📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিচয়
নাম: মুহাম্মদ (আল্লাহর পক্ষ থেকে আহমদ)
পিতা: আবদুল্লাহ
মাতা: আমেনা বিনতে ওয়াহাব
দাদা: আবদুল মুত্তালিব
দাদি: ফাতেমা বিনতে আমর
নানা: ওয়াহাব ইবনে মান্নাফ
নানি: বারা বিনতে আবদুল উযযা
চাচা: ৯ জন। হারেছ, যুবায়ের, আবু তালিব, হামযা, আবু লাহাব, গাইদাক, মাকহুম, সাফারক, আব্বাস।
ফুফু: ৬ জন। বায়েজা, বাররা, আতিকা, ছাফিয়া, আরোয়া, উমাইয়া।
ভাই-বোন: বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন ভাই-বোন ছিল না। তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাবা-মার অন্য কোন সন্তান নেই।
বংশ: আরবের সবচেয়ে নামকরা ও মর্যাদাপূর্ণ কুরাইশ বংশ।
📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ধারাবাহিক জীবন
জন্ম: ১২ রবিউল আউয়াল, ২৯ আগস্ট ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে, সোমবার সুবহে সাদিকের সময় মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মায়ের গর্ভে: তখন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পিতা ব্যবসার উদ্দেশ্যে গমনের পথে ২৫ বছর বয়সে, মদীনায় মারা যান।
প্রথম থেকে চার বছর বয়স পর্যন্ত বিশ্বনবী, মা আমিনা ও দুধমাতা হালিমার ঘরে অবস্থান করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তাঁর মা, দাদা আবদুল মুত্তালিবের নিকট সংবাদ দিলে তিনি অত্যন্ত খুশি হয়ে নাতির নাম রাখেন মুহাম্মদ। মা আমেনা দৈব (ফিরিশতা মারফত) নির্দেশে নাম রাখেন আহমদ। সপ্তম দিনে নাতির খাতনা করান (এ রকম আরবের রেওয়াজ ছিল)।
অন্য বর্ণনায় পাওয়া যায়, তিনি খাতনা করা অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মা আমেনা ৭ দিন দুধপান করানোর পর আবু লাহাবের দাসী সাওবিয়া তাকে ৮ দিন দুধ পান করান। আরবের নিয়ম মোতাবেক ধাত্রী হালিমা সাদিয়ার (রা.) কাছে তাঁকে সোপর্দ করা হয়। দু'বছর বয়স হলে হালিমা দুধ পান বন্ধ করিয়ে মা আমেনার কাছে ফেরত দেন। তার ইচ্ছে ছিল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো কিছু দিন তার কাছে থাকুক। মা আমেনা এ ইচ্ছা পূরণ করে ছেলেকে আবার হালিমার কাছে ফিরিয়ে দেন। চার বছর পর্যন্ত দুধ মাতা হালিমার (রা.) ঘরে শিশুনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লালিত-পালিত হন।
চার বছর বয়সে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিনাচাক (বক্ষ বিদীর্ণ) হয়েছিল। সিনাচাক ঘটনার পর হালিমা ভীত হয়ে শিশু মুহাম্মদকে তার মায়ের কোলে দিয়ে যান।
ছয় বছর বয়সে মা আমেনা স্বামীর কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে মদীনায় যান। সাথে ছেলে মুহাম্মদ, শ্বশুর আবদুল মুত্তালিব ও স্বামীর রেখে যাওয়া দাসী উম্মে আয়মান ছিলেন। যিয়ারত শেষে মক্কা ফেরার পথে আবওয়া নামক স্থানে মা আমেনা মারা যান। লালন-পালনের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে দাদা আবদুল মুত্তালিবের উপর।
আট বছর : দাদা আবদুল মুত্তালিব মারা যান। দাদা মারা যাওয়ার পর চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে বড় হন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাবা আব্দুল্লাহ ও চাচা আবু তালিব দু'জন এক মায়ের সন্তান ছিলেন।
দশ বছর : দ্বিতীয় বারের মত সিনাচাক (বক্ষবিদীর্ণ হয়)।
বার বছর: পিতৃব্য আবু তালিবের সাথে সিরিয়া সফর। খ্রিষ্টান পাদ্রী বুহাইরা কর্তৃক শিশু নবীর স্বীকৃতি।
পনের বছর : ফুজ্জারের যুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অংশগ্রহণ করেন।
সতের বছর: হিলফুল ফুযুল শান্তি সংঘে যোগদান করেন।
তেইশ বছর: খাদীজার (রা.) সাথে পরিচয় এবং তার ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ।
চব্বিশ বছর: বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে সিরিয়া গমন।
পঁচিশ বছর: খাদীজা (রা.) কে বিয়ে।
ত্রিশ বছর : আল-আমীন উপাধি লাভ। বড় মেয়ে যয়নবের (রা.) জন্ম।
পয়ত্রিশ বছর : হাজারে আসওয়াদ পুনঃস্থাপনে নেতৃত্ব দান।
সাইত্রিশ বছর: চাচাত ভাই বালক আলীর (রা.) দায়িত্বভার গ্রহণ। হেরাগুহায় ধ্যান মগ্ন থাকা। বড় ছেলে কাশেমের জন্ম।
চল্লিশ বছর: বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত লাভ, কুরআন নাযিল শুরু। ১ ফেব্রুয়ারি ৬১০ খ্রীষ্টাব্দে পূর্ণাঙ্গ সূরা ফাতিহা নাযিল হয়।
একচল্লিশ, বিয়াল্লিশ ও তেতাল্লিশ বছর: নবুওয়াতের প্রথম তিন বছর বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোপনে ইসলাম প্রচার করেন। আপনজন, বন্ধু ও পরিচিতজনের মাঝে তাবলীগ করেন। খাদীজা (রা.), আলী (রা.), আবু বকর (রা.), যায়েদ (রা.), ওসমান (রা.), যুবায়ের (রা.), আবদুর রহমান (রা.), তালহা (রা.), সাদ (রা.), আবু উবাইদা (রা.), উম্মে রুকাইয়া (রা.), আয়মন (রা.), আরকাম (রা.), উসমান (রা.), কুদামা (রা.), আব্দুল্লাহ (রা.) উবাইদা (রা.), ফাতিমা (রা.), উম্মে ফজল (রা.), আসমা (রা.), আয়িশা (রা.), সাঈদ (রা.), যাব্বার (রা.), উমাইর (রা.), বিলাল (রা.), জাফর (রা.) প্রমুখ ইসলাম গ্রহণ করেন। মক্কার নিকট আরকামের (রা.) ঘরে ইসলাম প্রচার কেন্দ্র স্থাপন। কুরাইশ নেতাদের অতিথিয়তা ভোজনান্তে ইসলামের দাওয়াত প্রচার।
চুয়াল্লিশ বছর : বিশ্বনবী আত্মীয় স্বজনের মাঝে প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেন এবং তাবলীগ করেন। নবুওয়াতের পঞ্চম বছরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১৫ জন সাহাবীকে আবিসিনিয়ায় হিজরতের অনুমতি দেন। এটিই ইসলামের প্রথম হিজরত। যার নেতৃত্ব দেন ওসমান (রা.)। দলে নবী কন্যা রুকাইয়া (রা.) ছিলেন। মহিলা সাহাবী সুমাইয়া (রা.), যালিম, কাফির সর্দার আবু জাহেল কর্তৃক শাহাদাত বরণ।
পঁয়তাল্লিশ বছর : নবুওয়াতের ষষ্ঠ বছরে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা হামযা (রা.) ইসলাম কবুল করেন। ওমর (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেন। মুসলমানদের প্রকাশ্য মিছিল। কাবা প্রাঙ্গণে নামায আদায়।
ছেচল্লিশ বছর : নবুওয়াতের সপ্তম বছরে বিশ্বনবী চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত করে দেখান। সূরা নজম, মরিয়ম, ত্বহা, ওয়াকিয়া, শূরা অবতীর্ণ।
ছেচল্লিশ, সাত চল্লিশ ও আট চল্লিশ বছর: নবুওয়াতের ৭-৯ তম বছর অর্থাৎ ৩ বছর শি'আবে আবী তালিবে বয়কট (অবরোধ) অবস্থায় থাকেন। খানা, পানিবিহীন অবস্থায় মুসলমানরা অসহনীয় কষ্টে দিন অতিবাহিত করেন। দাওয়াত ও তাবলীগ অব্যাহত থাকে। কা'বার ভেতর জন্মগ্রহণকারী একমাত্র মানব সন্তান হাকীম ইবনে হাশেমের (রা.) জন্ম।
উনপঞ্চাশ বছর : নবুওয়াতের ১০তম বছরে রমযান মাসে বিশ্বনবীর চাচা আবু তালিব মৃত্যুবরণ করেন। তার তিন দিন পর বিবি খাদীজাও (রা.) ইন্তিকাল করেন। এ সময় মদীনা থেকে ৬ জনের একটি দল ইসলাম কবুল করেন। মদীনায় দাওয়াত ও তাবলীগের প্রচার ও প্রসার হয়।
পঞ্চাশ বছর: নবুওয়াতের ১১তম বছরে মহররম মাসে বিশ্বনবী তায়েফে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজে যান এবং নির্যাতিত হন। ইবনে উমাইরের এবং খাযরাজ বংশীয় ছয় জনের ব্যাপকভাবে মদীনায় ইসলাম প্রচার শুরু। এ ছয়জন প্রথমে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বাইয়াত হন (প্রথম বাইয়াত)। এ হিজরীতে আকাবার প্রথম ও দ্বিতীয় বায়'আত অনুষ্ঠিত হয়। মক্কার বাইরে দাওয়াত ও তাবলীগের প্রথম জামাত/সফর। জামাতের নেতৃত্ব দেন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে এবং সাথে ছিলেন যায়েদ বিন হারিছা (রা.)। হাজীদের কাছে ব্যাপকভাবে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজের প্রসার
একান্ন বছর: নবুওয়াতের ১২তম বছরে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মি'রাজ সংঘটিত হয় এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হয়। তৃতীয়বারের মত বক্ষবিদীর্ণ করণ (সিনাচাক)। মদীনার ১২ জন আকাবা নামক স্থানে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে বাইয়াত হন (এটা ৩য় বাইয়াত)। মদীনার আওস গোত্রের নেতা সাদ মুসলমান হন।
বায়ান্ন বছর : নবুওয়াতের ১৩তম বছরে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে মদীনায় হিজরতের আদেশ দেন। কুরাইশদের ১২ জন যুবক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যার জন্য বাড়ি ঘেরাও করে রাখে। এরই মধ্য থেকে তিনি ৮ রবিউল আউয়াল বৃহস্পতিবার মদীনায় হিজরত করেন। হিজরী সনের গণনা এখান থেকেই শুরু হয়। সে অনুসারে ৬২২ ঈসায়ী সন থেকে প্রথম হিজরী সন শুরু হয়েছে।
তেপ্পান্ন বছর (প্রথম হিজরী): মসজিদে নববী প্রতিষ্ঠা করেন এবং এ বছরই জুমু'আর নামায ফরয হয়। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে মসজিদে কুবা ও মসজিদে জুম্মা প্রতিষ্ঠিত করেন। আযানের প্রচলনসহ কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুকুম নাযিল হয়। তিনটি খণ্ড যুদ্ধাভিযান পরিচালিত হয়। এ বছরেই আয়িশা (রা.) এর সাথে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবাহ হয়।
চুয়ান্ন বছর (দ্বিতীয় হিজরী) কুরবানী ওয়াজিব হয়। কিবলা পরিবর্তন হয়। কা'বার দিকে নামায পড়ার হুকুম হয়। ইতোপূর্বে কিছুকাল কিবলা ছিল বায়তুল মুকাদ্দাস। রোযা ফরয হয়। যাকাত ফরয হয়। ঈদের নামায চালু হয় ও সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। সর্বপ্রথম জিহাদের নির্দেশ সম্বলিত আয়াত (হজ্জ : ৩৯-৪০) নাযিল হয়। বদরসহ ৫টি যুদ্ধ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে পরিচালনা করেন। ৩টি খণ্ড যুদ্ধ বা অভিযান পরিচালিত হয়। উবাইদা ইবনে হারিস এবং হামযার নেতৃত্বে ইতিহাসের প্রথম (দু'টির যেকোন একটি) মুসলিম বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়। ফাতিমা (রা.) এর সাথে আলী (রা.) এর বিয়ে হয়। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ২য় মেয়ে রুকাইয়া ইন্তিকাল করেন। সালমান ফারসী (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেন।
পঞ্চান্ন বছর (তৃতীয় হিজরী) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা হামযা (রা.) শহীদ হন। উহুদসহ ৩টি যুদ্ধ পরিচালিত হয় (গাতফান, উহুদ, হাজারাউল আসাদ)। হদের প্রথম নিষেধাজ্ঞার আয়াত নাযিল হয়।
বিয়ের আইন ও স্বামী-স্ত্রীর অধিকার সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হয়।
সুদ ত্যাগের প্রাথমিক নির্দেশ দেয়া হয়।
২টি খণ্ড যুদ্ধ ও অভিযান পরিচালিত হয়।
হাফসা ও যয়নাব (রা.) এর সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিয়ে হয়।
কিসাসের হুকুম (শাস্তির বিধান) নাযিল হয়।
উত্তরাধিকারীর বিধান (ওয়ারিসের সম্পত্তি বণ্টন) নাযিল হয়।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তৃতীয় মেয়ে উম্মে কুলসুমের সাথে উসমানের (রা.) বিয়ে হয়।
ছাপ্পান্ন বছর (চতুর্থ হিজরী)
পর্দার হুকুম ও মদ হারাম ঘোষণা করে আয়াত নাযিল হয়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সালামাকে বিয়ে করেন।
এ সময় ২টি যুদ্ধ ও ৪টি খণ্ড যুদ্ধাভিযান পরিচালিত হয়।
বীরে মাউনার দাওয়াত ও তাবলীগের জামাতের সকল সদস্য (৬৯ জন হাফিয) শহীদ হন।
বনু নাজীর ও যাতুর রিকা যুদ্ধাভিযান সংঘটিত হয়।
সাতান্ন বছর (পঞ্চম হিজরী)
এ সময়ে খন্দকসহ ৫টি যুদ্ধ ও ১টি খণ্ড যুদ্ধ হয়। বনু কুরাইযার যুদ্ধে ইহুদীদের প্রাণদণ্ড হয়।
ওযু ও তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হয়।
যয়নাব বিনতে খুযাইমা ও জোয়াইরিয়া (রা.) কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিয়ে করেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া থেকে পড়ে আঘাত পান।
৫ দিন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে বসে নামায আদায় করেন।
আয়িশার (রা.) বিরুদ্ধে ইফকের (অপবাদ) ঘটনা সংঘটিত হয়।
সূরা মুনাফিকুন নাযিল হয়।
আটান্ন বছর (ষষ্ঠ হিজরী)
৩টি যুদ্ধ ও ১১টি খণ্ড যুদ্ধাভিযান পরিচালিত হয়।
হুদায়বিয়ার সন্ধি হয়। বায়'আতে রিদওয়ান সংঘটিত হয়।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিল মহরের জন্য রূপার আংটি তৈরি করেন।
বিভিন্ন বাদশার নিকট পত্রের মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছান।
ব্যভিচারের শাস্তির হুকুম (রজম) নাযিল হয়।
মিথ্যা অপবাদের শাস্তির হুকুম নাযিল হয়।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দোয়ায় বৃষ্টিপাত হয়।
বিশ্বনবী, মারিয়া কিবতিয়াকে (রা.) (খ্রীষ্টান বিধবা কন্যা) বিবাহ করেন।
ঊনষাট বছর (সপ্তম হিজরী)
খায়বার যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
৩টি যুদ্ধ ও ৫টি খণ্ডযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
বাদশাহ নাজ্জাশী ইসলাম কবুল করেন।
মুতা বিবাহ রহিত ঘোষণা করা হয়।
চুরির শাস্তি বিধান নাযিল হয়।
বিশ্বনবী, উম্মে হাবিবা, মাইমুনা ও সাফিয়া বিনতে হুয়াইকে (রা.) বিবাহ করেন। শেষজন ইহুদী বিধবা ছিলেন।
হারাম-হালাল খাদ্য চিহ্নিত করে আয়াত নাযিল হয়।
সুদ নিষিদ্ধ হয়।
আবু হুরাইরার (রা.) ইসলাম গ্রহণ।
বিয়ে ও তালাকের বিধান নাযিল হয়।
ষাট বছর (অষ্টম হিজরী)
মক্কা বিজয়ের পর তায়েফ অবরোধ করা হয়।
কা'বাঘর তাওয়াফ করেন।
কাবাঘর থেকে মূর্তি সরানো হয়।
খালিদ ইবনে ওয়ালীদ, আমর ইবনুল আস এবং উসমান ইবনে তালহার (রা.) ইসলাম গ্রহণ।
মসজিদে মিম্বার তৈরি হয়।
মুতা ও হুনাইনসহ ৪টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
মুতার অভিযানে যায়েদ, জাফর, আব্দুল্লাহর (রা.) শাহাদাতের পর খালিদের (রা.) হাতে বিজয় সূচিত হয়।
১০টি খণ্ড যুদ্ধাভিযান পরিচালিত হয়।
হুনাইনের যুদ্ধে প্রথম মুসলমানদের পরাজয়ের পর বিজয় আসে। তায়েফ সহজেই বিজয় হয়।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র ইবরাহীমের জন্ম হয়।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বড় মেয়ে যয়নবের মৃত্যু হয়।
একষট্টি বছর (নবম হিজরী)
হজ্জ ফরয হয়।
তাবুক যুদ্ধ। কতিপয় মুসলমান ও মুনাফিকের যুদ্ধে অনুপস্থিত। রোমান বাহিনীর যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন।
৩টি খণ্ড যুদ্ধাভিযান সংঘটিত হয়।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ৩য় মেয়ে উম্মে কুলসুমের মৃত্যু হয়।
আবু বকর (রা.) কে 'আমীরুল হজ্জ' করে মক্কায় পাঠান।
স্ত্রীদের অসঙ্গত দাবির কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস তাদের কাছে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মুনাফিকদের তৈরি 'মসজিদ, যেরার'কে ভেঙ্গে দেয়া হয়।
বাষট্টি বছর (দশম হিজরী)
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র ইব্রাহীমের মৃত্যু হয়।
১ লাখ ৩০ হাজার সাহাবীসহ হজ্জ পালন করেন। বিদায় হজ্জের গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
আল কুরআনের সর্বশেষ আয়াত (মায়েদা: ৩) অবতীর্ণ হয়।
২টি খণ্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
তেষট্টি বছর (একাদশ হিজরী)
দাওয়াত ও তাবলীগে আলীকে (রা.) ইয়ামানে প্রেরণ। উসামা ইবনে যায়েদের নেতৃত্বে বিশাল সৈন্য দলকে সিরিয়া প্রেরণ।
১টি খণ্ড যুদ্ধ হয়।
২৮ সফর বুধবার মাথাব্যথা ও জ্বর শুরু হয়।
১১ রবিউল আউয়াল সর্বশেষ নামাযের জামাতে যোগদান করেন।
১৪ দিন অসুস্থ থাকেন।
১২ রবিউল আউয়াল, ৮ জুন ৬৩২ খ্রীঃ রোজ সোমবার দুপুরের সময় ৬৩ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন। এদিন সকালেও নিজ ঘরে দাওয়াত ও তাবলীগ করেন।
১৪ রবিউল আউয়াল আয়িশার (রা.) ঘরে তাঁর দাফন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই বিশ্বনবীর (সা.) কবর রচিত হয়।
📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছেলে-মেয়ের পরিচয়
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছেলে ৩ জন ও কন্যা ৪ জন। ছেলেরা হলেন ১. কাসেম, ২. আবদুল্লাহ, ও ৩. ইব্রাহীম। আর কন্যারা হলেন- ১. যয়নব, ২. রুকাইয়া, ৩. উম্মে কুলসুম ও ৪. ফাতিমা (রা.) [ইবরাহীম বাদে সকলেই খাদীজার (রা.) এর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। ইব্রাহীম মারিয়া কিবতিয়ার (রা.) গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন এবং দেড় বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন। বিশ্বনবীর (সা.) বংশ ধারা মেয়েদের, বিশেষভাবে ফাতিমার (রা.) মাধ্যমে চালু আছে। কেননা বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল পুত্র সন্তানই শিশুকালে মৃত্যুবরণ করেন।
📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণের পরিচয়
১. খাদীজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.): বিয়ের সময় বয়স ৪০, বিধবা। রাসূলের বয়স ২৫ বছর। বিয়ের সন ৫৯৫ খ্রীঃ। মোহরানা ২০টি উট। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৬৫ বছর।
২. সওদা বিনতে যাময়া (রা.) : বয়স ৫০, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৩ বছর। বিয়ের সন ১০তম নবুওয়াতী বছর। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যুকালে বয়স ৭০ বছর।
৩. আয়িশা বিনতে আবু বকর সিদ্দীক (রা.) : বয়স ৬, কুমারী। রাসূলের ৫৪ বছর। বিয়ের সন নবুওয়াতের ১০তম বছর। ৯ বছর বয়সে তিনি রাসূল (সা.) এর ঘরে আসেন। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যুকালে আয়িশার (রা.) বয়স ছিল ৬৬ বছর। কোন কোন বর্ণনা মতে ৮২ বছর।
৪. হাফসা বিনতে ওমর (রা.) : বয়স ২০, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৫ বছর। বিয়ের সন ৩ হিজরী। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যু ৮১ বছর বয়সে।
৫. যয়নব বিনতে খুজাইম (রা.) : বয়স ২৯, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৫ বছর। বিয়ের সন ৪ হিজরী। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যুকালে বয়স ৩০ বছর।
৬. উম্মে সালামা বিনতে উমাইয়া (রা.) : বয়স ৩৮, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৬ বছর। বিয়ের সন ৪ হিজরী। মোহরানা ১টি প্লেট, পেয়ালা ও যাঁতাকল। মৃত্যুকালে বয়স ৮২ বছর।
৭. যয়নাব বিনতে জাহাশ (রা) : বয়স ৩৭, তালাকপ্রাপ্তা। রাসূলের বয়স ৫৭ বছর। বিয়ের সন ৫ হিজরী। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যুকালে বয়স ৫৫ বছর।
৮. জুয়াইরিয়া বিনতে হারিস (রা.) : বয়স ৩৯, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৭ বছর। বিয়ের সন ৫ হিজরী। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যুকালে বয়স ৬৫, (৩১ হিজরী)।
৯. রায়হানা বিনতে শামউন (রা.) (ইহুদী কন্যা) : বয়স ৪১, বিধবা। রাসূলের বয়স ৬০ বছর। বিয়ের সন ৮ হিজরী। মোহরানা-দাসত্ব থেকে মুক্ত করে মোহরানা আদায়। মৃত্যুকালে বয়স ৪২ বছর, (১০ হিজরী)।
১০. সাফিয়া বিনতে হুয়াই ইবনে আখতার (রা.) (ইহুদী কন্যা) : বয়স ৪০, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৯ বছর। বিয়ের সন ৭ হিজরী। মোহরানা-দাসত্ব থেকে মুক্তির বিনিময়ে। মৃত্যুকালে বয়স ৮২ বছর, (৫০ হিজরী)।
১১. মারিয়া কিবতিয়া (রা.) (খ্রিষ্টান কন্যা) : বয়স ৪০, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৮ বছর। বিয়ের সন ৬ হিজরী। মোহরানা- মিসরের বাদশা নিজে মোহরানা আদায় করেন। উপঢৌকন হিসেবে মিসরের বাদশা কর্তৃক প্রেরিত। মৃত্যুকালে বয়স ৪৭ বছর, (১৩ হিজরী)।
১২. উম্মে হাবিবা বিনতে আবু সুফিয়ান (রা.) : বয়স ৪০, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৯ বছর। বিয়ের সন ৭ হিজরী। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যুকালে বয়স ৭৪ বছর, (৪০ হিজরী)।
১৩. মাইমুনা ইবনে হারিস (রা.) : বয়স ৫১, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৯ বছর। বিয়ের সন ৭ হিজরী। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যুকালে বয়স ৮৭ বছর, (৪২ হিজরী)।