📄 জান্নাতের অট্টালিকা, তাবু ও কামরাসসমূহ
প্রথমত: জান্নাতের অট্টালিকা, তাবু ও কামরাসমূহ: আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
﴿ لَكِنِ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ غُرَفٌ مِّن فَوْقِهَا غُرَفٌ مَّبْنِيَّةٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَعْدَ اللَّهِ لَا يُخْلِفُ اللَّهُ الْمِيعَادَ ) [الزمر: ٢٠]
"কিন্তু যারা নিজদের রবকে ভয় করে তাদের জন্য রয়েছে কক্ষসমূহ যার উপর নির্মিত আছে আরো কক্ষ। তার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত। এটি আল্লাহর ওয়াদা; আল্লাহ ওয়াদা খেলাফ করেন না।" [সূরা আয-যুমার: ২০]
ইবন কাসীর রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৌভাগ্যবান বান্দাহদের জন্য জান্নাতে কক্ষ তৈরি করে রেখেছেন। এগুলো উঁচু উঁচু অট্টালিকা যার কক্ষের উপরে কক্ষ নির্মিত হবে, তলার উপরে তলা থাকবে অর্থাৎ তা বহুতল ভবন হবে, এর নিচ দিয়ে ঝর্ণা বয়ে যাবে এবং এগুলো চমৎকার কারুকার্য খচিত হবে। ¹
عَنْ عَلِيٌّ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ فِي الْجَنَّةِ غُرَفًا تُرَى ظُهُورُهَا مِنْ بُطُونِهَا وَبُطُونُهَا مِنْ ظُهُورِهَا، فَقَامَ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ: لِمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: لِمَنْ أَطَابَ الكَلامَ، وَأَطْعَمَ الطَّعَامَ، وَأَدَامَ الصَّيَامَ، وَصَلَّى بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ.
আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "জান্নাতে একটি প্রাসাদ রয়েছে যার ভিতর থেকে বাহির এবং বাহির থেকে ভিতর পরিদৃষ্ট হবে। তখন জনৈক বেদুঈন উঠে দাঁড়ালেন, বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ এটি কার হবে? তিনি বললেন, এটি হবে তার যিনি ভাল কথা বলে, অন্যকে আহার করায়, সর্বদা রোযা রাখে এবং যখন রাতে সব মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন সে উঠে সালাত (তাহাজ্জুদ) আদায় করে।" 1
وعن أبي هريرة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: بَيْنَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذْ قَالَ : " بَيْنَا أَنَا نَائِمُ رَأَيْتُنِي فِي الجَنَّةِ، فَإِذَا امْرَأَةٌ تَتَوَضَّأُ إِلَى جَانِبِ قَصْرٍ فَقُلْتُ: لِمَنْ هَذَا القَصْرُ؟ فَقَالُوا: لِعُمَرَ بْنِ الخَطَابِ فَذَكَرْتُ غَيْرَتَهُ فَوَلَّيْتُ مُدْبِرًا، فَبَكَى عُمَرُ وَقَالَ : أَعَلَيْكَ أَغَارُ يَا رَسُولَ اللَّهِ "
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "এক সময় আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসা ছিলাম। তখন তিনি বললেন, "আমি নিদ্রিত ছিলাম। দেখলাম আমি জান্নাতে অবস্থিত। হঠাৎ দেখলাম এক মহিলা একটি প্রাসাদের পাশে অযু করছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ প্রাসাদটি কার? তারা উত্তরে বললেন, উমরের। তখন তাঁর (উমরের) আত্মমর্যাদাবোধের কথা আমার স্মরণ হল। আমি পেছনের দিকে ফিরে চলে আসলাম। এ কথা শুনে উমর রাদিয়াল্লাহু 'আনহু কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার সম্মুখে কি আমার মর্যাদাবোধ থাকতে পারে?" 2
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " دَخَلْتُ الجنَّةَ، فَإِذَا أَنَا بِقَصْرٍ مِنْ ذَهَبٍ، فَقُلْتُ: لِمَنْ هَذَا؟ فَقَالُوا: لِرَجُلٍ مِنْ قُرَيْشٍ، فَمَا مَنَعَنِي أَنْ أَدْخُلَهُ يَا ابْنَ الخَطَابِ، إِلَّا مَا أَعْلَمُ مِنْ غَيْرَتِكَ " قَالَ: وَعَلَيْكَ أَغَارُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟
জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম। আমি আমাকে একটি স্বর্ণের প্রাসাদের নিকট দেখতে পেলাম। তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কার? তারা বলল, কুরাইশের জনৈক ব্যক্তির। হে ইবনুল খাত্তাব! এ প্রাসাদে ঢুকতে আমাকে কিছুই বাধা দিচ্ছিল না। কেবল তোমার আত্মমর্যাদাবোধ, যা আমার জানা ছিল। উমর রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উপরেও কি আমি আত্মমর্যাদাবোধ প্রদর্শন করব?" 1
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : " أَتَى جِبْرِيلُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ: هَذِهِ خَدِيجَةُ قَدْ أَتَتْ مَعَهَا إِنَاءُ فِيهِ إِدَامٌ، أَوْ طَعَامٌ أَوْ شَرَابٌ، فَإِذَا هِيَ أَتَتْكَ فَاقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلَامَ مِنْ رَبِّهَا وَمِنِّي وَبَشِّرُهَا بِبَيْتٍ فِي الجَنَّةِ مِنْ قَصَبٍ لَا صَخَبَ فِيهِ، وَلَا نَصَبَ "
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, জিবরীল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে হাযির হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ যে খাদীজা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা একটি পাত্র হাতে নিয়ে আসছেন। ঐ পাত্রে তরকারী, অথবা খাবার দ্রব্য অথবা পানীয় ছিল। যখন তিনি পৌছে যাবেন তখন তাঁকে তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকেও সালাম জানাবেন আর তাঁকে জান্নাতের এমন একটি সুরম্য প্রাসাদের সু-সংবাদ দিবেন যার ভিতরদেশ ফাঁকা-মুতি দ্বারা তৈরী করা হয়েছে। সেখানে থাকবে না কোন প্রকার হট্টগোল; না কোন প্রকার ক্লেশ ও ক্লান্তি।¹
مِنْ قَصَبٍ অর্থাৎ রাজকীয় প্রাসাদের ন্যায় মণিমুক্তার তৈরি প্রশস্ত ভবন। কারো মতে, মণি মুক্তা, হীরা ও ইয়াকুত পাথর খচিত প্রাসাদ।² আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবীকে বলেছেন,
﴿تَبَارَكَ الَّذِي إِن شَاءَ جَعَلَ لَكَ خَيْرًا مِّن ذَلِكَ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَيَجْعَل لَّكَ قُصُورًا ﴾ [الفرقان: ١٠] "তিনি বরকতময়, যিনি ইচ্ছা করলে তোমার জন্য করে দিতে পারেন তার চেয়ে উত্তম বস্তু অনেক বাগান, যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত হয় এবং তিনি তোমাকে প্রাসাদসমূহ দিতে পারেন।" [সূরা: আল-ফুরকান: ১০]
عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ فِي الجَنَّةِ خَيْمَةٌ مِنْ لُؤْلُوةٍ مُجَوَّفَةٍ، عَرْضُهَا سِتُّونَ مِيلًا، فِي كُلِّ زَاوِيَةٍ مِنْهَا أَهْلُ مَا يَرَوْنَ الآخَرِينَ، يَطُوفُ عَلَيْهِمُ الْمُؤْمِنُونَ، وَجَنَّتَانِ مِنْ فِضَّةٍ، آنِيَتُهُمَا وَمَا فِيهِمَا، وَجَنَّتَانِ مِنْ كَذَا، آنِيَتُهُمَا وَمَا فِيهِمَا، وَمَا بَيْنَ الْقَوْمِ وَبَيْنَ أَنْ يَنْظُرُوا إِلَى رَبِّهِمْ إِلَّا رِدَاءُ الكِبْرِ عَلَى وَجْهِهِ فِي جَنَّةِ عَدْنٍ»
عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مُوسَى بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ وفي رواية المسلم: قَالَ: «الْخَيْمَةُ دُرَّةٌ، طُولُهَا فِي السَّمَاءِ سِتُّونَ مِيلًا»
আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “(জান্নাতে) দুটি উদ্যান থাকবে। এই দুটির সকল পাত্র এবং এর অভ্যন্তরের সকল বস্তু রূপার তৈরি হবে। এবং (জান্নাতে) আরো দুটি উদ্যান থাকবে। এই দুটির সকল পাত্র এবং এর অভ্যন্তরের সকল বস্তু সোনার তৈরি হবে। জান্নাতে- আদনের মধ্যে জান্নাতবাসীরা তাদের রবকে দেখবে। জান্নাতবাসী এবং তাদের রবের এই দর্শনের মাঝে আল্লাহর সত্তার উপর জড়ানো তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের পর্দা ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।” 1
আবু মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মণি-মুক্তার তাঁবু হবে। ঊর্ধাকাশের দিকে এর দৈর্ঘ্য হবে ষাট মাইল। 2
দু’রেওয়ায়েতের মধ্যে জান্নাতের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ নিয়ে ভিন্ন বর্ণনা থাকতে কোনো অসুবিধে নেই। জান্নাতের যমিনের পরিমাপে এর দৈর্ঘ্য ষাট মাইল আর ঊর্ধাকাশের দিকে এর উচ্চতা ষাট মাইল। অতএব, এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ একই। 3
عن عثمان بن عفان ، عن النبي ﷺ قال: " مَنْ بَنَى مَسْجِدًا - قَالَ بُكَيْرُ: حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ: يَبْتَغِي بِهِ وَجْهَ اللَّهِ - بَنَى اللَّهُ لَهُ مِثْلَهُ فِي الجَنَّةِ "
‘উসমান ইবন আফফান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি মসজিদ নির্মাণ করে, বুকাইর (রহ.) বলেন: আমার মনে হয় রাবী ‘আসিম’ (রহ) তাঁর বর্ণনায় উল্লেখ করছেন, আল্লাহর সঙ্কুষ্টির উদ্দেশ্যে, আল্লাহ তা‘য়ালা তার জন্যে জান্নাতে অনুরূপ ঘর তৈরী করবেন।” 4
يقول الله ﷺ لمن حم واسترجع عند موت ولده: ابْنُوا لِعَبْدِي بَيْتًا فِي الجَنَّةِ، وَسَمُوهُ بَيْتَ الحَمْدِ .
"যে ব্যক্তি সন্তান মারা গেলে আল্লাহর প্রশংসা ও ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পড়ে আল্লাহ তা'আলা তার সম্পর্কে বলেছেন, "আমার এই বান্দার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ কর এবং তার নামকরণ কর "বায়তুল হামদ' বা প্রশংসালয়|"1
عَنْ أُمَّ حَبِيبَةَ، زَوْجِ النَّبِيَّ ﷺ، أَنَّهَا قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ، يَقُولُ: «مَا مِنْ عَيْنٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي لِلَّهِ كُلَّ يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعًا، غَيْرَ فَرِيضَةٍ، إِلَّا بَنَى اللهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ، أَوْ إِلَّا بُنِيَ لَهُ بَيْتُ فِي الْجَنَّةِ»
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনা উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণিত যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "যে কোন মুসলিম বান্দা দৈনিক ফরয ব্যতীত বার রাক'আত সালাত আল্লাহর উদ্দেশ্যে আদায় করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরী করবেন অথবা বলেছেন, জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর তৈরী করা হবে।" 2
ইমাম তিরমিযী রহ. বলেছেন, এগুলো হলো দৈনিক ধারাবাহিক বারো রাক'আত সুন্নত সালাত।
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنجِيكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴾ [الصف: ١٠، ١٢]
"হে ঈমানদারগণ, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসায়ের সন্ধান দেব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব থেকে রক্ষা করবে? তোমরা আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তোমরা তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। আর তোমাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত এবং চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহে উত্তম আবাসগুলোতেও (প্রবেশ করবেন)। এটাই মহাসাফল্য।" [সূরা: আস্-সাফ: ১০-১২]
وفي حديث أبي هريرة الطويل عندما اشتكوا قلوبهم إذا فارقوا النبي ﷺ ، وفيه أنهم سألوا رسول الله ﷺ عن بناء الجنة، فقال عليه الصلاة والسلام: لَبِنَةٌ مِنْ فِضَّةٍ وَلَبِنَةٌ مِنْ ذَهَبٍ، وَمِلَاطُهَا الْمِسْكُ الْأَذْفَرُ، وَحَصْبَاؤُهَا اللُّؤْلُو وَاليَاقُوتُ، وَتُرْبَتُهَا الزَّعْفَرَانُ مَنْ دَخَلَهَا يَنْعَمُ وَلَا يَبْأَسُ، وَيَخْلُدُ وَلَا يَمُوتُ، لَا تَبْلَى ثِيَابُهُمْ، وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُمْ»
ثُمَّ قَالَ : " ثَلَاثُ لَا تُرَدُّ دَعْوَتُهُمْ ، الإِمَامُ العَادِلُ، وَالصَّائِمُ حِينَ يُفْطِرُ، وَدَعْوَةُ المَظْلُومِ يَرْفَعُهَا فَوْقَ الغَمَامِ، وَتُفَتَّحُ لَهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ، وَيَقُولُ الرَّبُّ عَزَّ وَجَلَّ: وَعِزَّتِي لَأَنْصُرَنَّكِ وَلَوْ بَعْدَ حِينٍ "
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসে সাহাবীরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবার থেকে দূরে গেলে তাদের মনের অবস্থার পরিবর্তনের কথা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অভিযোগ করলেন। এতে রয়েছে তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জান্নাতের নির্মাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতের একটি ইট হল রূপার আর একটি হল সোনার। এর গাঁথুনী হল সুগন্ধময় মিশকের। এর নুড়িগুলো হল মাতির ও ইয়াকুতের, মাটি হল যাফরানের। যে ব্যক্তি এতে প্রবেশ করবে সে নিয়ামত ও সুখ ভোগ করবে, কষ্ট পাবে না কখনও। সদাসর্বদা থাকবে, মৃত্যু হবে না কখনও। তাদের পরিচ্ছদ কখনও পুরাতন হবে না, আর তাদের যৌবন কখনও শেষ হবে না।”
এরপর তিনি বললেন: “তিন ব্যক্তি এমন যে তাদের দু'আ কখনও প্রত্যাখ্যান করা হয় না; ন্যায়পরায়ণ শাসনকর্তা, সাওম পালনকারী যখন সে ইফতার করে এবং মজলুমের দু'আ যা মেঘের উপরও তুলে নেওয়া হয় এবং আসমানের সব দরজা এর জন্য খুলে দেওয়া হয়, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেন: আমার ইজ্জতের কসম, কিছুকাল পরে হলেও অবশ্যই আমি তোমাকে সাহায্য করব।”¹
টিকাঃ
¹ তাফসীরে ইবন কাসীর: ৪/৫০।
1 তিরমিযী, হাদীস নং ১৯৮৪।
2 বুখারী, হাদীস নং ৩২৪২।
1 বুখারী, হাদীস নং ৭০২৪।
¹ বুখারী, হাদীস নং ৩৮২০।
² ফাতহুল বারী: ৭/১৩৮।
1 বুখারী, হাদীস নং ৪৮৭৯।
2 মুসলিম, হাদীস নং ২৮৩৮|
3 শরহে ইমাম নাওয়াওয়ী: ১৭/১৭৫।
4 বুখারী, হাদীস নং ৪৫০, মুসলিম, হাদীস নং ৫৩৩]
1 তিরমিযী, হাদীস নং ১০২১।
2 মুসলিম, হাদীস নং ৭২৮।
¹ তিরমিযী, হাদীস নং ২৫২৬, মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ৮০৪৩।
📄 জাহান্নামীদের আবাসস্থল, তাদের শৃঙ্খল ও হাতুড়ি
দ্বিতীয়ত: জাহান্নামীদের আবাসস্থল, তাদের শৃঙ্খল ও হাতুড়ি:
আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, ﴿ بَلْ كَذَّبُوا بِالسَّاعَةِ وَأَعْتَدْنَا لِمَن كَذَّبَ بِالسَّاعَةِ سَعِيرًا إِذَا رَأَتْهُم مِّن مَكَانٍ bَعِيدٍ سَمِعُوا لَهَا تَغَيُّظًا وَزَفِيرًا * وَإِذَا أُلْقُوا مِنْهَا مَكَانًا ضَيِّقًا مُّقَرَّنِينَ دَعَوْا هُنَالِكَ ثُبُورًا لَّا تَدْعُوا الْيَوْمَ ثُبُورًا وَاحِدًا وَادْعُوا ثُبُورًا كَثِيرًا ﴾ [الفرقان: ١١، ١٤]
“বরং তারা কিয়ামতকে অস্বীকার করেছে আর কিয়ামতকে যে অস্বীকার করে তার জন্য আমি প্রস্তুত রেখেছি জ্বলন্ত আগুন। দূর হতে আগুন যখন তাদেরকে দেখবে তখন তারা তার ক্রুদ্ধ গর্জন ও প্রচন্ড চিৎকার শুনতে পাবে। আর যখন তাদেরকে গলায় হাত পেঁচিয়ে জাহান্নামের সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, সেখানে তারা নিজদের ধ্বংস আহ্বান করবে। একবার ধ্বংসকে ডেকো না; বরং অনেকবার ধ্বংসকে ডাকো।” [সূরা: আল-ফুরকান: ১১-১৪]
mُّقَرَّنِينَ অর্থাৎ তাদের হাত গলার সাথে বেড়ী দিয়ে পেঁচিয়ে দেয়া হবে। 1
دَعَوْا هُنَالِكَ ثُبُورًا তারা নিজেদের ধ্বংস, ক্ষতি, সর্বনাশ ও নিরাশা নিজেরাই ডাকবে। 2
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেছেন,
إِذِ الْأَغْلَالُ فِي أَعْنَاقِهِمْ وَالسَّلَاسِلُ يُسْحَبُونَ فِي الْحَمِيمِ ثُمَّ فِي النَّارِ يُسْجَرُونَ ﴾ [غافر: ۷۱، ۷۲]
“যখন তাদের গলদেশে বেড়ী ও শিকল থাকবে, তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে-ফুটন্ত পানিতে, অতঃপর তাদেরকে আগুনে পোড়ানো হবে।” [সূরা: গাফের: ৭১-৭২] الْأَعْلَلُ হলো غِلُّ এর বহুবচন। এটা হলো লোহার শিকল যা কয়েদিদের হাতে পড়ানো হয়। তাদের গলদেশে বেড়ী থাকবে। কয়েদিদের হাতে বেড়ির সাথে শিকল থাকবে, তাদেরকে উপুর করে একবার জাহীমে আবার হামীমে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে। 3
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেছেন,
خُذُوهُ فَغُلُّوهُ ثُمَّ الْجَحِيمَ صَلُّوهُ ثُمَّ فِي سِلْسِلَةٍ ذَرْعُهَا سَبْعُونَ ذِرَاعًا فَاسْلُكُوهُ إِنَّهُ كَانَ لَا يُؤْمِنُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ وَلَا يَحُضُّ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ فَلَيْسَ لَهُ الْيَوْمَ هَاهُنَا حَمِيمٌ وَلَا طَعَامُ إِلَّا مِنْ غِسْلِينٍ لَّا يَأْكُلُهُ إِلَّا الْخَاطِئُونَ ﴾ [الحاقة: ٣٠, ٣٧]
(বলা হবে,) 'তাকে ধর অতঃপর তাকে বেড়ি পরিয়ে দাও।' 'তারপর তাকে তোমরা নিক্ষেপ কর জাহান্নামে'। 'তারপর তাকে বাঁধ এমন এক শেকলে যার দৈর্ঘ্য হবে সত্তর হাত।' সে তো মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করত না, আর মিসকীনকে খাদ্যদানে উৎসাহিত করত না। অতএব আজ এখানে তার কোন অন্তরঙ্গ বন্ধু থাকবে না। আর ক্ষত-নিঃসৃত পূঁজ ছাড়া কোন খাদ্য থাকবে না, অপরাধীরাই শুধু তা খাবে। [সূরা: আল্-হাক্কাহঃ ৩০-৩৭]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেছেন,
﴿إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ سَلَاسِلَا وَأَغْلَالًا وَسَعِيرًا ﴾ [الانسان: ٤]
"আমি কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি শেকল, বেড়ি ও প্রজ্বলিত অগ্নি।" [সূরা আল-ইনসান: ৪]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেছেন,
﴿إِنَّ لَدَيْنَا أَنكَالًا وَجَحِيمًا ﴾ [المزمل: ١٢]
"নিশ্চয় আমার নিকট রয়েছে শিকলসমূহ ও প্রজ্জ্বলিত অগ্নি।” [সূরা আল্- মুয্যাম্মিল: ১২]
الأنكال অর্থ হাড়ের শিকল যা কখনো আলাদা হয় না। কারো মতে, এটা লোহার শিকল।
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেছেন,
﴿هَذَانِ خَصْمَانِ اخْتَصَمُوا فِي رَبِّهِمْ فَالَّذِينَ كَفَرُوا قُطِعَتْ لَهُمْ ثِيَابٌ مِّن نَّارٍ يُصَبُّ مِن فَوْقِ رُءُوسِهِمُ الْحَمِيمُ يُصْهَرُ بِهِ مَا فِي بُطُونِهِمْ وَالْجُلُودُ * وَلَهُم مَّقَامِعُ مِنْ حَدِيدٍ كُلَّمَا أَرَادُوا أَن يَخْرُجُوا مِنْهَا مِنْ غَيْ أُعِيدُوا فِيهَا وَذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ ﴾ [الحج: ١٩، ٢٢]
"এরা দু'টি বিবদমান পক্ষ, যারা তাদের রব সম্পর্কে বিতর্ক করে। তবে যারা কুফরী করে তাদের জন্য আগুনের পোশাক প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের মাথার উপর থেকে ঢেলে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি। যার দ্বারা তাদের পেটের অভ্যন্তরে যা কিছু রয়েছে তা ও তাদের চামড়াসমূহ বিগলিত করা হবে। আর তাদের জন্য থাকবে লোহার হাতুড়ী।
যখনই তারা যন্ত্রণাকাতর হয়ে তা থেকে বের হয়ে আসতে চাইবে, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে দেয়া হবে এবং বলা হবে, দহন-যন্ত্রণা আস্বাদন কর।" [সূরা: আল-হাজ: ১৯-২২]
المقامع শব্দটি مِثْمَع এর বহুবচন। যা দ্বারা কোন কিছু পিটানো হয়, অর্থাৎ হাতুড়ি বা চাবুক। 1
টিকাঃ
1 তাফসীরে ইবন কাকাসীর: ৩/৩১২, বাগভী ৩/৩৬২।
2 পূর্বসূত্রদ্বয়।
3 আন নিহায়া ফি গরীবিল হাদীস, ইবন আসীর: ৩/৩৮০, তাফসীরে ইবন কাসীর: ৪/৮৯।
তাফসীরে ইবন কাসীর: ৪/৪৩৮, বাগভী: ৪/৪১০।
1 তাফসীরে বাগভী- ৩/২৮১, তাফসীরে ইবন কাসীর ৩/২১৩।