📘 মহা উপদেশ > 📄 জামা‘আত রহমত আর বিভক্তি আযাব

📄 জামা‘আত রহমত আর বিভক্তি আযাব


এ ধরনের দলাদলি ও বিভক্তি যা মুসলিম উম্মাহ ও তাদের আলেম, পণ্ডিত, আমীর ও শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে, এর ফলশ্রুতিতেই শত্রুদের তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর অন্যতম কারণ হল, তারা আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলের আনুগত্য করা ছেড়ে দিয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَمِنَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصَرَى أَخَذْنَا مِيثَاقَهُمْ فَنَسُوا حَقًّا مِّمَّا ذُكِّرُوا بِهِ، فَأَغْرَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ﴾ [المائدة: ١٤]
"আর যারা বলে 'আমরা খ্রিস্টান' আমরা তাদের নিকট থেকেও ওয়াদা নিয়েছিলাম। অনন্তর তাদেরকে যা কিছু উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে তারা নিজেদের এক বড় অংশ হারাতে বসেছে। সুতরাং আমি তাদের পরস্পরের মধ্যে হিংসা ও শত্রুতা সঞ্চার করে দিলাম"। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ১৪]
যখনই মানুষ আল্লাহ তা'আলার কতক বিধান পরিত্যাগ করেছে, তখনই তাদের মধ্যে শত্রুতা ও হিংসা এবং কাটাকাটি দেখা দিয়েছে। আর যখন জাতি বিভিন্ন দল, সংগঠন ও পার্টিতে বিভক্ত হয়েছে, তখনই তারা বিপর্যয় ও ধ্বংসলীলায় পতিত হয়েছে। আর যখনই তারা একটি দলে সমবেত হয়েছে, তখনই তারা সংশোধন হয়েছে ও অহীর বিধানে রাজ্য প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছে। কেননা এক দলে থাকে রহমত। বিভক্ত হওয়া, দলাদলি করা ও মুসলিম সমাজে ফাটল সৃষ্টি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

📘 মহা উপদেশ > 📄 ভালো কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা দেওয়া

📄 ভালো কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা দেওয়া


আর একতাবদ্ধতা ও ঐক্য সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে বাধা দেওয়ার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ، وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ وَآيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُوْلَبِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴾ [ال عمران: ١٠٢, ١٠٤]
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা প্রকৃত ভীতি সহকারে আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর এবং মুসলিম হওয়া ব্যতীত মরিও না। আর তোমরা এক যোগে আল্লাহ তা'আলার রুজ্জু দৃঢ় ভাবে ধারণ কর ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যেও না এবং তোমাদের প্রতি আল্লাহ তা'আলার যে নি'আমত রয়েছে তা স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে তখন তিনিই তোমাদের অন্তঃকরণে প্রীতি স্থাপন করেছিলেন, তারপর তোমরা তার অনুগ্রহে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ হলে এবং তোমরা অগ্নি-গহ্বরের প্রান্তে ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করলেন; এভাবে আল্লাহ তা'আলা তোমাদের স্বীয় নিদর্শনা বলী ব্যক্ত করেন যেন তোমরা সুপথ প্রাপ্ত হও এবং তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল হোক, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে ও ভালো কাজের আদেশ করবে ও মন্দ কাজের নিষেধ করবে তারাই সুফল প্রাপ্ত”। [আল আলে ইমরান, আয়াত: ১০২-১০৪]
সৎ কাজের আদেশ দ্বারা ঐক্য ও একতাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আর মতবিরোধ ও দলাদলি বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অসৎ কাজ হতে বিরত থাকার নির্দেশ দ্বারা যারা আল্লাহর দেওয়া শরী'আতের পাবন্দি থেকে বের হয়ে গেছে তাদের তাদের ওপর শাস্তি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

আর একতাবদ্ধতা ও ঐক্য সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে বাধা দেওয়ার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ، وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ وَآيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُوْلَبِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴾ [ال عمران: ١٠٢, ١٠٤]
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা প্রকৃত ভীতি সহকারে আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর এবং মুসলিম হওয়া ব্যতীত মরিও না। আর তোমরা এক যোগে আল্লাহ তা'আলার রুজ্জু দৃঢ় ভাবে ধারণ কর ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যেও না এবং তোমাদের প্রতি আল্লাহ তা'আলার যে নি'আমত রয়েছে তা স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে তখন তিনিই তোমাদের অন্তঃকরণে প্রীতি স্থাপন করেছিলেন, তারপর তোমরা তার অনুগ্রহে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ হলে এবং তোমরা অগ্নি-গহ্বরের প্রান্তে ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করলেন; এভাবে আল্লাহ তা'আলা তোমাদের স্বীয় নিদর্শনা বলী ব্যক্ত করেন যেন তোমরা সুপথ প্রাপ্ত হও এবং তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল হোক, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে ও ভালো কাজের আদেশ করবে ও মন্দ কাজের নিষেধ করবে তারাই সুফল প্রাপ্ত”। [আল আলে ইমরান, আয়াত: ১০২-১০৪]
সৎ কাজের আদেশ দ্বারা ঐক্য ও একতাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আর মতবিরোধ ও দলাদলি বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অসৎ কাজ হতে বিরত থাকার নির্দেশ দ্বারা যারা আল্লাহর দেওয়া শরী'আতের পাবন্দি থেকে বের হয়ে গেছে তাদের তাদের ওপর শাস্তি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

📘 মহা উপদেশ > 📄 ভালো কাজের আদেশ দেওয়া ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ করা দায়িত্বশীলদের কাজ

📄 ভালো কাজের আদেশ দেওয়া ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ করা দায়িত্বশীলদের কাজ


• দায়িত্বশীল অর্থাৎ যারা প্রত্যেক গোত্রের আলেম, নেতৃত্ব দানকারী শাসক ও মাশায়েখ, তাদের ওপর ওয়াজিব হলো, তারা সর্বসাধারণকে সৎ কাজের আদেশ দিবে, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। ফলে তারা আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল যে বিষয়ের আদেশ দিয়েছে, তা পালন করার জন্য। জনসমাজকে নির্দেশ দিবে, আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল কর্তৃক নিষিদ্ধ বিষয়াবলী হতে দূরে থাকার জন্য তাদের নির্দেশ দেবে।

• দায়িত্বশীল অর্থাৎ যারা প্রত্যেক গোত্রের আলেম, নেতৃত্ব দানকারী শাসক ও মাশায়েখ, তাদের ওপর ওয়াজিব হলো, তারা সর্বসাধারণকে সৎ কাজের আদেশ দিবে, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। ফলে তারা আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল যে বিষয়ের আদেশ দিয়েছে, তা পালন করার জন্য। জনসমাজকে নির্দেশ দিবে, আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল কর্তৃক নিষিদ্ধ বিষয়াবলী হতে দূরে থাকার জন্য তাদের নির্দেশ দেবে।

📘 মহা উপদেশ > 📄 ভালো কাজের প্রকার

📄 ভালো কাজের প্রকার


প্রথম: শরী'আতের বিধান:
আর তা হলো, সঠিক সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, জুমু'আর সালাত কায়েম করা, নির্ধারিত ওয়াজিব ও সুন্নাত সালাতসমূহ আদায় করা। যথা- দুই ঈদ, সূর্য গ্রহণ, চন্দ্র গ্রহণের সালাত, ইস্তিসকা, তারাবীহ, জানাযা ও অন্যান্য সালাত আদায় করা, অনুরূপ ভাবে শরী'আত সম্মত সদকা (দান) করা, শরী'আত নির্ধারিত সাওম পালন করা, বায়তুল হারাম শরীফে হজ সম্পাদন করা।
অনুরূপভাবে আল্লাহর প্রতি, তার ফিরিশতাদের প্রতি, তার কিতাবের প্রতি, তার রাসূলদের প্রতি, শেষ দিবসের প্রতি, ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনা। আর ইহসান বিষয়ে ঈমান আনা। আর তা হলো, এমনভাবে আল্লাহ তা'আলার ইবাদাত করা যেন সে আল্লাহ তা'আলাকে দেখতে পাচ্ছে। যদি সে তাকে দেখতে না পায়, তাহলে তিনি অবশ্যই তাকে দেখছেন, এ দৃঢ় বিশ্বাস রাখা।
অনুরূপভাবে প্রকাশ্য ও গোপনে পালনীয় আল্লাহ ও তার রাসূলের সব নির্দেশ বাস্তবায়ন করা। যথা- আল্লাহ তা'আলার জন্যে দীনকে নির্ভেজাল করা, আল্লাহ তা'আলারই ওপরে ভরসা করা, সকলের চেয়ে আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলকে বেশি ভালোবাসা, আল্লাহ তা'আলার রহমতের আশাবাদী হওয়া, তার আযাবকে ভয় করা। আল্লাহ তা'আলার বিধানের জন্যে ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহ তা'আলার বিধান বাস্তবায়ন করা। অনুরূপভাবে সত্য কথা বলা, কৃত ওয়াদা পালন করা, যথাস্থানে আমানতসমূহ আদায় করা, বাবা-মার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা। করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, কল্যাণ ও তাকওয়ার কাজে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করা, প্রতিবেশী, ইয়াতিম, মিসকীন, মুসাফির, স্বামী-স্ত্রী ও দাস-দাসীর প্রতি ইহসান-সৎ আচরণ করা, কথা ও কাজে ইনসাফ করা, উত্তম চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখা। যথা- তোমার সঙ্গে যে আত্মীয় সম্পর্ক রাখতে চায় না তার সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা, তোমাকে যে বঞ্চিত করে তুমি তাকে দান কর, তোমাদের প্রতি যে যুলুম করে তাকে ক্ষমা করে দাও। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন,
وَجَزَاؤُا سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِثْلُهَا فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ * وَلَمَنِ انتَصَرَ بَعْدَ ظُلْمِهِ، فَأُوْلَابِكَ مَا عَلَيْهِم مِّن سَبِيلٍ إِنَّمَا السَّبِيلُ عَلَى الَّذِينَ يَظْلِمُونَ النَّاسَ وَيَبْغُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ أُوْلَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ * وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ ﴾ [الشورى: ٤٠، ٤٣]
"আর খারাপের প্রতিদান হলো অনুরূপ খারাপ। অতঃপর যে ক্ষমা করে এবং সমঝোতা ও মীমাংসা করে, তার প্রতিদান আল্লাহ তা'আলার নিকট রয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। আর কেউ অত্যাচারিত হয়ে নিজের প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা নিলে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ তো হলো তাদের বিরুদ্ধে যারা মানুষের প্রতি অত্যাচার করে ও পৃথিবীতে অন্যায় ভাবে বিদ্রোহ সৃষ্টি করে; তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যে ব্যক্তি (অত্যাচারিত হওয়ার পরও) ধৈর্য ধারণ করে ও ক্ষমা করে দেয়, তাহলে তা অবশ্যই দৃঢ় চিত্ততার কাজ”। [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ৪০-৪৩]

প্রথম: শরী'আতের বিধান:
আর তা হলো, সঠিক সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, জুমু'আর সালাত কায়েম করা, নির্ধারিত ওয়াজিব ও সুন্নাত সালাতসমূহ আদায় করা। যথা- দুই ঈদ, সূর্য গ্রহণ, চন্দ্র গ্রহণের সালাত, ইস্তিসকা, তারাবীহ, জানাযা ও অন্যান্য সালাত আদায় করা, অনুরূপ ভাবে শরী'আত সম্মত সদকা (দান) করা, শরী'আত নির্ধারিত সাওম পালন করা, বায়তুল হারাম শরীফে হজ সম্পাদন করা।
অনুরূপভাবে আল্লাহর প্রতি, তার ফিরিশতাদের প্রতি, তার কিতাবের প্রতি, তার রাসূলদের প্রতি, শেষ দিবসের প্রতি, ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনা। আর ইহসান বিষয়ে ঈমান আনা। আর তা হলো, এমনভাবে আল্লাহ তা'আলার ইবাদাত করা যেন সে আল্লাহ তা'আলাকে দেখতে পাচ্ছে। যদি সে তাকে দেখতে না পায়, তাহলে তিনি অবশ্যই তাকে দেখছেন, এ দৃঢ় বিশ্বাস রাখা।
অনুরূপভাবে প্রকাশ্য ও গোপনে পালনীয় আল্লাহ ও তার রাসূলের সব নির্দেশ বাস্তবায়ন করা। যথা- আল্লাহ তা'আলার জন্যে দীনকে নির্ভেজাল করা, আল্লাহ তা'আলারই ওপরে ভরসা করা, সকলের চেয়ে আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলকে বেশি ভালোবাসা, আল্লাহ তা'আলার রহমতের আশাবাদী হওয়া, তার আযাবকে ভয় করা। আল্লাহ তা'আলার বিধানের জন্যে ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহ তা'আলার বিধান বাস্তবায়ন করা। অনুরূপভাবে সত্য কথা বলা, কৃত ওয়াদা পালন করা, যথাস্থানে আমানতসমূহ আদায় করা, বাবা-মার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা। করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, কল্যাণ ও তাকওয়ার কাজে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করা, প্রতিবেশী, ইয়াতিম, মিসকীন, মুসাফির, স্বামী-স্ত্রী ও দাস-দাসীর প্রতি ইহসান-সৎ আচরণ করা, কথা ও কাজে ইনসাফ করা, উত্তম চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখা। যথা- তোমার সঙ্গে যে আত্মীয় সম্পর্ক রাখতে চায় না তার সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা, তোমাকে যে বঞ্চিত করে তুমি তাকে দান কর, তোমাদের প্রতি যে যুলুম করে তাকে ক্ষমা করে দাও। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন,
وَجَزَاؤُا سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِثْلُهَا فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ * وَلَمَنِ انتَصَرَ بَعْدَ ظُلْمِهِ، فَأُوْلَابِكَ مَا عَلَيْهِم مِّن سَبِيلٍ إِنَّمَا السَّبِيلُ عَلَى الَّذِينَ يَظْلِمُونَ النَّاسَ وَيَبْغُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ أُوْلَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ * وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ ﴾ [الشورى: ٤٠، ٤٣]
"আর খারাপের প্রতিদান হলো অনুরূপ খারাপ। অতঃপর যে ক্ষমা করে এবং সমঝোতা ও মীমাংসা করে, তার প্রতিদান আল্লাহ তা'আলার নিকট রয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। আর কেউ অত্যাচারিত হয়ে নিজের প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা নিলে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ তো হলো তাদের বিরুদ্ধে যারা মানুষের প্রতি অত্যাচার করে ও পৃথিবীতে অন্যায় ভাবে বিদ্রোহ সৃষ্টি করে; তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যে ব্যক্তি (অত্যাচারিত হওয়ার পরও) ধৈর্য ধারণ করে ও ক্ষমা করে দেয়, তাহলে তা অবশ্যই দৃঢ় চিত্ততার কাজ”। [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ৪০-৪৩]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00