📄 বাতিল ও গোমরাহির মূলনীতি
যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও খোলাফায়ে রাশেদীনের স্বর্ণ যুগে মুসলিমগণের সাথে সম্পৃক্তকারী কেউ কেউ বিশাল ইবাদাত থাকা সত্ত্বেও ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে, এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন, তাহলে প্রমাণিত হলো আধুনিক কালেও ইসলাম ও সুন্নতের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো কোনো লোক ইসলাম ও সুন্নাহ হতে বেরিয়ে যাবে। এমনকি অনেকেই সুন্নতের অনুসারী দাবী করবে কিন্তু তারা সুন্নতের অনুসারী নয়; বরং তারা ইসলাম ও সুন্নাহ হতে সম্পূর্ণ বেরিয়ে গেছে।
📄 সুন্নাহ থেকে বের হওয়ার কারণ
আর এর পশ্চাতে রয়েছে বহু কারণ:
সুন্নাহ থেকে বের হওয়ার কারণ:
[১] বাড়াবাড়ি: এ বাড়াবাড়ি হলো সেই অপরাধ কুরআনে আল্লাহ তা'আলা যার নিন্দা করেছেন। ফলে আল্লাহ তা'আলা বলেন, يَأَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ وَ أَلْقَهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ فَامِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَلَا تَقُولُوا ثَلَاثَةٌ أَنتَهُوا خَيْرًا لَّكُمْ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهُ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ وَ أَن يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلًا ﴾ [النساء : ١٧١]
"হে আহলে কিতাব! তোমরা তোমাদের দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না, আর আল্লাহ তা'আলা সম্বন্ধে সত্য ছাড়া কিছু বলও না, নিশ্চয় ঈসা মাসীহ তো আল্লাহ তা'আলার রাসূল ও তার বাণী যা তিনি মারিয়ামের নিকট প্রেরণ করেছিলেন, আর তার পক্ষ হতে নির্দেশ। অতএব, তোমরা আল্লাহ তা'আলা ও তদীয় রাসূলগণের ওপর বিশ্বাস স্থাপন কর, আর বলও না তিনজন (ইলাহ আছে), (তোমাদের ভ্রান্ত আক্বীদা থেকে) নিবৃত্ত হও, তা হবে তোমাদের জন্য কল্যাণকর, নিশ্চয় এক আল্লাহ তা'আলাই প্রকৃত ইলাহ, তিনি কোনো সন্তান হওয়া হতে পূত পবিত্র। আসমানসমূহে আর জমিনে যা আছে সবকিছু তারই, আর আল্লাহ তা'আলাই কর্ম সম্পাদনের জন্য যথেষ্ট”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৭১]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
قُلْ يَتَأَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعُوا أَهْوَاءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّوا مِن قَبْلُ وَأَضَلُّوا كَثِيرًا وَضَلُّوا عَن سَوَاءِ السَّبِيلِ ﴾ [المائدة: ٧٧]
"বল, হে আহলে কিতাব! তোমরা নিজেদের দীন সম্বন্ধে অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করো না, আর সেই সম্প্রদায়ের খেয়াল খুশির অনুসরণ করো না যারা অতীতে নিজেরাও ভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে এবং আরো বহু লোককে ভ্রান্তিতে নিক্ষেপ করেছে, বস্তুত: তারা সরল পথ হতে বিচ্যুত হয়ে গেছে”। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৭৭]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إياكم والغو فى الدين فإنما أهلك من كان قبلكم الغلو في الدين
"দীনের বিষয়ে বাড়াবাড়ি পরিহার কর। কারণ, তোমাদের ইতিঃপূর্বের লোকেরা দীনের বিষয়ে বাড়াবাড়ি করার কারণে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে"। হাদীসটি সহীহ। ³⁴
[২] দলাদলি ও মতভেদ যার আলোচনা আল্লাহ তা'আলা মহা-গ্রন্থ আল কুরআনের বহুবার করেছেন। ³⁵
[৩] জাল হাদীসের ওপর আমল করা: এগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক বর্ণিত এমন হাদীস যা বিশেষজ্ঞ পণ্ডিতদের মতৈক্য অনুসারে তাঁর ওপর অর্পিত মিথ্যাচার। মূর্খগণ ঐগুলো হাদীস বলে শ্রবণ করে। আর ধারণা প্রসূতভাবে কু-প্রবৃত্তির চরিতার্থে তা সত্য বলে গ্রহণও করে।
[৪] পথভ্রষ্টতার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে: প্রবৃত্তির অনুসরণ ও ধারণার অনুগামী হওয়া, যেমন- আল্লাহ তা'আলা প্রবৃত্তির অনুসরণকারী ও ধারনার অনুসারী যাদের নিন্দা করেছেন তাদের সম্পর্কে বলেন, ﴿إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ وَلَقَدْ جَاءَهُم مِّن رَّبِّهِمُ الْهُدَى﴾ [النجم : ٢٣]
"তারা তো শুধু ধারণা আর প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে, যদিও তাদের কাছে তাদের 'রব' এর পক্ষ থেকে পথ নির্দেশ এসেছে”। [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ২৩]
আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রসঙ্গে বলেন, ﴿وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى ٭ مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى ٭ وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى ٭ إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى﴾ [النجم : ٤،١]
"শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয়, তোমাদের সঙ্গী বিভ্রান্ত নয়, বিপথগামীও নয়, আর সে মনগড়া কথাও বলে না। এটা তো ওহী যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়"। [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ১-৪]
সুতরাং আল্লাহ তা'আলা তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পথভ্রষ্টতা ও বিভ্রান্তি, যে দু'টি অজ্ঞতা ও যুলুম, সে দু'টি খারাপ গুণ থেকে পবিত্র বলে ঘোষণা দিয়েছেন। পথভ্রষ্ট হলো সেই ব্যক্তি যে হক জানে না। আর বিভ্রান্ত হলো সে ব্যক্তি যে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। আল্লাহ তা'আলা বিবৃতি প্রদান করছেন এ মর্মে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় প্রবৃত্তি হতে কোনও কথা বলেন নি। বরং তা ছিল ওহী যা আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি প্রত্যাদেশ করেছিলেন। আল্লাহ তা'আলা তাকে জ্ঞান দ্বারা বিশেষিত করেছেন এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করা থেকে মুক্ত বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এখন আমি কিছু বাতিল পন্থীদের কতক মূলনীতি আলোচনা করব, যারা নিজেদের সুন্নতের অনুসারী বলে দাবী করে। অথচ তারা সুন্নাত থেকে অনেক দূরে সরে গেছে এবং বড় যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
টিকাঃ
³⁴ মুসনাদে আহমদ: ২১৫/১, নাসায়ী: ২৬৮/৫
³⁵ আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاثُ وَأُوْلَتَبِكَ ]لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴾ [آل عمران: ١٠٥ আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা বিভক্ত হয়েছে এবং মতবিরোধ করেছে তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর। আর তাদের জন্যেই রয়েছে কঠোর আযাব"। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৫]
আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ﴾ [الانعام: ١٥٩] "নিশ্চয় যারা তাদের দীনকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং দল-উপদলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের কোনো ব্যাপারে তোমার দায়িত্ব নেই। [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১৫৯]