📄 ভালো কাজের প্রকার
প্রথম: শরী'আতের বিধান:
আর তা হলো, সঠিক সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, জুমু'আর সালাত কায়েম করা, নির্ধারিত ওয়াজিব ও সুন্নাত সালাতসমূহ আদায় করা। যথা- দুই ঈদ, সূর্য গ্রহণ, চন্দ্র গ্রহণের সালাত, ইস্তিসকা, তারাবীহ, জানাযা ও অন্যান্য সালাত আদায় করা, অনুরূপ ভাবে শরী'আত সম্মত সদকা (দান) করা, শরী'আত নির্ধারিত সাওম পালন করা, বায়তুল হারাম শরীফে হজ সম্পাদন করা।
অনুরূপভাবে আল্লাহর প্রতি, তার ফিরিশতাদের প্রতি, তার কিতাবের প্রতি, তার রাসূলদের প্রতি, শেষ দিবসের প্রতি, ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনা। আর ইহসান বিষয়ে ঈমান আনা। আর তা হলো, এমনভাবে আল্লাহ তা'আলার ইবাদাত করা যেন সে আল্লাহ তা'আলাকে দেখতে পাচ্ছে। যদি সে তাকে দেখতে না পায়, তাহলে তিনি অবশ্যই তাকে দেখছেন, এ দৃঢ় বিশ্বাস রাখা।
অনুরূপভাবে প্রকাশ্য ও গোপনে পালনীয় আল্লাহ ও তার রাসূলের সব নির্দেশ বাস্তবায়ন করা। যথা- আল্লাহ তা'আলার জন্যে দীনকে নির্ভেজাল করা, আল্লাহ তা'আলারই ওপরে ভরসা করা, সকলের চেয়ে আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলকে বেশি ভালোবাসা, আল্লাহ তা'আলার রহমতের আশাবাদী হওয়া, তার আযাবকে ভয় করা। আল্লাহ তা'আলার বিধানের জন্যে ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহ তা'আলার বিধান বাস্তবায়ন করা। অনুরূপভাবে সত্য কথা বলা, কৃত ওয়াদা পালন করা, যথাস্থানে আমানতসমূহ আদায় করা, বাবা-মার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা। করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, কল্যাণ ও তাকওয়ার কাজে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করা, প্রতিবেশী, ইয়াতিম, মিসকীন, মুসাফির, স্বামী-স্ত্রী ও দাস-দাসীর প্রতি ইহসান-সৎ আচরণ করা, কথা ও কাজে ইনসাফ করা, উত্তম চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখা। যথা- তোমার সঙ্গে যে আত্মীয় সম্পর্ক রাখতে চায় না তার সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা, তোমাকে যে বঞ্চিত করে তুমি তাকে দান কর, তোমাদের প্রতি যে যুলুম করে তাকে ক্ষমা করে দাও। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন,
وَجَزَاؤُا سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِثْلُهَا فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ * وَلَمَنِ انتَصَرَ بَعْدَ ظُلْمِهِ، فَأُوْلَابِكَ مَا عَلَيْهِم مِّن سَبِيلٍ إِنَّمَا السَّبِيلُ عَلَى الَّذِينَ يَظْلِمُونَ النَّاسَ وَيَبْغُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ أُوْلَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ * وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ ﴾ [الشورى: ٤٠، ٤٣]
"আর খারাপের প্রতিদান হলো অনুরূপ খারাপ। অতঃপর যে ক্ষমা করে এবং সমঝোতা ও মীমাংসা করে, তার প্রতিদান আল্লাহ তা'আলার নিকট রয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। আর কেউ অত্যাচারিত হয়ে নিজের প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা নিলে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ তো হলো তাদের বিরুদ্ধে যারা মানুষের প্রতি অত্যাচার করে ও পৃথিবীতে অন্যায় ভাবে বিদ্রোহ সৃষ্টি করে; তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যে ব্যক্তি (অত্যাচারিত হওয়ার পরও) ধৈর্য ধারণ করে ও ক্ষমা করে দেয়, তাহলে তা অবশ্যই দৃঢ় চিত্ততার কাজ”। [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ৪০-৪৩]
প্রথম: শরী'আতের বিধান:
আর তা হলো, সঠিক সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, জুমু'আর সালাত কায়েম করা, নির্ধারিত ওয়াজিব ও সুন্নাত সালাতসমূহ আদায় করা। যথা- দুই ঈদ, সূর্য গ্রহণ, চন্দ্র গ্রহণের সালাত, ইস্তিসকা, তারাবীহ, জানাযা ও অন্যান্য সালাত আদায় করা, অনুরূপ ভাবে শরী'আত সম্মত সদকা (দান) করা, শরী'আত নির্ধারিত সাওম পালন করা, বায়তুল হারাম শরীফে হজ সম্পাদন করা।
অনুরূপভাবে আল্লাহর প্রতি, তার ফিরিশতাদের প্রতি, তার কিতাবের প্রতি, তার রাসূলদের প্রতি, শেষ দিবসের প্রতি, ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনা। আর ইহসান বিষয়ে ঈমান আনা। আর তা হলো, এমনভাবে আল্লাহ তা'আলার ইবাদাত করা যেন সে আল্লাহ তা'আলাকে দেখতে পাচ্ছে। যদি সে তাকে দেখতে না পায়, তাহলে তিনি অবশ্যই তাকে দেখছেন, এ দৃঢ় বিশ্বাস রাখা।
অনুরূপভাবে প্রকাশ্য ও গোপনে পালনীয় আল্লাহ ও তার রাসূলের সব নির্দেশ বাস্তবায়ন করা। যথা- আল্লাহ তা'আলার জন্যে দীনকে নির্ভেজাল করা, আল্লাহ তা'আলারই ওপরে ভরসা করা, সকলের চেয়ে আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলকে বেশি ভালোবাসা, আল্লাহ তা'আলার রহমতের আশাবাদী হওয়া, তার আযাবকে ভয় করা। আল্লাহ তা'আলার বিধানের জন্যে ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহ তা'আলার বিধান বাস্তবায়ন করা। অনুরূপভাবে সত্য কথা বলা, কৃত ওয়াদা পালন করা, যথাস্থানে আমানতসমূহ আদায় করা, বাবা-মার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা। করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, কল্যাণ ও তাকওয়ার কাজে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করা, প্রতিবেশী, ইয়াতিম, মিসকীন, মুসাফির, স্বামী-স্ত্রী ও দাস-দাসীর প্রতি ইহসান-সৎ আচরণ করা, কথা ও কাজে ইনসাফ করা, উত্তম চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখা। যথা- তোমার সঙ্গে যে আত্মীয় সম্পর্ক রাখতে চায় না তার সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা, তোমাকে যে বঞ্চিত করে তুমি তাকে দান কর, তোমাদের প্রতি যে যুলুম করে তাকে ক্ষমা করে দাও। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন,
وَجَزَاؤُا سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِثْلُهَا فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ * وَلَمَنِ انتَصَرَ بَعْدَ ظُلْمِهِ، فَأُوْلَابِكَ مَا عَلَيْهِم مِّن سَبِيلٍ إِنَّمَا السَّبِيلُ عَلَى الَّذِينَ يَظْلِمُونَ النَّاسَ وَيَبْغُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ أُوْلَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ * وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ ﴾ [الشورى: ٤٠، ٤٣]
"আর খারাপের প্রতিদান হলো অনুরূপ খারাপ। অতঃপর যে ক্ষমা করে এবং সমঝোতা ও মীমাংসা করে, তার প্রতিদান আল্লাহ তা'আলার নিকট রয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। আর কেউ অত্যাচারিত হয়ে নিজের প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা নিলে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ তো হলো তাদের বিরুদ্ধে যারা মানুষের প্রতি অত্যাচার করে ও পৃথিবীতে অন্যায় ভাবে বিদ্রোহ সৃষ্টি করে; তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যে ব্যক্তি (অত্যাচারিত হওয়ার পরও) ধৈর্য ধারণ করে ও ক্ষমা করে দেয়, তাহলে তা অবশ্যই দৃঢ় চিত্ততার কাজ”। [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ৪০-৪৩]
📄 মন্দ কর্মের প্রকারভেদ
আর তা হলো, আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল যে সকল মুনকার তথা অন্যায় কাজের নিষেধ করেছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো আল্লাহ তা'আলার সাথে শির্ক করা। শির্ক হলো আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে অন্য কাউকে ডাকা যথা সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্রের ইবাদাত করা। অথবা পুণ্যবান কোনো ব্যক্তি, ফিরিশতাদের থেকে কাউকে বা নবীদের থেকে কোন নবীকে, জীন সম্প্রদায়ের কাউকে, উপরোক্ত ব্যক্তি ও বস্তুর মূর্তি, ভাস্কর্য ও তাদের কবরকে আল্লাহর সাথে ডাকা।
এ ছাড়াও অন্য কিছু যাদের আল্লাহ তা'আলাকে বাদ দিয়ে ডাকা হয়। অথবা তার কাছে সাহায্য চাওয়া, তার জন্যে সাজদাহ দেওয়া হয়। এ সব ও অনুরূপ বস্তুকে ডাকা শিরকের অন্তর্ভুক্ত যে শির্ককে সকল রাসূলের ভাষায় আল্লাহ তা'আলা হারাম করে দিয়েছেন।
আল্লাহ তা'আলা অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করাকে হারাম করেছেন। মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে খাওয়া হারাম করেছেন; চাই তা লুণ্ঠন, সুদের আদান প্রদান ও জুয়া খেলা বা অন্য যে কোনো মাধ্যমে হোক না কেন। যেমন, ঐ ব্যবসা ও লেনদেন যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।
অনুরূপভাবে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, ওজনে কম দেওয়া ইত্যাদি, কোনো পাপ-খারাপ কাজ ও না হক সীমালঙ্ঘন করাকেও আল্লাহ তা'আলা হারাম করেছেন।
অনুরূপভাবে আরো যা আল্লাহ তা'আলা হারাম করেছেন, না জেনে আল্লাহ তা'আলার ওপর কোনো কথা আরোপ করা। যেমন আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলের নামে এমন অকাট্য হাদীস বর্ণনা করা; যার শুদ্ধতা ও অসুদ্ধতা সম্পর্কে সে জানে না। অথবা আল্লাহ তা'আলার এমন সব গুণাবলী বর্ণনা করা যার সম্পর্কে আল্লাহ থেকে কোন কিতাব অবতীর্ণ হয় নি এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস থেকেও বিষয়টি জানা যায় নি। চাই তা আল্লাহ তা'আলার জন্যে অশোভন গুণাবলী বা আল্লাহ তা'আলাকে গুণহীন প্রমাণ করার জন্যে হোক না কেন। যেমন করে জাহমিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা, তারা বলে থাকে, আল্লাহ তা'আলা আরশের উপরও নেই, আসমানের উপরও নেই। আর আল্লাহকে আখেরাতেও দেখা যাবে না, তিনি কথা বলবেন না এবং কাউকে ভালোবাসেন না। এ ধরনের আরো অনেক কথা যা দ্বারা তারা আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলকে অস্বীকার করে। অথবা আল্লাহ তা'আলার গুণাবলী প্রমাণ করতে গিয়ে সাদৃশ্য বর্ণনার জন্যে হাদীস জাল করা। যেমন বর্ণনা করা যে, তিনি যমীনে চলাচল করেন, সৃষ্ট জীবের উঠ-বস করেন, সৃষ্টি জীবেরা তাকে প্রকাশ্য চোখ দিয়ে দেখেন, আসমানসমূহ তাকে বেষ্টন করে ও ঘিরে আছে, তিনি তার সৃষ্টি জীবের মধ্যে বিলিন হয়ে আছেন এরূপ অসংখ্য মিথ্যা রটনা, অপবাদ, মিথ্যাচার আল্লাহ তা'আলার ওপর আরোপ করা।
অনুরূপভাবে ঐসব ইবাদাত যা নতুন আবিষ্কার করা হয়েছে, আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল শরী'আতে তার অনুমোদন করেন নি। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿أَمْ لَهُمْ شُرَكَوْا شَرَعُوا لَهُم مِّنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ ﴾ [الشورى: ٢١]
“তাদের কি কোনো শরীক আছে যারা দীনের বিষয়ে বিধি-বিধান প্রণয়ন করবে যে বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা কোনো অনুমতি প্রদান করেন নি”। [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ২১]
সুতরাং আল্লাহ তা'আলা তার মু'মিন বান্দার জন্যে ইবাদাতসমূহ বিধিবদ্ধ করেছেন। সে ইবাদাত অকেজো করে দেওয়ার জন্যে শয়তান নতুন নতুন ইবাদাতসমূহ আবিষ্কার করেছে, শয়তান তাদের জন্যে সে ইবাদাতের মতই আরো কিছু ইবাদাত তৈরি করেছে। যথা- আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্যে শরী'আতে নির্ধারিত করেছেন যে, এক আল্লাহ তা'আলার ইবাদাত করবে এবং কাউকে তার সঙ্গে শরীক করবে না। তারপর শয়তান তাদের জন্যে বহু অংশীদার বিধিবদ্ধ করেছে। আর তা হলো আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অন্যের ইবাদাত করা ও তাঁর সাথে শরীক করা। আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, তাতে কুরআন পঠন ও শ্রবণ করা প্রবর্তন করেছেন। তাছাড়া তিনি সালাতের বাইরে কুরআন শ্রবণের জন্যে একত্রিত হওয়াও অনুমোদন করেছেন। সুতরাং আল্লাহ তা'আলা তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি প্রথম যে সূরা অবতীর্ণ করেছেন তাতেও পড়ার কথা বলেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ﴾ [العلق: ١]
"পড় সেই রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন”। [সূরা আল-আলাক, আয়াত: ১]
এ সূরার শুরুতে কিরাত তথা পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং শেষে সাজদাহ করার নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ وَاسْجُdْ وَاقْتَرِب ﴾ [العلق: ١٩]
"সাজদাহ কর ও তার নিকটবর্তী হও”। [সূরা আল-আলাক, আয়াত: ১৯]
সেই জন্য সালাতের মধ্যে সবচেয়ে বড় যিকির হলো কুরআন তিলাওয়াত করা। আর সবচেয়ে বড় কাজ হলো এক আল্লাহ তা'আলার জন্যে সাজদাহয় অবনত হওয়া, যার কোনো শরীক নেই। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ وَقُرْءَانَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْءَانَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا ﴾ [الاسراء: ٧٨]
"আর, ফজরের কুরআন তেলাওয়াত, নিশ্চয় ফজরের কুরআন তেলাওয়াত সাক্ষী হয়”। [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৭৮]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
﴿ وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْءَانُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ﴾ [الاعراف: ٢٠٣]
"আর, যখন কুরআন তেলাওয়াত করা হয় তখন গভীর মনোযোগ সহকারে শ্রবণ কর এবং নীরব থাক যাতে তোমাদের ওপর অনুগ্রহ অবতীর্ণ করা হয়"। [সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ২০৪]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ যখন একত্রিত হতেন তখন তাদের মধ্যে একজনকে কুরআন তিলাওয়াত করার নির্দেশ দিতেন, বাকীরা শুনতেন। উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আবু মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বলতেন, হে আবু মুসা! আমাদের ‘রব’-কে আমাদের স্মরণ করিয়ে দাও। তখন তিনি কুরআন পাঠ করতেন। আর তিনি তা গভীর মনোযোগ সহকারে শুনতেন। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু মূসার পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তার কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পেলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গভীর মনোযোগ সহকারে তার কুরআন তিলাওয়াত শুনলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
«يا أبا موسى مررت بك البارحة وأنت تقرأ فجعلت أستمع لقراءتك»
“হে আবু মূসা, গত রাতে তোমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম আর তুমি কুরআন তিলাওয়াত করছিলে। আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে তোমার কুরআন তিলাওয়াত উপভোগ করেছি”।
আবু মূসা বলেন, আমি যদি জানতাম যে, আপনি আমার কুরআন তিলাওয়াত উপভোগ করছেন; তাহলে আপনাকে আমি আরো আনন্দিত করতাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«لله أشد أذنا إلى الرجل يحسن صوته بالقرآن من صاحب القينة إلى قينته»
“গায়ক তার গানের প্রতি যেভাবে মনোযোগী হয় আল্লাহ তা'আলা একজন কুরআন তিলাওয়াতকারীর প্রতি, যে কুরআন সুন্দর আওয়ায ও সুললিত কণ্ঠে তেলাওয়াত করে, তার থেকে অধিক মনোযোগী হয়”। 73
আর তা হলো, আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল যে সকল মুনকার তথা অন্যায় কাজের নিষেধ করেছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো আল্লাহ তা'আলার সাথে শির্ক করা। শির্ক হলো আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে অন্য কাউকে ডাকা যথা সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্রের ইবাদাত করা। অথবা পুণ্যবান কোনো ব্যক্তি, ফিরিশতাদের থেকে কাউকে বা নবীদের থেকে কোন নবীকে, জীন সম্প্রদায়ের কাউকে, উপরোক্ত ব্যক্তি ও বস্তুর মূর্তি, ভাস্কর্য ও তাদের কবরকে আল্লাহর সাথে ডাকা।
এ ছাড়াও অন্য কিছু যাদের আল্লাহ তা'আলাকে বাদ দিয়ে ডাকা হয়। অথবা তার কাছে সাহায্য চাওয়া, তার জন্যে সাজদাহ দেওয়া হয়। এ সব ও অনুরূপ বস্তুকে ডাকা শিরকের অন্তর্ভুক্ত যে শির্ককে সকল রাসূলের ভাষায় আল্লাহ তা'আলা হারাম করে দিয়েছেন।
আল্লাহ তা'আলা অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করাকে হারাম করেছেন। মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে খাওয়া হারাম করেছেন; চাই তা লুণ্ঠন, সুদের আদান প্রদান ও জুয়া খেলা বা অন্য যে কোনো মাধ্যমে হোক না কেন। যেমন, ঐ ব্যবসা ও লেনদেন যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।
অনুরূপভাবে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, ওজনে কম দেওয়া ইত্যাদি, কোনো পাপ-খারাপ কাজ ও না হক সীমালঙ্ঘন করাকেও আল্লাহ তা'আলা হারাম করেছেন।
অনুরূপভাবে আরো যা আল্লাহ তা'আলা হারাম করেছেন, না জেনে আল্লাহ তা'আলার ওপর কোনো কথা আরোপ করা। যেমন আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলের নামে এমন অকাট্য হাদীস বর্ণনা করা; যার শুদ্ধতা ও অসুদ্ধতা সম্পর্কে সে জানে না। অথবা আল্লাহ তা'আলার এমন সব গুণাবলী বর্ণনা করা যার সম্পর্কে আল্লাহ থেকে কোন কিতাব অবতীর্ণ হয় নি এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস থেকেও বিষয়টি জানা যায় নি। চাই তা আল্লাহ তা'আলার জন্যে অশোভন গুণাবলী বা আল্লাহ তা'আলাকে গুণহীন প্রমাণ করার জন্যে হোক না কেন। যেমন করে জাহমিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা, তারা বলে থাকে, আল্লাহ তা'আলা আরশের উপরও নেই, আসমানের উপরও নেই। আর আল্লাহকে আখেরাতেও দেখা যাবে না, তিনি কথা বলবেন না এবং কাউকে ভালোবাসেন না। এ ধরনের আরো অনেক কথা যা দ্বারা তারা আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলকে অস্বীকার করে। অথবা আল্লাহ তা'আলার গুণাবলী প্রমাণ করতে গিয়ে সাদৃশ্য বর্ণনার জন্যে হাদীস জাল করা। যেমন বর্ণনা করা যে, তিনি যমীনে চলাচল করেন, সৃষ্ট জীবের উঠ-বস করেন, সৃষ্টি জীবেরা তাকে প্রকাশ্য চোখ দিয়ে দেখেন, আসমানসমূহ তাকে বেষ্টন করে ও ঘিরে আছে, তিনি তার সৃষ্টি জীবের মধ্যে বিলিন হয়ে আছেন এরূপ অসংখ্য মিথ্যা রটনা, অপবাদ, মিথ্যাচার আল্লাহ তা'আলার ওপর আরোপ করা।
অনুরূপভাবে ঐসব ইবাদাত যা নতুন আবিষ্কার করা হয়েছে, আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল শরী'আতে তার অনুমোদন করেন নি। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿أَمْ لَهُمْ شُرَكَوْا شَرَعُوا لَهُم مِّنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ ﴾ [الشورى: ٢١]
“তাদের কি কোনো শরীক আছে যারা দীনের বিষয়ে বিধি-বিধান প্রণয়ন করবে যে বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা কোনো অনুমতি প্রদান করেন নি”। [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ২১]
সুতরাং আল্লাহ তা'আলা তার মু'মিন বান্দার জন্যে ইবাদাতসমূহ বিধিবদ্ধ করেছেন। সে ইবাদাত অকেজো করে দেওয়ার জন্যে শয়তান নতুন নতুন ইবাদাতসমূহ আবিষ্কার করেছে, শয়তান তাদের জন্যে সে ইবাদাতের মতই আরো কিছু ইবাদাত তৈরি করেছে। যথা- আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্যে শরী'আতে নির্ধারিত করেছেন যে, এক আল্লাহ তা'আলার ইবাদাত করবে এবং কাউকে তার সঙ্গে শরীক করবে না। তারপর শয়তান তাদের জন্যে বহু অংশীদার বিধিবদ্ধ করেছে। আর তা হলো আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অন্যের ইবাদাত করা ও তাঁর সাথে শরীক করা। আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, তাতে কুরআন পঠন ও শ্রবণ করা প্রবর্তন করেছেন। তাছাড়া তিনি সালাতের বাইরে কুরআন শ্রবণের জন্যে একত্রিত হওয়াও অনুমোদন করেছেন। সুতরাং আল্লাহ তা'আলা তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি প্রথম যে সূরা অবতীর্ণ করেছেন তাতেও পড়ার কথা বলেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ﴾ [العلق: ١]
"পড় সেই রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন”। [সূরা আল-আলাক, আয়াত: ১]
এ সূরার শুরুতে কিরাত তথা পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং শেষে সাজদাহ করার নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ وَاسْجُdْ وَاقْتَرِب ﴾ [العلق: ١٩]
"সাজদাহ কর ও তার নিকটবর্তী হও”। [সূরা আল-আলাক, আয়াত: ১৯]
সেই জন্য সালাতের মধ্যে সবচেয়ে বড় যিকির হলো কুরআন তিলাওয়াত করা। আর সবচেয়ে বড় কাজ হলো এক আল্লাহ তা'আলার জন্যে সাজদাহয় অবনত হওয়া, যার কোনো শরীক নেই। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ وَقُرْءَانَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْءَانَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا ﴾ [الاسراء: ٧٨]
"আর, ফজরের কুরআন তেলাওয়াত, নিশ্চয় ফজরের কুরআন তেলাওয়াত সাক্ষী হয়”। [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৭৮]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
﴿ وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْءَانُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ﴾ [الاعراف: ٢٠٣]
"আর, যখন কুরআন তেলাওয়াত করা হয় তখন গভীর মনোযোগ সহকারে শ্রবণ কর এবং নীরব থাক যাতে তোমাদের ওপর অনুগ্রহ অবতীর্ণ করা হয়"। [সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ২০৪]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ যখন একত্রিত হতেন তখন তাদের মধ্যে একজনকে কুরআন তিলাওয়াত করার নির্দেশ দিতেন, বাকীরা শুনতেন। উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আবু মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বলতেন, হে আবু মুসা! আমাদের ‘রব’-কে আমাদের স্মরণ করিয়ে দাও। তখন তিনি কুরআন পাঠ করতেন। আর তিনি তা গভীর মনোযোগ সহকারে শুনতেন। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু মূসার পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তার কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পেলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গভীর মনোযোগ সহকারে তার কুরআন তিলাওয়াত শুনলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
«يا أبا موسى مررت بك البارحة وأنت تقرأ فجعلت أستمع لقراءتك»
“হে আবু মূসা, গত রাতে তোমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম আর তুমি কুরআন তিলাওয়াত করছিলে। আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে তোমার কুরআন তিলাওয়াত উপভোগ করেছি”।
আবু মূসা বলেন, আমি যদি জানতাম যে, আপনি আমার কুরআন তিলাওয়াত উপভোগ করছেন; তাহলে আপনাকে আমি আরো আনন্দিত করতাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«لله أشد أذنا إلى الرجل يحسن صوته بالقرآن من صاحب القينة إلى قينته»
“গায়ক তার গানের প্রতি যেভাবে মনোযোগী হয় আল্লাহ তা'আলা একজন কুরআন তিলাওয়াতকারীর প্রতি, যে কুরআন সুন্দর আওয়ায ও সুললিত কণ্ঠে তেলাওয়াত করে, তার থেকে অধিক মনোযোগী হয়”। 73
📄 মুমিনদের শ্রবণ ও মুশরিকদের শ্রবণের মধ্যে পার্থক্য
এ হলো মুমিনদের শ্রবণ ও পূর্বসূরীদের শ্রবণ ও বড় বড় মাশাইখদের শ্রবণ। যেমন, মা'রূফ আল-কারখী, ফুযাইল ইবন 'আয়ায, আবু সুলাইমান আদ- দারানী প্রমুখ। আর অনুরূপ শ্রবণই ছিল পরবর্তী বড় বড় মাশাইখদের যেমন, শাইখ আব্দুল কাদের জিলানী, শাইখ 'আদী ইবন মুসাফির, শাইখ আবী মাদয়ান ও আরো অন্যান্য মাশায়েখগণ।
পক্ষান্তরে মুশরিকদের শ্রবণ বিষয়ে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা স্বীয় কিতাবে বলেন,
﴿وَمَا كَانَ صَلَاتُهُمْ عِندَ الْبَيْتِ إِلَّا مُكَاءً وَتَصْدِيَةٌ ﴾ [الانفال: ৩৫]
"বায়তুল্লাহর নিকট তাদের সালাত ছিল শিষ ধ্বনি ও হাত তালি"। [সূরা আল- আনফাল, আয়াত: ৩৫]
সালাফগণ বলেন, আল মুকায়া অর্থ শিষ। আর তাসদিয়্যাহ অর্থ করতালি। মুশরিকগণ মসজিদুল হারামে সমবেত হয়ে হাত তালি ও শিষ ধ্বনি, হুইসিল দিত। আর এটাকেই তারা ইবাদাত ও সালাত হিসাবে গণ্য করত। মহান আল্লাহ তা'আলা এহেন কাজের তীব্র তিরস্কার করেছেন। এ ধরনের বাতিল কাজকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
সুতরাং যারা এ ধরনের শ্রবণকে ইবাদাত মনে করে এবং এ দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় মনে করে তারা অবশ্যই তাদের কতক কর্মে অন্ধকারে রয়েছে। এ ধরনের শ্রবণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাহর যে তিনটি যুগের প্রসংশা করেছেন, সে যুগের কোনো লোক করেন নি এবং বড় বড় মাশাইখদেরও কেউ করেন নি।
পক্ষান্তরে, চিত্তবিনোদনের উদ্দেশ্যে গান শ্রবণ করা, কেবলমাত্র স্ত্রী ও শিশুদের বৈশিষ্ট। যেমন এ মর্মে আসার (সাহাবীগণের কথা, কাজ ও মৌন সমর্থনকে আসার বলে) বর্ণিত হয়েছে। কারণ, ইসলাম শাশ্বত পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা, এতে কোনোরূপ সংকীর্ণতা নেই।
টিকাঃ
73 সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৩৪০
এ হলো মুমিনদের শ্রবণ ও পূর্বসূরীদের শ্রবণ ও বড় বড় মাশাইখদের শ্রবণ। যেমন, মা'রূফ আল-কারখী, ফুযাইল ইবন 'আয়ায, আবু সুলাইমান আদ- দারানী প্রমুখ। আর অনুরূপ শ্রবণই ছিল পরবর্তী বড় বড় মাশাইখদের যেমন, শাইখ আব্দুল কাদের জিলানী, শাইখ 'আদী ইবন মুসাফির, শাইখ আবী মাদয়ান ও আরো অন্যান্য মাশায়েখগণ।
পক্ষান্তরে মুশরিকদের শ্রবণ বিষয়ে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা স্বীয় কিতাবে বলেন,
﴿وَمَا كَانَ صَلَاتُهُمْ عِندَ الْبَيْتِ إِلَّا مُكَاءً وَتَصْدِيَةٌ ﴾ [الانفال: ৩৫]
"বায়তুল্লাহর নিকট তাদের সালাত ছিল শিষ ধ্বনি ও হাত তালি"। [সূরা আল- আনফাল, আয়াত: ৩৫]
সালাফগণ বলেন, আল মুকায়া অর্থ শিষ। আর তাসদিয়্যাহ অর্থ করতালি। মুশরিকগণ মসজিদুল হারামে সমবেত হয়ে হাত তালি ও শিষ ধ্বনি, হুইসিল দিত। আর এটাকেই তারা ইবাদাত ও সালাত হিসাবে গণ্য করত। মহান আল্লাহ তা'আলা এহেন কাজের তীব্র তিরস্কার করেছেন। এ ধরনের বাতিল কাজকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
সুতরাং যারা এ ধরনের শ্রবণকে ইবাদাত মনে করে এবং এ দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় মনে করে তারা অবশ্যই তাদের কতক কর্মে অন্ধকারে রয়েছে। এ ধরনের শ্রবণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাহর যে তিনটি যুগের প্রসংশা করেছেন, সে যুগের কোনো লোক করেন নি এবং বড় বড় মাশাইখদেরও কেউ করেন নি।
পক্ষান্তরে, চিত্তবিনোদনের উদ্দেশ্যে গান শ্রবণ করা, কেবলমাত্র স্ত্রী ও শিশুদের বৈশিষ্ট। যেমন এ মর্মে আসার (সাহাবীগণের কথা, কাজ ও মৌন সমর্থনকে আসার বলে) বর্ণিত হয়েছে। কারণ, ইসলাম শাশ্বত পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা, এতে কোনোরূপ সংকীর্ণতা নেই।
টিকাঃ
73 সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৩৪০
📄 সালাত দ্বীনের খুঁটি
আর দীনের অন্যতম খুঁটি যা ছাড়া দীন প্রতিষ্ঠা হয় না তা হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত। এর প্রতি অন্যান্য বিধানের তুলনায় অধিক যত্নবান হওয়া মুসলিমের ওপর ওয়াজিব। উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু 'আনহু- তার কর্মচারীদের প্রতি এ মর্মে চিঠি লিখতেন যে, আমার নিকট আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো সালাত আদায় করা। সুতরাং যে ব্যক্তি তার হিফাযত করল ও যথারীতি পালন করল সে তার দীনকে সংরক্ষণ করল ও দীন কায়েম করল। আর যে এটাকে নষ্ট করল তার পক্ষে অন্যসব কাজ নষ্ট করা অধিকতর সহজ। মহান আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম ওয়াজিবকৃত ইবাদাত হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। আল্লাহ তা'আলা সালাত ওয়াজিব করার দায়িত্ব মি'রাজের রজনীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে পালন করেন।
পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যাওয়ার পূর্ব মূহুর্তে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় উম্মতকে সর্বশেষ অসিয়ত সালাতের বিষয়ে করেছেন। তিনি বার বার বলেছেন।
(الصلاة الصلاة وما ملكت أيمانكم)
"সালাতের প্রতি যত্নবান হও! সালাতের ব্যাপারে সতর্ক হও এবং তোমাদের কৃতদাসীর প্রতি যত্নবান হও”। 74
বান্দার আমলসমূহের মধ্যে সর্ব প্রথম সালাতের হিসাব নেওয়া হবে। সালাতই হলো, সর্বশেষ ইবাদাত যাকে দীন হারিয়ে ফেলবে। যখন সালাত চলে যাবে, তখন পূরো দীনই চলে যাবে। এটি দীনের মৌলিক খুঁটি। যখনই খুঁটি চলে যাবে তখন দীন ঢলে পড়বে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«رأس الأمر الإسلام، وعموده الصلاة، وذروة سنامه الجهاد في سبيل الله»
"সকল কর্মের মূল হলো ইসলাম। তার খুঁটি হলো সালাত। আর এর সর্বোচ্চ চুড়া হলো আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় জিহাদ করা"। 75
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় গ্রন্থে বলেন,
فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا ) [مريم: ٥٩]
"তাদের পর আসলো অপদার্থ উত্তরসূরীগণ, যারা সালাত নষ্ট করলো ও প্রবৃত্তির অনুসরণ করলো। সুতরাং তারা অচিরেই কুকর্মের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে”। [সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৫৯]
আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, নষ্ট করা অর্থ হলো নির্দিষ্ট সময় থেকে বিলম্ব করে পড়া। আর যদি তারা সালাত পরিত্যাগ করে তাহলে অবশ্যই কাফির হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَوَةِ الْوُsْطَى ﴾ [البقرة: ٢٣٨]
"তোমরা সালাতের হিফাযত কর এবং হিফাযত কর মধ্যবর্তী সালাতের"। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৩৮]
সালাতের যত্ন নেওয়া হলো সঠিক সময়ে তা সম্পাদন করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ ﴾ [الماعون: ٤، ٥]
“ঐ সকল সালাত আদায়কারীদের জন্য ধ্বংস। যারা তাদের সালাত বিষয়ে উদাসীন”। [সূরা আল-মাউন, আয়াত: ৪-৫]
এরা হলো ঐসব লোক যারা সালাত বিলম্বে আদায় করে অর্থাৎ যখন সালাতের ওয়াক্ত চলে যায় তখন পড়ে।
মুসলিমগণ একমত যে, দিনের সালাতকে দেরি করে রাতে পড়া জায়েয নেই। অনুরূপভাবে রাতের সালাত বিলম্ব করে দিনে আদায় করা বৈধ নয়। এটি মুসাফির, অসুস্থ ও মুকিম কারো জন্যেই বৈধ নয়। তবে কোনো মুসলিমের বিশেষ প্রয়োজনে দিনের সালাত যোহর ও আসর একত্রিত করে আদায় করা জায়েয আছে। অনুরূপভাবে রাতের সালাত মাগরিব ও এশা এক ওয়াক্তে একত্র করে পড়া জায়েয আছে। এটি মুসাফির ও অসুস্থ ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য। তেমনি বর্ষা ও অনুরূপ অসুবিধাজনক অবস্থায়ও দুই ওয়াক্ত সালাত একত্রিত করে আদায় করা বৈধ।
আল্লাহ তা'আলা মুসলিমদের ওপর ওয়াজিব করে দিয়েছেন যে, তারা তাদের সাধ্যমত (সময়ে) সালাত আদায় করবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿ فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ ﴾ [التغابن : ١٦]
"তোমাদের সাধ্যমত আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর"। [সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১৬]
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
دَعُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ، إِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِسُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ، فَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَاجْتَنِبُوهُ، وَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ
“আমি তোমাদের যার ওপর রেখে যাচ্ছি তার ওপর আমাকে তোমরা ছেড়ে দাও। তোমাদের পূর্বের যারা ধ্বংস হয়েছে, তার কারণ, তারা তাদের নবীদের বেশি বেশি প্রশ্ন করতে এবং মতবিরোধ করত। আমি যখন তোমাদের কোন বিষয়ে নিষেধ করি, তোমরা তা থেকে বিরত থাক। আর আমি যখন কোনো বিষয়ে তোমাদেরকে নির্দেশ দিই তা সাধ্যমত তোমরা বাস্তবায়ন কর”। 76
পূর্ণ পবিত্রতা, পূর্ণ তেলাওয়াত, পূর্ণ রুকু ও সাজদাহসহ সালাত আদায় করা মুসল্লির ওপর অপরিহার্য। যদি সে ওযু ভঙ্গকারী অথবা অপবিত্র হয় আর যদি পানি না পায় অথবা পানি পাওয়া সত্ত্বেও সে অসুস্থ, ঠাণ্ডা ও অনুরূপ কোনো কারণে পানি ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা বোধ করে, এমতাবস্থায় সে পবিত্র মাটি দ্বারা মুখ মণ্ডল ও হাত মাসাহ করবে। তার পর সে সালাত আদায় করবে।
উপরোক্ত কারণে আলিমদের ঐকমত্য অনুযায়ী সালাত বিলম্ব করা বৈধ নয়। অনুরূপভাবে কারা অন্তরীণ ব্যক্তি, আটক ও দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থ, পক্ষাঘাতগ্রস্তসহ নানা সমস্যা জর্জরিত ব্যক্তি, তাদের অবস্থার আলোকে সালাত আদায় করবে। আর যদি কেউ শত্রু এলাকায় অবস্থান করে তাহলে সে সালাতুল খাওফ বা ভয়ের সালাত আদায় করবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَن يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنَّ الْكَافِرِينَ كَانُوا لَكُمْ عَدُوًّا مُّبِينًا وَإِذَا كُنتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ فَلْتَقُمْ طَائِفَةٌ مِنْهُم مَّعَكَ وَلْيَأْخُذُوا أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُوا فَلْيَكُونُوا مِن وَرَابِكُمْ وَلْتَأْتِ طَائِفَةٌ أُخْرَى لَمْ يُصَلُّوا فَلْيُصَلُّوا مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ وَدَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ تَغْفُلُونَ عَنْ أَسْلِحَتِكُمْ وَأَمْتِعَتِكُمْ فَيَمِيلُونَ عَلَيْكُم مَّيْلَةً وَاحِدَةً وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِن كَانَ بِكُمْ أَذًى مِّن مَّطَرٍ أَوْ كُنتُم مَّرْضَى أَن تَضَعُوا أَسْلِحَتَكُمْ وَخُذُوا حِذْرَكُمْ إِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُّهِينًا فَإِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلَاةَ فَاذْكُرُوا اللَّهَ قِيَمًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِكُمْ فَإِذَا أَطْمَأْنَنتُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَوٰةَ إِنَّ الصَّلَوٰةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا ﴾ [النساء : ١٠١، ١٠٣]
"আর যখন তোমরা ভূপৃষ্ঠে পর্যটন কর, তখন সালাত সংক্ষেপ [কসর] করলে তোমাদের কোনো দোষ নেই, যদি তোমরা আশংকা কর যে, কাফিরগণ তোমাদেরকে বিপদগ্রস্ত করবে। নিশ্চয় অবিশ্বাসীরা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। আর যখন তুমি তাদের (মুমিনদের) মধ্যে থাকবে, আর তাদের জন্যে (সালাতে ইমামত করবে) সালাত প্রতিষ্ঠিত করবে, তখন তাদের একদল যেন তোমার সাথে দণ্ডায়মান হয় এবং স্ব স্ব অস্ত্র গ্রহণ করে, অতঃপর যখন সাজদাহ সম্পন্ন করবে তখন যেন তারা তোমার পশ্চাদ্বর্তী হয় এবং অন্য দল যারা সালাত পড়ে নি তারা যেন অগ্রসর হয়ে তোমার সাথে সালাত পড়ে এবং স্ব স্ব সতর্কতা ও অস্ত্র গ্রহণ করে। অবিশ্বাসীরা ইচ্ছে করে যে, তোমরা স্বীয় অস্ত্র-শস্ত্র ও দ্রব্য সম্ভার সম্বন্ধে অসতর্ক হলেই তারা একযোগে তোমাদের ওপর নিপতিত হবে; এবং তাতে তোমাদের অপরাধ নেই-যদি তোমরা বৃষ্টিপাতে বিব্রত হয়ে অথবা পীড়িত অবস্থায় স্ব-স্ব অস্ত্র পরিত্যাগ কর এবং স্বীয় সতর্কতা অবলম্বন কর এবং নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা অবিশ্বাসীদের জন্যে অবমাননাকর শাস্তি প্রস্তুত করেছেন। অনন্তর যখন তোমরা সালাত সম্পন্ন কর তখন দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহ তা'আলাকে স্মরণ কর, অতঃপর যখন তোমরা নিরাপদ হও তখন সালাত প্রতিষ্ঠিত কর। নিশ্চয় মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে সালাত আদায় করা অবশ্য কর্তব্য"। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১০১-১০৩]
মুসলিম শাসকদের প্রতি সকল পুরুষ, মহিলা, শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষকে সালাত আদায়ের নির্দেশ জারী করা ওয়াজিব। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«مر وهم بالصلاة لسبع، واضربوهم على تركها لعشر، وفرقوا بينهم في المضاجع».
"তোমরা তাদেরকে সাত বছর বয়সে সালাতের আদেশ দাও। দশ বছর বয়সে সে সালাত পরিত্যাগ করলে তাকে বেত্রাঘাত কর, আর তাদের শয্যা পৃথক করে দাও"।
সালাতের পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তি যদি পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের কোনো একটি হতে বিরত থাকে অথবা কোনো একটি ফরয ইবাদাত পরিত্যাগ করে, তাহলে মুসলিম উম্মাহ এ মর্মে একমত যে, তার ওপর ইসলামী রাষ্ট্রের আদালত কর্তৃক ইসলামে ফিরে আসার সমন জারী হবে। যদি সে তওবা করতঃ স্ব- দীনে প্রত্যাবর্তন করে তাহলে ভালো। অন্যথায় তাকে হত্যা করতে হবে।
উক্ত উলামাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, সালাত পরিত্যাগকারী দীন-চ্যুত কাফির। তার ওপর জানাযার সালাত আদায় করা যাবে না এবং মুসলিমদের কবরস্থানে তাকে দাফন করাও যাবে না। কেউ বলেন, ইচ্ছাকৃত সালাত ত্যাগকারী ডাকাত, হত্যাকারী ও বিবাহিত জিনাকারির ন্যায় হত্যা যোগ্য অপরাধী হবে।
সালাতের বিষয়টি হলো, মহা-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তার মর্যাদাও সর্বাধিক। তাই সালাত পরি-ত্যাগকারীর শাস্তিও উপরোক্ত শাস্তির চেয়েও ভয়াবহ। কেননা, সালাত হলো দীনের স্তম্ভ ও খুঁটি। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় কিতাবে সব ইবাদতের ওপর সালাতের গুরুত্ব ও মহত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কারণ, আল্লাহ তা'আলা কখনো তা এককভাবে বর্ণনা করেছেন। কখনো যাকাত, সবর, কুরবানী প্রভৃতির সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। যথা, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَءَاتُوا الزَّكَوةَ ﴾ [البقرة: ٤٣]
“আর তোমরা সালাত কায়েম কর ও যাকাত দাও”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৪৩]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةُ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ ﴾ [البقرة: ٤٥] “তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। এটি বড়ই কঠিন, তবে বিনয়ী ব্যক্তিদের কথা আলাদা” ⁷⁸
আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ ﴾ [الكوثر: ٢]
“সুতরাং তোমার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর এবং কুরবানি কর”। [সূরা আ-কাউসার, আয়াত: ২]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ ﴾ [الانعام: ١٦২، ١৬৩]
“বল, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও মরণ বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য। তার কোনো শরীক নেই। আমাকে এরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আর আমিই সর্বপ্রথম মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী)”। [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১৬২-১৬৩]
আর কখনো ভালো আমল দ্বারা শুরু করেছেন এবং সালাত দ্বারা সমাপনী করেছেন। যেমন, সূরা মা'আরিজ-এ বর্ণিত হয়েছে,
سَأَلَ سَابِلٌ بِعَذَابٍ وَاقِعِ لِلْكَافِرِينَ لَيْسَ لَهُ دَافِعٌ مِنَ اللَّهِ ذِي الْمَعَارِجِ تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ فَأَصْبِرْ صَبْرًا جَمِيلًا إِنَّهُمْ يَرَوْنَهُ بَعِيدًا وَنَرَلَهُ قَرِيبًا يَوْمَ تَكُونُ السَّمَاءُ كَالْمُهْلِ وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ وَلَا يَسْلُ حَمِيمٌ حَمِيمًا يُبَصَّرُونَهُمْ يَوَدُّ الْمُجْرِمُ لَوْ يَفْتَدِي مِنْ عَذَابِ يَوْمِينِ بِبَنِيهِ وَصَاحِبَتِهِ، وَأَخِيهِ وَفَصِيلَتِهِ الَّتِي تُوِيهِ وَمَن فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ يُنجِيهِ كَلَّا إِنَّهَا لَظَى نَزَاعَةَ لِلشَّوَى تَدْعُوا مَنْ أَدْبَرَ وَتَوَلَّى وَجَمَعَ فَأَوْعَى إِنَّ الْإِنسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعًا وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعًا إِلَّا الْمُصَلِّينَ الَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ دَائِمُونَ وَالَّذِينَ فِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ مَّعْلُومٌ ﴾ [المعارج: ١، ٢٤]
"এক ব্যক্তি জানতে চাইল সে আযাব সম্পর্কে যা অবশ্যই সংঘটিত হবে।
কাফিরদের জন্য তা প্রতিরোধ করার কেউ নেই। সে শাস্তি আসবে আল্লাহ তা'আলার নিকট হতে যিনি (উচ্চ মর্যাদার অধিকারী) ঊর্ধ্ব গমনের পথগুলোর মালিক। ফিরিশতা এবং রূহ (জিবরীল) আল্লাহ তা'আলার দিকে আরোহণ করবে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর। সুতরাং (হে নবী) ধৈর্য ধারণ করুন সুন্দর ও উত্তমভাবে। তারা সে দিনটিকে অনেক দূরে মনে করছে। কিন্তু আমি তা নিকটে দেখতে পাচ্ছি। সে দিন আকাশ হবে গলিত রূপার মতো, আর পাহাড়গুলো হবে রঙ্গিন পশমের মতো, সে দিন কোনো বন্ধু কোনো বন্ধুর খবর নিবে না, যদিও তাদেরকে মুখোমুখি দৃষ্টির সম্মুখে রাখা হবে, সে দিন অপরাধী ব্যক্তি আযাব থেকে বাঁচার জন্য বিনিময়ে তার সন্তানকে দিতে চাইবে, তার স্ত্রী ও ভাইকে, আর তার আত্মীয় স্বজনদের যারা তাকে আশ্রয় দিত। এমনকি পৃথিবীর সকলকে, যাতে তা (উক্ত আযাব) থেকে তাকে রক্ষা করতে পারে। না, কখনো নয়, ওটা জ্বলন্ত অগ্নিশিখা, যা চামড়া তুলে দিবে, জাহান্নাম সেই ব্যক্তিকে ডাকবে যে পেছনে ফিরে গিয়েছিল (আল্লাহ তা'আলার হুকুম থেকে) এবং সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। সে সম্পদ জমা করত, অতঃপর তা আগলে রাখত, মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে খুবই অস্থির মনা করে, বিপদ তাকে স্পর্শ করলে সে উৎকণ্ঠিত হয়, কল্যাণ তাকে স্পর্শ করলে সে হয়ে পড়ে অতি কৃপণ, তবে সালাত আদায়কারীরা এমন নয়। যারা তাদের সালাতে স্থির সংকল্প"। [সূরা আল-মা'আরিজ, আয়াত: ১-২৩]
সূরা মুমিনুনের শুরুতে বর্ণিত হয়েছে- আল্লাহ তা'আলা বলেন,
قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَعِلُونَ وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ * إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ * فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُوْلَبِكَ هُمُ الْعَادُونَ * وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ * وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ أُوْلَابِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴾ [المؤمنون : ١-١١]
"অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মুমিনগণ। যারা বিনয়-নম্র নিজেদের সালাতে। যারা অসার কার্য-কলাপ থেকে বিরত থাকে। যারা যাকাত দানে সক্রিয়। যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে নিজেদের স্ত্রী অথবা অধিকারভুক্ত দাসীগণ ব্যতীত, এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। সুতরাং কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা হবে সীমা লঙ্ঘনকারী। আর যারা আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। আর যারা নিজেদের সালাতে যত্নবান থাকে। তারাই হবে উত্তরাধিকারী। তারা ফিরদাউসের উত্তরাধিকার লাভ করবে, যাতে তারা চিরস্থায়ী হবে"। [সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত: ১-১১]
পরিশেষে মহান আল্লাহ তা'আলার নিকট আকুল আবেদন, তিনি যেন এর বিনিময়ে আমাকে ও আপনাদেরকে ঐ সকল ব্যক্তিদের ওয়ারিশ করেন যারা চিরস্থায়ী ভাবে জান্নাতুল ফিরদউস লাভে ধন্য হয়েছেন। আর তিনি যেন দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দ্বারা আমার আপনাদের ও সকল মুমিন ভাইদের আমলনামা সমৃদ্ধ করেন।
«وَالسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَحْدَهُ. وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا»
"আপনাদের প্রতি আল্লাহ তা'আলার রহমত ও বরকতের ধারা বর্ষিত হোক। সকল প্রশংসা এক আল্লাহ তা'আলার জন্যে। আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বংশধর ও সহচরদের প্রতি শান্তি ও অফুরন্ত রহমত অবতীর্ণ হোক"। আমীন।
টিকাঃ
74 সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৫৯
75 সুনান তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬৫
76 সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭২৮৮
“সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ৫২৬; সুনান তিরমিযী: ৪৪৫/৩
⁷⁸ সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৪৫, ৮৩, ১৬০; আরো দেখুন- সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৭৭; সূরা আন-নূর, আয়াত: ৫৬; সূরা আল-মুযযাম্মিল, আয়াত: ২০
আর দীনের অন্যতম খুঁটি যা ছাড়া দীন প্রতিষ্ঠা হয় না তা হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত। এর প্রতি অন্যান্য বিধানের তুলনায় অধিক যত্নবান হওয়া মুসলিমের ওপর ওয়াজিব। উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু 'আনহু- তার কর্মচারীদের প্রতি এ মর্মে চিঠি লিখতেন যে, আমার নিকট আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো সালাত আদায় করা। সুতরাং যে ব্যক্তি তার হিফাযত করল ও যথারীতি পালন করল সে তার দীনকে সংরক্ষণ করল ও দীন কায়েম করল। আর যে এটাকে নষ্ট করল তার পক্ষে অন্যসব কাজ নষ্ট করা অধিকতর সহজ। মহান আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম ওয়াজিবকৃত ইবাদাত হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। আল্লাহ তা'আলা সালাত ওয়াজিব করার দায়িত্ব মি'রাজের রজনীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে পালন করেন।
পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যাওয়ার পূর্ব মূহুর্তে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় উম্মতকে সর্বশেষ অসিয়ত সালাতের বিষয়ে করেছেন। তিনি বার বার বলেছেন।
(الصلاة الصلاة وما ملكت أيمانكم)
"সালাতের প্রতি যত্নবান হও! সালাতের ব্যাপারে সতর্ক হও এবং তোমাদের কৃতদাসীর প্রতি যত্নবান হও”। 74
বান্দার আমলসমূহের মধ্যে সর্ব প্রথম সালাতের হিসাব নেওয়া হবে। সালাতই হলো, সর্বশেষ ইবাদাত যাকে দীন হারিয়ে ফেলবে। যখন সালাত চলে যাবে, তখন পূরো দীনই চলে যাবে। এটি দীনের মৌলিক খুঁটি। যখনই খুঁটি চলে যাবে তখন দীন ঢলে পড়বে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«رأس الأمر الإسلام، وعموده الصلاة، وذروة سنامه الجهاد في سبيل الله»
"সকল কর্মের মূল হলো ইসলাম। তার খুঁটি হলো সালাত। আর এর সর্বোচ্চ চুড়া হলো আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় জিহাদ করা"। 75
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় গ্রন্থে বলেন,
فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا ) [مريم: ٥٩]
"তাদের পর আসলো অপদার্থ উত্তরসূরীগণ, যারা সালাত নষ্ট করলো ও প্রবৃত্তির অনুসরণ করলো। সুতরাং তারা অচিরেই কুকর্মের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে”। [সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৫৯]
আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, নষ্ট করা অর্থ হলো নির্দিষ্ট সময় থেকে বিলম্ব করে পড়া। আর যদি তারা সালাত পরিত্যাগ করে তাহলে অবশ্যই কাফির হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَوَةِ الْوُsْطَى ﴾ [البقرة: ٢٣٨]
"তোমরা সালাতের হিফাযত কর এবং হিফাযত কর মধ্যবর্তী সালাতের"। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৩৮]
সালাতের যত্ন নেওয়া হলো সঠিক সময়ে তা সম্পাদন করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ ﴾ [الماعون: ٤، ٥]
“ঐ সকল সালাত আদায়কারীদের জন্য ধ্বংস। যারা তাদের সালাত বিষয়ে উদাসীন”। [সূরা আল-মাউন, আয়াত: ৪-৫]
এরা হলো ঐসব লোক যারা সালাত বিলম্বে আদায় করে অর্থাৎ যখন সালাতের ওয়াক্ত চলে যায় তখন পড়ে।
মুসলিমগণ একমত যে, দিনের সালাতকে দেরি করে রাতে পড়া জায়েয নেই। অনুরূপভাবে রাতের সালাত বিলম্ব করে দিনে আদায় করা বৈধ নয়। এটি মুসাফির, অসুস্থ ও মুকিম কারো জন্যেই বৈধ নয়। তবে কোনো মুসলিমের বিশেষ প্রয়োজনে দিনের সালাত যোহর ও আসর একত্রিত করে আদায় করা জায়েয আছে। অনুরূপভাবে রাতের সালাত মাগরিব ও এশা এক ওয়াক্তে একত্র করে পড়া জায়েয আছে। এটি মুসাফির ও অসুস্থ ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য। তেমনি বর্ষা ও অনুরূপ অসুবিধাজনক অবস্থায়ও দুই ওয়াক্ত সালাত একত্রিত করে আদায় করা বৈধ।
আল্লাহ তা'আলা মুসলিমদের ওপর ওয়াজিব করে দিয়েছেন যে, তারা তাদের সাধ্যমত (সময়ে) সালাত আদায় করবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿ فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ ﴾ [التغابن : ١٦]
"তোমাদের সাধ্যমত আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর"। [সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১৬]
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
دَعُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ، إِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِسُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ، فَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَاجْتَنِبُوهُ، وَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ
“আমি তোমাদের যার ওপর রেখে যাচ্ছি তার ওপর আমাকে তোমরা ছেড়ে দাও। তোমাদের পূর্বের যারা ধ্বংস হয়েছে, তার কারণ, তারা তাদের নবীদের বেশি বেশি প্রশ্ন করতে এবং মতবিরোধ করত। আমি যখন তোমাদের কোন বিষয়ে নিষেধ করি, তোমরা তা থেকে বিরত থাক। আর আমি যখন কোনো বিষয়ে তোমাদেরকে নির্দেশ দিই তা সাধ্যমত তোমরা বাস্তবায়ন কর”। 76
পূর্ণ পবিত্রতা, পূর্ণ তেলাওয়াত, পূর্ণ রুকু ও সাজদাহসহ সালাত আদায় করা মুসল্লির ওপর অপরিহার্য। যদি সে ওযু ভঙ্গকারী অথবা অপবিত্র হয় আর যদি পানি না পায় অথবা পানি পাওয়া সত্ত্বেও সে অসুস্থ, ঠাণ্ডা ও অনুরূপ কোনো কারণে পানি ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা বোধ করে, এমতাবস্থায় সে পবিত্র মাটি দ্বারা মুখ মণ্ডল ও হাত মাসাহ করবে। তার পর সে সালাত আদায় করবে।
উপরোক্ত কারণে আলিমদের ঐকমত্য অনুযায়ী সালাত বিলম্ব করা বৈধ নয়। অনুরূপভাবে কারা অন্তরীণ ব্যক্তি, আটক ও দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থ, পক্ষাঘাতগ্রস্তসহ নানা সমস্যা জর্জরিত ব্যক্তি, তাদের অবস্থার আলোকে সালাত আদায় করবে। আর যদি কেউ শত্রু এলাকায় অবস্থান করে তাহলে সে সালাতুল খাওফ বা ভয়ের সালাত আদায় করবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَن يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنَّ الْكَافِرِينَ كَانُوا لَكُمْ عَدُوًّا مُّبِينًا وَإِذَا كُنتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ فَلْتَقُمْ طَائِفَةٌ مِنْهُم مَّعَكَ وَلْيَأْخُذُوا أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُوا فَلْيَكُونُوا مِن وَرَابِكُمْ وَلْتَأْتِ طَائِفَةٌ أُخْرَى لَمْ يُصَلُّوا فَلْيُصَلُّوا مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ وَدَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ تَغْفُلُونَ عَنْ أَسْلِحَتِكُمْ وَأَمْتِعَتِكُمْ فَيَمِيلُونَ عَلَيْكُم مَّيْلَةً وَاحِدَةً وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِن كَانَ بِكُمْ أَذًى مِّن مَّطَرٍ أَوْ كُنتُم مَّرْضَى أَن تَضَعُوا أَسْلِحَتَكُمْ وَخُذُوا حِذْرَكُمْ إِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُّهِينًا فَإِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلَاةَ فَاذْكُرُوا اللَّهَ قِيَمًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِكُمْ فَإِذَا أَطْمَأْنَنتُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَوٰةَ إِنَّ الصَّلَوٰةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا ﴾ [النساء : ١٠١، ١٠٣]
"আর যখন তোমরা ভূপৃষ্ঠে পর্যটন কর, তখন সালাত সংক্ষেপ [কসর] করলে তোমাদের কোনো দোষ নেই, যদি তোমরা আশংকা কর যে, কাফিরগণ তোমাদেরকে বিপদগ্রস্ত করবে। নিশ্চয় অবিশ্বাসীরা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। আর যখন তুমি তাদের (মুমিনদের) মধ্যে থাকবে, আর তাদের জন্যে (সালাতে ইমামত করবে) সালাত প্রতিষ্ঠিত করবে, তখন তাদের একদল যেন তোমার সাথে দণ্ডায়মান হয় এবং স্ব স্ব অস্ত্র গ্রহণ করে, অতঃপর যখন সাজদাহ সম্পন্ন করবে তখন যেন তারা তোমার পশ্চাদ্বর্তী হয় এবং অন্য দল যারা সালাত পড়ে নি তারা যেন অগ্রসর হয়ে তোমার সাথে সালাত পড়ে এবং স্ব স্ব সতর্কতা ও অস্ত্র গ্রহণ করে। অবিশ্বাসীরা ইচ্ছে করে যে, তোমরা স্বীয় অস্ত্র-শস্ত্র ও দ্রব্য সম্ভার সম্বন্ধে অসতর্ক হলেই তারা একযোগে তোমাদের ওপর নিপতিত হবে; এবং তাতে তোমাদের অপরাধ নেই-যদি তোমরা বৃষ্টিপাতে বিব্রত হয়ে অথবা পীড়িত অবস্থায় স্ব-স্ব অস্ত্র পরিত্যাগ কর এবং স্বীয় সতর্কতা অবলম্বন কর এবং নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা অবিশ্বাসীদের জন্যে অবমাননাকর শাস্তি প্রস্তুত করেছেন। অনন্তর যখন তোমরা সালাত সম্পন্ন কর তখন দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহ তা'আলাকে স্মরণ কর, অতঃপর যখন তোমরা নিরাপদ হও তখন সালাত প্রতিষ্ঠিত কর। নিশ্চয় মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে সালাত আদায় করা অবশ্য কর্তব্য"। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১০১-১০৩]
মুসলিম শাসকদের প্রতি সকল পুরুষ, মহিলা, শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষকে সালাত আদায়ের নির্দেশ জারী করা ওয়াজিব। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«مر وهم بالصلاة لسبع، واضربوهم على تركها لعشر، وفرقوا بينهم في المضاجع».
"তোমরা তাদেরকে সাত বছর বয়সে সালাতের আদেশ দাও। দশ বছর বয়সে সে সালাত পরিত্যাগ করলে তাকে বেত্রাঘাত কর, আর তাদের শয্যা পৃথক করে দাও"।
সালাতের পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তি যদি পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের কোনো একটি হতে বিরত থাকে অথবা কোনো একটি ফরয ইবাদাত পরিত্যাগ করে, তাহলে মুসলিম উম্মাহ এ মর্মে একমত যে, তার ওপর ইসলামী রাষ্ট্রের আদালত কর্তৃক ইসলামে ফিরে আসার সমন জারী হবে। যদি সে তওবা করতঃ স্ব- দীনে প্রত্যাবর্তন করে তাহলে ভালো। অন্যথায় তাকে হত্যা করতে হবে।
উক্ত উলামাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, সালাত পরিত্যাগকারী দীন-চ্যুত কাফির। তার ওপর জানাযার সালাত আদায় করা যাবে না এবং মুসলিমদের কবরস্থানে তাকে দাফন করাও যাবে না। কেউ বলেন, ইচ্ছাকৃত সালাত ত্যাগকারী ডাকাত, হত্যাকারী ও বিবাহিত জিনাকারির ন্যায় হত্যা যোগ্য অপরাধী হবে।
সালাতের বিষয়টি হলো, মহা-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তার মর্যাদাও সর্বাধিক। তাই সালাত পরি-ত্যাগকারীর শাস্তিও উপরোক্ত শাস্তির চেয়েও ভয়াবহ। কেননা, সালাত হলো দীনের স্তম্ভ ও খুঁটি। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় কিতাবে সব ইবাদতের ওপর সালাতের গুরুত্ব ও মহত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কারণ, আল্লাহ তা'আলা কখনো তা এককভাবে বর্ণনা করেছেন। কখনো যাকাত, সবর, কুরবানী প্রভৃতির সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। যথা, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَءَاتُوا الزَّكَوةَ ﴾ [البقرة: ٤٣]
“আর তোমরা সালাত কায়েম কর ও যাকাত দাও”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৪৩]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةُ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ ﴾ [البقرة: ٤٥] “তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। এটি বড়ই কঠিন, তবে বিনয়ী ব্যক্তিদের কথা আলাদা” ⁷⁸
আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ ﴾ [الكوثر: ٢]
“সুতরাং তোমার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর এবং কুরবানি কর”। [সূরা আ-কাউসার, আয়াত: ২]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ ﴾ [الانعام: ١٦২، ١৬৩]
“বল, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও মরণ বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য। তার কোনো শরীক নেই। আমাকে এরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আর আমিই সর্বপ্রথম মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী)”। [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১৬২-১৬৩]
আর কখনো ভালো আমল দ্বারা শুরু করেছেন এবং সালাত দ্বারা সমাপনী করেছেন। যেমন, সূরা মা'আরিজ-এ বর্ণিত হয়েছে,
سَأَلَ سَابِلٌ بِعَذَابٍ وَاقِعِ لِلْكَافِرِينَ لَيْسَ لَهُ دَافِعٌ مِنَ اللَّهِ ذِي الْمَعَارِجِ تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ فَأَصْبِرْ صَبْرًا جَمِيلًا إِنَّهُمْ يَرَوْنَهُ بَعِيدًا وَنَرَلَهُ قَرِيبًا يَوْمَ تَكُونُ السَّمَاءُ كَالْمُهْلِ وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ وَلَا يَسْلُ حَمِيمٌ حَمِيمًا يُبَصَّرُونَهُمْ يَوَدُّ الْمُجْرِمُ لَوْ يَفْتَدِي مِنْ عَذَابِ يَوْمِينِ بِبَنِيهِ وَصَاحِبَتِهِ، وَأَخِيهِ وَفَصِيلَتِهِ الَّتِي تُوِيهِ وَمَن فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ يُنجِيهِ كَلَّا إِنَّهَا لَظَى نَزَاعَةَ لِلشَّوَى تَدْعُوا مَنْ أَدْبَرَ وَتَوَلَّى وَجَمَعَ فَأَوْعَى إِنَّ الْإِنسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعًا وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعًا إِلَّا الْمُصَلِّينَ الَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ دَائِمُونَ وَالَّذِينَ فِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ مَّعْلُومٌ ﴾ [المعارج: ١، ٢٤]
"এক ব্যক্তি জানতে চাইল সে আযাব সম্পর্কে যা অবশ্যই সংঘটিত হবে।
কাফিরদের জন্য তা প্রতিরোধ করার কেউ নেই। সে শাস্তি আসবে আল্লাহ তা'আলার নিকট হতে যিনি (উচ্চ মর্যাদার অধিকারী) ঊর্ধ্ব গমনের পথগুলোর মালিক। ফিরিশতা এবং রূহ (জিবরীল) আল্লাহ তা'আলার দিকে আরোহণ করবে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর। সুতরাং (হে নবী) ধৈর্য ধারণ করুন সুন্দর ও উত্তমভাবে। তারা সে দিনটিকে অনেক দূরে মনে করছে। কিন্তু আমি তা নিকটে দেখতে পাচ্ছি। সে দিন আকাশ হবে গলিত রূপার মতো, আর পাহাড়গুলো হবে রঙ্গিন পশমের মতো, সে দিন কোনো বন্ধু কোনো বন্ধুর খবর নিবে না, যদিও তাদেরকে মুখোমুখি দৃষ্টির সম্মুখে রাখা হবে, সে দিন অপরাধী ব্যক্তি আযাব থেকে বাঁচার জন্য বিনিময়ে তার সন্তানকে দিতে চাইবে, তার স্ত্রী ও ভাইকে, আর তার আত্মীয় স্বজনদের যারা তাকে আশ্রয় দিত। এমনকি পৃথিবীর সকলকে, যাতে তা (উক্ত আযাব) থেকে তাকে রক্ষা করতে পারে। না, কখনো নয়, ওটা জ্বলন্ত অগ্নিশিখা, যা চামড়া তুলে দিবে, জাহান্নাম সেই ব্যক্তিকে ডাকবে যে পেছনে ফিরে গিয়েছিল (আল্লাহ তা'আলার হুকুম থেকে) এবং সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। সে সম্পদ জমা করত, অতঃপর তা আগলে রাখত, মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে খুবই অস্থির মনা করে, বিপদ তাকে স্পর্শ করলে সে উৎকণ্ঠিত হয়, কল্যাণ তাকে স্পর্শ করলে সে হয়ে পড়ে অতি কৃপণ, তবে সালাত আদায়কারীরা এমন নয়। যারা তাদের সালাতে স্থির সংকল্প"। [সূরা আল-মা'আরিজ, আয়াত: ১-২৩]
সূরা মুমিনুনের শুরুতে বর্ণিত হয়েছে- আল্লাহ তা'আলা বলেন,
قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَعِلُونَ وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ * إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ * فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُوْلَبِكَ هُمُ الْعَادُونَ * وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ * وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ أُوْلَابِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴾ [المؤمنون : ١-١١]
"অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মুমিনগণ। যারা বিনয়-নম্র নিজেদের সালাতে। যারা অসার কার্য-কলাপ থেকে বিরত থাকে। যারা যাকাত দানে সক্রিয়। যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে নিজেদের স্ত্রী অথবা অধিকারভুক্ত দাসীগণ ব্যতীত, এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। সুতরাং কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা হবে সীমা লঙ্ঘনকারী। আর যারা আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। আর যারা নিজেদের সালাতে যত্নবান থাকে। তারাই হবে উত্তরাধিকারী। তারা ফিরদাউসের উত্তরাধিকার লাভ করবে, যাতে তারা চিরস্থায়ী হবে"। [সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত: ১-১১]
পরিশেষে মহান আল্লাহ তা'আলার নিকট আকুল আবেদন, তিনি যেন এর বিনিময়ে আমাকে ও আপনাদেরকে ঐ সকল ব্যক্তিদের ওয়ারিশ করেন যারা চিরস্থায়ী ভাবে জান্নাতুল ফিরদউস লাভে ধন্য হয়েছেন। আর তিনি যেন দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দ্বারা আমার আপনাদের ও সকল মুমিন ভাইদের আমলনামা সমৃদ্ধ করেন।
«وَالسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَحْدَهُ. وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا»
"আপনাদের প্রতি আল্লাহ তা'আলার রহমত ও বরকতের ধারা বর্ষিত হোক। সকল প্রশংসা এক আল্লাহ তা'আলার জন্যে। আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বংশধর ও সহচরদের প্রতি শান্তি ও অফুরন্ত রহমত অবতীর্ণ হোক"। আমীন।
টিকাঃ
74 সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৫৯
75 সুনান তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬৫
76 সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭২৮৮
“সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ৫২৬; সুনান তিরমিযী: ৪৪৫/৩
⁷⁸ সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৪৫, ৮৩, ১৬০; আরো দেখুন- সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৭৭; সূরা আন-নূর, আয়াত: ৫৬; সূরা আল-মুযযাম্মিল, আয়াত: ২০