📄 পবিত্র কুরআনে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
"তিনি উম্মী নবী, তাঁর কথা লিপিবদ্ধ আছে তাওরাত ও ইঞ্জীলে" (৭/১৫৭)। "তিনি মহান চরিত্রের অধিকারী" (৬৮/৪)। "তিনি তোমাদেরই মত মানুষ, তাঁর প্রতি ওহী নাযিল হয়।" (১৮/১১৩)। "তাঁর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও আখিরাতের আকাঙ্ক্ষা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।" (৩৩/২১)। "তিনি ছিলেন ইয়াতীম, নিঃস্ব এবং মানুষের মুক্তির পথ অন্বেষণকারী। আল্লাহ তাঁকে আশ্রয় দেন, অভাবমুক্ত করেন এবং পথের দিশা দেন।" (৯৩/৬-৮)। "তিনি এমন এক রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তোমাদের কাছে আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ আবৃত্তি করেন। যারা ঈমান আনে ও ভাল কাজ করে তাদের আঁধার থেকে আলোতে আনার জন্য।" (৬৫/১১) "যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আমি তো আপনাকে তাদের রক্ষক করে পাঠাইনি। আপনার কাজ তো কেবল প্রচার করে যাওয়া" (৪২/৪৮)। "আপনি উপদেশ দিতে থাকুন। আপনি তো একজন উপদেশদাতা মাত্র। আপনি তো তাদের উপর কর্মনিয়ন্ত্রক নন। (৮৮/২১-২২) "আপনি প্রচার করুন- যা আপনার রবের কাছ থেকে আপনার প্রতি নাযিল করা হয়েছে।" (৫/৬৭)। "আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এভাবে বলতে বলেছেন : আমি তোমাদেরই মত একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহী নাযিল হয়, তোমাদের ইলাহ তো একমাত্র আল্লাহ। অতএব তার পথই দৃঢ়ভাবে অবলম্বন কর এবং তার কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা কর।" (৪১/৬)। "হে আহলে কিতাব! তোমরা শুধু এ কারণেই আমাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ কর যে, আমরা ঈমান রাখি আল্লাহর প্রতি এবং আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে ও পূর্বে যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি" (৫/৫৯)। "আমি তো কেবল আমার রবকেই ডাকি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করি না। আমি তোমাদের ইষ্ট-অনিষ্টের মালিক নই। কেউ আমাকে আল্লাহর হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না, যদি আমি তাঁর অবাধ্য হই। তিনি ছাড়া আমার কোন আশ্রয় নেই। কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রচার ও তাঁর বাণী পৌঁছানই আমাকে বাঁচাবে"। (৭২/২০-২৩)।
আল্লাহ বলেন, "হে নবী! প্রত্যেক জাতির জন্যে যেরূপ পথ প্রদর্শক ছিলেন, আপনিও পথ প্রদর্শক হিসেবে মানুষের জন্যে সতর্ককারী" (সূরা আল রা'আদ)। "হে নবী! আমি আপনাকে বিশ্ব মানবের প্রতি সু-সংবাদদাতা এবং সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি।" (সূরা আল সাবা)। "হে নবী! আমি আপনাকে সত্যসহ সু-সংবাদদাতা এবং ভয় প্রদর্শনকারীরূপে প্রেরণ করেছি।" (সূরা আল বাকারা)। "হে নবী! আপনি বলে দিন, তোমরা আল্লাহর দিকে ধাবিত হও, আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহ প্রেরিত স্পষ্ট সতর্ককারী।" (সূরা আল যারিয়াত)। "হে নবী! আপনি উপদেশ দিতে থাকুন, কেননা নিশ্চয়ই উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসবে।" (সূরা আল-যারিয়াত)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা কুরআনে নবীকে এভাবে বলতে শিখিয়েছেন, "আপনি বলুন হে দুনিয়ার মানুষ, আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল।" (সূরা আল আনআম)। "হে নবী! আমি তো আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহবানকারীরূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে। আপনি মুমিনদের সুসংবাদ দিন। তাদের জন্য আল্লাহর কাছে আছে মহানুগ্রহ। আপনি কাফির ও মুনাফিকদের অনুসরণ করবেন না। তাদের নির্যাতন উপেক্ষা করবেন এবং আল্লাহর উপর নির্ভর করবেন।" (৩৩/৪৫-৪৮)।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন "আমি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। এমন কোন জাতি নেই যাদের কাছে সতর্ককারী প্রেরিত হয়নি। এরা যদি আপনার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, তবে এদের পূর্ববর্তীরাও তো মিথ্যা আরোপ করেছিল- তাদের কাছে এসেছিল তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শন, গ্রন্থ এবং দীপ্তিমান কিতাবসহ। তারপর আমি কাফিরদের শাস্তি দিয়েছিলাম। কি ভয়ংকর আমার শাস্তি।" (৩৫/২৪-২৬ এবং ১৩/৩০-৩১)। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্র মাধুর্যের বর্ণনা এসেছে আল-কুরআন, "তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাতের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।" (সূরা আল আহযাব: ২১)। "আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।" (সূরা আল আম্বিয়া: ১০৭)। কট্টর অবিশ্বাসীদের ব্যাপারে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা নিজেই আশ্বস্ত করেছেন এভাবে, "নিশ্চয়ই যারা অবিশ্বাসী, তাদেরকে আপনি সতর্ক করুন আর না করুন, কোন অবস্থাতেই তাঁরা ঈমান আনবে না।" (সূরা আল বাকারা: ৬)। "নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সত্য ধর্মসহ সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারীরূপে পাঠিয়েছি। আপনি জাহান্নামীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন না।” (সূরা আল বাকারা : ১১৯) বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কার্য পদ্ধতি সম্বন্ধে কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন, "আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করেছি। যিনি আমার আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে আবৃত্তি করেন, তোমাদেরকে পবিত্র করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন এবং তোমরা যা জানতে না, তা শিক্ষা দেন।” (সূরা আল বাকারা : ১৫১)। নবীর মর্যাদার ব্যাপারে আল কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এরশাদ করেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং ফিরিশতাগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ পেশ করছেন" (৩৩: ৫৬)।
📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কুরআনে আলোচিত আয়াতসমূহ
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনবার্তা: সূরা আরাফ: ১৫৭; সূরা সফ: ৬।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মপরিচয়: সূরা আলে ইমরান: ১৪৪; সূরা আনআম: ৫০,৬৬; সূরা আরাফ: ১৮৭,১৮৮; সূরা ইউনুস: ১০৮; সূরা হিজর: ৮৯; সূরা বনী ইসরাঈল: ৫৪; সূরা হজ্জ: ৪৯; সূরা সাদ: ৭০; সূরা হা-মীম: ৬; সূরা আহকাফ: ৯; সূরা জীন: ২১-২২।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত প্রাপ্তি, রাসূল হওয়ার সত্যতার সাক্ষী ও দায়িত্ব কর্তব্যের পরিসীমা: সূরা দোহা: ৭; সূরা তাকবীর: ২২-২৫; সূরা রা'দ: ৩৮-৪৩; সূরা সাবা: ৪৬; সূরা ইয়াসিন: ৩-৪; সূরা শূরা: ৫২; সূরা যুখরুফ: ৪৩-৪৪; সূরা ফাতাহ: ৮, ২৯; সূরা নজম: ১, ১২, ৫৬; সূরা সফ: ৬; সূরা যুমার: ২; সূরা ক্বলাম: ২-৭।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন পথপ্রদর্শক, সতর্ককারী রাসূল, বিশ্বনবী ও শেষনবী: সূরা আলে ইমরান: ১৪৪; সূরা আ'রাফ: ১-২, ১৫৮; সূরা হুদ: ২; সূরা হাজ্জ: ৪৯; সূরা ফুরকান: ১; সূরা সাদ: ৭, ৬৫-৭০; সূরা আহকাফ: ১, ৯; সূরা কাফ: ১-২; সূরা আহযাব: ৪০, ৪৫, ৪৬; সূরা আম্বিয়া: ১০৭; সূরা নজম: ৫৬; সূরা সাবা: ২৮।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণক, কবি বা পাগল নয়, বল প্রয়োগ করে দ্বীন বুঝানো তার দায়িত্ব নয়, তিনি কারো কাছে পারিশ্রমিক চান না, তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কিছু বলেননি: সূরা ইউনুস: ২, ১৫; সূরা হিজর: ৬-১১; সূরা আম্বিয়া: ৫, ৪৮; সূরা ইয়াসিন: ৬৯; সূরা সফফাত: ৩৬; সূরা তুর: ২৯, ৩০; সূরা ক্বলাম: ২-৬; সূরা হাক্কাহ: ৪০-৪১; সূরা আন'আম: ৬৬; সূরা ফুরকান: ৫৭; সূরা সাবা: ৪৭; সূরা সাদ: ৮৬; সূরা শূরা: ২৩; সূরা নাজম: ১-৬।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্ষ বিদীর্ণ, আল্লাহর সাথে কথা বলা, মি'রাজ ও ফিরিশতা দর্শন: সূরা ইনশিরাহ: ১-৮; সূরা নাজম: ৬-১৮; সূরা তাকবীর: ২৩; সূরা বনী ইসরাঈল: ১, ৬০।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পারিবারিক জীবনধারা, স্ত্রীদের প্রতি নির্দেশ ও তাঁদের মর্যাদা: সূরা আহযাব: ৬, ২৮-৩৪, ৩৭-৫২; সূরা তাহরীম: ১-৫।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে গবেষণা করা, অনুসরণ করা ও সম্মান প্রদর্শন করা: সূরা আ'রাফ: ১৮৪; সূরা আলে ইমরান: ৩১-৩২; সূরা নিসা: ৫৯-৮০; সূরা মায়িদা: ৯২; সূরা আনফাল: ২০; সূরা আন'আম : ৫৪; সূরা আহযাব: ৬, ২১, ৩১,৩৬, ৫৩-৫৭; সূরা মুহাম্মদ: ৩৩; সূরা ফাতাহ: ৯, ১০; সূরা তাগাবুন: ১২; সূরা নূর: ৬২; সূরা সাবা: ৪৬; সূরা হুজুরাত: ১-৮; সূরা মুজাদালাহ: ১১-১৩।
অন্যান্য আয়াতসমূহ: এছাড়া মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে আল্লাহর প্রেরিত নির্দেশাবলি, মুনাফিকদের আচরণ, কাফিরদের শত্রুতা, বিভিন্ন যুদ্ধ-বিগ্রহ, বিচার-ফায়সালা, সমস্যা সমাধান ইত্যাদি বিষয়ে অসংখ্য আয়াত নাযিল হয়েছে। এভাবে পুরো কুরআন তো মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্যই নাযিল হয়েছে। আর তিনি ছিলেন বিশ্ব মানবতার মহান নেতা। তাই তাঁকে ঘিরে কুরআনের অবতারণা। আয়িশা (রা.) বলেন, পুরো কুরআনই হল, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের প্রতিফলন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরো কুরআনের সকল আদেশ নির্দেশকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। অন্যদিকে তিনিই ছিলেন কুরআনিক সকল ঘটনার মূল/কেন্দ্রীয় চরিত্র। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঘিরেই নাযিল হয়েছে আল কুরআন।