বলে উঠল, এ ব্যক্তি আল আমিন; বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য। আমরা তাকেই মীমাংসাকারী মেনে নিতে রাজি আছি। তিনি তো মুহাম্মদ। সত্যবাদী, বিজ্ঞ, সর্বজন স্বীকৃত ব্যক্তিত্ব। গোত্র প্রধানরা তাঁকে ঘিরে, তাদের সমস্যার কথা বললেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একটি বড় চাদর এনে জমিনে বিছানো হোক। অতঃপর প্রত্যেক গোত্রের প্রধান প্রধান ব্যক্তিরা এসে চাদরের চারিদিকে ধরল। এরপর তিনি কালো পাথরটি নিজ হাতে নিয়ে সে বিছানো চাদরের মাঝখানে রাখলেন। অতঃপর দলপতিরা চাদরের কোণা ধরে নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে গেল। তখন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথরটিকে নিজ হাতে তুলে নিয়ে নির্ধারিত স্থানে বসিয়ে দিলেন। এভাবে নবুওয়াত লাভের পূর্বেই মহান আল্লাহ, সমগ্র কুরাইশদের দ্বারা তাঁকে একজন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিরূপে স্বীকার করিয়ে নিলেন। সমাজে তাঁকে স্বীকৃত ব্যক্তিত্বের আসনে অধিষ্ঠিত করলেন। এসবই মহান প্রতিপালকের নিখুঁত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00