📄 জান্নাতের বৃক্ষ ও এর ছায়া
প্রথমত: জান্নাতের বৃক্ষ ও এর ছায়া
عن أبي سعيد الخدري عَنِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِنَّ فِي الْجَنَّةِ شَجَرَةٌ يَسِيرُ الرَّاكِبُ الْجَوَادَ الْمُضَمَّرَ السَّرِيعَ، مِائَةَ عَامٍ مَا يَقْطَعُهَا»
আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জান্নাতের মাঝে এমন একটি বৃক্ষ আছে, যা স্ফুর্তিবাজ দ্রুতগামী অশ্বের আরোহী একশ বছর পর্যন্ত সফর করেও অতিক্রম করতে পারবে না।" 1 আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ فِي سِدْرٍ تَخْضُودٍ وَطَلْحٍ مَّنضُودٍ * وَظِلٍ مَّمْدُودٍ * وَمَاءٍ مَّسْكُوبٍ وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ لَّا مَقْطُوعَةٍ وَلَا مَمْنُوعَةٍ ﴾ [الواقعة: ٢٧، ٣٣] "আর ডান দিকের দল; কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল! তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুলগাছের নিচে, আর কাঁদিপূর্ণ কলাগাছের নিচে, আর বিস্তৃত ছায়ায়, আর সদা প্রবাহিত পানির পাশে, আর প্রচুর ফলমূলে, যা শেষ হবে না এবং নিষিদ্ধও হবে না"। [সূরা: আল্-ওয়াকিয়া: ২৭-৩৩] আলেমগণ বলেছেন, এখানে ছায়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বৃক্ষের ডাল পালা ও শাখা প্রশাখার বিস্তৃত ছায়া। 1 আল্লাহ তা'আলা আরো বলেছেন,
﴿ إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي ظِلَالٍ وَعُيُونٍ وَفَوَاكِهَ مِمَّا يَشْتَهُونَ ﴾ [المرسلات: [٤١، ٤٢
"নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে ছায়া ও ঝর্ণা-বহুল স্থানে, আর ফলমূল-এর মধ্যে, যা তারা চাইবে। [সূরা আল-মুরসালাত: ৪১-৪২] আল্লাহ তা'আলা আরো বলেছেন,
وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ * ذَوَاتَا أَفْنَانٍ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ فِيهِمَا عَيْنَانِ تَجْرِيَانِ * فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ فِيهِمَا مِن كُلِّ فَاكِهَةٍ زَوْجَانِ ﴾ [الرحمن: ٤٦، ٥٢]
"আর যে তার রবের সামনে দাঁড়াতে ভয় করে, তার জন্য থাকবে দু'টি জান্নাত। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নিআমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? উভয়ই বহু ফলদার শাখাবিশিষ্ট। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নি'আমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? উভয়ের মধ্যে থাকবে দু'টি ঝর্ণাধারা যা প্রবাহিত হবে। সুতরাং তোমাদের রবের কোন্ নি'আমতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে? উভয়ের মধ্যে প্রত্যেক ফল থেকে থাকবে দু' প্রকারের।" [সূরা : আর-রাহমান: ৪৬-৫২] আল্লাহ তা'আলা আরো বলেছেন,
﴿فِيهِمَا فَكِهَةٌ وَنَخْلٌ وَرُمَّانٌ ﴾ [الرحمن: ٦٨]
"এ দু'টিতে থাকবে ফলমূল, খেজুর ও আনার।" [সূরা: আর-রাহমান: ৬৮]
আল্লাহর বাণী: ﴿ وَدَانِيَةً عَلَيْهِمْ ظِلَالُهَا وَذُلِّلَتْ قُطُوفُهَا تَذْلِيلًا ﴾ [الانسان: ١٤] "তাদের উপর সন্নিহিত থাকবে উদ্যানের ছায়া এবং তার ফলমূলের থোকাসমূহ তাদের সম্পূর্ণ আয়ত্তাধীন করা হবে।" [সূরা: আল্-ইনসান: ১৪]
আল্লাহর বাণী: ﴿فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَّاضِيَةٍ فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ قُطُوفُهَا دَانِيَةٌ كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيا بِمَا أَسْلَمْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ ﴾ [الحاقة: ٢١، ٢٤] "সুতরাং সে সন্তোষজনক জীবনে থাকবে। সুউচ্চ জান্নাতে, তার ফলসমূহ নিকটবর্তী থাকবে। (বলা হবে,) বিগত দিনসমূহে তোমরা যা অগ্নে প্রেরণ করেছ তার বিনিময়ে তোমরা তৃপ্তি সহকারে খাও ও পান কর।" [সূরা: আল্-হাক্কাহ: ২১-২৪]
আল্লাহর বাণী: ﴿إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا حَدَائِقَ وَأَعْنَبًا * وَكَوَاعِبَ أَتْرَابًا * وَكَأْسًا دِهَاقًا لَّا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا كِذَّابًا جَزَاءٌ مِّن رَّبِّكَ عَطَاءٌ حِسَابًا ﴾ [النبا: ٣١, ٣٦] "নিশ্চয় মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে সফলতা। উদ্যানসমূহ ও আঙ্গুরসমূহ। আর সমবয়স্কা উদ্ভিন্ন যৌবনা তরুণী। আর পরিপূর্ণ পানপাত্র। তারা সেখানে কোন অসার ও মিথ্যা কথা শুনবে না। তোমার রবের পক্ষ থেকে প্রতিফল, যথোচিত দানস্বরূপ।" [সূরা আন্-নাবা: ৩১-৩৬]
একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতুল কুসুফ তথা সূর্যগ্রহণের সালাতে আঙ্গুরের কাঁদি দেখছিল। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস,
قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، رَأَيْنَاكَ تَنَاوَلْتَ شَيْئًا فِي مَقَامِكَ ثُمَّ رَأَيْنَاكَ كَعْكَعْتَ؟ قَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي رَأَيْتُ الجَنَّةَ، فَتَنَاوَلْتُ عُنْقُودًا، وَلَوْ أَصَبْتُهُ لَأَكَلْتُمْ مِنْهُ مَا بَقِيَتِ الدُّنْيَا، وَأُرِيتُ النَّارَ، فَلَمْ أَرَ مَنْظَرًا كَاليَوْمِ قَطُّ أَفْظَعَ، وَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ»
"লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা দেখলাম, আপনি নিজের জায়গা থেকে কি যেন ধরেছেন, আবার দেখলাম, আপনি যেন পেছনে সরে এলেন। তিনি বললেন, আমি তো জান্নাত দেখছিলাম এবং একগুচ্ছ আঙ্গুরের প্রতি হাত বাড়িয়ে ছিলাম। আমি তা পেয়ে গেলে, দুনিয়া কায়িম থাকা পর্যন্ত অবশ্য তোমরা তা খেতে পারতে। এরপর আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়, আমি আজকের মত ভয়াবহ দৃশ্য কখনো দেখিনি। আর আমি দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ বাসিন্দা স্ত্রী লোক।"
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَوْمًا يُحَدِّثُ وَعِنْدَهُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ البَادِيَةِ : " أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الجَنَّةِ اسْتَأْذَنَ رَبَّهُ فِي الزَّرْعِ، فَقَالَ لَهُ: أَوَلَسْتَ فِيمَا شِئْتَ؟ قَالَ: بَلَى، وَلَكِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَزْرَعَ، فَأَسْرَعَ وَبَذَرَ، فَتَبَادَرَ الطَّرْفَ نَبَاتُهُ وَاسْتِوَاؤُهُ وَاسْتِحْصَادُهُ وَتَكْوِيرُهُ أَمْثَالَ الجِبَالِ، فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: دُونَكَ يَا ابْنَ آدَمَ، فَإِنَّهُ لَا يُشْبِعُكَ شَيْءٌ "، فَقَالَ الْأَعْرَابِيُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ، لا تَجِدُ هَذَا إِلَّا قُرَشِيًّا أَوْ أَنْصَارِيًّا، فَإِنَّهُمْ أَصْحَابُ زَرْعٍ، فَأَمَّا نَحْنُ فَلَسْنَا بِأَصْحَابِ زَرْعٍ، فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা আলোচনারত ছিলেন। তখন সেখানে একজন গ্রাম্য লোকও উপস্থিত ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন, একজন জান্নাতবাসী অনুমতি প্রার্থনা করবে কৃষিকার্য করার জন্য। আল্লাহ্ তাকে বলবেন, তুমি যা চাও তা কি পাওনি? সে বলবে, হ্যাঁ, পেয়েছি। তবে আমি কৃষিকাজ করতে পছন্দ করছি। অতি সত্বর ব্যবস্থা করা হবে এবং বীজ বোনা হবে। তখনই নিমিষে চারা গজাবে সোজা হয়ে দাঁড়াবে এবং তা কাটা হবে আর তা পর্বত পরিমাণ স্তূপীকৃত করা হবে। আল্লাহ্ তখন বলবেন, হে আদম সন্তান! লও। কারণ, তোমাকে কোন কিছুই তৃপ্তি দেবে না। এমন সময় জনৈক বেদুঈন বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ঐ লোকটিকে আপনি কুরাইশী কিংবা আনসারী পাবেন। কেননা, তাঁরা হলেন কৃষিজীবী। আর আমরা কৃষিজীবী নই! এতে রাসূলুল্লাহ্ হেসে দিলেন। 1
এ হাদীস প্রমাণ করে যে, জান্নাতে যা কিছু ইচ্ছা পোষণ করা হবে তাই পাবে। কেননা জান্নাত হলো মনে যা চাবে তাই পাবে। চোখে যা ভাল লাগবে তাই পূরণ হবে। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ আমাদেরকে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমীন।
2
টিকাঃ
1 বুখারী, হাদীস নং ৬৫৫২, মুসলিম, হাদীস নং ২৮২৮|
1 শরহে ইমাম নাওয়াওয়ী ১৭/১৬৭।
1 বুখারী, হাদীস নং ১০৫২, মুসলিম, হাদীস নং ৯০৭।
1 বুখারী, হাদীস নং ৭৫১৯।
2 ফাতহুল বারী: ৫/২৭।
📄 জাহান্নামের বৃক্ষ ও এর ছায়া
দ্বিতীয়ত: জাহান্নামের বৃক্ষ ও এর ছায়া
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
﴿إِنَّ شَجَرَتَ الرَّقُومِ * طَعَامُ الْأَثِيمِ * كَالْمُهْلِ يَغْلِي فِي الْبُطُونِ * كَغَلْيِ الْحَمِيمِ ﴾ [الدخان: ٤٣، ٤٦]
"নিশ্চয় যাক্কুম বৃক্ষ, পাপীর খাদ্য; গলিত তামার মত, উদরসমূহে ফুটতে থাকবে। ফুটন্ত পানির মত।" [সূরা আদ-দুখান: ৪৩-৪৬]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেছেন,
﴿ثُمَّ إِنَّكُمْ أَيُّهَا الضَّالُّونَ الْمُكَذِّبُونَ * لَأكِلُونَ مِن شَجَرٍ مِّن زَقُومٍ * فَمَالِعُونَ مِنْهَا الْبُطُونَ * فَشَرِبُونَ عَلَيْهِ مِنَ الْحَمِيمِ شُرْبَ الهيم ) [الواقعة: ٥١، ٥٥]
"তারপর হে পথভ্রষ্ট ও অস্বীকারকারীরা, তোমরা অবশ্যই যাক্কুম গাছ থেকে খাবে, অতঃপর তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে। তদুপরি পান করবে প্রচন্ড উত্তপ্ত পানি। অতঃপর তোমরা তা পান করবে তৃষ্ণাতুর উটের ন্যায়।" [সূরা: আল-ওয়াকিয়া: ৫১-৫৫]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেছেন,
﴿إِنَّهَا شَجَرَةٌ تَخْرُجُ فِي أَصْلِ الْجَحِيمِ * طَلْعُهَا كَأَنَّهُ رُءُوسُ الشَّيَاطِينِ فَإِنَّهُمْ لَاكِلُونَ مِنْهَا فَمَالِكُونَ مِنْهَا الْبُطُونَ * ثُمَّ إِنَّ لَهُمْ عَلَيْهَا لَشَوْبًا مِنْ حَمِيمٍ ﴾ [الصافات: ٦٤, ٦٧]
"নিশ্চয় এ গাছটি জাহান্নামের তলদেশ থেকে বের হয়। এর ফল যেন শয়তানের মাথা; নিশ্চয় তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে। তদুপরি তাদের জন্য থাকবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ।" [সূরা: আস্-সাফ্ফাত: ৬৪-৬৭]
আল্লাহর বাণী:
وَأَصْحَابُ الشِّمَالِ مَا أَصْحَابُ الشِّمَالِ فِي سَمُومٍ وَحَمِيمٍ وَظِلٌ مِّن يَحْمُومٍ لَّا بَارِدٍ وَلَا كَرِيمٍ إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ مُتْرَفِينَ وَكَانُوا يُصِرُّونَ عَلَى الْحِنثِ الْعَظِيمِ ﴾ [الواقعة: ٤١، ٤٦]
"আর বাম দিকের দল, কত হতভাগ্য বাম দিকের দল! তারা থাকবে তীর গরম হাওয়া এবং প্রচন্ড উত্তপ্ত পানিতে, আর প্রচন্ড কালো ধোঁয়ার ছায়ায়, যা শীতলও নয়, সুখকরও নয়। নিশ্চয় তারা ইতঃপূর্বে বিলাসিতায় মগ্ন ছিল, আর তারা জঘন্য পাপে লেগে থাকত।” [সূরা: আল্-ওয়াকিয়া: ৪১-৪৬] আল্লাহর বাণী:
﴿وَظِلٍ مِّن يَحْمُومٍ﴾ [الواقعة: ٤٣]
"আর প্রচন্ড কালো ধোঁয়ার ছায়ায়” [সূরা: আল-ওয়াকিয়া: ৪২] কালো ধোঁয়া। যেমন আল্লাহ বলেছেন,
انطَلِقُوا إِلَى ظِلَّ ذِي ثَلَاثِ شُعَبٍ لَّا قَلِيلٍ وَلَا يُغْنِي مِنَ اللَّهَبِ * إِنَّهَا تَرْمِي بِشَرَرٍ كَالْقَصْرِ * كَأَنَّهُ جِمَلَتْ صُفْرٌ * وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ ﴾ [المرسلات: ٣٠، ٣٤]
"যাও তিন শাখা বিশিষ্ট আগুনের ছায়ায়, যা ছায়াদানকারী নয় এবং তা জাহান্নামের জ্বলন্ত অগ্নিশিখার মোকাবেলায় কোন কাজেও আসবে না। নিশ্চয় তা (জাহান্নাম) ছড়াবে প্রাসাদসম স্ফুলিঙ্গ। তা যেন হলুদ উষ্ট্রী। মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ!” [সূরা আল-মুরসালাত: ৩০-৩৪]
উপরিউক্ত আয়াতে ছায়া দ্বারা আগুনের দুর্গময় কালো ধোঁয়াকে বুঝানো হয়েছে। যা আসলে ছায়া নয়, জ্বলন্ত আগুনের মোকাবিলায় কোন কাজে ও আসবে না। অর্থাৎ জ্বলন্ত আগুনের উষ্ণতা কমাতে পারবে না। 'সামূল' দ্বারা উষ্ণ হাওয়াকে ও হামীম দ্বারা ফুটন্ত পানিকে বুঝানো হয়েছে।
¹
²
টিকাঃ
¹ তাফসীরে ইবন কাসীর: ৪/৪৬১, ৪৯৫।
² তাফসীরে ইবন কাসীর: ৪/২৯৫।