📘 মহা উপদেশ > 📄 শরী‘আত

📄 শরী‘আত


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 মহা উপদেশ > 📄 দ্বিতীয়টির বর্ণনা

📄 দ্বিতীয়টির বর্ণনা


দ্বিতীয় বিষয়টি (তথা আল্লাহ তা'আলা বিশেষভাবে এ উম্মতের জন্য যেসব বিধান প্রবর্তন করেছেন, তা হচ্ছে) আল্লাহ তা'আলা মাদানী সূরাসমূহে তার দীনের যে সব বিধি-বিধান নাযিল করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতের জন্য যে সব সুন্নাত প্রচলন করছেন। (যাকে শরী'আত বলা হয় আর তা শুধু এ উম্মতের জন্য বিশেষভাবে প্রণয়নকৃত)।
কেননা আল্লাহ তা'আলা তার নবীর ওপর কিতাব ও হিকমাহ নাযিল করেছেন এবং আল্লাহ তা'আলা এ দ্বারা মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ দেখিয়েছেন। আর তিনি তার নবীর স্ত্রীদেরকে কিতাব ও হিকমত নিয়ে আলোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَأَنزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُن تَعْلَمُ﴾ [النساء : ١١٣]
"এবং আল্লাহ তা'আলা তোমার প্রতি গ্রন্থ ও হিকমাহ (হাদীস) অবতীর্ণ করেছেন এবং তুমি যা জানতে না, তিনি তাই তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১১৩]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْ أَنفُسِهِمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ وَآيَاتِهِ، وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ﴾ [آل عمران: ١٦٤]
"নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত অনুকম্পা প্রদর্শন করেছেন যখন তাদের নিকট তাদের নিজস্ব একজনকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন, সে তাদেরকে আল্লাহর আয়াত পড়ে শুনাচ্ছে, তাদেরকে পরিশোধন করছে, তাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ (হাদীস) শিক্ষা দিচ্ছে”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬৪]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ ءَايَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ [الاحزاب: ٣٤]
"আল্লাহর আয়াত ও হিকমাহ (হাদীস) এর কথা যা তোমাদের গৃহে পঠিত হয়, তা তোমরা স্মরণ রাখবে"। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৪]⁷
সালফে সালেহীনের অনেকেই বলেছেন, হিকমাহ হলো সুন্নাহ বা হাদীস। কেননা, কুরআন ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের গৃহে যা পাঠ করা হতো তা ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ। এ জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- «ألا وإني أُوتيت الكتاب ومثله معه» "সাবধান! আমাকে কিতাব ও তার সঙ্গে অনুরূপ কিছু দেওয়া হয়েছে"। ¹⁰

টিকাঃ
⁷ আয়াতে হিকমতের তাফসীরে একাধিক মত পাওয়া যায়। কাতাদাহ বলেন, "হিকমত হলো কুরআন ও সুন্নাহ"।
¹⁰ সুনান আবু দাউদ, ৭/৭, সুনান তিরমিযী, ৪২৬/৭, সুনান ইবন মাজাহ, ৬/১, মুসনাদে আহমদ। ইমাম শাফে'ঈ রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো কুরআন। আর হিকমত উল্লেখ করেছেন। আর এ বিষয়ে আহলে ইলমদের মধ্য থেকে যিনি কুরআন বিষয়ে বেশি অভিজ্ঞ তার থেকে শুনেছি তিনি বলেন, হিকমত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ। এ কথাটি একথারই মতো যে, কুরআন হলো যিকির এবং তার সাথেই রয়েছে হিকমত। আর আল্লাহ তা'আলা তার মাখলুককে কুরআন ও হিকমত শেখানোর মাধ্যমে যে দয়া ও অনুগ্রহ করেছেন। তিনি তার আলোচনা করেন। তবে এ কথা বলা ঠিক হবে না যে, হিকমত দ্বারা উদ্দেশ্য এখানে শুধু সুন্নত। কারণ, সুন্নাত আল্লাহর কিতাবের বাহিরে নয় আল্লাহর কিতাবেরই অংশ। আল্লাহ তা'আলা তার স্বীয় রাসূলের আনুগত্য করাকে ফরয করেছেন এবং তার নির্দেশ মানাকে আবশ্যক করেছেন। সুতরাং কোন কথা বিষয়ে এ কথা বলা ঠিক হবে না যে, আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফরয তারপর তার রাসূলের সুন্নত অনুযায়ী। কারণ, আমরা আগেই বলেছি যে, আল্লাহ তা'আলা তার রাসূলের প্রতি ঈমান আনাকে তার প্রতি ঈমান আনার সাথে একত্র করে দিয়েছেন। দুটিকে আলাদা করে দেখার কোনো অবকাশ নাই। রাসূলের সুন্নাত হলো, আল্লাহ তা'আলা কি বুঝাতে চেয়েছেন আল্লাহর পক্ষ থেকে তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বর্ণনা। আর এটি আল্লাহ তা'আলা তার মাখলুকের মধ্য থেকে আর জন্য রাখেন নি একমাত্র স্বীয় রাসূল ছাড়া। (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: রিসালাতুশ শাফে'ঈ: ৭৮-৭৯)

📘 মহা উপদেশ > 📄 শরী‘আতের বিধানসমূহের দৃষ্টান্ত, যার প্রতি আল্লাহ তা‘আলা এ নবী ও তার উম্মতকে হিদায়াত দিয়েছেন

📄 শরী‘আতের বিধানসমূহের দৃষ্টান্ত, যার প্রতি আল্লাহ তা‘আলা এ নবী ও তার উম্মতকে হিদায়াত দিয়েছেন


কাজে ও ঋণগ্রস্তদের জন্য, আর জিহাদে আর মুসাফিরদের সাহায্যার্থে। এ হুকুম আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরয। আর আল্লাহ তা'আলা মহাজ্ঞানী ও অতি প্রজ্ঞাময়”। [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৬০]

📘 মহা উপদেশ > 📄 শরী‘আতের বিধানসমূহের আরো দৃষ্টান্ত

📄 শরী‘আতের বিধানসমূহের আরো দৃষ্টান্ত


অনুরূপ শরী'আতের বিধি-বিধানের আরো দৃষ্টান্ত হলো, রমযান মাসের সওম পালন, বায়তুল্লাহিল হারামের হজ সম্পাদন করা। আর ঐসব নিয়ম কানুন ও সীমারেখা যা আল্লাহ তা'আলা মানুষের জন্যে বিবাহ, মিরাস, শাস্তি, ক্রয়-বিক্রয়ে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আর ঐসব সুন্নাহসমূহ যা তিনি 'ঈদ, জুমু'আ, ফরয সালাতের জামা'আত এবং কুসূফ, ইসতিসকা, জানাযা ও তারাবীর সালাতে সুন্নাত হিসাবে বিধিবদ্ধ করেছেন।
আর শরী'আতের বিধানসমূহের আরো দৃষ্টান্ত: যা তিনি অভ্যাগত রীতি বলে সাব্যস্ত করেছেন। যথা: খাদ্য গ্রহণ, পোশাক পরিধান, জন্ম-মৃত্যু বিষয়ক কার্যাবলী, শিষ্টাচার ইত্যাদি। আর ঐসব আহকাম যেগুলো তাদের মধ্যে আল্লাহ ও তার রাসূলেরই বিধান বলে বিবেচিত। যেমন খুন-খারাবী, আত্মসাৎ, বিবাহ-সাদি, লাভ লোকসান ইত্যাদির বিধান, যা আল্লাহ তা'আলা মানব জাতির জন্য তার নবীর জবানে উম্মতের জন্য প্রচলন করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00