📘 মহা উপদেশ > 📄 সাহাবীগণের মাঝে সংঘটিত বিবাদ বিষয়ে আলোচনা থেকে বিরত থাকা

📄 সাহাবীগণের মাঝে সংঘটিত বিবাদ বিষয়ে আলোচনা থেকে বিরত থাকা


তদ্রূপ সাহাবীগণের মধ্যে সংঘটিত বিবাদ সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বনের প্রতি আমরা ঈমান পোষণ করি। আমরা আরো অবগত আছি যে, এ মর্মে বর্ণিত বহু কথা আছে যা বানোয়াট। আর কিছু ছিল ইজতিহাদী বিষয়। কারণ সাহাবায়ে কেরাম মুজতাহিদ ছিলেন। আর ইজতিহাদে (শরী'আত গবেষণায়) সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছার জন্য তাদের জন্য রয়েছে দু'টি পুরষ্কার আর ভুল হলে একটি পুরস্কার যা তাদের সৎকর্মে পরিণত হবে। ভুলের জন্য তারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হবেন। মহান আল্লাহ তা'আলার রহমতে তাদের পাপসমূহের ওপর তাদের পুণ্যসমূহ অগ্রবর্তী হবে। মহান আল্লাহ তা'আলা তাওবা, বিশেষ পুণ্যাবলী, পাপ বিমুক্ত হওয়ার বিপদ-আপদ বা অন্য কোনো কিছু দ্বারা তাদের পাপকে ক্ষমা করে দিবেন। কারণ, তারা এ উম্মতের স্বর্ণ যুগের অধিবাসী। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«خير القرون قرني الذي بعثت فيهم، ثم الذين يلونهم»
"সবচেয়ে উত্তম যুগ সেই যুগ যে যুগের মধ্যে আমি প্রেরিত হয়েছি। অতঃপর তার পরবর্তী যুগ”। 62
এ উম্মতই হলো শ্রেষ্ঠতম উম্মত। মানুষের কল্যাণের জন্যে তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে।
এতদসত্ত্বেও জানা যায় যে, মু'আবিয়া রাদিয়াল্লাহু 'আনহু ও তার সহযোগী যুদ্ধ বাহিনীর চেয়ে আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু উত্তম ও অধিক সত্যের নিকটবর্তী ছিলেন। যেমন, সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আবু সা'ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু কর্তৃক বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন
«تمرق مارقة على حين فرقة من المسلمين تقتلهم أدنى الطائفتين إلى الحق»
"মুসলিমদের মধ্য হতে একটি দল বের হয়ে যাবে। দু'দলের মধ্যে যেটি হকের বেশি কাছাকাছি সেটিকে তারা হত্যা করবে।" এ হাদীস প্রমাণ করে যে, সাহাবীগণের মধ্যে সংঘটিত বিবাদমূলক সকল দল হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল তার প্রকৃষ্ট দলীল। আর আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু ছিলেন হকের অধিক নিকটবর্তী"।
পক্ষান্তরে সা'আদ ইবন আবী ওক্কাছ, ইবন উমারসহ অনেকে ফিতনার মধ্যে কোনো একদলে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ গ্রহণ না করে বসে ছিলেন। তারা ফিতনার যুগে সশস্ত্র যুদ্ধ হতে বিরত থাকার অকাট্য দলীলসমূহ গ্রহণ করেছিলেন। অধিকাংশ আহলে হাদীস ও আহলে ইলম এর ওপরই সু-প্রতিষ্ঠিত।

টিকাঃ
62 সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৩৩

📘 মহা উপদেশ > 📄 আহলে বাইতদের হক

📄 আহলে বাইতদের হক


অনুরূপভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার-বংশধরের প্রতিও মুসলিম জাতির অধিকার আছে। তাদেরকে দেখাশুনা করা মুসলিম কর্ণধারদের ওপর ফরয। কেননা বিনা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ও যুদ্ধ লব্ধ সম্পদের এক পঞ্চমাংশ আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্যে ধার্য করে দিয়েছেন। এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের সময় তার বংশধরকে অন্তর্ভুক্ত করে দরুদ পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের জন্য বলেন, তোমরা বল,
«اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ تَجِيدُ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ»
"হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার বংশধরের ওপর সালাত বর্ষণ কর। যেমন তুমি ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও তার বংশধরের ওপর বর্ষণ করেছ, নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার বংশধরের ওপর বরকত নাযিল কর। যেমন তুমি ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও তার বংশধরের ওপর বরকত নাযিল করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত"। 63
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বংশধর তারা যাদের ওপর যাকাত-সদকা খাওয়া হারাম ছিল। ইমাম শাফে'ঈ রহ., আহমাদ ইবন হাম্বল রহ.-সহ অনেকেই এ কথা বলেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِنَّ الصَّدَقَةَ لَا تَحِلُّ لِمُحَمَّدٍ وَلَا لِآلِ مُحَمَّدٍ
"যাকাত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারের জন্যে হালাল নয়"। 64
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا ﴾ [الاحزاب : ৩৩]
"হে নবী পরিবার, আল্লাহ তা'আলা তো শুধু চান তোমাদের হতে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে”। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৩]
মহান আল্লাহ তা'আলা তাদের ওপর যাকাত হারাম করেছেন। কেননা, তা মানুষের ময়লা। কোনো কোন সালাফ বা পূর্বসূরি আলেম বলেছেন, আবু বকর ও উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমাকে ভালোবাসা ঈমান এবং তাদের সঙ্গে ঈর্ষা করা মুনাফিকী। আর বনী হাশিমকে ভালোবাসা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত ও তাদের প্রতি ঈর্ষা পোষণ করা নিফাকী-পাপ।
মুসনাদ ও সুনান গ্রন্থাবলীতে রয়েছে, যখন কতিপয় সম্প্রদায় বনী হাশিমের ওপর অত্যাচার করছিল তখন আব্বাস সে বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অভিযোগ করলে, তিনি আব্বাসকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
والذي نفسي بيده لا يدخلون الجنة حتى يحبوكم من أجلى
“হে জন সমাজ! যে মহান সত্ত্বার হাতে আমার জীবন তার শপথ করে বলছি, আমার কারণে তোমরা বনী হাশিমকে মহব্বত না করলে জান্নাতে যেতে পারবে না”। 65
সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إن الله اصطفى بني إسماعيل، واصطفى بني كنانة من بني إسماعيل، واصطفى قريشا من كنانة، واصطفى بني هاشم من قريش، واصطفاني من بني هاشم
“আল্লাহ তা'আলা বনী ইসমাঈলকে মনোনিত করেছেন, বনী ইসমাইল থেকে বনী কিনানাকে মনোনিত করেছেন। বনী কিনানা থেকে কুরাইশকে বাছাই করে নিয়েছেন। কুরাইশ গোত্র থেকে বনী হাশিমকে নির্বাচিত করেছেন”। 66

টিকাঃ
63 সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩০৫
64 সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০৭২
65 তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬৪
66 মুসলিম, হাদীস নং ২২৭৬

📘 মহা উপদেশ > 📄 ফিতনা ও তার প্রভাব

📄 ফিতনা ও তার প্রভাব


উসমান রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে হত্যার মাধ্যমে ফিতনার আগুন দাউদাউ করে জ্বলে উঠল। এক ও অখণ্ডিত মুসলিম মিল্লাত বিবিধ দলে উপদলে বিভক্ত হল। এক দল উসমান রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর পক্ষ নিলো এবং তার প্রতি অতি শ্রদ্ধায় সীমালঙ্ঘন করল এবং আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল, এরা ছিল অধিকাংশ শামবাসী। তারা নির্দ্বিধায় আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে গালি-গালাজ ও তার সঙ্গে চরম ঈর্ষা শুরু করল।
অপর দিকে অধিকাংশ ইরাকবাসী আলীর রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর পক্ষ গ্রহণ করল এবং আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে শ্রদ্ধা করতে গিয়ে সীমালঙ্ঘন ও বাড়াবাড়ি করল, উসমান রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল, তার সঙ্গে বিরোধের পাহাড় ক্রমান্বয়ে গাঢ় হয়ে উঠল, তাকে গালি-গালাজ দেওয়া শুরু করল। এভাবে এ ফিরকাবন্দী ও বিদ'আত প্রকট আকার ধারণ করল। এরা শেষ পর্যন্ত আবু বকর ও উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমাকে গালি দেওয়া শুরু করল। ফলে সেদিন এটি বৃহত্তর বিপদ রূপে প্রকাশ পেল।
সুন্নাহ বা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের আদর্শ হলো উসমান ও আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা উভয়কে মহব্বত করা। আর আবু বকর ও উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমাকে তাদের দু'জনের উপরে অগ্রাধিকার দেওয়া। তারা দু'জন এ জন্যে প্রাধান্য পাওয়ার যোগ্য যে, তাদের দুইজনকে মহান আল্লাহ তা'আলা বিশেষ বিশেষ গুণে বিশেষিত করেছেন। মহান আল্লাহ তা'আলা স্বীয় গ্রন্থে দলাদলি ও বিচ্ছিন্ন হওয়া নিষেধ করেছেন।
এটি এমন স্থান যেখানে ঐক্যের ওপর অটুট থাকা ও আল্লাহ তা'আলার রজ্জুকে সু-দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা মুমিনের ওপর ওয়াজিব করেছেন। কারণ, ইলম, ন্যায়পরায়ণতা ও আল্লাহ তা'আলার কিতাব ও সুন্নতের অনুসরণের ওপরই সুন্নতের মূলভিত্তি প্রতিষ্ঠিত।

📘 মহা উপদেশ > 📄 যারা সাহাবীগণের গালি দেয় তাদের শাস্তি

📄 যারা সাহাবীগণের গালি দেয় তাদের শাস্তি


অতঃপর যখন রাফিদ্বী সম্প্রদায় সাহাবীগণের গালি গালাজ শুরু করল, তখন আলেমগণ সিদ্ধান্ত নিলেন যে, যারাই সাহাবীগণকে গালি দিবে তাদেরকেই শাস্তি প্রদান করতে হবে। তারপরও রাফেদ্বী সম্প্রদায় সাহাবীগণকে কাফির বলা ছাড়াও আরও বহু বাড়াবাড়ি করেছে। আমি ইতোপূর্বে বহু স্থানে তার উল্লেখ করেছি এবং ঐ কাজের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শর'ঈ বিধানও বর্ণনা করেছি। সে সময় ইয়াযিদ ইবন মু'আবিয়ার বিষয়ে কেউই কোনো কথা উপস্থাপন করে নি। তার বিষয়টি দীনী কোনো আলোচনার বিষয়ও ছিল না। পরবর্তীতে তার বিষয়ে বহু কাল্পনিক ইতিহাস রচনা করা হয়েছে। কোনো কোনো দল তাকে প্রকাশ্যে অভিসম্পাত প্রদান করেছে। হয়তো এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য ছিল অন্যদের অভিশাপের দরজা খুলে দেওয়া। কিন্তু অধিকাংশ আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত কাউকে নির্দিষ্টভাবে অভিসম্পাত করা কখনো পছন্দ করেন নি। সুন্নতের প্রতি আজ্ঞাবহ কতক মুসলিম (আহলে সুন্নাত কর্তৃক) লা'নত না করার বিষয়টি জানতে পেরে মনে করল ইয়াযিদ ছিল অনেক বড় নেককার ও হিদায়েতের বিশেষ ইমাম। (অথচ এটা তাদের ভুল ধারণা)
বস্তুত ইয়াযিদের বিষয়ে দুই দিক থেকে বিপরীত মুখী বাড়াবাড়ি করা হয়েছে অর্থাৎ একদল তার সম্পর্কে বলে, কাফির, দীন-চ্যুত মুরতাদ। কারণ, সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাতীকে হত্যা করেছে, তার নানা উত্বাহ ইবন রাবী'আহ ও তার মামা ওয়ালিদসহ যাদেরকে কাফির মনে করে হত্যা করা হয়েছিল তাদের প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য তিনি আনসার ও তার বংশধরকে হাররা নামক স্থানে হত্যা করেছে, প্রকাশ্য মদ খাওয়া, দিবালোকে গর্হিত কার্যাবলী সম্পাদন সহ নানা অশ্লীল কাজে জড়িত ছিলেন বলে তারা উল্লেখ করেন।
পক্ষান্তরে প্রশংসাকারীগণ বিশ্বাস করেন যে, তিনি সুপথ প্রাপ্ত পথ প্রদর্শক ন্যায়পরায়ণ নেতা ছিলেন। তিনি সাহাবী বা শীর্ষ স্থানীয় সাহাবীগণের অন্যতম একজন। তিনি আল্লাহ তা'আলার ওলীদের বিশেষ একজন। কখনো কখনো কেউ এও বিশ্বাস করতো যে তিনি নবীদের একজন ছিলেন। তারা আরো বলেছেন যারা ইয়াজিদের সমালোচনা থেকে বিরত থাকবে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বিরত রাখবেন।
তারা শাইখ হাসান ইবন আদী রহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, ইয়াজিদ এ রূপ এ রূপ মহাগুণের অধিকারী মহান অলী ছিলেন। যারা ইয়াজিদের সমালোচনা থেকে বিরত হবে তারা জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পাবে। শাইখ হাসানের সমকালীন ঐসব ভক্তরা মহামান্য শাইখ আদীর মতের বিরুদ্ধে তার ও ইয়াজিদের বিষয়ে তারা বহু ভ্রান্ত কবিতা, বাড়াবাড়িমূলক বহু রচনাবলী তার নামে ছড়িয়ে দিয়েছে। তারা শাইখ 'আদি ও ইয়াযিদ বিষয়ে এমন বাড়াবাড়ি করে যা শাইখ 'আদি যে মতের ওপর ছিলেন তা তার বিরুদ্ধে চলে যায়। তার বিরুদ্ধে যে সব অপবাদ দেওয়া হয়, তা হতে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ নিরাপদ। তার মধ্যে এ ধরনের কোন বিদ'আত ছিল না, যার অপবাদ তারা রটিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি রাফেজীদের দ্বারা আক্রান্ত হন এবং তাদের রোষানলে পড়েন। তারা শাইখ হাসানকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। মুসলিম জাহানে ফিতনার কালো ছায়া নেমে আসে যা আল্লাহ ও তার রাসূল কখনো পছন্দ করেন নি।
এ হলো ইয়াজিদের বিষয়ে দু'দিক থেকে বিপরীতমুখী বাড়াবাড়ির সংক্ষিপ্ত ভাষা চিত্র। ইয়াযিদ সম্পর্কে উভয় পক্ষের পরস্পর বিরোধি এ ধরনের বাড়াবাড়ি মুসলিম সমাজ ও আলিমদের ঐক্যমতের সম্পূর্ণ বিরোধী কার্যকলাপ।
কেননা, ইয়াজিদ ইবন মু'আবিয়াহ উসমান ইবন 'আফ্ফান রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর খিলাফতে জন্ম গ্রহণ করে। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাত পান নি। আলিমদের ঐকমত্য অনুযায়ী তিনি সাহাবী ছিলেন না। দীন ও যথাযথ কাজের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি মুসলিম যুবকদের একজন একজন ছিলেন। কাফির দীন-চ্যুৎ মুরতাদ ছিলেন না। তার পিতার মৃত্যুর পর কিছু সংখ্যক মুসলিমদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এবং কিছু সংখ্যক মুসলিমদের সম্মতিতে তিনি মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্র ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হন। তার ছিল বহু বীরত্ব ও সুমহান বদান্য, তিনি প্রকাশ্য অশ্লীল কাজে জড়িত ছিলেন না। যেমন কিছু সংখ্যক বিরুদ্ধবাদীরা বর্ণনা করে থাকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00