📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীরের গড়ন

📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীরের গড়ন


মাথা : বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাথা ছিল আকারে সামান্য একটু বড়।
চুল : মাথার চুল ছিল কানের লতি বরাবর কিছুটা কোঁকড়ানো ও ঢেউ খেলানো। বাবরী চুল। তিনি মাথার মধ্যখানে সিঁথি করতেন। চুলে তেল ও আতর মাখতেন। চুল ঘন ও কালো ছিল। ইন্তিকালের পূর্বে ১৮/২০ টি চুলে পাক ধরেছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন রকমের চুলই রেখেছেন- বাবরী, কেটে ছোট করে ও মাথা মুণ্ডন করে।
কপাল : প্রশস্ত ও মসৃণ।
নাক : নাকের ডগার মধ্যভাগ উঁচু এবং ছিদ্র ছিল সংকীর্ণ।
দাঁত : সামনের দাঁত ছিল উজ্জ্বল ও সামান্য একটু ফাঁকা।
চোখ : ডাগর ডাগর। চোখের মণি খুব কালো। সাদা অংশে সামান্য লাল আভা। পাতা ছিল বড়। মনে হত চোখে সুরমা দিয়েছেন।
ভ্রু : প্রশস্ত ও জোড়া লাগানো।
চেহারা : নূরানী চেহারা! মুখায়ব গোলাকার। দুধে আলতা মেশানো রং। ফর্সা ও ঝকঝকে।
আকার : খুব লম্বাও নয়, খুব খাটোও নয়। মধ্যমের চেয়ে একটু বড়। অত্যন্ত সুপুরুষ ছিলেন। তাঁর মত সৌন্দর্যমণ্ডিত ব্যক্তি আর কাউকে দেখা যায়নি।
দাঁড়ি : মানানসই ঘন ও বড় রাখে জীবনের শেষের দিকে থুতনীর ছোট দাঁড়ি ও চিপে একটু পাক ধরেছিল। লম্বা চওড়ায় সুন্দর (সাইজ) করে দাড়ি রাখতেন।
হাত: হাতের আঙ্গুলগুলো লম্বা। কজী হতে কনুই পর্যন্ত পশম ছিল। তালু মাংসে ভরা এবং প্রশস্ত।
বুক: বুক কিছুটা উঁচু ও প্রশস্ত। বীরের মত। বুক থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের একটা সরু রেখা ছিল। এছাড়াও শরীরে পশম ছিল।
পেট: সরু; কোন ভুড়ি ছিল না। সুন্দর সমান ছিল। বলিষ্ঠ ও শক্তিশালী।
ঘাম: ঘামলে মতির মত দেখাতো। ঘামের মধ্যে মিশক আম্বরের ন্যায় সুগন্ধ ছিল। পার্থিব যে কোন খুশবুর চেয়ে উত্তম।
পা: পায়ের গোছা সরু ছিল। পায়ের পাতার মধ্য ভাগে কিছু খালি ছিল। চলার সময় কিছুটা সামনে ঝুঁকে চলতেন।
কাঁধ/পিঠ: কাঁধ ছিল প্রশস্ত। দুই কাঁধের মাঝখানে (একটু নিচের পিঠে) মহরে নবুওয়াত ছিল। যা দেখতে কবুতরের ডিমের মত। রং ছিল গায়ের রংয়ের সাথে মিলানো।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পোশাক

📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পোশাক


পোশাক ব্যবহারে কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না।
তিনি চাদর ও লুঙ্গি পরতেন।
তিনি জামা জাতীয় পোশাককে বেশি পছন্দ করতেন।
পায়জামা পরতেন না, তবে মিনার বাজার থেকে একটা পায়জামা কিনেছিলেন।
সাদা কাপড় বেশি পছন্দ করতেন।
সবুজ ও জাফরানীসহ সব রঙ্গের কাপড় ব্যবহার করেছেন।
মোজা পরার অভ্যাস ছিল না। তবে আবিসিনার নাজ্জাশী বাদশার পাঠানো চামড়ার মোজা ব্যবহার করেছেন।
মাথার সাথে লেগে থাকা টুপি ব্যবহার করতেন।
অধিকাংশ সময়ে কালো পাগড়ি ব্যবহার করতেন।
পাগড়ির নিচে টুপি পরতেন। তার তিনটি টুপি ছিল। ১. সাদা সুতার কাজ করা। ২. ইয়ামেনি চাদর দ্বারা বানানো। ৩. কান পর্যন্ত লম্বা টুপি।
ইয়ামেনের ডোরাযুক্ত চাদর তিনি খুব পছন্দ করতেন।
শেরওয়ানি পরতেন।
জুতা ছিল দুই ফিতা লাগানো, বর্তমান সময়ের সেণ্ডেলের মত।
তিনটা জুব্বা ছিল। তার মধ্যে ১টি সবুজ রংয়ের রেশমি সুতার তৈরী। একটি জিহাদের ময়দানে ব্যবহার করতেন। জিহাদের ময়দানে রেশমি বস্ত্র ব্যবহার করা জায়েয। খেজুর পাতা ভর্তি করা (তৈরি) গদি ছিল। দড়ির তৈরি শোয়ার খাট ছিল। সিল দেয়ার কাজে ব্যবহারের জন্য রুপার একটি আংটি ছিল। তিনি চাদর ও লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় ইন্তিকাল করেন। পোশাকের ব্যাপারে সাদা-সিধা জীবনযাপন করতেন।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদ্য

📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদ্য


তিনি হালুয়া ও মধু খুবই পছন্দ করতেন।
কদুর তরকারি তাঁর অত্যন্ত প্রিয় ছিল।
সামুদ্রিক মাছ খেয়েছেন।
উট, ভেড়া, মুরগি ও বকরির গোশত খেয়েছেন।
বন্য গাধাঁ ও খরগোশের গোশত খেয়েছেন। পরবর্তীতে গাধাঁ খাওয়া নিষেধ হয়েছে।
খাঁটি দুধ ও পানি মিশানো দুধ খেয়েছেন।
ছড়া থেকে আঙ্গুর খেতেন।
পানি মেশানো মধু ও খেজুর ভিজানো পানি খেতেন।
ছাতু, দুধ ও আটা দিয়ে তৈরি পিঠা, পনির, কাঁচা পাকা খেজুর খেতেন।
সিরকা দিয়ে রুটি খেতেন।
গোশতের ঝোলে রুটি ভিজিয়ে (ছরীদ) খেয়েছেন।
ভুনা গোশত, চর্বির ইহালা ও কলিজা খেয়েছেন। তবে তিনি গুর্দা ও কলিজা বেশি পছন্দ করতেন না।
যয়তুন ও মাখন দিয়ে শুকনো খেজুর খেতেন।
তিনি কখনো কখনো ঘি দিয়ে রুটি খেয়েছেন।
নরম খেজুরের সাথে খরমুজ খেয়েছেন। তিনি খরমুজ খাবার সময় দু'হাত ব্যবহার করতেন।
খাবার সময় তিন আঙ্গুল দিয়ে ধরে খেতেন।
তিনি যবের রুটি খেয়েছেন।
সফরে মাটিতে বসে খেতেন।
হালাল ও পবিত্র খানা যা পেতেন, তা তৃপ্তির সাথে খেতেন।
বেশির ভাগ সময়ে তিনি ক্ষুধা সহ্য করতেন। রোযা রাখতেন। দিনের পর দিন আর মাসের পর মাস না খেয়ে কাটাতেন।
পেট ভরে খেতেন না, খাদ্যের প্রাচুর্যের প্রতি তাঁর লোভ ছিল না। খুবই কম খেতেন। পেটের একভাগ খাদ্যে, একভাগ পানিতে এবং একভাগ খালি রাখতেন।
তিনি অত্যধিক গরম খাবার খেতেন না।
তিনি কাঁচা রসুন, পেয়াজ ও কুররাস (রসুনের মতো গন্ধযুক্ত এক প্রকার তরকারি) খেতেন না।
তিনি কোনো খাদ্যের দোষ-ত্রুটি বলতেন না। রুচিপূর্ণ না হলে খেতেন না।

📘 মহাবিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব > 📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যবহার্য জিনিসপত্র

📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যবহার্য জিনিসপত্র


পিতার একখানা ভিটাবাড়ি।
উম্মে আয়মান নামে একজন দাসী।
৯ খানা তরবারি। এগুলোর বাট ছিল রৌপ্যখচিত।
৭টি বর্ম। জাতুল ফযুল বর্মটি অভাবের কারণে ইহুদীর নিকট বন্ধক রেখেছিলেন।
৬টি বর্ণা।
বর্শার ফলক রাখার জন্য 'কাফুর' নামে একটি থলে।
সুদাদ নামে একটি ধনুক।
৩টি ঢাল।
রূপায় বাঁধানো একটি কমরবন্দ।
পাঁচটি নেযা। বারদা নামের নেযাটি বড় ছিল। গেমরা একটু ছোট। এটা নামাযের সময় সামনে গেড়ে দেয়া হত।
২টি হেলমেট। ১টা লোহা তামা মেশানো টুপি। একটি লৌহ নির্মিত মুখোশ।
১টি তাঁবু (কনু নামক তাঁবু)।
৩টি লাঠি।
১টি ডাণ্ডা। এটির নাম ছিল 'মউত'।
সকব নামে ধুসর রংয়ের ঘোড়াসহ মোট ৭টি ঘোড়া।
দুলদুল নামে একটি সাদা খচ্চর।
কাসওয়া নামে উটে চড়ে মদীনায় হিজরত করেন। মোট ৪৫ টি উট।
'একশ'টি বকরি। ৭টি পাহাড়িয়া ছাগল যা উম্মে আয়মান চরাতেন।
৩টি পেয়ালা। ১টি লোহার পাতযুক্ত মোটা কাঠের পেয়ালা।
রাতে পেশাবের জন্য চৌকির নিচে কাঠের পাত্র রাখতেন।
সাদির নামে একটি মশক।
ওযু করার জন্য একটি পাথরের পাত্র।
কাপড় ধোয়ার জন্য একটি পাত্র।
'সিককা' নামে একটি বড় পেয়ালা।
হাত ধোয়ার থালা। তেলের শিশি ও আয়না।
চিরুনি রাখার একটি থলে। চিরুনি ছিল সেগুন কাঠের।
একটি সুরমাদানি।
কাঁচি (বা কেঁচি) ও মিসওয়াক থলের মধ্যে রাখতেন।
চারটি আংটা লাগানো একটি বড় পাত্র।
পরিমাপের জন্য ছা' ও মুদ।
দড়ির তৈরি একটি খাট। খাটের পায়া ছিল সেগুন কাঠের।
চামড়ার তৈরি একটি গদী যার ভিতরে ছিল খেজুরের ছোবড়া।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00