📄 দ্বিতীয়টির বর্ণনা
দ্বিতীয় বিষয়টি (তথা আল্লাহ তা'আলা বিশেষভাবে এ উম্মতের জন্য যেসব বিধান প্রবর্তন করেছেন, তা হচ্ছে) আল্লাহ তা'আলা মাদানী সূরাসমূহে তার দীনের যে সব বিধি-বিধান নাযিল করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতের জন্য যে সব সুন্নাত প্রচলন করছেন। (যাকে শরী'আত বলা হয় আর তা শুধু এ উম্মতের জন্য বিশেষভাবে প্রণয়নকৃত)।
কেননা আল্লাহ তা'আলা তার নবীর ওপর কিতাব ও হিকমাহ নাযিল করেছেন এবং আল্লাহ তা'আলা এ দ্বারা মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ দেখিয়েছেন। আর তিনি তার নবীর স্ত্রীদেরকে কিতাব ও হিকমত নিয়ে আলোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَأَنزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُن تَعْلَمُ﴾ [النساء : ١١٣]
"এবং আল্লাহ তা'আলা তোমার প্রতি গ্রন্থ ও হিকমাহ (হাদীস) অবতীর্ণ করেছেন এবং তুমি যা জানতে না, তিনি তাই তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১১৩]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْ أَنفُسِهِمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ وَآيَاتِهِ، وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ﴾ [آل عمران: ١٦٤]
"নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত অনুকম্পা প্রদর্শন করেছেন যখন তাদের নিকট তাদের নিজস্ব একজনকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন, সে তাদেরকে আল্লাহর আয়াত পড়ে শুনাচ্ছে, তাদেরকে পরিশোধন করছে, তাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ (হাদীস) শিক্ষা দিচ্ছে”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬৪]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ ءَايَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ [الاحزاب: ٣٤]
"আল্লাহর আয়াত ও হিকমাহ (হাদীস) এর কথা যা তোমাদের গৃহে পঠিত হয়, তা তোমরা স্মরণ রাখবে"। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৪]⁷
সালফে সালেহীনের অনেকেই বলেছেন, হিকমাহ হলো সুন্নাহ বা হাদীস। কেননা, কুরআন ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের গৃহে যা পাঠ করা হতো তা ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ। এ জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- «ألا وإني أُوتيت الكتاب ومثله معه» "সাবধান! আমাকে কিতাব ও তার সঙ্গে অনুরূপ কিছু দেওয়া হয়েছে"। ¹⁰
টিকাঃ
⁷ আয়াতে হিকমতের তাফসীরে একাধিক মত পাওয়া যায়। কাতাদাহ বলেন, "হিকমত হলো কুরআন ও সুন্নাহ"।
¹⁰ সুনান আবু দাউদ, ৭/৭, সুনান তিরমিযী, ৪২৬/৭, সুনান ইবন মাজাহ, ৬/১, মুসনাদে আহমদ। ইমাম শাফে'ঈ রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো কুরআন। আর হিকমত উল্লেখ করেছেন। আর এ বিষয়ে আহলে ইলমদের মধ্য থেকে যিনি কুরআন বিষয়ে বেশি অভিজ্ঞ তার থেকে শুনেছি তিনি বলেন, হিকমত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ। এ কথাটি একথারই মতো যে, কুরআন হলো যিকির এবং তার সাথেই রয়েছে হিকমত। আর আল্লাহ তা'আলা তার মাখলুককে কুরআন ও হিকমত শেখানোর মাধ্যমে যে দয়া ও অনুগ্রহ করেছেন। তিনি তার আলোচনা করেন। তবে এ কথা বলা ঠিক হবে না যে, হিকমত দ্বারা উদ্দেশ্য এখানে শুধু সুন্নত। কারণ, সুন্নাত আল্লাহর কিতাবের বাহিরে নয় আল্লাহর কিতাবেরই অংশ। আল্লাহ তা'আলা তার স্বীয় রাসূলের আনুগত্য করাকে ফরয করেছেন এবং তার নির্দেশ মানাকে আবশ্যক করেছেন। সুতরাং কোন কথা বিষয়ে এ কথা বলা ঠিক হবে না যে, আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফরয তারপর তার রাসূলের সুন্নত অনুযায়ী। কারণ, আমরা আগেই বলেছি যে, আল্লাহ তা'আলা তার রাসূলের প্রতি ঈমান আনাকে তার প্রতি ঈমান আনার সাথে একত্র করে দিয়েছেন। দুটিকে আলাদা করে দেখার কোনো অবকাশ নাই। রাসূলের সুন্নাত হলো, আল্লাহ তা'আলা কি বুঝাতে চেয়েছেন আল্লাহর পক্ষ থেকে তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বর্ণনা। আর এটি আল্লাহ তা'আলা তার মাখলুকের মধ্য থেকে আর জন্য রাখেন নি একমাত্র স্বীয় রাসূল ছাড়া। (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: রিসালাতুশ শাফে'ঈ: ৭৮-৭৯)
📄 শরী‘আতের বিধানসমূহের দৃষ্টান্ত, যার প্রতি আল্লাহ তা‘আলা এ নবী ও তার উম্মতকে হিদায়াত দিয়েছেন
কাজে ও ঋণগ্রস্তদের জন্য, আর জিহাদে আর মুসাফিরদের সাহায্যার্থে। এ হুকুম আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরয। আর আল্লাহ তা'আলা মহাজ্ঞানী ও অতি প্রজ্ঞাময়”। [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৬০]
📄 শরী‘আতের বিধানসমূহের আরো দৃষ্টান্ত
অনুরূপ শরী'আতের বিধি-বিধানের আরো দৃষ্টান্ত হলো, রমযান মাসের সওম পালন, বায়তুল্লাহিল হারামের হজ সম্পাদন করা। আর ঐসব নিয়ম কানুন ও সীমারেখা যা আল্লাহ তা'আলা মানুষের জন্যে বিবাহ, মিরাস, শাস্তি, ক্রয়-বিক্রয়ে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আর ঐসব সুন্নাহসমূহ যা তিনি 'ঈদ, জুমু'আ, ফরয সালাতের জামা'আত এবং কুসূফ, ইসতিসকা, জানাযা ও তারাবীর সালাতে সুন্নাত হিসাবে বিধিবদ্ধ করেছেন।
আর শরী'আতের বিধানসমূহের আরো দৃষ্টান্ত: যা তিনি অভ্যাগত রীতি বলে সাব্যস্ত করেছেন। যথা: খাদ্য গ্রহণ, পোশাক পরিধান, জন্ম-মৃত্যু বিষয়ক কার্যাবলী, শিষ্টাচার ইত্যাদি। আর ঐসব আহকাম যেগুলো তাদের মধ্যে আল্লাহ ও তার রাসূলেরই বিধান বলে বিবেচিত। যেমন খুন-খারাবী, আত্মসাৎ, বিবাহ-সাদি, লাভ লোকসান ইত্যাদির বিধান, যা আল্লাহ তা'আলা মানব জাতির জন্য তার নবীর জবানে উম্মতের জন্য প্রচলন করেছেন।
📄 মুক্তিপ্রাপ্ত দলের নিদর্শনসমূহ
ক. আল্লাহর রাসূলের অনুসরণ-অনুকরণ এবং বিচ্ছিন্নতা ও সামগ্রিক পথভ্রষ্টতা থেকে মুক্তি:
আর মুক্তিপ্রাপ্তদল, আল্লাহ তা'আলাই তাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করেছেন এবং তাদের অন্তরে তাকে (ঈমানকে) সু-সজ্জিত করে দিয়েছেন। ফলে তাদেরকে তার রাসূলের অনুসারী বানিয়েছেন। পথভ্রষ্টতার ওপর ঐকমত্য হওয়া হতে তাদেরকে নিরাপদ রেখেছেন, যেমন তাদের পূর্বে বহু জাতি পথভ্রষ্ট হয়েছিল। আর এ কারণেই যখন পূর্বের কোনো জাতি পথভ্রষ্ট হত, তখন মহান আল্লাহ তা'আলা তাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করতেন। যেমন, আল্লাহ তা'আলা যথার্থই বলেছেন,
﴿وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ﴾ [النحل: ٣٦]
"আর আমি প্রত্যেক জাতির কাছে এ মর্মে রাসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহ তা'আলার ইবাদাত কর এবং তাগুতকে (সীমালঙ্ঘনকারীকে) পরিহার কর"। [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৬]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
﴿وَإِن مِّنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ﴾ [فاطر: ٢٤]
"এমন কোনো সম্প্রদায় নেই যার নিকট সতর্ককারী প্রেরিত হয় নি”। [সূরা আল-ফাতির, আয়াত: ২৪]
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবীদের মধ্যে সর্বশেষ। তারপর কোনো নবী নেই। সুতরাং আল্লাহ তা'আলা তার উম্মতকে পথভ্রষ্টতার ওপর মতৈক্য হওয়া থেকে নিরাপদ করেছেন এবং এ উম্মতের মধ্যে এমন ব্যক্তিদেরকে সৃষ্টি করেছেন যাদের দ্বারা কিয়ামত পর্যন্ত দীনের দলীল প্রতিষ্ঠা করবেন। এ কারণেই তাদের ইজমা (মতৈক্য হওয়া) দলীল, যেমনিভাবে কুরআন ও হাদীস দলীল। ¹²
এ কারনেই এ উম্মতের হক পন্থীগণ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আত নামে বিশেষিত হয়েছে বাতিলপন্থীদের থেকে, যারা নিজেদেরকে আল-কুরআনের অনুসারী বলে দাবী করত এবং তারা হাদীস গ্রহণ করা থেকে এবং যার ওপর মুসলিম জামা'আত প্রতিষ্ঠিত ছিল তা থেকে বিরত থাকত। অথচ আল্লাহ তা'আলা স্বীয় গ্রন্থে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ ও তার পথকে আঁকড়ে ধরতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর তিনি আমাদেরকে জামা'আত বদ্ধ থাকতে এবং ও মৈত্রী স্থাপনের আদেশ দিয়েছেন। দলাদলি ও মতবিরোধ করা থেকে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
مَن يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَن تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا ﴾ [النساء : ৮০]
“যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্য করল সে আল্লাহ তা'আলার আনুগত্য করল আর যে ফিরে গেল, তাদের ওপর আপনাকে রক্ষক বানিয়ে পাঠাই নি”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ ﴾ [النساء : ٦٤]
"আর আমরা রাসূল এ উদ্দেশ্যেই প্রেরণ করেছি, যেন আল্লাহ তা'আলার নির্দেশে তার আনুগত্য করা হয়"। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৪]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿ قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ﴾ [آل عمران: ۳۱]
"আপনি বলুন! যদি তোমরা আল্লাহ তা'আলাকে ভালোবাস তাহলে আমার আনুগত্য কর, ফলে আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে ভালোবাসবেন ও তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন, আর আল্লাহ ক্ষমাশীল দয়ালু"। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿ فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا ﴾ [النساء : ٦٥]
"অতএব, তোমার 'রব এর শপথ! তারা কখনই ঈমানদার হতে পারবে না যে পর্যন্ত তোমাকে তাদের আভ্যন্তরীণ বিরোধের বিচারক নিযুক্ত না করে”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৫]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿ وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ﴾ [آل عمران: ١٠٣]
"তোমরা সম্মিলিত ভাবে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হইয়ো না”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৩]
তিনি আরো বলেন, ﴿ إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَّسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ ﴾ [الانعام: ١٥٩]
“নিশ্চয় যারা নিজেদের দীনকে খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত করে নিয়েছে আর দলে দলে ভাগ হয়ে গেছে তাদের কোনো কাজের সাথে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের বিষয় আল্লাহর নিকট, তারা যা করত সে সম্পর্কে তিনি তাদের সংবাদ দিবেন”। [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১৫৯]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿ وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ ﴾ [ال عمران: ١٠٥]
“আর তাদের মতো হইয়ো না, যাদের নিকট প্রকাশ্য প্রমাণ আসার পরও তারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও বিরোধ করেছে”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৫]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿ وَمَا تَفَرَّقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَةُ ﴾ [البينة: ٤]
“যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তারা তো বিভক্ত হলো তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর”। [সূরা আল-বাইয়্যিনাহ, আয়াত: ৪]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ ﴾ [البينة: ٥]
“তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহ তা'আলার আনুগত্যে বিশুদ্ধ হয়ে একনিষ্ঠ ভাবে তার ইবাদাত করতে এবং সালাত কায়েম করতে ও যাকাত প্রদান করতে। আর এটাই সঠিক সুদৃঢ় দীন”। [সূরা আল-বাইয়্যিনাহ, আয়াত: ৫]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿ وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ، ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴾ [الانعام: ١٥٣]
“আর এটাই আমার সরল সঠিক পথ, এ পথেরই তোমরা অনুসরণ কর, আর নানান পথের অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদেরকে তার পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিলেন, যেন তোমরা সতর্ক হও”। [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১৫৩]
আল্লাহ তা'আলা সূরা ফাতিহায় বলেন,
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ * صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ ﴾ [الفاتحة: ٦، ٧]
"আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন। তাদের পথে যাদের প্রতি আপনি নি'আমত দান করেছেন; তাদের পথে নয় যাদের প্রতি আপনার গযব বর্ষিত হয়েছে, তাদের পথেও নয় যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে”। [সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত: ৬-৭]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে- তিনি বলেন,
الْيَهُودُ مَغْضُوبٌ عَلَيْهِمْ وَالنَّصَارِي ضَالُّوْن»
"ইয়াহুদীরা হলো যাদের ওপর গযব বর্ষিত হয়েছে এবং খ্রিস্টানরা হলো যারা পথভ্রষ্ট"। ¹³
সূরা ফাতিহা যাকে উম্মুল কিতাব বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যে সূরাটি তাওরাত, যবুর ইঞ্জিলসহ কুরআনের অন্য কোথাও এ ধরনের সূরা নাযিল করা হয় নি, যে সূরাটি আমাদের নবী মুহাম্মাদকে আরশের নিচের ধন-ভাণ্ডার থেকে উপহার দেওয়া হয়েছে, যে সূরাটি পাঠ করা ব্যতীত সালাত শুদ্ধ হয় না, সে সূরাটিতে আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে এ মর্মে আদেশ করেছেন যে, আমরা যেন এ সূরার মাধ্যমে আমাদের হিদায়াতের ঐ সরল পথ প্রার্থনা করি, যে পথকে আল্লাহ তা'আলা নি'আমত হিসেবে দান করেছেন, নবী, সত্যবাদী, শহীদ ও পুণ্যবান ব্যক্তিদের। এটি ইয়াহুদীদের ন্যায় গযব প্রাপ্ত ও খ্রিস্টানদের ন্যায় পথভ্রষ্টদের পথ নয়।
এ সরল পথই আল্লাহ তা'আলা প্রদত্ত নির্ভেজাল দীন তথা পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা ইসলাম। এটিই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের পথ। কেননা নির্ভেজাল সুন্নাহই হলো খাঁটি দ্বীন ইসলাম। ¹⁴ এ পথ যারা অনুসরণ করবে, তাদের বলা হবে, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আত। এ মর্মে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বহু সূত্রে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। যেমন, সুনান ও মাসানীদ গ্রন্থ প্রণেতা আল্লামা ইমাম আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযী প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ বলেছেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
سَتَفْتَرِقُ هَذِهِ الأُمَّةُ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً كُلُّهَا فِي النَّارِ إِلَّا وَاحِدَةً أَلَا وَهِيَ الْجَمَاعَةُ»
"অতিশীঘ্রই এ উম্মত বাহাত্তর দলে বিভক্ত হবে। একটি দল ব্যতীত সবই জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। জেনে রেখ ঐ একটি হলো, প্রকৃত জামা'আত"।
অন্য বর্ণনায় ঐ জামা'আত এর পরিচয় দেওয়া হচ্ছে এভাবে- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«مَنْ كَانَ عَلَى مِثْلَ مَا أَنَا عَلَيْهِ الْيَوْمَ وَأَصْحَابِي»
"তারা হলো আজ আমি ও আমার সাহাবীগণ যে পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি, তার ওপর যারা প্রতিষ্ঠিত থাকবে, তারা। ¹⁵
টিকাঃ
¹² কারণ, হাদীসে এসেছে, আমার উম্মত কখনো গোমরাহীর ওপর একত্র বা একমত হবে না। এ হাদীসটি বিভিন্ন সনদে আবু মালেক আল-আশ'আরী, ইবন উমার, ইবন 'আব্বাস, আনাস, সামুরাহ, আবু নাযরাহ, আবু উমামহ ও আবু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে ইমাম আবু দাউদ, তিরমিযী ও হাকেম রহ. বিভিন্ন শব্দে উল্লেখ করেছেন। আল্লামা যারাকশী রহ. হাদীসটির সব বর্ণনাধারা ও সনদ তুলে ধরার পর বলেন, মনে রাখ! এ হাদীসের বর্ণনাধারা ও সনদ একাধিক রয়েছে, যার কোনটিই প্রশ্নাতীত নয়। তবে আমি একাধিক সনদ এখানে নিয়ে এসেছি যাতে এক সনদ অপর সনদকে শক্তিশালী করে। এ ছাড়াও হাদীসের সাক্ষ্য হল, সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত مُرَّ عَلَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِجَنَازَةٍ، فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا خَيْرًا، فَقَالَ: «وَجَبَتْ ثُمَّ مُرَّ بِأُخْرَى، فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا شَرًا - أَوْ قَالَ: غَيْرَ ذَلِكَ - فَقَالَ: «وَجَبَتْ، فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قُلْتَ لِهَذَا وَجَبَتْ، وَلِهَذَا وَجَبَتْ قَالَ: شَهَادَةُ القَوْمِ المُؤْمِنُونَ شُهَدَاءُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ» ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে একটি জানাযা যাচ্ছিল, লোকেরা তারা ভালো প্রসংশা করল, তাদের প্রসংশা শোনে আল্লাহর রাসূল বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। তারপর অপর একটি জানাযা অতিক্রম করল, লোকের দূর্নাম করল। তাদের কথা শোনে রাসূল্লাল্লাহু সা. বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কেন এর জন্য বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে আবার এর জন্যেও বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে? এ হল, কাওমের লোকদের সাক্ষ্য। মু'মিনরা জমিনে আল্লাহর সাক্ষীস্বরূপ। (বুখারী হাদীসন নং ২৬৪২) সহীহ মুসলিমে এ مَنْ أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ خَيْرًا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ، وَمَنْ أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ شَرًا وَجَبَتْ لَهُ النَّارُ، أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ، أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ، أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ» করছ, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে। আর তোমরা যার খারাপ প্রসংশা করছ, তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে। জমিনে তোমরা আল্লাহর সাক্ষ্য। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৪৯) এ কথা তিনবার বললেন। দেখুন-ইমাম বদরুদ্দীন আয-যারাকশী রহ. এর আমু'তাবার, পৃষ্ঠা: (৬২-৭২)
ইমাম গাযালী রহ. বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মত ওপর ভুল অসম্ভব হওয়া বিষয়ে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কুরআন ও হাদীসের স্পষ্ট বাণী দ্বারা প্রমাণিত তারা অবশ্যই নিষ্পাপ উম্মত। কুরআন দ্বারা প্রমাণ, আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ ﴾ [البقرة: ١٤٣] “আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানুষের উপর সাক্ষী হও”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৪৩] আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ﴾ [آل عمران: ১০৩] "আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং বিভক্ত হয়ো না। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৩]
আর সুন্নাহের প্রমাণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মত কখনো ভুলের ওপর একমত হবে না। এ উম্মত ভুল থেকে নিরাপদ হওয়া বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একাধিক বর্ণনা বিভিন্ন শব্দে একই অর্থে বা সামর্থক বর্ণিত হয়েছে এবং নির্ভর ও গ্রহণযোগ্য সাহাবীগণ যেমন, 'উরওয়াহ ইবন মাসউদ, আবু সা'ঈদ আল-খুদরী, আনাস ইবন মালেক, ইবন উমার, আবু হুরাইরা ও হুযাইফাহ ইবন ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু 'আনহুম প্রমুখদের জবানেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর বাণীর মতো বিষয়টি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মত গোমরাহীর ওপর একমত হবে না। আল্লাহ আমার উম্মতকে গোমরাহীর ওপর একত্র করবে না। তিনি আরো বলেন, আমি আল্লাহ তা 'আলার নিকট চেয়েছি, যাতে তিনি আমার উম্মতকে গোমরাহীর ওপর একমত না করেন। তিনি আমাকে তা দিয়েছেন। যাকে এ বিষয়টি খুশি করে যে, সে জান্নাতের উচ্চ স্থানে বসবাস করতে সে যেন জামা'আতকে আঁকড়ে ধরে। কারণ, তাদের দো'আ বেষ্টন করে রাখে যারা তাদের পিছনে রয়েছে তাদেরক। শয়তান একা লোকের সাথে থাকে। আর দুইজন লোক থেকে সে অনেক দূরে। আল্লাহর সাহায্য জামা'আতের ওপর। আল্লাহ তা'আলা যে বিচ্ছিন্ন হয় তার বিচ্ছিন্নতাকে পরওয়াহ করেন না। إِنَّ أُمَّتِي لَا تَجْتَمِعُ عَلَى ضَلَالَةٍ، فَإِذَا رَأَيْتُمُ اخْتِلَافًا فَعَلَيْكُمْ بِالسَّوَادِ الْأَعْظَمِ তিনি আরো বলেন, আমরা উম্মত কখনো গোমরাহী ওপর একত্র হবে না। যখন তোমরা তাদের মধ্যে বিভক্তি দেখ, তবে তোমরা বড় জামা'আত (যারা হকের ওপর আছে) তাদের সাথে থাক। (ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩৯৫০) তিনি আরো বলেন, لا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ، حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَذَلِكَ» বিজয়ী থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত তারা হকের ওপর থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা আল্লাহর নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না"। এ ধরনের হাদীসসমূহ সাহাবী ও তাবে'ঈদের থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে, উম্মাতের পূর্বসূরি ও পরবর্তীদের থেকে যারা হাদীস বর্ণনা করেন, তাদের কেউ এ হাদীসগুলোর কোনো প্রতিবাদ করেন নি। সুতরাং হাদীসগুলো উম্মতের পক্ষ ও বিপক্ষ উভয় শ্রেণীর নিকট গ্রহণযোগ্য। এ হাদীসগুলো দ্বারা তারা সবসময় দ্বীনের মৌলিক ও বিধি-বিধান বিষয়ে দলীল উপস্থাপন করে থাকেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ উম্মতের অবস্থানকে খুব গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন এবং তিনি উল্লিখিত বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হাদীসসমূহের মাধ্যমে এ কথার জানান দেন যে, এ উম্মত ভুল থেকে নিরাপদ। সামগ্রিকভাবে উম্মতের এ ধরনের নিষ্পাপ হওয়া তাদের মতৈক্যকে শর'ঈ প্রমাণ হওয়াকে সাব্যস্ত করে। কারণ, আল্লাহ তা'আলা নির্দেশ দেন যে, তোমরা নিরাপদ জামা'আতের সাথে থাক। দেখুন, আল-মুসতাছফা, ১৭৫-১৭৬/১।
¹³ ইমাম আহমদ রহ. 'আদী ইবন হাতের রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনায় হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছে, তিনি বলেন, তারপর আমি ইসলাম গ্রহণ করি। তারপর দেখলাম তার চেহারা উজ্জল হয়ে গেল এবং তিনি বললেন, "ইয়াহুদীরা হলো যাদের উপর গযব বর্ষিত হয়েছে এবং খ্রিস্টানরা হলো যারা পথভ্রষ্ট"। (আহমদ, ৩৭৮/৪; তিরমিযী, ২৮৬/৭)
¹⁴ এমন সোজা ও সঠিক রাস্তা যে রাস্তায় চলাচল করা দ্বার একজন পথিক দ্রুত তার গন্তব্যে পৌছতে পারে। আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কারীমে একাধিক স্থানে সিরাত শব্দটি উল্লেখ করেছেন। শয়তানের পথকে কোথাও সিরাত বলেননি বরং তার পথকে সুবুল বলেছেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, মুসনাদে আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে একটি হাদীস বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারপর তিনি বলেন, এটি আল্লাহর রাস্তা তারপর ডানে ও বামে আরও কিছু রেখা টানেন এবং বলেন, এগুলো রাস্তা প্রতিটি রয়েছে একজন করে শয়তান যারা মানুষকে তাদের দিকে ডাকেন। যারা তাদের ডাকে সাড়া দেয় তাদের আগুনে নিক্ষেপ করেন। তারপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করেন। আহমাদ, হাদীস।
¹⁵ হাদীসটি একাধিক সনদে বর্ণিত, আবু দাউদ (৩-৪/৭) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু ও মু'আবিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী, (৩৯৭/৭) কিতাবুল ঈমানে বর্ণনা করেছেন। ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩৯৯১। জামা'আত যাদের সাথে থাকার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাদের বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে সতর্ক করেছেন তাদের বলতে কাদের বুঝানো হয়েছে, এ বিষয়ে ইমামগণের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। সাতবী রহ. এ সব মতামতকে সাতটি কথায় একত্রে নিয়ে এসেছেন-
এক- ইসলাম পন্থীদের বড় জামা'আত।
দুই- মুজতাহেদ ও আলেমদের জামা'আত।
তিন- বিশেষ করে সাহাবীগণের জামা'আত। কারণ, তারাই দীনের খুটিকে দাড় করিয়েছেন এবং পেরাগ মেরেছেন। তাদের ব্যাপারে এ কথা বলা যায় যে, তারা কখনো গোমরাহীর ওপর একমত হতে পারে না, যদিও অন্যদের ব্যাপারে এ সম্ভাবনা রয়েছে। এর সমর্থন নাজাত প্রাপ্ত দল সম্পর্কে বর্ণিত বিভিন্ন হাদীসে পাওয়া যায়। যেমন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,.......
চার- জামা'আত দ্বারা উদ্দেশ্য মুসলিমদের জামা'আত। যখন তারা কোন বিষয়ে একমত হয় তখন ওপর ওয়াজিব হল তারা তাদের অনুকরণ করবে।
পাঁচ- মুসলিমদের জামা'আত যখন তারা কোন আমীরের নেতৃত্বে একত্র হয়। (আল- ই'তিছাম: ২৬০-২৬৫/২)
মোটকথা: জামা'আত দ্বারা কী অর্থ সে বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে, জামা'আত হল, ঐ দল যাদের নাজাতপ্রাপ্ত বলে রাসুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ....আর ভিত্তি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অনুকরণ ও তিনি যে সত্য নিয়ে এসেছেন তার অনুকরনের ওপর। আমর ইবন মাইমুন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মু'আয ইবন জাবাল রাসূলের যুগে আমাদের নিকট আগমন করেন। তাকে দেখে আমার অন্তরে তার ভালোবাসা গভীর হয়। যতদিন সে বেচে ছিল সিরিয়ার মাটিতে দাফন করার পূর্ব পর্যন্ত আমি তার সাথেই ছিলাম। তারপর এ উম্মতের সবচেয়ে বড় ফকীহ আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সঙ্গ অবলম্বন করি। একদিন তার নিকট সালাতকে সময়ের বাইরে নিয়ে দেরী করার বিষয়ে আলোচনা করা হলে তিনি বলেন, তোমরা তা তোমাদের ঘরে আদায় করে নিবে, তারপর তাদের সাথে জামাতে যা পড়বে তা তোমাদের জন্য নফল হিসেবে বিবেচিত হবে। আমর ইবন মাইমুন বলেন, আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদকে বলা হলো 'জামা'আত' (কে আঁকড়ে ধরার কথা আপনি বলে থাকেন, আবার একাকী সালাত আদায় করতে বলেন, তাহলে জামা'আতে) আমাদের করনীয় কি? তখন তিনি আমাকে বললেন, হে আমর ইবন মাইমুন লোকজনের সংখ্যা বেশি হওয়াই বিছিন্নতা। জামা'আত হলো যারা আল্লাহর আনুগত্যকে মেনে নেয় যদিও তুমি একা হও। (দেখুন: মাজমু'আয়ে ফাতওয়া: ১৭৯/৩)