📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকাল
১১ হিজরীর সফর মাসের শেষে বুধবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্বর ও মাথা ব্যথায় আক্রান্ত হন। ৩ রবিউল আউয়াল সাথীদের নিয়ে জান্নাতুল বাকী গোরস্তানে শেষবারের মত জিয়ারত করেন। ৮ রবিউল আউয়াল বৃহস্পতিবার রোগ আরো বেড়ে যায়। ১২ই রবিউল আউয়াল ভোরে আয়িশার ঘরের পর্দা সরিয়ে দেখেন, মুসলমানেরা আবু বকরের নেতৃত্বে ফজরের নামায আদায় করছেন। এ দৃশ্য দেখে তিনি খুশি হয়ে মৃদু হাসেন। ১১ হিজরী ১২ রবিউল আউয়াল বা ৬৩২ খ্রীষ্টাব্দে ৭ জুন, সোমবার দুপুরের কাছাকাছি সময়ে আয়িশার ঘরে, তাঁর কোলে মাথা রেখে চির বিদায় নেন। ইন্তিকালের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট মাত্র ৭টি দিরহাম ছিল, যা গরীবদের মাঝে তখনই বিলি করে দেয়া হয়। আরেক বর্ণনায় এসেছে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিব ও এশার নামাযের মাঝামাঝি সময়ে ইন্তিকাল করেন।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদর ও লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় ইন্তিকাল করেন এবং সে অবস্থায় তাকে গোসল করানো হয়। আলী (রা.), আব্বাস (রা.), আব্বাসের দুই ছেলে ফজল ও কুছাম (রা.) এবং উসামা বিন যায়েদ (রা.) গোসল করান। রাসূল (সা.) এর মুক্ত করা গোলাম শুকরান (রা.) শরীরে পানি ঢালেন। ১৩ রবিউল আউয়াল, মঙ্গলবার রাতে জানাযা শেষ হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জানাযায় কেউ ইমামতি করেননি। লাইন ধরে দশ দশ জন লোক এসে দোয়া করে চলে যান। আলী, ফজল, কুছাম ও শুকরান (রা.) কবরে নেমে লাশ রাখেন। বিলাল (রা.) কবরে পানি ছিটিয়ে দেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মোট জীবনকাল ৬৩ বছর ৪ মাস অথবা ২২,৩৩০ দিন ৬ ঘণ্টার মত।