📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৈনন্দিন কাজ

📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৈনন্দিন কাজ


বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিন রাতের তিন ভাগের একভাগ ইবাদত-বন্দেগী, একভাগ পরিবার-পরিজন ও গৃহকর্মের জন্য এবং আরেকভাগ সমাজের দুঃস্থ-নিঃস্বজনের সেবায় ব্যয় করতেন। বিশেষ জরুরি অবস্থা সৃষ্টি না হলে, এ অবস্থার ব্যতিক্রম হতো না। ফজরের নামায শেষ করে জায়নামাযে লোকজনের প্রতি মুখ ঘুরিয়ে বসতেন। তাদের ওয়াজ-নসীহত, দাওয়াত ও উপদেশ দিতেন। প্রশ্নের জবাব দিতেন। কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে সে সম্পর্কে পরামর্শ করতেন। মাঝে মাঝে সাহাবীদের স্বপ্নের তা'বীর বর্ণনা করতেন। বিদেশি প্রতিনিধি ও বিভিন্ন গোত্রের লোকের সাথে সাক্ষাৎ দিতেন। বিচার সালিসি অভিযোগ শোনা ও মীমাংসা করতেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করতেন। মালে গণীমত, ভাতা ও খারাজের মাল বণ্টন করতেন। চার রাকাত অথবা আট রাকাত চাশতের নামায পড়ে ঘরে ফিরতেন (বুখারী, মুসনাদে আহমদ)।

ঘরে ফিরে বাড়ির কাজে লেগে যেতেন। উট বকরির খাবার দিতেন। দুধ দোহন করতেন। ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতেন। বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে আনতেন। নিজের পুরানো কাপড়, জুতা সেলাই করতেন। অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিতেন। যুহরের নামাযের আগে খাবার খেয়ে নিতেন। কিছু সময় বিশ্রাম করতেন (কায়লুলা করতেন)। যোহরের নামায শেষে পুনরায় দাওয়াতের কাজ করতেন। অথবা বাইরে কোথাও দাওয়াত ও তালিমের কাজে যেতেন। আসরের নামাযের পর ঘরে গিয়ে সকল স্ত্রীর সাথে কথাবার্তা বলতেন ও খোঁজ-খবর নিতেন। যার ঘরে পালা আসত সকল স্ত্রীগণ সেখানে জড়ো হতেন। এ সময় তিনি মহিলাদের সমস্যা নিয়ে আলাপ করতেন। দাওয়াত, তাবলীগ ও তালিমের কাজ করতেন। এভাবে ইশার আগ পর্যন্ত কাটাতেন (বুখারী)।

ইশার পর যে স্ত্রীর ঘরে পালা পড়ত তাঁর ঘরে চলে যেতেন। ইশার পর কথাবার্তা বলা বা রাত জাগা পছন্দ করতেন না। নিদ্রা যাওয়ার আগে নিয়মিত কুরআন মাজীদের কোনো সূরা (সূরা বনী ইসরাঈল, যুমার, হাদীদ, হাশর, সফ, তাগাবুন, জুমু'আ) পাঠ করে শয়ন করতেন। শোয়ার সময় দোয়া পড়তেন। জেগেও দোয়া পাঠ করতেন। রাতের অর্ধপ্রহর পার হওয়ার সাথে সাথে জেগে উঠতেন। হাতের কাছে মিসওয়াক ও ওযুর পানি রাখতেন। ভালোভাবে মিসওয়াক ও ওযু করতেন। নিজ বিছানায় নামায আদায় করতেন (তাহাজ্জুদ)। কোনো কোনো সময় এশার নামাযের পর সামান্য বিশ্রাম করে ফজর পর্যন্ত ইবাদতে কাটিয়ে দিতেন। ডান কাতে ডান হাতের উপর মাথা রেখে শয়ন করতেন। ঘুমে অতি সামান্য নাক ডাকা শব্দ অনুভূত হত। সাধারণত চামড়ার বিছানায় অথবা চাটাইয়ের উপর অথবা মেঝেতে শুয়ে আরাম করতেন। প্রতিদিনের প্রতি ওয়াক্তে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ অর্থাৎ ইসলামের প্রচার ও প্রসারে ব্যস্ত থাকতেন।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য কাজকর্ম

📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য কাজকর্ম


১. নফল নামায। ২. নফল রোযা। ৩. কুরআন তিলাওয়াত। ৪. যিকির ও দোয়া। ৫. আহার (সকাল, দুপুর, রাত)। ৬. নাশতা। ৭. পায়খানা-পেশাব। ৮. ওযু, গোসল (তাহারাত অর্জন)। ৯. চুল, দাঁড়ি, মোছ, নখ, বগল ও গুপ্তাঙ্গ পরিষ্কার করা। ১০. চুল, দাঁড়ি, আঁচড়ানো। ১১. আতর, সুরমা লাগানো। ১২. খাওয়া-দাওয়া। ১৩. জানাযা পড়া। ১৪. রোগী দেখাশোনা। ১৫. অতিথি সেবা করা। ১৬. জিহাদে শরীক হওয়া। ১৭. বিচার সালিস করা। ১৮. হাঁট- বাজার করা। ১৯. স্ত্রীদের ফরমায়েশ পূরণ করা। ২০. শিশুদের সাথে আনন্দ- কৌতুক করা। ২১. মি'রাজে গমন করা। ২২. ওহী নাযিল হওয়া। ২৩. যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা। ২৪. যুদ্ধ অভিযানে লোক পাঠানো। ২৫. বিভিন্ন রাজা- বাদশাদের নিকট চিঠি দেয়া। ২৬. জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করা। ২৭. মদিনায় শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। ২৮. বায়তুল মালের খোঁজ রাখা। ২৯. প্রতিবেশী ও দুঃস্থদের প্রতি নজর রাখা। ৩০. ইয়াতীম ও আত্মীয়দের হক আদায় করা। ৩১. হজ্জ ও ওমরা পালন করা। ৩২. সফর করা। ৩৩. পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে ইমামতি করা। ৩৪. জুমার খুতবা দেয়া। ৩৫. বিবাহ করা ও দেয়া। ৩৬. বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাৎ করা। ৩৭. জিব্রাইলের (আ.) সাথে সময় দেয়া। ৩৮. কাফির-মুশরিকদের প্রশ্নের জবাব দেয়া। ৩৯. আহলে সুফফাদের প্রতি নজর দেয়া। ৪০. মা কন্যা ফাতেমা ও অন্যান্য সাহাবীদের বাড়িতে যাওয়া।
উপরে স্বাভাবিক অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দৈনন্দিন কাজের একটা নকশা দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিশেষ অবস্থায় এর ব্যতিক্রম হয়েছে। যেমন-জিহাদের সময়, দিনের পর দিন, রাতের পর রাত জিহাদের ময়দানে অবস্থান করতে হয়েছে। সফরে, হজ্জে, বিশেষ দাওয়াতী মিশনে, ওহী নাযিলের সময় অথবা কোনো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কাজে এর ব্যতিক্রম হয়েছে। একজন সফল মানুষ হিসেবে জীবনে অসংখ্য ঘটনা ও অধ্যায় অতিক্রম করতে হয়েছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দৈনন্দিন কাজের যে তালিকা তৈরী করা হয়েছে; তা হুবহু কোন হাদীস গ্রন্থে লেখা নেই। তবে সিহাহ সিত্তার হাদীস গ্রন্থ, সীরাতের কিতাবসমূহ, শামায়েলে তিরমিযী, সীরাত কোষ, ইসলামী বিশ্বকোষসহ বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর লিখিত বিভিন্ন গ্রন্থ অধ্যয়ন করলে বর্ণিত তালিকার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইসলামী রাষ্ট্র

📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইসলামী রাষ্ট্র


বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। সে রাষ্ট্রের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য তার একটি সুসংগঠিত কাঠামো ছিল। নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ সে দায়িত্বে আনজাম দেন। মদীনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাষ্ট্রীয় দপ্তরসমূহের বণ্টন নিম্নরূপঃ
১. নিরাপত্তা বিভাগ: নিয়মিত পুলিশ বাহিনী ছিল না। কিছুসংখ্যক সাহাবী স্বেচ্ছায় এ দায়িত্ব পালন করতেন। বায়তুল মাল থেকে তাঁদের ব্যয়ভার বহন করা হত। এ বিভাগের প্রধান ছিলেন কায়েস ইবনে সা'দ (রা.)।
২. বিচার বিভাগ: এ বিভাগের প্রধান ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে। এছাড়া আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, আবদুর রহমান ইবনে আওফ, মুয়ায ইবনে জাবাল, আবু উবায়দা ইবনে জাররাহ ও উবাই ইবনে কা'ব (রা.) এ বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন।
৩. শিক্ষা বিভাগ: এ বিভাগ ছিল বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তত্ত্বাবধানে। ইবনে আবুল আরকামের বাড়ি ছিল প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র। তাছাড়া মসজিদে নববী ছিল মুসলমানদের সার্বিক শিক্ষাকেন্দ্র। মদীনায় শিক্ষা ও স্বাক্ষরতার জন্য আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে আস ও মহিলাঙ্গনে আয়িশা (রা.) বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
৪. জনস্বাস্থ্য বিভাগ: নাগরিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করা হত। বিশিষ্ট চিকিৎসক হারিস ইবনে সালাহকে এ বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়। চিকিৎসকগণ বায়তুল মাল থেকে ভাতা পেতেন।
৫. নগর প্রশাসন বিভাগ: ওমর (রা.) এর উপর এ বিভাগের দায়িত্ব ছিল। তাঁর কাজ ছিল নাগরিক হয়রানি, ধোঁকা ও অবৈধ ক্রয়-বিক্রয় যেন না হয়, সে বিষয় নিশ্চিত করা। তিনি কঠোর প্রকৃতির ন্যায় বিচারক ছিলেন। শয়তান ইবলিস পর্যন্ত তাঁকে ভয় করত।
৬. বায়তুল মাল বিভাগ: বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই এ বিভাগের কাজ তদারকি করতেন। মুয়ানকি ইবনে আবী ফাতিমা (রা.) এ বিভাগের সাথে জড়িত ছিলেন।
৭. যাকাত ও সদাকাহ বিভাগ: যাকাত ও সদাকাহ বিভাগের অর্থ কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করতেন যুবায়ের ইবনুল আওয়াম ও যুহাহির ইবনে সালাত (রা.)। যারা আঞ্চলিক যাকাত আদায়কারী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন তাদের তালিকা নিম্নরূপ:
ক) মদিনা - উমর (রা.)। খ) নাজরান - আবু উবায়দা ইবনে জাররাহ (রা.)। গ) বনু কিলাব - দাহহাক ইবনে সুফিয়ান (রা.)। ঘ) বনু সুলাইম ও বনু মজাইনা - উব্বাত ইবনে বিশর (রা.)। ঙ) বনু লাইস - আবু জাহাম ইবনে হুযায়ফা (রা.)। চ) বনু কা'ব - বসুর ইবনে সুফিয়ান (রা.)। ছ) বনু গেফার ও বনু আসলাম - বুয়াইদা ইবনে হুসাইন (রা.)। জ) বনু জাবয়ান - আব্দুল্লাহ ইবনে লাইতাই (রা.)। ঝ) বনু তাঈ ও বনু আসাদ - আদী ইবনে হাতেম আত-তাঈ (রা.)। ঞ) বনু ফাজায়া - আমর ইবনুল আস (রা.)। ট) এছাড়াও আরো কিছু আদায়কারী ছিলেন।
৮. পত্র লিখন ও অনুবাদ বিভাগ: আবদুল্লাহ ইবনে আকরাম (রা.), যায়েদ ইবনে সাবিত আনসারী (রা.) ও মুয়াবিয়া (রা.)।
৯. যোগাযোগ বিভাগ: মুগীরা ইবনে শো'বা ও হাসান ইবনে নুসীরা (রা.)।
১০. পরিসংখ্যান বিভাগ: বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'বার আদমশুমারি করেছিলেন। দ্বিতীয় হিজরীর রমযান মাসে প্রথম বার এবং পরে আরেকবার এ কাজ করেন। তাতে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকদের নামের তালিকা প্রণয়ন করেন।
১১. সিলমোহর বিভাগ: মুকার ইবনে আবী ফাতিমার কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিল মোহরকৃত আংটি সংরক্ষিত থাকত।
১২. অভ্যর্থনা বিভাগ: আনাস ইবনে মালেক (রা.) ও বারাহ (রা.)।
১৩. স্থানীয় সরকার বিভাগ: মদীনার ইসলামী রাষ্ট্রের প্রাদেশিক এলাকা ছিল। 'ওয়ালী' নামে খ্যাত এ সমস্ত এলাকায় শাসনকর্তা নিয়োগ করেন।
১৪. প্রতিরক্ষা বিভাগ: সে সময় বেতনভুক্ত কোন নিয়মিত সেনাবাহিনী ছিল না। প্রয়োজনে প্রত্যেক মুসলমানকে জিহাদে অংশগ্রহণ করতে হত। রাসূলুল্লাহ সেনাপতি নিযুক্ত করতেন। সেনাপতিগণ হলেন- ১. আবু বকর সিদ্দীক (রা.), ২. আবু ওবায়দা ইবনে জাররাহ (রা.), ৩. আলী ইবনে আবু তালিব (রা.), ৪. যুবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.), ৫. আবু ওবায়দা ইবনে যাররাহ (রা.), ৬. উবাদা ইবনে সামেত (রা.), ৭. হামযা ইবনে মুত্তালিব (রা.), ৮. মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা (রা.), ৯. খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.), ১০. আমর ইবনুল আস (রা.), ১১. উসামা ইবনে যায়েদ (রা.), ১২. যায়েদ ইবনে হারিস, ১৩. ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.), ১৪. আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহ (রা.), ১৫. সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (রা.), ১৬. জাফর ইবনে আবু তালিব (রা.)।
১৫. রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিগত বিভাগ : এ বিভাগে কাজ করতেন- ১. হানযালা ইবনে আল রবী (রা.)। (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একান্ত সচিব)। ২. শুরাহবিল ইবনে হাসান (রা.), সচিব। ৩. আনাস ইবনে মালেক (রা.), সার্বক্ষণিক সেবক।
১৬. দণ্ড (শাস্তি) বিভাগ : প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিদের শান্তি কার্যকর করার কাজে দায়িত্ববান ছিলেন- ১. যুবায়ের (রা.)। ২. হযরত আলী (রা.)। ৩. মেকদাদ ইবনে আসওয়াদ (রা.)। ৪. মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম (রা.)। ৫. আসেম ইবনে সাবিত (রা.)। ৬. দাহহাক ইবনে সুফিয়ান কেলাবি (রা.)।
১৭. ওহী লিখন বিভাগ : ওহী লিখনের মহান দায়িত্ব পালন করতেন- ১. যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.), ২. আবু বকর সিদ্দিক (রা.), ৩. ওমর ফারুক (রা.), ৪. উসমান (রা.), ৫. আলী (রা.), ৬. উবাই ইবনে কা'ব (রা.), ৭. আবদুল্লাহ (রা.), ৮. যুবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.), ৯. খালিদ ইবনে সাঈদ (রা.), ১০. আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.), ১১. খালিদ ইবনে ওলীদ (রা.), ১২. মুগীরা ইবনে শো'বা (রা.), ১৩. মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রা.)-সহ প্রায় চল্লিশ জন।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকাল

📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকাল


১১ হিজরীর সফর মাসের শেষে বুধবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্বর ও মাথা ব্যথায় আক্রান্ত হন। ৩ রবিউল আউয়াল সাথীদের নিয়ে জান্নাতুল বাকী গোরস্তানে শেষবারের মত জিয়ারত করেন। ৮ রবিউল আউয়াল বৃহস্পতিবার রোগ আরো বেড়ে যায়। ১২ই রবিউল আউয়াল ভোরে আয়িশার ঘরের পর্দা সরিয়ে দেখেন, মুসলমানেরা আবু বকরের নেতৃত্বে ফজরের নামায আদায় করছেন। এ দৃশ্য দেখে তিনি খুশি হয়ে মৃদু হাসেন। ১১ হিজরী ১২ রবিউল আউয়াল বা ৬৩২ খ্রীষ্টাব্দে ৭ জুন, সোমবার দুপুরের কাছাকাছি সময়ে আয়িশার ঘরে, তাঁর কোলে মাথা রেখে চির বিদায় নেন। ইন্তিকালের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট মাত্র ৭টি দিরহাম ছিল, যা গরীবদের মাঝে তখনই বিলি করে দেয়া হয়। আরেক বর্ণনায় এসেছে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিব ও এশার নামাযের মাঝামাঝি সময়ে ইন্তিকাল করেন।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদর ও লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় ইন্তিকাল করেন এবং সে অবস্থায় তাকে গোসল করানো হয়। আলী (রা.), আব্বাস (রা.), আব্বাসের দুই ছেলে ফজল ও কুছাম (রা.) এবং উসামা বিন যায়েদ (রা.) গোসল করান। রাসূল (সা.) এর মুক্ত করা গোলাম শুকরান (রা.) শরীরে পানি ঢালেন। ১৩ রবিউল আউয়াল, মঙ্গলবার রাতে জানাযা শেষ হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জানাযায় কেউ ইমামতি করেননি। লাইন ধরে দশ দশ জন লোক এসে দোয়া করে চলে যান। আলী, ফজল, কুছাম ও শুকরান (রা.) কবরে নেমে লাশ রাখেন। বিলাল (রা.) কবরে পানি ছিটিয়ে দেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মোট জীবনকাল ৬৩ বছর ৪ মাস অথবা ২২,৩৩০ দিন ৬ ঘণ্টার মত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00