📘 মহা উপদেশ > 📄 প্রথমটির উদাহরণ

📄 প্রথমটির উদাহরণ


• তন্মধ্যে প্রথমটি (তথা আকীদার বিষয়সমূহ এবং শরী'আতের কিছু স্থায়ী মৌলিক নীতিমালা যা সর্বযুগে সবার জন্য প্রযোজ্য ছিল) এর একটি উদাহরণ হচ্ছে, 'ঈমানের মূলনীতিসমূহ' যার সর্বোচ্চ ও সর্বোৎকৃষ্ট পর্যায় হচ্ছে, তাওহীদ। আর সে তাওহীদ হচ্ছে, এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ তা'আলা ছাড়া সত্যিকার কোনো ইলাহ নেই। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন- ﴿وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِيَ إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ ﴾ [الانبياء: ٢٥]
“আমি তোমার পূর্বে এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করি নি যার প্রতি এ অহী প্রেরণ করা হয় নি যে, আমি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই। সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদাত কর”। [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৫]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُونَ ﴾ [النحل: ٣٦]
“প্রত্যেক জাতির কাছে আমরা রাসূল পাঠিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহ তা'আলার ইবাদাত কর, আর তাগুতকে বর্জন কর”। [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৬]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿وَسْلٌ مَنْ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رُّسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِن دُونِ الرَّحْمَنِ عَالِهَةً يُعْبَدُونَ ﴾ [الزخرف: ٤٥]
"তোমার পূর্বে আমি যেসব রাসূল প্রেরণ করেছিলাম তাদেরকে তুমি জিজ্ঞেস কর, আমি কি দয়াময় আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ স্থির করেছিলাম যাদের ইবাদাত করা যায়”। [সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ৪৫]
মহান আল্লাহ আরো বলেন,
﴿شَرَعَ لَكُم مِّنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِى إِلَيْهِ مَن يُنِيبُ ﴾ [الشورى: ١٣]
"তিনি তোমাদের জন্যে বিধিবদ্ধ করেছেন দীন, যার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি নূহকে। আর যা আমি ওহী করেছিলাম তোমাকে এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে-তা এই যে, তোমরা দীন প্রতিষ্ঠিত কর, আর তাতে বিভক্তি সৃষ্টি কর না, তুমি মুশরিকদেরকে যার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছ তা তাদের নিকট কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে দীনের প্রতি আকৃষ্ট করেন এবং যে তার অভিমুখী হয় তাকে দীনের দিকে পরিচালিত করেন”। [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১৩]
মহান আল্লাহ আরো বলেন,
﴿يَتَأَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ * وَإِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُونِ ﴾ [المؤمنون : ٥١، ٥٢]
"হে রাসূলগণ! পবিত্র বস্তু আহার কর, আর সৎ কাজ কর, তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আমি পূর্ণরূপে অবগত। আর তোমাদের এই জাতি, এটা তো একই জাতি এবং আমিই তোমাদের 'রব'। অতএব তোমরা আমারই তাকওয়া অবলম্বন কর”। [সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত: ৫১-৫২]
এর আরো একটি উদাহরণ হচ্ছে, আল্লাহর কিতাবসমূহ ও তার নবী-রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনা। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿قُولُوا ءَامَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِن رَّبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ ﴾ [البقرة: ١٣٦]
"তোমরা বল, 'আমরা আল্লাহ তা'আলার প্রতি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, আর যা হযরত ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তার বংশধরগণের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছিল এবং যা মূসা ও ঈসাকে প্রদান করা হয়েছিল এবং যা অন্যান্য নবীগণ তাদের রব হতে প্রদত্ত হয়েছিলেন, সব কিছুর ওপর ঈমান এনেছি। তাদের মধ্যে (ঈমানের ক্ষেত্রে) কোনো তারতম্য করি না এবং আমরা তারই প্রতি আত্মসমর্পণকারী-মুসলিম”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৩৬]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿وَقُلْ آمَنتُ بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ مِن كِتَابٍ وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمْ ﴾ [الشورى: ١٥]
"আর বল, আল্লাহ যে কিতাবই অবতীর্ণ করেছেন আমি তার প্রতি ঈমান এনেছি। আর তোমাদের মাঝে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা (ন্যায়বিচার) করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে"। [শূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১৫]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ، وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ * لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ﴾ [البقرة: ٢٨٥، ٢٨٦]
"রাসূলের প্রতি তার রব হতে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তিনি ঈমান আনেন এবং মুমিনগণও। তারা সবাই আল্লাহ তা'আলাকে, তার ফিরিশতাগণকে, তার কিতাবসমূহকে এবং তার রাসূলগণের ওপর ঈমান এনে থাকে এবং (তারা বলে) আমরা তার রাসূলগণের মধ্যে কাউকেও পার্থক্য করি না এবং তারা এ কথাও বলে যে, 'আমরা শুনেছি এবং মেনে নিয়েছি। হে আমাদের 'রব' আমাদেরকে ক্ষমা কর আর প্রত্যাবর্তন তোমারই দিকে। কোনো ব্যক্তিকেই আল্লাহ তা'আলা তার সাধ্যের অতিরিক্ত কর্তব্য পালনে বাধ্য করেন না, কারণ সে যা উপার্জন করেছে তা তারই জন্যে এবং যা সে অর্জন করেছে তা তারই ওপর বর্তাবে। হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তাহলে আমাদেরকে পাকড়াও করো না, হে আমাদের রব, আমাদের পূর্ববর্তীগণের ওপর যেরূপ গুরু-দায়িত্ব অর্পণ করেছিলে, আমাদের ওপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করো না। হে আমাদের রব! যে ভার বহনের ক্ষমতা আমাদের নেই, এমন ভার আমাদের ওপর চাপিয়ে দিও না, আমাদের পাপ মোচন কর, আমাদের ক্ষমা কর, আমাদের প্রতি দয়া কর, তুমিই আমাদের অভিভাবক, সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর"। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৮৫, ২৮৬]
• অপর একটি উদাহরণ হলো, শেষ দিবসের প্রতি ঈমান ও তাতে যে সওয়াব ও শাস্তির বিবরণ এসেছে তার ওপর ঈমান। যেমনটি আল্লাহ পূর্ববর্তী জাতিসমূহের মুমিনদের মধ্য থেকে যারা তার ওপর ঈমান এনেছে, তাদের সম্পর্কে জানিয়েছেন। ফলে তিনি বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ ءَامَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالنَّصَارَى وَالصَّبِينَ مَنْ ءَامَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴾ [البقرة: ٦২]
"নিশ্চয় যারা মুমিন, আর যারা ইয়াহুদী, খ্রিস্টান এবং সাবেঈন সম্প্রদায়, যারা আল্লাহ তা'আলার প্রতি ও কিয়ামতের প্রতি ঈমান আনয়ন করে এবং ভালো কাজ করে, তাদের জন্যে রয়েছে তাদের 'রব' এর নিকট পুরস্কার। তাদের কোনো প্রকার ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৬২]
• অনুরূপভাবে এর আরো একটি উদাহরণ হচ্ছে, ইসলামী শরী'আতের মূলনীতিসমূহ, যার আলোচনা সূরা আল-আন'আম, সূরা আল-আ'রাফ, সূরা বনী ইসরাঈল ও অনুরূপ বিভিন্ন মক্কী সূরায় বর্ণনা করা হয়েছে। যাতে নির্দেশনা এসেছে, এক আল্লাহ তা'আলার ইবাদাত করার; যার কোনো শরীক নেই, পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, চুক্তি পূর্ণ করা, সত্য কথা বলা, ওজন ও মাপে ঠিক দেওয়া, বঞ্চিত ও প্রার্থীকে সাহায্য করা, অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা না করা, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য যাবতীয় গর্হিত কাজ ত্যাগ করা¹, গোনাহ ও অন্যায় কর্মে সীমালঙ্ঘন না করা, দীনী বিষয়ে না জেনে কথা বলা থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি। এ ছাড়াও তাওহীদের সাথে আরো অর্ন্তভুক্ত হল, আল্লাহ তা'আলার দীনকে নির্ভেজালভাবে কেবল আল্লাহর জন্য পালন করা, আল্লাহ তা'আলার ওপর ভরসা করা, তার রহমতের আশা করা ও আল্লাহকে ভয় করা, আল্লাহ তা'আলার বিধান পালনে ধৈর্য ধারণ করা, তার বিধানের প্রতি আজ্ঞাবহ হওয়া, তোমার নিকট তোমার পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ ও সমগ্র পৃথিবীর সব মানুষের চেয়ে আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক প্রিয় হওয়া ইত্যাদি। এ সব ঈমানের মূলনীতি বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা আল কুরআনের মক্কী সূরাসমূহে এবং কিছু মাদানী সূরার বিভিন্ন স্থানে বর্ণনা করেছেন।

টিকাঃ
¹ আল্লাহ তা'আলা বলেন, قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْاً وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُم مِّنْ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ وَلَا تَقْرَبُوا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ ذَلِكُمْ وَفَضَكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ﴾ [الأنعام: ١٥١] "বল, 'এসো, তোমাদের ওপর তোমাদের রব যা হারাম করেছেন, তা তিলাওয়াত করি যে, তোমরা তার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না এবং মা-বাবার প্রতি ইহসান করবে আর দারিদ্রের কারণে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না। আমিই তোমাদেরকে রিযিক দেই এবং তাদেরকেও। আর অশ্লীল কাজের নিকটবর্তী হবে না- তা থেকে যা প্রকাশ পায় এবং যা গোপন থাকে। আর বৈধ কারণ ছাড়া তোমরা সেই প্রাণকে হত্যা করো না, আল্লাহ যা হারাম করেছেন। এগুলো আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা বুঝতে পার। আর তোমরা ইয়াতীমের সম্পদের নিকটবর্তী হয়ো না, সুন্দর পন্থা ছাড়া। যতক্ষণ না সে পরিণত বয়সে উপনীত হয়, আর পরিমাপ ও ওযন ইনসাফের সাথে পরিপূর্ণ দেবে। আমি কাউকে তার সাধ্য ছাড়া দায়িত্ব অর্পণ করি না। আর যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ইনসাফ কর, যদিও সে আত্মীয় হয় এবং আল্লাহর ওয়াদা পূর্ণ কর। এগুলো তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। আর এটি তো আমার সোজা পথ। সুতরাং তোমরা তাঁর অনুসরণ কর এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ করো না, তাহলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। এগুলো তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর”। [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১৫১-১৫৩]
﴿ قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَن تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَن تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ﴾ [الاعراف: ٣٣] আল্লাহ তা'আলা বলেন, ‘আমার রব তো হারাম করেছেন অশ্লীল কাজ- যা প্রকাশ পায় এবং যা গোপন থাকে, আর পাপ ও অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন এবং আল্লাহর সাথে তোমাদের শরীক করা, যে ব্যাপারে আল্লাহ কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর উপরে এমন কিছু বলা যা তোমরা জান না’। [সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৩৩]
﴿ وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ﴾ [المائدة: ٢٣] আল্লাহ তা'আলা বলেন, “আর আল্লাহর উপরই তাওয়াক্কুল কর, যদি তোমরা মুমিন হও’। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ২৩]
﴿إِنَّ الَّذِينَ ءَامَنُوا وَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُوْلَبِكَ يَرْجُونَ رَحْمَتَ اللَّهِ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ﴾ [البقرة: ٢١٨] আল্লাহ তা'আলা বলেন, “নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে ও যারা হিজরত করেছে এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে, তারা আল্লাহর রহমতের আশা করে। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু"। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২১৮]
﴿فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَأَخْشَوْنِ ﴾ [المائدة: ٣] আল্লাহ তা'আলা বলেন, “সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকে ভয় কর"। [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৩]
﴿فَأَصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَلَا تُطِعْ مِنْهُمْ ءَاثِمًا أَوْ كَفُورًا ﴾ [الانسان: ٢٤] আল্লাহ তা'আলা বলেন, “অতএব তোমার রবের হুকুমের জন্য ধৈর্য ধারণ কর এবং তাদের মধ্য থেকে কোন পাপিষ্ঠ বা অস্বীকারকারীর আনুগত্য করো না"। [সূরা আল-ইনসান, আয়াত: ২৪]
﴿يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا أَسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ ﴾ [الانفال: ٢٤] আল্লাহ তা'আলা বলেন, “হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দাও; যখন সে তোমাদেরকে আহ্বান করে তার প্রতি, যা তোমাদেরকে জীবন দান করে"। [সূরা আলা-আনফাল, আয়াত: ২৪]

📘 মহা উপদেশ > 📄 শরী‘আত

📄 শরী‘আত


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 মহা উপদেশ > 📄 দ্বিতীয়টির বর্ণনা

📄 দ্বিতীয়টির বর্ণনা


দ্বিতীয় বিষয়টি (তথা আল্লাহ তা'আলা বিশেষভাবে এ উম্মতের জন্য যেসব বিধান প্রবর্তন করেছেন, তা হচ্ছে) আল্লাহ তা'আলা মাদানী সূরাসমূহে তার দীনের যে সব বিধি-বিধান নাযিল করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতের জন্য যে সব সুন্নাত প্রচলন করছেন। (যাকে শরী'আত বলা হয় আর তা শুধু এ উম্মতের জন্য বিশেষভাবে প্রণয়নকৃত)।
কেননা আল্লাহ তা'আলা তার নবীর ওপর কিতাব ও হিকমাহ নাযিল করেছেন এবং আল্লাহ তা'আলা এ দ্বারা মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ দেখিয়েছেন। আর তিনি তার নবীর স্ত্রীদেরকে কিতাব ও হিকমত নিয়ে আলোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَأَنزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُن تَعْلَمُ﴾ [النساء : ١١٣]
"এবং আল্লাহ তা'আলা তোমার প্রতি গ্রন্থ ও হিকমাহ (হাদীস) অবতীর্ণ করেছেন এবং তুমি যা জানতে না, তিনি তাই তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১১৩]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْ أَنفُسِهِمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ وَآيَاتِهِ، وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ﴾ [آل عمران: ١٦٤]
"নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত অনুকম্পা প্রদর্শন করেছেন যখন তাদের নিকট তাদের নিজস্ব একজনকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন, সে তাদেরকে আল্লাহর আয়াত পড়ে শুনাচ্ছে, তাদেরকে পরিশোধন করছে, তাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ (হাদীস) শিক্ষা দিচ্ছে”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬৪]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ ءَايَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ [الاحزاب: ٣٤]
"আল্লাহর আয়াত ও হিকমাহ (হাদীস) এর কথা যা তোমাদের গৃহে পঠিত হয়, তা তোমরা স্মরণ রাখবে"। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৪]⁷
সালফে সালেহীনের অনেকেই বলেছেন, হিকমাহ হলো সুন্নাহ বা হাদীস। কেননা, কুরআন ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের গৃহে যা পাঠ করা হতো তা ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ। এ জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- «ألا وإني أُوتيت الكتاب ومثله معه» "সাবধান! আমাকে কিতাব ও তার সঙ্গে অনুরূপ কিছু দেওয়া হয়েছে"। ¹⁰

টিকাঃ
⁷ আয়াতে হিকমতের তাফসীরে একাধিক মত পাওয়া যায়। কাতাদাহ বলেন, "হিকমত হলো কুরআন ও সুন্নাহ"।
¹⁰ সুনান আবু দাউদ, ৭/৭, সুনান তিরমিযী, ৪২৬/৭, সুনান ইবন মাজাহ, ৬/১, মুসনাদে আহমদ। ইমাম শাফে'ঈ রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো কুরআন। আর হিকমত উল্লেখ করেছেন। আর এ বিষয়ে আহলে ইলমদের মধ্য থেকে যিনি কুরআন বিষয়ে বেশি অভিজ্ঞ তার থেকে শুনেছি তিনি বলেন, হিকমত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ। এ কথাটি একথারই মতো যে, কুরআন হলো যিকির এবং তার সাথেই রয়েছে হিকমত। আর আল্লাহ তা'আলা তার মাখলুককে কুরআন ও হিকমত শেখানোর মাধ্যমে যে দয়া ও অনুগ্রহ করেছেন। তিনি তার আলোচনা করেন। তবে এ কথা বলা ঠিক হবে না যে, হিকমত দ্বারা উদ্দেশ্য এখানে শুধু সুন্নত। কারণ, সুন্নাত আল্লাহর কিতাবের বাহিরে নয় আল্লাহর কিতাবেরই অংশ। আল্লাহ তা'আলা তার স্বীয় রাসূলের আনুগত্য করাকে ফরয করেছেন এবং তার নির্দেশ মানাকে আবশ্যক করেছেন। সুতরাং কোন কথা বিষয়ে এ কথা বলা ঠিক হবে না যে, আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফরয তারপর তার রাসূলের সুন্নত অনুযায়ী। কারণ, আমরা আগেই বলেছি যে, আল্লাহ তা'আলা তার রাসূলের প্রতি ঈমান আনাকে তার প্রতি ঈমান আনার সাথে একত্র করে দিয়েছেন। দুটিকে আলাদা করে দেখার কোনো অবকাশ নাই। রাসূলের সুন্নাত হলো, আল্লাহ তা'আলা কি বুঝাতে চেয়েছেন আল্লাহর পক্ষ থেকে তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বর্ণনা। আর এটি আল্লাহ তা'আলা তার মাখলুকের মধ্য থেকে আর জন্য রাখেন নি একমাত্র স্বীয় রাসূল ছাড়া। (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: রিসালাতুশ শাফে'ঈ: ৭৮-৭৯)

📘 মহা উপদেশ > 📄 শরী‘আতের বিধানসমূহের দৃষ্টান্ত, যার প্রতি আল্লাহ তা‘আলা এ নবী ও তার উম্মতকে হিদায়াত দিয়েছেন

📄 শরী‘আতের বিধানসমূহের দৃষ্টান্ত, যার প্রতি আল্লাহ তা‘আলা এ নবী ও তার উম্মতকে হিদায়াত দিয়েছেন


কাজে ও ঋণগ্রস্তদের জন্য, আর জিহাদে আর মুসাফিরদের সাহায্যার্থে। এ হুকুম আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরয। আর আল্লাহ তা'আলা মহাজ্ঞানী ও অতি প্রজ্ঞাময়”। [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৬০]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00