📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছেলে-মেয়ের পরিচয়
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছেলে ৩ জন ও কন্যা ৪ জন। ছেলেরা হলেন ১. কাসেম, ২. আবদুল্লাহ, ও ৩. ইব্রাহীম। আর কন্যারা হলেন- ১. যয়নব, ২. রুকাইয়া, ৩. উম্মে কুলসুম ও ৪. ফাতিমা (রা.) [ইবরাহীম বাদে সকলেই খাদীজার (রা.) এর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। ইব্রাহীম মারিয়া কিবতিয়ার (রা.) গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন এবং দেড় বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন। বিশ্বনবীর (সা.) বংশ ধারা মেয়েদের, বিশেষভাবে ফাতিমার (রা.) মাধ্যমে চালু আছে। কেননা বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল পুত্র সন্তানই শিশুকালে মৃত্যুবরণ করেন।
📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণের পরিচয়
১. খাদীজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.): বিয়ের সময় বয়স ৪০, বিধবা। রাসূলের বয়স ২৫ বছর। বিয়ের সন ৫৯৫ খ্রীঃ। মোহরানা ২০টি উট। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৬৫ বছর।
২. সওদা বিনতে যাময়া (রা.) : বয়স ৫০, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৩ বছর। বিয়ের সন ১০তম নবুওয়াতী বছর। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যুকালে বয়স ৭০ বছর।
৩. আয়িশা বিনতে আবু বকর সিদ্দীক (রা.) : বয়স ৬, কুমারী। রাসূলের ৫৪ বছর। বিয়ের সন নবুওয়াতের ১০তম বছর। ৯ বছর বয়সে তিনি রাসূল (সা.) এর ঘরে আসেন। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যুকালে আয়িশার (রা.) বয়স ছিল ৬৬ বছর। কোন কোন বর্ণনা মতে ৮২ বছর।
৪. হাফসা বিনতে ওমর (রা.) : বয়স ২০, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৫ বছর। বিয়ের সন ৩ হিজরী। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যু ৮১ বছর বয়সে।
৫. যয়নব বিনতে খুজাইম (রা.) : বয়স ২৯, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৫ বছর। বিয়ের সন ৪ হিজরী। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যুকালে বয়স ৩০ বছর।
৬. উম্মে সালামা বিনতে উমাইয়া (রা.) : বয়স ৩৮, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৬ বছর। বিয়ের সন ৪ হিজরী। মোহরানা ১টি প্লেট, পেয়ালা ও যাঁতাকল। মৃত্যুকালে বয়স ৮২ বছর।
৭. যয়নাব বিনতে জাহাশ (রা) : বয়স ৩৭, তালাকপ্রাপ্তা। রাসূলের বয়স ৫৭ বছর। বিয়ের সন ৫ হিজরী। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যুকালে বয়স ৫৫ বছর।
৮. জুয়াইরিয়া বিনতে হারিস (রা.) : বয়স ৩৯, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৭ বছর। বিয়ের সন ৫ হিজরী। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যুকালে বয়স ৬৫, (৩১ হিজরী)।
৯. রায়হানা বিনতে শামউন (রা.) (ইহুদী কন্যা) : বয়স ৪১, বিধবা। রাসূলের বয়স ৬০ বছর। বিয়ের সন ৮ হিজরী। মোহরানা-দাসত্ব থেকে মুক্ত করে মোহরানা আদায়। মৃত্যুকালে বয়স ৪২ বছর, (১০ হিজরী)।
১০. সাফিয়া বিনতে হুয়াই ইবনে আখতার (রা.) (ইহুদী কন্যা) : বয়স ৪০, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৯ বছর। বিয়ের সন ৭ হিজরী। মোহরানা-দাসত্ব থেকে মুক্তির বিনিময়ে। মৃত্যুকালে বয়স ৮২ বছর, (৫০ হিজরী)।
১১. মারিয়া কিবতিয়া (রা.) (খ্রিষ্টান কন্যা) : বয়স ৪০, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৮ বছর। বিয়ের সন ৬ হিজরী। মোহরানা- মিসরের বাদশা নিজে মোহরানা আদায় করেন। উপঢৌকন হিসেবে মিসরের বাদশা কর্তৃক প্রেরিত। মৃত্যুকালে বয়স ৪৭ বছর, (১৩ হিজরী)।
১২. উম্মে হাবিবা বিনতে আবু সুফিয়ান (রা.) : বয়স ৪০, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৯ বছর। বিয়ের সন ৭ হিজরী। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যুকালে বয়স ৭৪ বছর, (৪০ হিজরী)।
১৩. মাইমুনা ইবনে হারিস (রা.) : বয়স ৫১, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৯ বছর। বিয়ের সন ৭ হিজরী। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যুকালে বয়স ৮৭ বছর, (৪২ হিজরী)।
📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীরের গড়ন
মাথা : বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাথা ছিল আকারে সামান্য একটু বড়।
চুল : মাথার চুল ছিল কানের লতি বরাবর কিছুটা কোঁকড়ানো ও ঢেউ খেলানো। বাবরী চুল। তিনি মাথার মধ্যখানে সিঁথি করতেন। চুলে তেল ও আতর মাখতেন। চুল ঘন ও কালো ছিল। ইন্তিকালের পূর্বে ১৮/২০ টি চুলে পাক ধরেছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন রকমের চুলই রেখেছেন- বাবরী, কেটে ছোট করে ও মাথা মুণ্ডন করে।
কপাল : প্রশস্ত ও মসৃণ।
নাক : নাকের ডগার মধ্যভাগ উঁচু এবং ছিদ্র ছিল সংকীর্ণ।
দাঁত : সামনের দাঁত ছিল উজ্জ্বল ও সামান্য একটু ফাঁকা।
চোখ : ডাগর ডাগর। চোখের মণি খুব কালো। সাদা অংশে সামান্য লাল আভা। পাতা ছিল বড়। মনে হত চোখে সুরমা দিয়েছেন।
ভ্রু : প্রশস্ত ও জোড়া লাগানো।
চেহারা : নূরানী চেহারা! মুখায়ব গোলাকার। দুধে আলতা মেশানো রং। ফর্সা ও ঝকঝকে।
আকার : খুব লম্বাও নয়, খুব খাটোও নয়। মধ্যমের চেয়ে একটু বড়। অত্যন্ত সুপুরুষ ছিলেন। তাঁর মত সৌন্দর্যমণ্ডিত ব্যক্তি আর কাউকে দেখা যায়নি।
দাঁড়ি : মানানসই ঘন ও বড় রাখে জীবনের শেষের দিকে থুতনীর ছোট দাঁড়ি ও চিপে একটু পাক ধরেছিল। লম্বা চওড়ায় সুন্দর (সাইজ) করে দাড়ি রাখতেন।
হাত: হাতের আঙ্গুলগুলো লম্বা। কজী হতে কনুই পর্যন্ত পশম ছিল। তালু মাংসে ভরা এবং প্রশস্ত।
বুক: বুক কিছুটা উঁচু ও প্রশস্ত। বীরের মত। বুক থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের একটা সরু রেখা ছিল। এছাড়াও শরীরে পশম ছিল।
পেট: সরু; কোন ভুড়ি ছিল না। সুন্দর সমান ছিল। বলিষ্ঠ ও শক্তিশালী।
ঘাম: ঘামলে মতির মত দেখাতো। ঘামের মধ্যে মিশক আম্বরের ন্যায় সুগন্ধ ছিল। পার্থিব যে কোন খুশবুর চেয়ে উত্তম।
পা: পায়ের গোছা সরু ছিল। পায়ের পাতার মধ্য ভাগে কিছু খালি ছিল। চলার সময় কিছুটা সামনে ঝুঁকে চলতেন।
কাঁধ/পিঠ: কাঁধ ছিল প্রশস্ত। দুই কাঁধের মাঝখানে (একটু নিচের পিঠে) মহরে নবুওয়াত ছিল। যা দেখতে কবুতরের ডিমের মত। রং ছিল গায়ের রংয়ের সাথে মিলানো।
📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পোশাক
পোশাক ব্যবহারে কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না।
তিনি চাদর ও লুঙ্গি পরতেন।
তিনি জামা জাতীয় পোশাককে বেশি পছন্দ করতেন।
পায়জামা পরতেন না, তবে মিনার বাজার থেকে একটা পায়জামা কিনেছিলেন।
সাদা কাপড় বেশি পছন্দ করতেন।
সবুজ ও জাফরানীসহ সব রঙ্গের কাপড় ব্যবহার করেছেন।
মোজা পরার অভ্যাস ছিল না। তবে আবিসিনার নাজ্জাশী বাদশার পাঠানো চামড়ার মোজা ব্যবহার করেছেন।
মাথার সাথে লেগে থাকা টুপি ব্যবহার করতেন।
অধিকাংশ সময়ে কালো পাগড়ি ব্যবহার করতেন।
পাগড়ির নিচে টুপি পরতেন। তার তিনটি টুপি ছিল। ১. সাদা সুতার কাজ করা। ২. ইয়ামেনি চাদর দ্বারা বানানো। ৩. কান পর্যন্ত লম্বা টুপি।
ইয়ামেনের ডোরাযুক্ত চাদর তিনি খুব পছন্দ করতেন।
শেরওয়ানি পরতেন।
জুতা ছিল দুই ফিতা লাগানো, বর্তমান সময়ের সেণ্ডেলের মত।
তিনটা জুব্বা ছিল। তার মধ্যে ১টি সবুজ রংয়ের রেশমি সুতার তৈরী। একটি জিহাদের ময়দানে ব্যবহার করতেন। জিহাদের ময়দানে রেশমি বস্ত্র ব্যবহার করা জায়েয। খেজুর পাতা ভর্তি করা (তৈরি) গদি ছিল। দড়ির তৈরি শোয়ার খাট ছিল। সিল দেয়ার কাজে ব্যবহারের জন্য রুপার একটি আংটি ছিল। তিনি চাদর ও লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় ইন্তিকাল করেন। পোশাকের ব্যাপারে সাদা-সিধা জীবনযাপন করতেন।