📄 বন্ধুত্ব ও শত্রুতার স্বরূপ
আল্লাহ তা'আলা মুমিনদেরকে পরস্পর পরস্পরকে ভালোবাসতে নির্দেশ দিয়েছেন। পক্ষান্তরে কাফিরদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন ও তাদের বিরোধিতা করা মুমিনের ওপর ওয়াজিব করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَرَى أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ * فَتَرَى الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ يُسَرِعُونَ فِيهِمْ يَقُولُونَ تَخْشَى أَن تُصِيبَنَا دَابِرَةٌ فَعَسَى اللَّهُ أَن يَأْتِيَ بِالْفَتْحِ أَوْ أَمْرٍ مِّنْ عِندِهِ فَيُصْبِحُوا عَلَى مَا أَسَرُّوا فِي أَنفُسِهِمْ نَادِمِينَ * وَيَقُولُ الَّذِينَ ءَامَنُوا أَهَؤُلَاءِ الَّذِينَ أَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ إِنَّهُمْ لَمَعكُمْ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَأَصْبَحُوا خَسِرِينَ * يَتَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لَابِمٍ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ * وَمَن يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ ﴾ [المائدة: ٥١، ٥٦]
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধরূপে গ্রহণ করিও না, তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধরূপে গ্রহণ করলে সে তাদের মধ্যেই গণ্য হবে। আল্লাহ তা'আলা যালিমদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না। যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তুমি তদেরকে দেখবে সত্বর তারা তাদের (অর্থাৎ ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান মুশরিকদের) মাঝে গিয়ে বলবে, আমাদের ভয় হয় আমরা বিপদের চক্করে পড়ে না যাই। হয়তো আল্লাহ তা'আলা বিজয় দান করবেন কিংবা নিজের পক্ষ হতে এমন কিছু দিবেন যাতে তারা তাদের অন্তরে যা লুকিয়ে রেখেছিল তার কারণে লজ্জিত হবে। মুমিনগণ বলবে, এরা কি তারাই যারা আল্লাহ তা'আলার নামে শক্ত কসম খেয়ে বলত যে, তারা অবশ্যই তোমাদের সঙ্গে আছে। তাদের কৃতকর্ম নিষ্ফল হয়ে গেছে, যার ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হে ঈমানদারগণ! তোমাদের মধ্য হতে কেউ তার দীন হতে ফিরে গেলে সত্বর আল্লাহ তা'আলা এমন এক সম্প্রদায়কে নিয়ে আসবেন যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন আর তারাও তাকে ভালবাসবে, তারা মুমিনদের প্রতি কোমল আর কাফিরদের প্রতি কঠোর হবে, তারা আল্লাহ তা'আলার পথে যুদ্ধ করবে, কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে তারা ভয় করবে না, এটা আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ-যাকে ইচ্ছে তিনি দান করেন এবং আল্লাহ তা'আলা প্রাচুর্যের অধিকারী, সর্বজ্ঞ। তোমাদের বন্ধু আল্লাহ তা'আলা, তার রাসূল ও মুমিনগণ যারা সালাত কায়িম করে, যাকাত আদায় করে এবং আল্লাহ তা'আলার কাছে অবনত হয়। যে কেউ আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল এবং ঈমানদারগণকে বন্ধরূপে গ্রহণ করবে সে দেখতে পাবে যে আল্লাহ তা'আলার দলই বিজয়ী হবে। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৫১-৫৬]
আল্লাহ তা'আলা জানিয়ে দিচ্ছেন যে, মুমিনের বন্ধু হলো আল্লাহ তা'আলা, তার রাসুল ও তার প্রতি ঈমানদার বান্দাগণ। এ বিশেষণটি প্রতিটি মুমিন যে এ গুণে গুণান্বিত সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। চাই সে তার বংশের, দেশের, মাযহাবের অথবা স্বীয় দলভুক্ত হোক বা না হোক। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ [التوبة: ٧١]
"মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু"। [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৭১]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ ءَامَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ ءَاوَوا وَنَصَرُوا أُوْلَئِكَ bَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا وَلَمْ يُهَاجِرُوا مَا لَكُم مِّن وَلَيَتِهِم مِّن شَيْءٍ حَتَّى يُهَاجِرُوا وَإِنِ اسْتَنصَرُوكُمْ فِي الدِّينِ فَعَلَيْكُمُ النَّصْرُ إِلَّا عَلَى قَوْمٍ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُم مِيثَقٌ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ وَالَّذِينَ كَفَرُوا بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ إِلَّا تَفْعَلُوهُ تَكُن فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ كَبِيرٌ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ ءَاوَوا وَنَصَرُوا أُوْلَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَّهُم مَّغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا مِنْ بَعْدُ وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا مَعَكُمْ فَأُوْلَئِكَ مِنكُمْ وَأُولُوا الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ فِي كِتَابٍ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴾ [الانفال: ٧٢، ٧৬]
"যারা ঈমান এনেছে, (দীনের জন্যে) হিজরত করেছে, নিজেদের জানমাল দিয়ে আল্লাহ তা'আলার পথে জিহাদ করেছে আর যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে, সাহায্য করেছে, তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরত করে নি, তারা হিজরত না করা পর্যন্ত তাদের অভিভাবকত্বের কোনো দায়িত্ব তোমার ওপর নেই, তবে তারা যদি দীনের ব্যাপারে তোমাদের নিকট সাহায্যপ্রার্থী হয় তাহলে তাদেরকে সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য, কিন্তু তোমাদের ও যে জাতির মধ্যে মৈত্রী চুক্তি রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে নয়। তোমরা যা কর আল্লাহ তা'আলা তা দেখেন। আর যারা কুফরি করে তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। যদি তোমরা তা [মুমিনদের পরস্পরের বন্ধুত্ব সুদৃঢ় করা ও কাফিরদের সঙ্গে সম্পর্ক [ছিন্ন করা] না কর তবে দুনিয়াতে ফিতনা ও মহা-বিপর্যয় দেখা দিবে। যারা ঈমান এনেছে, (দীনের জন্যে) হিজরত করেছে এবং আল্লাহ তা'আলার পথে জিহাদ করেছে আর যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে এবং সাহায্য-সহযোগিতা করেছে- তারাই প্রকৃত মুমিন, তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা। আর যারা পরে ঈমান এনেছে ও হিজরত করেছে আর তোমাদের সাথে একত্র হয়ে জিহাদ করেছে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত”। [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৭২-৭৫]
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَإِن طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا فَإِنْ بَغَتْ إِحْدَلَهُمَا عَلَى الْأُخْرَى فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللَّهِ فَإِن فَاءَتْ فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ ﴾ [الحجرات: ٩]
"মুমিনদের দু'দল লড়াইয়ে লিপ্ত হলে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর একদল অপর দলকে আক্রমণ করলে আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যতক্ষণ না তারা আল্লাহ তা'আলার নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। অতঃপর যদি দলটি ফিরে আসে, তাহলে তাদের মধ্যে ন্যায়ের সঙ্গে বিচার করবে আর সুবিচার করবে। আল্লাহ তা'আলা ন্যায়-বিচারকারীদের ভালোবাসেন”। [সূরা আল-হুজরাত, আয়াত: ৯]
সহীহ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«مثل المؤمنين في توادهم وتراحمهم وتعاطفهم كمثل الجسد الواحد إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الجسد بالحمى والسهر»
“পারস্পরিক সহানুভূতি, বন্ধুত্ব ও দয়া অনুগ্রহের ক্ষেত্রে মুমিনের উদাহরণ হলো এক ও অখণ্ডিত দেহ। যখন দেহের কোনো অঙ্গ অসুস্থ হয় তখন সমস্ত শরীর তার জন্যে বিনিদ্র ও ব্যথায় আক্রান্ত হয়”। ⁶⁹
সহীহ হাদীসে অনুরূপ আরো বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«المؤمن للمؤمن كالبنيان يشد بعضه بعضا»
“একজন মুমিন আর একজন মুমিনের জন্য প্রাচীরের ন্যায়। যার একাংশ অপর অংশকে সু-দৃঢ় করে। অতঃপর তিনি একহাতের অঙ্গুলিগুলো অপর হাতের অঙ্গুলির মধ্যে প্রবেশ করালেন”। ⁷⁰
অনুরূপ সহীহ হাদীসে আরো বর্ণিত আছে,
«والذي نفسي بيده لا يؤمن أحدكم حتى يحب لأخيه ما يحب لنفسه»
“যার হাতে আমার জীবন তার শপথ! তোমাদের মধ্যে কেউ ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের জন্য যা ভালোবাসে অপরের জন্য তা-ই ভালো না বাসে”। ⁷¹
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«المسلم أخو المسلم لا يسلمه ولا يظلمه»
“এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তাকে (বিপদের সময়) অন্যের নিকট সোপর্দ করতে পারে না ও তার প্রতি অত্যাচারও করতে পারে না”। ⁷²
কুরআন ও হাদীসে এরূপ বহু দলীল বিদ্যমান, যাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের কথা বলা হয়েছে।
এরই ভিত্তিতে আল্লাহ তা'আলা এক মুমিন অপর মুমিনের বন্ধু বা সাহায্যকারী হিসেবে প্রতিপন্ন করেছেন। পরস্পর পরস্পরকে ভাই ভাই বানিয়ে দিয়েছেন। একে অপরকে সাহায্যকারী, অনুগ্রহকারী ও দয়াশীল হিসেবে পরিণত করেছেন। এ উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ঐক্য স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দলাদলি ও মতভেদ করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ﴾ [ال عمران: ١٠٣]
"তোমরা সমবেতভাবে আল্লাহ তা'আলার রজ্জুকে সু-দৃঢ়ভাবে ধারণ কর ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন হইয়ো না”। [আল আলে ইমরান, আয়াত: ১০৩]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
﴿إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَّسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللَّهِ ﴾ [الانعام: ١٥٩]
"নিশ্চয় যারা নিজেদের দীনকে খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত করে নিয়েছে আর দলে দলে ভাগ হয়ে গেছে, তাদের কোনো কাজের সাথে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের বিষয় আল্লাহ তা'আলার ওপর ন্যস্ত”। [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১৫৯]
বড়ই পরিতাপের বিষয়! কীভাবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের লোকেরা বিভিন্ন দল ও বিবিধ মতভেদে বিভক্ত হয়েছে। দলের স্বার্থেই কেবল ধারণা প্রসূত জ্ঞান ও প্রবৃত্তির চরিতার্থে কোনো লোক এক দলকে ভালোবাসে ও অপর দলকে শত্রু মনে করে অথচ আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এ মর্মে কোনো প্রমাণ তাদের নিকট নেই।
টিকাঃ
68 আল্লাহ তা'আলা বলেন, أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ الَّذِينَ ءَامَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ) [يونس: ٦٢، ٦٤]
আল্লাহ তা'আলা বলেন, ]إِنْ أَوْلِيَاؤُهُ إِلَّا الْمُتَّقُونَ﴾ [الانفال: ٣٤
69 সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৩৮
70 সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৮২
71 সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭২
72 সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৭৮
📄 জামা‘আত রহমত আর বিভক্তি আযাব
এ ধরনের দলাদলি ও বিভক্তি যা মুসলিম উম্মাহ ও তাদের আলেম, পণ্ডিত, আমীর ও শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে, এর ফলশ্রুতিতেই শত্রুদের তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর অন্যতম কারণ হল, তারা আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলের আনুগত্য করা ছেড়ে দিয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَمِنَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصَرَى أَخَذْنَا مِيثَاقَهُمْ فَنَسُوا حَقًّا مِّمَّا ذُكِّرُوا بِهِ، فَأَغْرَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ﴾ [المائدة: ١٤]
"আর যারা বলে 'আমরা খ্রিস্টান' আমরা তাদের নিকট থেকেও ওয়াদা নিয়েছিলাম। অনন্তর তাদেরকে যা কিছু উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে তারা নিজেদের এক বড় অংশ হারাতে বসেছে। সুতরাং আমি তাদের পরস্পরের মধ্যে হিংসা ও শত্রুতা সঞ্চার করে দিলাম"। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ১৪]
যখনই মানুষ আল্লাহ তা'আলার কতক বিধান পরিত্যাগ করেছে, তখনই তাদের মধ্যে শত্রুতা ও হিংসা এবং কাটাকাটি দেখা দিয়েছে। আর যখন জাতি বিভিন্ন দল, সংগঠন ও পার্টিতে বিভক্ত হয়েছে, তখনই তারা বিপর্যয় ও ধ্বংসলীলায় পতিত হয়েছে। আর যখনই তারা একটি দলে সমবেত হয়েছে, তখনই তারা সংশোধন হয়েছে ও অহীর বিধানে রাজ্য প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছে। কেননা এক দলে থাকে রহমত। বিভক্ত হওয়া, দলাদলি করা ও মুসলিম সমাজে ফাটল সৃষ্টি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
📄 ভালো কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা দেওয়া
আর একতাবদ্ধতা ও ঐক্য সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে বাধা দেওয়ার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ، وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ وَآيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُوْلَبِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴾ [ال عمران: ١٠٢, ١٠٤]
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা প্রকৃত ভীতি সহকারে আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর এবং মুসলিম হওয়া ব্যতীত মরিও না। আর তোমরা এক যোগে আল্লাহ তা'আলার রুজ্জু দৃঢ় ভাবে ধারণ কর ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যেও না এবং তোমাদের প্রতি আল্লাহ তা'আলার যে নি'আমত রয়েছে তা স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে তখন তিনিই তোমাদের অন্তঃকরণে প্রীতি স্থাপন করেছিলেন, তারপর তোমরা তার অনুগ্রহে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ হলে এবং তোমরা অগ্নি-গহ্বরের প্রান্তে ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করলেন; এভাবে আল্লাহ তা'আলা তোমাদের স্বীয় নিদর্শনা বলী ব্যক্ত করেন যেন তোমরা সুপথ প্রাপ্ত হও এবং তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল হোক, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে ও ভালো কাজের আদেশ করবে ও মন্দ কাজের নিষেধ করবে তারাই সুফল প্রাপ্ত”। [আল আলে ইমরান, আয়াত: ১০২-১০৪]
সৎ কাজের আদেশ দ্বারা ঐক্য ও একতাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আর মতবিরোধ ও দলাদলি বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অসৎ কাজ হতে বিরত থাকার নির্দেশ দ্বারা যারা আল্লাহর দেওয়া শরী'আতের পাবন্দি থেকে বের হয়ে গেছে তাদের তাদের ওপর শাস্তি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
আর একতাবদ্ধতা ও ঐক্য সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে বাধা দেওয়ার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ، وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ وَآيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُوْلَبِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴾ [ال عمران: ١٠٢, ١٠٤]
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা প্রকৃত ভীতি সহকারে আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর এবং মুসলিম হওয়া ব্যতীত মরিও না। আর তোমরা এক যোগে আল্লাহ তা'আলার রুজ্জু দৃঢ় ভাবে ধারণ কর ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যেও না এবং তোমাদের প্রতি আল্লাহ তা'আলার যে নি'আমত রয়েছে তা স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে তখন তিনিই তোমাদের অন্তঃকরণে প্রীতি স্থাপন করেছিলেন, তারপর তোমরা তার অনুগ্রহে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ হলে এবং তোমরা অগ্নি-গহ্বরের প্রান্তে ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করলেন; এভাবে আল্লাহ তা'আলা তোমাদের স্বীয় নিদর্শনা বলী ব্যক্ত করেন যেন তোমরা সুপথ প্রাপ্ত হও এবং তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল হোক, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে ও ভালো কাজের আদেশ করবে ও মন্দ কাজের নিষেধ করবে তারাই সুফল প্রাপ্ত”। [আল আলে ইমরান, আয়াত: ১০২-১০৪]
সৎ কাজের আদেশ দ্বারা ঐক্য ও একতাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আর মতবিরোধ ও দলাদলি বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অসৎ কাজ হতে বিরত থাকার নির্দেশ দ্বারা যারা আল্লাহর দেওয়া শরী'আতের পাবন্দি থেকে বের হয়ে গেছে তাদের তাদের ওপর শাস্তি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
📄 ভালো কাজের আদেশ দেওয়া ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ করা দায়িত্বশীলদের কাজ
• দায়িত্বশীল অর্থাৎ যারা প্রত্যেক গোত্রের আলেম, নেতৃত্ব দানকারী শাসক ও মাশায়েখ, তাদের ওপর ওয়াজিব হলো, তারা সর্বসাধারণকে সৎ কাজের আদেশ দিবে, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। ফলে তারা আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল যে বিষয়ের আদেশ দিয়েছে, তা পালন করার জন্য। জনসমাজকে নির্দেশ দিবে, আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল কর্তৃক নিষিদ্ধ বিষয়াবলী হতে দূরে থাকার জন্য তাদের নির্দেশ দেবে।
• দায়িত্বশীল অর্থাৎ যারা প্রত্যেক গোত্রের আলেম, নেতৃত্ব দানকারী শাসক ও মাশায়েখ, তাদের ওপর ওয়াজিব হলো, তারা সর্বসাধারণকে সৎ কাজের আদেশ দিবে, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। ফলে তারা আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল যে বিষয়ের আদেশ দিয়েছে, তা পালন করার জন্য। জনসমাজকে নির্দেশ দিবে, আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল কর্তৃক নিষিদ্ধ বিষয়াবলী হতে দূরে থাকার জন্য তাদের নির্দেশ দেবে।