📄 বিশ্ববাসীর কাছে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
স্বামী বিবেকানন্দ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঈশ্বর প্রেরিত অবতার (Prophet) হিসেবেই চিহ্নিত করে উচ্চ মর্যাদার আসন দেন এবং বলেন, "কৃষ্ণের প্রাচীন বাণী বুদ্ধ, খ্রিষ্ট ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এই তিন মহাপুরুষের বাণীর সমন্বয়। খ্রিষ্টানরা যীশুর নামে রাজনীতি এবং পারসিকরা দ্বৈতভাবে প্রচার করছে দেখে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাদের ঈশ্বর এক। যা কিছু আছে, সব কিছুরই প্রভু তিনি। ঈশ্বরের সাথে অন্য কারও তুলনা হয় না। বাস্তবে এটাই হচ্ছে সকল ধর্মের মূলকথা।" বিশ্বখ্যাত ঐতিহাসিক টমাস কার্লাইল বলেন, "মুহাম্মদকে মনে হয়েছিল প্রমাণ হয়ে জ্বলে উঠেছে দিল্লী থেকে গ্রানাডা পর্যন্ত"। বিখ্যাত পণ্ডিত মাইকেল এইচ হার্ট তার সাড়া জাগানো 'দি হান্ড্রেড' নামক গ্রন্থে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে প্রথম স্থানে রাখতে বাধ্য হয়েছেন। 'এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকায়' লেখা আছে, পৃথিবীর ধর্মনেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাফল্য লাভ করেছেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।"
জন ডেভেনপোর্ট বলেন, "কোন ধর্মনেতা বা বিজয়ীর জীবনই বিস্তৃতি ও ঐতিহাসিকতার দিক দিয়ে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের সাথে তুলনা হতে পারে না।" বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর নাযিলকৃত ধর্মগ্রন্থ কুরআন চৌদ্দশ-বছর পরও অবিকৃত রয়েছে এবং থাকবে, এ ঘোষণা আল্লাহপাক কুরআনেই দিয়েছেন। "আপনার প্রতিপালকের বাক্য পূর্ণ সত্য ও সুষম। তার বাক্যের কোন পরিবর্তনকারী নেই। তিনি শ্রবণকারী ও মহাজ্ঞানী।" (সূরা আনআম: ১১৫)
বর্তমানে কম্পিউটারলব্ধ গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে (ড. রাশাদ খলীফা)। "আল- কুরআন ১৯ সংখ্যার বন্ধনে আবদ্ধ। কুরআনের ১টি হরফও এদিক সেদিক হলে এই হিসাব মিলবে না।" এছাড়া অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ কেউ মুখস্থ রাখে না বা রাখতে পারে না। একমাত্র কুরআন শরীফই আল্লাহর অশেষ রহমতে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাভাষী লক্ষ লক্ষ মুসলমান আরবীতেই অবিকল মুখস্থ রাখছে। এমনকি বাচ্চা শিশু-কিশোর-কিশোরীও হুবহু কুরআন মুখস্থ রাখতে পারছে এবং ভবিষ্যতে এর ব্যতিক্রম হবে না।
ইংরেজ লেখক ড. স্ত্রীঙ্গার তার "লাইফ অফ মুহাম্মদ" গ্রন্থে আরব জাতি ও বিশ্বনবী মুহাম্মদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাস্তবে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহান জীবনাদর্শ বা সীরাতুন নবী এমন এক মহাসমুদ্র, যার কুল- কিনারা নির্ধারণ করা কোন মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, "আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মের পর থেকে এ নশ্বর জগত ত্যাগের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সর্বাধিক কলুষমুক্ত ও সুপবিত্র ছিলেন এবং বিশ্বের সর্বস্তরের সকল মানুষের জন্যে তিনি ছিলেন অনুপম অনুকরণীয় আদর্শ।" বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি প্রেমের নমুনা পাবেন এ হাদীস থেকে: "একদিন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কিয়ামত কখন হবে? বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার ধ্বংস! তুমি কিয়ামতের জন্য কী প্রস্তুত করেছ? সে বলল, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি এবং এছাড়া আমি কোন প্রস্তুতি গ্রহণ করিনি। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি তাঁর সাথে যাকে ভালবাস।" এ হাদীস বর্ণনা করে আনাস (রা.) বলেন যে, "ইসলামে দাখিল হওয়ার পর মুসলমানদেরকে অন্য কোন জিনিসে বা বিষয়ে এ সংবাদের চেয়ে বেশি খুশি হতে দেখিনি!" (বুখারী ও মুসলিম)।
মুসলমানদের চোখে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতটাই প্রিয় ছিলেন এবং থাকবেন। যুদ্ধের ময়দানে সাহাবীরা নিজেদের বুক পেতে দিয়েছেন। তীর বিদ্ধ হয়েছেন। তবুও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহ থেকে এক ফোটা রক্ত ঝরতে দেননি। ওহুদের যুদ্ধের বিবরণে ইতিহাস হয়ে আছে সেসব ঘটনা। যার পুনরাবৃত্তি হয়নি বা হবেও না। বিশ্বনবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীরা তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এতটাই ভালবাসতেন ও তাঁর আনুগত্য করতেন।
📄 সকল ধর্মগ্রন্থে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বেদ, পুরাণ, যিন্দাবেস্তা, দিঘানিকায়া, তাওরাত, যাবুর, বাইবেল- পৃথিবীর সব ধর্মগ্রন্থেই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলী ও তাঁর আগমনের বর্ণনা এসেছে। কিন্তু বর্ণপ্রথার কুসংস্কারে নিমজ্জিত কৌলিন্যাভিমানী ব্রাহ্মণগণ কর্তৃক বেদ পাঠ ও পৌরহিত্যের একচেটিয়া অধিকার সংরক্ষণের ফলে নিম্নশ্রেণীর হিন্দুদের পক্ষে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে শেষ এবং প্রতিশ্রুত রাসূল ও ঋষি- এ মহাসত্য জানা বা উদঘাটন করা সম্ভব ছিল না। অপরপক্ষে খৃষ্টানদের পুরাতন ও নতুন নিয়মের বাইবেলের দ্বারা একত্ববাদী গসপেলে শেষ ও শ্রেষ্ঠনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমন বার্তা উল্লিখিত ছিল। কিন্তু ৩২৫ খৃষ্টাব্দে নিকিও কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজকীয় দণ্ডাজ্ঞাবলে তা ধ্বংস ও গোপন করার কারণে খ্রিষ্টান জাতিতে শেষ নবীর আগমন বার্তা জনসাধারণ জানতে পারেনি। কিন্তু মহাসত্য এই যে, সত্য কখনই চাপা থাকে না। তাই বোধকরি ১৫শত বছরের গোপনকৃত বার্ণাবাসের গসপেল খ্রিষ্টান বিশপ ফ্রা মেরিনো কর্তৃক প্রকাশিত হচ্ছে। অপরদিকে আই টি এর আধুনিক যুগে বেদ পাঠও আর গোপন নেই। ফলে সত্যকে ঠেকানোর কোন পথই খোলা নেই। আল-কুরআনের বাণী সত্য প্রমাণিত হচ্ছেঃ "সত্য সমাগত মিত্যা অপসারিত, মিথ্যা চিরকালই অপসারিত হবে।" (১৭: ৯)
প্রফেসর ড. বেদ প্রকাশ উপাধ্যায় (ভারতের প্রয়াগ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং পরিচালক, শাশ্বত বেদান্ত প্রকাশ সংঘ) হিন্দি ভাষায় তিনটি গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনা করেন। উক্ত গ্রন্থগুলোর একত্রে বাংলা সংকলনের নাম "বেদ ও পুরাণে হযরত মুহাম্মদ"। অনুবাদ করেছেন অধ্যাপক অসিত কুমার বন্দোপাধ্যায়। বর্ণিত গ্রন্থের ভূমিকায় ডঃ বেদ প্রকাশ উপাধ্যায় লিখেছেন, "ঐতিহাসিক বিষয়ে গবেষণা করার প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ অন্তরে সবর্দা পোষণ করি। বেদ, বাইবেল ও বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থে যে ঋষি ও মহামানবের আগমন সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে তাতে, সর্বসম্মতভাবে মুহাম্মদই প্রমাণিত হন। অতঃপর আমার অন্তরে এ প্রেরণা জাগ্রত হয় যে, সত্য প্রকাশ করা আবশ্যক। আমি ধর্মীয় গোঁড়ামী ও সংকীর্ণতার পক্ষপাতি নই। বেদসমূহে দ্বাদশ পত্নীধারী এক উষ্ট্রারোহী ব্যক্তির আগমনের কথা বলা হয়েছে যার নাম নরাশংস হবে। আমার মতে নরাশংস শব্দ এমন নর অর্থাৎ ব্যক্তিকে সূচিত করে যার নামের অর্থ হবে "প্রশংসিত"। মুহাম্মদ আরবী শব্দ এবং এর অর্থ হচ্ছে প্রশংসিত। অতএব নরাশংস এবং মুহাম্মদ একার্থবোধক শব্দ। বেদ, পুরাণ এবং উপনিষদে আল্লাহ, রাসূল, মুহাম্মদ ইত্যাদি শব্দের উল্লেখ আছে। অর্থবেদীয় উপনিষদে আছে (যার ভাবার্থ হচ্ছে): ঠিক সে সময় মুহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি, যার বাস মরুস্থলে, শিষ্যগণসহ আবির্ভূত হবেন। হে আমাদের প্রভু, হে জগতগুরু তোমার প্রতি আমাদের স্তুতিবাদ। জগতের সমুদয় কলুষতা নাশ করার উপায়সমূহ তুমি জান, তোমাকে নমস্কার। হে পবিত্র পুরুষ! আমি তোমার দাস। আমাকে তোমার চরণতলে স্থান দাও। অল্লোপনিষদের অন্য এক জায়গায় উল্লেখ আছে (যার ভাবার্থ হচ্ছে): আল্লাহ্ সকল গুণের অধিকারী। তিনি পূর্ণ ও সর্বজ্ঞানী। মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।
হিন্দুদের কোন ধর্মগ্রন্থে হিন্দুধর্ম কথাটির উল্লেখ নেই। সনাতন ধর্ম নামে সেখানে এটা বর্ণিত হয়েছে। এ ধর্মের মূল গ্রন্থ, বেদ, গীতা, পুরাণ, উপনিষদ ইত্যাদি। এসব গ্রন্থে শেষ অবতার বা শেষনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। হিন্দুশাস্ত্রের একসেবা দ্বিতীয় মূলমন্ত্রটি ইসলামের লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর প্রতিধ্বনি। তা হচ্ছে 'ইল্লা কবর ইল্লা ইল্লাল্লোত ইলাল্লাং' অর্থাৎ পৃথিবী ও অন্তরীস্থ সূক্ষ্ম পদার্থের স্রষ্টা আল্লাহ। আল্লাহ পুণ্যবানদের প্রভু। একমাত্র আল্লাহকেই আল্লাহ বলে আহবান কর। পাশাপাশি শেষ ঋষি বা মহামানবের নাম 'আহমদ' এর উল্লেখ রয়েছে ঋগবেদের 'কীরি' শব্দের মধ্যে। আবার কলির অবতারও তিনিই। সামবেদে শ্রীকৃষ্ণের নাম-গন্ধও নেই। সেখানে বলা হয়েছে, ঐ মহামানবের নামের প্রথম অক্ষর ম ও শেষ অক্ষর দ এবং তিনি বৃষ মাংস ভক্ষণ সর্বকালের জন্য বৈধ করবেন। তিনিই হবেন বেদ অনুযায়ী ঋষি অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছেন সেই মহামানব।
ঋজুবেদে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লেখ আছে এভাবে 'আল্লাহ রাসূল মুহাম্মদ এবং বরস্য।' অর্থাৎ মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং পরম বরণীয়। ভাগবত পুরাণের ১২-২-২০ শ্লোকের অর্থ হচ্ছে: তিনি বেগবান অশ্ব দ্বারা বিচরণকারী, অপ্রতিম, কান্তিময়, লিংগের অগ্রভাগ ছেদিত, রাজার বেশে অগণিত দুশমনকে সংহার করবেন। তিনিই শেষ ঋষি অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অপরদিকে শেষ মহাঋষি (কল্কির) বা শেষনবীর পিতার নাম বিষযশা (বিষু-স্রষ্টার গুণবাচন নাম আর যশা অর্থ- দাস। অর্থাৎ এ শব্দের অর্থ আল্লাহর দাস। যেমনটি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতার আরবী নাম আবদুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর দাস)। তার (কল্কির) মাতার নাম সুমতি (যার অর্থ শান্ত এবং মননশীল স্বভাব। যেমনটি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাতার আরবী নাম আমিনা, যার অর্থও মননশীল স্বভাব।
শিখ ধর্মগ্রন্থ 'গ্রন্থ সাহেব'-এর ৭৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, (যার ভাবার্থ হচ্ছে): যে সব লোক সৎপথ ছেড়ে দিয়ে শয়তানির পথে গেছে রাসূল তাদের শাফায়াত করবেন না। গ্রন্থ সাহেবের ১৭৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে (যার ভাবার্থ হচ্ছে): বর্তমানে বেদ পুরাণের যুগ শেষ হয়েছে। এখন কুরআনই সমস্ত মানুষের একমাত্র পথ প্রদর্শক ঐশীগ্রন্থ। কেন মানুষ বর্তমানে অশান্তিময় নরকের পথে ধাবমান। এর একমাত্র কারণ চিরস্থায়ী, সত্য, শাশ্বত ইসলামের নবীর প্রতি আমাদের ভক্তি ও বিশ্বাস নেই। একই ধর্মগ্রন্থের ২২১ থেকে ২২৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে (যার ভাবার্থ হচ্ছে): একমাত্র কলেমা তৈয়্যব সর্বদা পড়বে। তা ভিন্ন সংগের সাথী কিছুই নেই। যে তা পড়বে না, সে দোযখে যাবে। বে নামাযীর স্বভাব ঠিক কুকুরের ন্যায়, যে রত থাকে সমুদয় পার্থিব অপকারিতায়। পাঞ্জেগানা নামাযের জন্য যে একবারও যায় না মসজিদে।
ইরানী বা ফার্সী (অগ্নি উপাসকদের) জাতির ধর্মগ্রন্থের নাম 'যিন্দাবেস্তা' ও 'দসাতির'। এ ধর্মের প্রবর্তক হলেন জরখৃষ্ট (প্রায় ৬০০ খৃঃ পূর্ব)-এ ধর্মগ্রন্থে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাবের সুস্পষ্ট ভবিষ্যৎ বাণী রয়েছে। আহমদ শব্দটির উল্লেখ আছে। যিন্দাবস্তায় পৃষ্ঠা ১৬০ (ম্যাক্সমূলার অনূদিত)-এ উল্লেখ আছে আমি ঘোষণা করছি হে স্থিপতাম জথেষ্ট্র পবিত্র আহমদ নিশ্চয় আসবে। যার নিকট হতে তোমরা সৎ চিন্তা, সৎ বাক্য, সৎ কার্য এবং বিশুদ্ধ ধর্ম লাভ করবে। 'দসাতির' গ্রন্থেও একই ভবিষ্যৎ বাণী রয়েছে। যখন ফার্সীরা নিজেদের ধর্ম ভুলে গিয়ে নৈতিক অধঃপতনের চরমসীমায় উপনীত হবে। তখন আরব দেশে এক মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করবে। যার শিষ্যরা পারস্য দেশ জয় এবং দুর্ধর্ষ পারসিক জাতিকে পরাজিত করবে। মন্দিরে অগ্নিপূজা না করে তারা কাবা ঘরের দিকে মুখ করে প্রার্থনা করবে। কাবা প্রথামুক্ত হবে। সে মহাপুরুষের শিষ্যরা বিশ্ববাসীর জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হবে।
বৌদ্ধ ধর্মের মূল ধর্মগ্রন্থ 'দিঘানিকায়া' তে ঘোষণা করা হয়েছে, যখন মানুষ বুদ্ধের ধর্ম ভুলে যাবে তখন আর এক বুদ্ধের আবির্ভাব হবে। তার নাম হবে মৈত্রেয়' অর্থাৎ শান্তি ও করুণার বুদ্ধ। এখানে এ মৈত্রেয় শব্দ দ্বারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বুঝানো হয়েছে। তিনিই (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একমাত্র ধর্ম প্রচারক যিনি রহমাতুল্লিল আলামীন বা জগতের করুণার আধার নামে প্রসিদ্ধ লাভ করেছেন। সিংহল হতে প্রাপ্ত নিম্নোক্ত তথ্যে, উপরের কথার প্রতিধ্বনি রয়েছে: ভিক্ষু আনন্দ বুদ্ধকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার মৃত্যুর পর কে আমাদের উপদেশ দেবে? বুদ্ধ বললেন, আমি শেষ বুদ্ধ নই। যথাসময়ে আরেকজন বুদ্ধ আসবেন। তিনি আমার চেয়েও পবিত্র এবং অধিকতর আলোক প্রাপ্ত। তিনি পূর্ণাঙ্গ ধর্মমত ও পথ প্রচার করবেন। আনন্দ জিজ্ঞাসা করলেন, তাকে আমরা কিভাবে চিনতে পারব? বুদ্ধ জবাব দিলেন, তার নাম হবে মৈত্রেয়। (গসপেল অব বুদ্ধা কেরাস)
ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ পুরাতন নিয়ম বাইবেলের ৩৯ খানা পুস্তকের মধ্যে 'পেন্টাটিটশ' নামক মাত্র পাঁচখানি মূসার (আ.) নিকট তৌরাত নামে অবতীর্ণ হয়েছিল। এ পুস্তকের দ্বিতীয় বিবরণের ১৮ নং অধ্যায়ের ১৮ এবং ১৯ নম্বর শ্লোকে বলা হয়েছে, "তখন সদা প্রভু আমাকে (মূসাকে) বললেন-তোমরা ভালই বলেছ। আমি ওদের জন্য ওদের (ইসরাঈলদের) ভ্রাতৃগণের মধ্য হতে তোমার সদৃশ এক ভাববাদি (নবী) উৎপন্ন করব এবং তাঁর মুখে আমার বক্তব্য দিব।" এখানে উল্লেখ্য যে, মূসা (আ.) এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়েই একত্ববাদী। অপরপক্ষে খৃষ্টীয় মতে যীশুখৃষ্ট (আ.) ত্রিত্ববাদী দর্শন ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা। মূসা (আ.) এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়েই নবী এবং শাসনকর্তা ছিলেন। তাদের জীবদ্দশায় দেশবাসী তাদের নবী, নেতা ও শাসনকর্তার স্বীকৃতি দিয়েছিল। অপরপক্ষে যীশুকে (আ.) তাঁর জীবদ্দশায় দেশবাসী স্বীকৃতি দেয়নি। আবার মূসা (আ.) ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধর্মযুদ্ধে শত্রুদের পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু যীশু (আ.) শত্রুদের কাছে পরাজিত হয়ে ধৃত হয়েছেন অর্থাৎ যীশু (আ.) মূসার ন্যায় নন। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূসার ন্যায়।
পুরাতন নিয়ম বাইবেলের শলমনের পরমগীত অধ্যায়ের ৫ম সংগীতের ১৬ নং শ্লোকে শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম উল্লেখ আছে। কিন্তু পাদ্রীগণ বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে তাদের প্রণীত অনুবাদে, "অতিশয় মনোহর" (মুহাম্মদ এর অর্থ করছেন) বাস্তবে সঠিক অনুবাদ হবে "অতিশয় প্রশংসিত"। বস্তুতঃ হিব্রু ও আরবী ভাষায় মুহাম্মদের অর্থ প্রশংসিত। মনোহর নয়। ড. মরিস বুকাইলি তার বিশ্ব আলোড়ন সৃষ্টিকারী 'বাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞান' নামক গ্রন্থে লিখেছেন: "বাইবেলের নতুন নিয়মের প্রথম তিনটি সুসমাচারে যীশুর গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ এবং তৎসংক্রান্ত বর্ণনার অনুপস্থিতির কারণ যেমন রহস্যময় তেমনি দুর্বোধ্য।" আসলে এ ভাষণটি বাদ দেবার মূল কারণ হচ্ছে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্বীকৃতিকে অস্বীকার করা। যোহানের গসপেলেও বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এরপরও সত্যাশ্রয়ীদের বুঝতে অসুবিধা হয় না, বাইবেলে কি বলা হয়েছে? বাংলা বাইবেলে যোহান ১৬,১৩-১৪ এ বলা হয়েছে: "পরন্তু তিনি, সত্যের আত্মা যখন আসবেন; তখন তিনি পথ দেখিয়ে তোমাদেরকে সত্যে নিয়ে যাবেন। কারণ তিনি আপনা হতে কিছু বলবেন না। ঈশ্বরের কাছ থেকে যা শোনেন তাই বলবেন। আগামী ঘটনা তোমাদেরকে জানাবেন। তিনি আমাকে মহিমান্বিত করবেন।" এখানে আমাদের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না, এ সত্যের আত্মা কে? এ মহামানব কে? তিনি নিশ্চয়ই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
এভাবেই সব ধর্মগ্রন্থে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জগতের শেষ ভরসা, সর্বশেষ নবী, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, সর্বশেষ করুণার আঁধার ও মহাঋষি। সকল মত, পথ ও আদর্শের ঊর্ধ্বে স্রষ্টার প্রতিনিধির নামই আহমদ, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর কাছেই স্রষ্টা প্রেরণ করেছেন আল-কুরআন। তাঁর ধর্মের নামই ইসলাম। দ্বীন ইসলামই হচ্ছে একমাত্র ও শুধুমাত্র মুক্তির পথ। তথা স্রষ্টার কাছে গ্রহণযোগ্য দ্বীন। কেননা ইসলামের জ্যোতির্ময় আলোতে অন্যান্য ধর্মমত ও পথ বাতিল হয়ে গেছে। সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখেই আল-কুরআনের আদর্শ এবং বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথেই ফিরে আসতে হবে পৃথিবীর সব মানুষকে।
📄 পবিত্র কুরআনে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
"তিনি উম্মী নবী, তাঁর কথা লিপিবদ্ধ আছে তাওরাত ও ইঞ্জীলে" (৭/১৫৭)। "তিনি মহান চরিত্রের অধিকারী" (৬৮/৪)। "তিনি তোমাদেরই মত মানুষ, তাঁর প্রতি ওহী নাযিল হয়।" (১৮/১১৩)। "তাঁর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও আখিরাতের আকাঙ্ক্ষা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।" (৩৩/২১)। "তিনি ছিলেন ইয়াতীম, নিঃস্ব এবং মানুষের মুক্তির পথ অন্বেষণকারী। আল্লাহ তাঁকে আশ্রয় দেন, অভাবমুক্ত করেন এবং পথের দিশা দেন।" (৯৩/৬-৮)। "তিনি এমন এক রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তোমাদের কাছে আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ আবৃত্তি করেন। যারা ঈমান আনে ও ভাল কাজ করে তাদের আঁধার থেকে আলোতে আনার জন্য।" (৬৫/১১) "যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আমি তো আপনাকে তাদের রক্ষক করে পাঠাইনি। আপনার কাজ তো কেবল প্রচার করে যাওয়া" (৪২/৪৮)। "আপনি উপদেশ দিতে থাকুন। আপনি তো একজন উপদেশদাতা মাত্র। আপনি তো তাদের উপর কর্মনিয়ন্ত্রক নন। (৮৮/২১-২২) "আপনি প্রচার করুন- যা আপনার রবের কাছ থেকে আপনার প্রতি নাযিল করা হয়েছে।" (৫/৬৭)। "আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এভাবে বলতে বলেছেন : আমি তোমাদেরই মত একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহী নাযিল হয়, তোমাদের ইলাহ তো একমাত্র আল্লাহ। অতএব তার পথই দৃঢ়ভাবে অবলম্বন কর এবং তার কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা কর।" (৪১/৬)। "হে আহলে কিতাব! তোমরা শুধু এ কারণেই আমাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ কর যে, আমরা ঈমান রাখি আল্লাহর প্রতি এবং আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে ও পূর্বে যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি" (৫/৫৯)। "আমি তো কেবল আমার রবকেই ডাকি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করি না। আমি তোমাদের ইষ্ট-অনিষ্টের মালিক নই। কেউ আমাকে আল্লাহর হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না, যদি আমি তাঁর অবাধ্য হই। তিনি ছাড়া আমার কোন আশ্রয় নেই। কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রচার ও তাঁর বাণী পৌঁছানই আমাকে বাঁচাবে"। (৭২/২০-২৩)।
আল্লাহ বলেন, "হে নবী! প্রত্যেক জাতির জন্যে যেরূপ পথ প্রদর্শক ছিলেন, আপনিও পথ প্রদর্শক হিসেবে মানুষের জন্যে সতর্ককারী" (সূরা আল রা'আদ)। "হে নবী! আমি আপনাকে বিশ্ব মানবের প্রতি সু-সংবাদদাতা এবং সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি।" (সূরা আল সাবা)। "হে নবী! আমি আপনাকে সত্যসহ সু-সংবাদদাতা এবং ভয় প্রদর্শনকারীরূপে প্রেরণ করেছি।" (সূরা আল বাকারা)। "হে নবী! আপনি বলে দিন, তোমরা আল্লাহর দিকে ধাবিত হও, আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহ প্রেরিত স্পষ্ট সতর্ককারী।" (সূরা আল যারিয়াত)। "হে নবী! আপনি উপদেশ দিতে থাকুন, কেননা নিশ্চয়ই উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসবে।" (সূরা আল-যারিয়াত)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা কুরআনে নবীকে এভাবে বলতে শিখিয়েছেন, "আপনি বলুন হে দুনিয়ার মানুষ, আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল।" (সূরা আল আনআম)। "হে নবী! আমি তো আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহবানকারীরূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে। আপনি মুমিনদের সুসংবাদ দিন। তাদের জন্য আল্লাহর কাছে আছে মহানুগ্রহ। আপনি কাফির ও মুনাফিকদের অনুসরণ করবেন না। তাদের নির্যাতন উপেক্ষা করবেন এবং আল্লাহর উপর নির্ভর করবেন।" (৩৩/৪৫-৪৮)।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন "আমি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। এমন কোন জাতি নেই যাদের কাছে সতর্ককারী প্রেরিত হয়নি। এরা যদি আপনার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, তবে এদের পূর্ববর্তীরাও তো মিথ্যা আরোপ করেছিল- তাদের কাছে এসেছিল তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শন, গ্রন্থ এবং দীপ্তিমান কিতাবসহ। তারপর আমি কাফিরদের শাস্তি দিয়েছিলাম। কি ভয়ংকর আমার শাস্তি।" (৩৫/২৪-২৬ এবং ১৩/৩০-৩১)। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্র মাধুর্যের বর্ণনা এসেছে আল-কুরআন, "তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাতের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।" (সূরা আল আহযাব: ২১)। "আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।" (সূরা আল আম্বিয়া: ১০৭)। কট্টর অবিশ্বাসীদের ব্যাপারে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা নিজেই আশ্বস্ত করেছেন এভাবে, "নিশ্চয়ই যারা অবিশ্বাসী, তাদেরকে আপনি সতর্ক করুন আর না করুন, কোন অবস্থাতেই তাঁরা ঈমান আনবে না।" (সূরা আল বাকারা: ৬)। "নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সত্য ধর্মসহ সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারীরূপে পাঠিয়েছি। আপনি জাহান্নামীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন না।” (সূরা আল বাকারা : ১১৯) বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কার্য পদ্ধতি সম্বন্ধে কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন, "আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করেছি। যিনি আমার আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে আবৃত্তি করেন, তোমাদেরকে পবিত্র করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন এবং তোমরা যা জানতে না, তা শিক্ষা দেন।” (সূরা আল বাকারা : ১৫১)। নবীর মর্যাদার ব্যাপারে আল কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এরশাদ করেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং ফিরিশতাগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ পেশ করছেন" (৩৩: ৫৬)।
📄 বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কুরআনে আলোচিত আয়াতসমূহ
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনবার্তা: সূরা আরাফ: ১৫৭; সূরা সফ: ৬।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মপরিচয়: সূরা আলে ইমরান: ১৪৪; সূরা আনআম: ৫০,৬৬; সূরা আরাফ: ১৮৭,১৮৮; সূরা ইউনুস: ১০৮; সূরা হিজর: ৮৯; সূরা বনী ইসরাঈল: ৫৪; সূরা হজ্জ: ৪৯; সূরা সাদ: ৭০; সূরা হা-মীম: ৬; সূরা আহকাফ: ৯; সূরা জীন: ২১-২২।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত প্রাপ্তি, রাসূল হওয়ার সত্যতার সাক্ষী ও দায়িত্ব কর্তব্যের পরিসীমা: সূরা দোহা: ৭; সূরা তাকবীর: ২২-২৫; সূরা রা'দ: ৩৮-৪৩; সূরা সাবা: ৪৬; সূরা ইয়াসিন: ৩-৪; সূরা শূরা: ৫২; সূরা যুখরুফ: ৪৩-৪৪; সূরা ফাতাহ: ৮, ২৯; সূরা নজম: ১, ১২, ৫৬; সূরা সফ: ৬; সূরা যুমার: ২; সূরা ক্বলাম: ২-৭।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন পথপ্রদর্শক, সতর্ককারী রাসূল, বিশ্বনবী ও শেষনবী: সূরা আলে ইমরান: ১৪৪; সূরা আ'রাফ: ১-২, ১৫৮; সূরা হুদ: ২; সূরা হাজ্জ: ৪৯; সূরা ফুরকান: ১; সূরা সাদ: ৭, ৬৫-৭০; সূরা আহকাফ: ১, ৯; সূরা কাফ: ১-২; সূরা আহযাব: ৪০, ৪৫, ৪৬; সূরা আম্বিয়া: ১০৭; সূরা নজম: ৫৬; সূরা সাবা: ২৮।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণক, কবি বা পাগল নয়, বল প্রয়োগ করে দ্বীন বুঝানো তার দায়িত্ব নয়, তিনি কারো কাছে পারিশ্রমিক চান না, তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কিছু বলেননি: সূরা ইউনুস: ২, ১৫; সূরা হিজর: ৬-১১; সূরা আম্বিয়া: ৫, ৪৮; সূরা ইয়াসিন: ৬৯; সূরা সফফাত: ৩৬; সূরা তুর: ২৯, ৩০; সূরা ক্বলাম: ২-৬; সূরা হাক্কাহ: ৪০-৪১; সূরা আন'আম: ৬৬; সূরা ফুরকান: ৫৭; সূরা সাবা: ৪৭; সূরা সাদ: ৮৬; সূরা শূরা: ২৩; সূরা নাজম: ১-৬।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্ষ বিদীর্ণ, আল্লাহর সাথে কথা বলা, মি'রাজ ও ফিরিশতা দর্শন: সূরা ইনশিরাহ: ১-৮; সূরা নাজম: ৬-১৮; সূরা তাকবীর: ২৩; সূরা বনী ইসরাঈল: ১, ৬০।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পারিবারিক জীবনধারা, স্ত্রীদের প্রতি নির্দেশ ও তাঁদের মর্যাদা: সূরা আহযাব: ৬, ২৮-৩৪, ৩৭-৫২; সূরা তাহরীম: ১-৫।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে গবেষণা করা, অনুসরণ করা ও সম্মান প্রদর্শন করা: সূরা আ'রাফ: ১৮৪; সূরা আলে ইমরান: ৩১-৩২; সূরা নিসা: ৫৯-৮০; সূরা মায়িদা: ৯২; সূরা আনফাল: ২০; সূরা আন'আম : ৫৪; সূরা আহযাব: ৬, ২১, ৩১,৩৬, ৫৩-৫৭; সূরা মুহাম্মদ: ৩৩; সূরা ফাতাহ: ৯, ১০; সূরা তাগাবুন: ১২; সূরা নূর: ৬২; সূরা সাবা: ৪৬; সূরা হুজুরাত: ১-৮; সূরা মুজাদালাহ: ১১-১৩।
অন্যান্য আয়াতসমূহ: এছাড়া মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে আল্লাহর প্রেরিত নির্দেশাবলি, মুনাফিকদের আচরণ, কাফিরদের শত্রুতা, বিভিন্ন যুদ্ধ-বিগ্রহ, বিচার-ফায়সালা, সমস্যা সমাধান ইত্যাদি বিষয়ে অসংখ্য আয়াত নাযিল হয়েছে। এভাবে পুরো কুরআন তো মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্যই নাযিল হয়েছে। আর তিনি ছিলেন বিশ্ব মানবতার মহান নেতা। তাই তাঁকে ঘিরে কুরআনের অবতারণা। আয়িশা (রা.) বলেন, পুরো কুরআনই হল, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের প্রতিফলন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরো কুরআনের সকল আদেশ নির্দেশকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। অন্যদিকে তিনিই ছিলেন কুরআনিক সকল ঘটনার মূল/কেন্দ্রীয় চরিত্র। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঘিরেই নাযিল হয়েছে আল কুরআন।